সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

তেল ও গ্যাস

ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্যে তেল-গ্যাস খাতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তরুণরা। ছবি: সংগৃহীত
তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রস্তুতিতে নাইজেরিয়ায় ২ হাজার তরুণকে তেল-গ্যাস প্রশিক্ষণ

নাইজেরিয়ার ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্য নিজেদের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই স্থানীয় ২ হাজার তরুণকে তেল ও গ্যাস খাতের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণরা যেন প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি সেই বাজারে প্রবেশ করতে পারেন।   বৃহস্পতিবার কালাবারে ‘স্কিল আপ ইন দ্য সিজন অব সুইটনেস’ নামে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। ক্রস রিভারের গভর্নর ব্যাসি এডেট ওতুর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য হাউস অব অ্যাসেম্বলির স্পিকার এলভার্ট আয়ামবেম। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণদের সিপিডি-স্বীকৃত সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।   রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস খাত মানেই শুধু তেল উত্তোলন নয়। এই শিল্পে ইঞ্জিনিয়ারিং, লজিস্টিকস, মেরিন সার্ভিস, নিরাপত্তা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, প্রোকিউরমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা সার্ভিসের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশিক্ষণে এসব সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।   কর্মসূচির আয়োজক রিসার্চ গেটওয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক থ্যাঙ্কগড আরং ওন্ডা জানিয়েছেন, প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে রাজ্য সরকারের অর্থায়নে ৫ লাখ নাইরা সমমূল্যের স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়ে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য রয়েছে—প্রতি জন ৫ লাখ নাইরা হিসেবে ২ হাজার অংশগ্রহণকারীর সরল হিসাব ১০০ কোটি নাইরা হলেও একটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগ ৭০ কোটির বেশি নাইরা বলা হয়েছে। তাই মোট অর্থের অঙ্কটি সরকারি বিস্তারিত হিসাব ছাড়া নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না।   ওন্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে ক্রস রিভারের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যটি ৭৬টি তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে এবং সেগুলো ঘিরে ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণদের যেন দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।    প্রশিক্ষণ শুধু কালাবারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ক্রস রিভারের ১৮টি স্থানীয় সরকার এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উত্তরাঞ্চলের জন্য ওগোজা এবং মধ্যাঞ্চলের জন্য ইকোমে আঞ্চলিক সেশন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত পর্ব ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠিত হবে।    গভর্নরের বিশেষ উপদেষ্টা উকপং উমোহ বলেন, কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়। তরুণদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা, সেবাদাতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারেন।    তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ক্রস রিভার সরকারের বৃহত্তর কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজ্য সরকারের যুব ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে দক্ষতা অর্জন, উদ্যোক্তা তৈরি ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক আরেকটি সরকারি কর্মসূচিতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।   ফলে ২ হাজার তরুণের এই প্রশিক্ষণকে শুধু একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে স্থানীয় জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে রাজ্য সরকার। তবে ৭৬টি তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল এবং এর মাধ্যমে ঠিক কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   সূত্র: ক্রস রিভার ওয়াচ, লিডারশিপ, নিউ টেলিগ্রাফ, ক্রস রিভার স্টেট গভর্নমেন্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ ঘিরে ইরানের ‘বড় উপহার’ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থমূল্যের’ একটি ‘উপহার’ দিয়েছে, যা মূলত তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই ‘উপহার’ ঠিক কী, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপহার দিয়েছে, যার মূল্য অনেক বেশি এবং এটি পণ্য চলাচল ও প্রণালির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, এটি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়।   এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প এর আগের দিন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেন এবং যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে আলোচনায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও ইরান সরাসরি কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই ‘উপহার’ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, তবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে ইরান নাকি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সম্মত হয়েছে।   এর কিছুক্ষণ পর আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে প্রচারিত এক বার্তায় ইরান জানায়, পারস্য উপসাগরের সঙ্গে বিশ্বের সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অ-শত্রুভাবাপন্ন জাহাজ’ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। যদিও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এই সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানালেও মিত্র দেশগুলোর সাড়া মেলেনি।   এদিকে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘শীর্ষ পর্যায়ের’ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বৈশ্বিক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার যুক্ত রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।   অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে ইসলামাবাদ প্রস্তুত

তাবাস্সুম মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০