আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইনজারলিক বিমান ঘাঁটির নিরাপত্তায় নতুন করে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে ন্যাটো। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদানা প্রদেশের এই কৌশলগত ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশের সেনাসদস্যরা অবস্থান করছেন। মূলত ইরান থেকে ধেয়ে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতেই এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মালাতিয়া প্রদেশে ন্যাটোর একটি রাডার ঘাঁটির কাছে আরও একটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান থেকে ছোড়া অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় ন্যাটো বাহিনী তা সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
নিজেদের পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্কের আকাশসীমা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর যুদ্ধজাহাজ ও ভূমিভিত্তিক এই প্যাট্রিয়ট সিস্টেমগুলো ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইসরায়েলের তেল আবিবে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার চালানো এই হামলাকে তারা প্রতিশোধমূলক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছে। আইআরজিসির বরাতে জানা গেছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ধারাবাহিকতায় চালানো এই হামলায় খোররামশাহর-৪, ইমাদ ও খাইবার শেকান ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানের দাবি, এসব হামলায় ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তেহরানভিত্তিক সূত্রের দাবি, ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি হত্যার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান আরও দাবি করেছে, ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলার পর তেল আবিবের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এ হামলায় ২৩০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত বা আহত হয়েছে। একই সঙ্গে আল-কুদস, হাইফা, বীরশেবা ও নেগেভ মরুভূমির বিভিন্ন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে তারা জানায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সতর্ক করে বলেছেন, এই অভিযান এখানেই শেষ নয়; ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
লন্ডনের রাজপথ এখন ইরানি প্রবাসীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিজ দেশের সরকারের দমনপীড়ন এবং বিতর্কিত নীতিমালার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হাজার হাজার ইরানি। তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তীব্র ঘৃণা ও অনাস্থা প্রকাশ করে তারা রাজপথে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করছেন লন্ডনের আকাশ-বাতাস। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইরানে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রবাসীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ইরানি পতাকার পাশাপাশি বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করছেন, যেখানে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত এই সমাবেশে প্রবাসী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হলেও প্রবাসীরা চুপ করে বসে থাকবে না। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, তেহরানের একনায়কতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। এই বিক্ষোভ কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইরানের স্বপ্নে বিভোর লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী ইরানিদের এই ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ তেহরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। লন্ডনের এই আন্দোলন এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি ডায়াসপোরার মাঝে এক নতুন সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের বুশেহর শহরের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে বিস্ফোরক বহনকারী একটি উড়ন্ত বস্তু আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার ও জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)। পৃথক বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানায়। তবে বস্তুটি ঠিক কী ছিল—সে বিষয়ে কোনো পক্ষই নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ড্রোন হতে পারে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আইএইএ জানায়, এই হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং কেউ হতাহতও হয়নি। তবে সংস্থাটির মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেছেন, পরমাণু স্থাপনায় এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই এমন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন