যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমায় মঙ্গলবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রায় ২১ ঘণ্টা চলার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের শর্তে অনড় রয়েছে। তবু আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলে জ্বালানি বাজারে আরও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘সেমাফোর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি’ সম্মেলনে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকবে এবং তা আরও বাড়তে পারে। তার মতে, খুব শিগগিরই—সম্ভবত আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই—তেলের দাম শিখরে পৌঁছাতে পারে। ক্রিস রাইট আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটলে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তবে এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।
ইরানের বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই লেনদেনে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–সংকট শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। সংঘাতের প্রভাবে তা বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য সমঝোতা বৈঠকের খবরের পর গত শুক্রবার জুন মাসের সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার আবারও অস্থিরতার দিকে ফিরে গেছে। এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধবিরতির আগের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় বাজার ফিরে এসেছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান–সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে। এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হতে পারে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধবিরতির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইরান–সংকটকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপের মধ্যে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য মার্কিন নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন এক ভিন্নধর্মী বার্তা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইরান। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার বদলে গাণিতিক সমীকরণ ব্যবহার করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন— ΔOBSOH>0⇒f(f(O))>f(O)\Delta O_{BSOH} > 0 \Rightarrow f(f(O)) > f(O)ΔOBSOH>0⇒f(f(O))>f(O) এই সমীকরণের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করা হলে বিশ্ব তেলবাজারে এমন এক শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কী বোঝাচ্ছে এই সূত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই সমীকরণটি মূলত দুটি স্তরে কাজ করে। প্রথম অংশ—ΔO₍BSOH₎ > 0—ইঙ্গিত করে, হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের মাত্রা বাড়লে তেলের দাম সরাসরি বৃদ্ধি পাবে। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয় অংশ—f(f(O)) > f(O)—আরও গভীর সংকেত বহন করে। এখানে বোঝানো হয়েছে, তেলের দামের প্রথম ধাক্কার চেয়েও পরবর্তী ধাক্কাগুলো হবে বেশি শক্তিশালী। অর্থাৎ, বাজারে আতঙ্ক, সরবরাহ সংকট, শিপিং খরচ বৃদ্ধি এবং মজুত প্রবণতা—সব মিলিয়ে দামের ওপর বহুগুণ প্রভাব পড়বে। ‘চেইন রিঅ্যাকশন’-এর সতর্কতা গালিবাফের বার্তার মূল বিষয় হলো, এটি একটি সাধারণ মূল্যবৃদ্ধি নয়; বরং একটি অরৈখিক বা চক্রবৃদ্ধি প্রতিক্রিয়া। প্রথম ধাপে সরবরাহ কমে দাম বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে বিশ্ববাজারে। তৃতীয় ধাপে জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ বেড়ে যাবে। পরবর্তী ধাপে এই সব প্রভাব একে অপরকে ত্বরান্বিত করে দামের আরও বড় উল্লম্ফন ঘটাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাজারের আচরণ গাণিতিকভাবে সরলরেখায় না বাড়ে, বরং ধাপে ধাপে লাফিয়ে বাড়ে—যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল এই গাণিতিক বার্তার মাধ্যমে ইরান সরাসরি একটি রাজনৈতিক সংকেত দিতে চেয়েছে—হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের কৃত্রিম বাধা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। গালিবাফ তার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে তেলের বর্তমান মূল্য উপভোগ করার পরামর্শ দিয়ে ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধের হুমকি দেন। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আংশিকভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংকট বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে— তেলের দাম দ্রুত অস্বাভাবিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নতুন করে বাড়তে পারে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে জ্বালানি নির্ভর দেশগুলো মারাত্মক চাপে পড়বে সব মিলিয়ে, ইরানের এই ‘গাণিতিক হুঁশিয়ারি’ শুধু প্রতীকী নয়—বরং সম্ভাব্য এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি–তে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ০.৮৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আল জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সমালোচনা করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তারা ‘খুব খারাপ কাজ’ করছে। পাশাপাশি জাহাজ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের চেষ্টা করলে তা বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এদিকে সাম্প্রতিক হামলার কারণে সৌদি আরব–এর তেল উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সূত্র জানায়, হামলার ফলে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহনও দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এই দরপতন ঘটে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই দরপতনের সঙ্গে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা জড়িত। বিশ্বে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া মোট তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম কমার পাশাপাশি বন্ডের মূল্য বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রত্যাশাই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে এই ঘোষণা আসায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে ইরানের তেলক্ষেত্রে হামলা এবং পাল্টা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান দরপতন সত্ত্বেও তেলের দাম এখনো ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের তুলনায় বেশি অবস্থানে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভাষণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং তেলের দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচাইতে বড় একদিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। জাতি উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন যে আমেরিকা খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছে এবং তারা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে। কিন্তু তিনি কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবেন তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম আশাহত হয়েছেন। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভাষণে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো উল্লেখ না থাকায় তেলের দাম যেকোনো সময় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। নৌপথে ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে বুধবার কাতারের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের জ্বালানি সংস্থা লিজ নেওয়া ওই জাহাজে হামলার পর পারস্য উপসাগরে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যা বিশ্ববাজারে তেলের আগুনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এমন সরাসরি আঘাত আগে কখনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলেনি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ সতর্ক করেছে যে এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে। মহাদেশটি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে পুরনো চুক্তির কারণে ইউরোপ কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও এখন সেই মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকার অভ্যন্তরেও তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্পকে চরম রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে কোনো শক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া তেলের দাম কমার সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই কম। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন। দিনশেষে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে এখন কেবল ট্রাম্পের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো পৃথিবী। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর শান্তি চুক্তি না হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রতিটি দেশের সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে থাকা যুদ্ধের মেঘ কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং অর্থনৈতিক ধস নামাতেও সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিবিধিই নির্ধারণ করবে বিশ্বের পরবর্তী অর্থনৈতিক গন্তব্য ও স্থিতিশীলতা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-এর শ্রমবাজারে। এক বছরের স্থবিরতার পর বাজারে যে সামান্য স্থিতিশীলতার আশা দেখা যাচ্ছিল, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইরান ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ধীরগতি আসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কর্মী ছাঁটাই শুরু করতে পারে। বর্তমানে শ্রমবাজারে একটি ‘অপেক্ষমাণ’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিয়োগ কম হলেও বড় আকারে ছাঁটাইও দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের প্রথমার্ধে চাকরি বৃদ্ধির হার সীমিত থাকবে এবং বেকারত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মন্দার ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও মূল্যস্ফীতি হ্রাস, সুদের হার কমানো এবং নতুন করনীতির কারণে চলতি বছরে শ্রমবাজারে উন্নতির আশা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ‘স্থিতিশীল হলেও স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ধাক্কা বলে উল্লেখ করে যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দিলেও, অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা ভিন্ন আশঙ্কার কথা বলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। ফলে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দামও বেড়ে প্রায় ৩.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক ডলার বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডির ভাষায়, জ্বালানি বাজারে একটি প্রচলিত বাস্তবতা হলো—দাম বাড়ে দ্রুত, কিন্তু কমে ধীরে। তার মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও তেল সরবরাহ ও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর দাম কিছুটা কমে এলেও তা যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নাও ফিরতে পারে। এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীর আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে খাদ্যপণ্য, পরিবহন এবং বিমান ভাড়ার ওপরও। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা বিমান ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এদিকে, জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও অনিশ্চয়তার কথা বলা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সময়সীমা—সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতি এখনও অস্থির। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি দামের ওপর চাপ পুরোপুরি কমতে সময় লাগবে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট Ferdinand Marcos Jr. এক নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। সরকার বলছে, বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন এবং দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফিলিপাইনের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানির দাম একাধিকবার বেড়েছে এবং বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্য আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যমান জ্বালানি মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সীমিত মজুতকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সরকার জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে। এখন থেকে সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয় ও মজুত করা যাবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী এর সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফিলিপাইন সরকার আশা করছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭ ডলার কমে একপর্যায়ে ৯৬ ডলারে নেমে আসে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ পতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এটি প্রায় ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে, যার প্রভাব সরাসরি তেলের দামে পড়েছে। এর আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সাম্প্রতিক ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান বলছে, দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি; বরং জ্বালানির দাম কমানো ও সামরিক প্রস্তুতির জন্য সময় নেওয়াই এই ঘোষণার উদ্দেশ্য। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সংলাপ চলছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘ভ্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কিছু দেশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ থাকলেও মূল দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের সূচনা করেছে ওয়াশিংটন, তাই সমাধানের দায়িত্বও তাদেরই নিতে হবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ ডলারে নেমে আসে, যা উল্লেখযোগ্য পতন। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমে ৮৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। জবাবে ইরান জানায়, এমন হামলা হলে তারা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দেবে। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই পথ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বড় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং কৌশলগত বার্তা জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তজনা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার মুখে এই স্থগিতাদেশ আসার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্পের এই নির্দেশের পর ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট—উভয় ধরনের তেলের দামই ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে তারা আরব দেশগুলোর বড় তেল ও গ্যাস ফিল্ডগুলো উড়িয়ে দেবে। এই উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার টালমাটাল হয়ে পড়ে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। আল জাজিরার তথ্যমতে, জিএমটি ১১:০৮ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৫ শতাংশ কমে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ১৩.৫ শতাংশ কমে ৮৫.২৮ ডলারে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, হামলার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ আসায় তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংকট পুরোপুরি না মেটা পর্যন্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আসবে কি না, তা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রলয়ঙ্করী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতাদের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুমকির জেরে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। একই সাথে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এশীয় বাজারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিউল ও টোকিও। বিক্রির প্রবল চাপে সিউলের সূচক ৬ শতাংশ এবং টোকিও ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। এছাড়া হংকংয়ের বাজারে ৩ শতাংশ এবং সাংহাই, তাইপেই ও ম্যানিলাতে ২ শতাংশের বেশি দরপতন দেখা গেছে। সিডনি, সিঙ্গাপুর এবং ওয়েলিংটনও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। মুদ্রাবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট; দক্ষিণ কোরীয় মুদ্রা 'ওন'-এর মান ডলারের বিপরীতে ১,৫১০-এ নেমে এসেছে, যা ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১০০ ডলারের সামান্য নিচে অবস্থান করছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পরাশক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর অনিশ্চিত সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রলয়ঙ্করী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। সোমবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম একদিনেই ২ শতাংশের বেশি কমে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ২.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা নবম দিনের মতো মূল্যবান এই ধাতুটির দরপতন ঘটল, যেখানে গত এক সপ্তাহেই দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের চেয়ে অন্যান্য খাতে আগ্রহী করে তুলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এহেন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও ত্বরান্বিত করছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। রুপার দাম ৩.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫.৬১ ডলারে এবং প্লাটিনামের দাম ২.৯ শতাংশ কমে ১,৮৬৬.৬৫ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এশিয়ার শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের বাজারে এই দরপতন ও অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিপরীতে রুপির দর প্রায় ৬০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৪৯ রুপিতে। লেনদেনের শুরুতে প্রতি ডলার ৯২ দশমিক ৯২ রুপিতে কেনাবেচা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই রুপির মান ৯৩-এর নিচে নেমে যায় এবং পরে আরও অবনতি ঘটে। এর ফলে এটি এখন পর্যন্ত রুপির সর্বনিম্ন মান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। এর আগে গত বুধবার রুপির দর ৪৯ পয়সা কমে ৯২ দশমিক ৮৯-এ নেমে এসেছিল, যা ছিল আগের সর্বনিম্ন। তারও কয়েকদিন আগে ৯২ দশমিক ৪৮ রুপিতে লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে রুপি। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) অর্থ প্রত্যাহার এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে রুপির ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়েছে, যা রুপির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি বাজারে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তেলের দাম ১৮০ ডলার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। এদিকে ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি নির্দেশক ডলার সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৪০-এ, যা বৈশ্বিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। বুধবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে এবং দ্রুত কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। সংঘাত শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিত্রদেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল না হলেও অন্যান্য দেশকে এতে ভূমিকা নিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না অধিকাংশ মিত্রদেশ। ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এবং এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যেমন জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাব এখন আকাশপথেও পড়তে শুরু করেছে। এই যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, ফলে বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং যাত্রীদের জন্য সামনে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। সিএনএন-এ প্রকাশিত আলেকজান্দ্রা স্কোরেস ও ক্রিস ইসিডোরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। একটি বিমানের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যত বাড়ছে, তার প্রভাব টিকিটের দামেও পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। গত চার বছরের মধ্যে এই প্রথম তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি গেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট কিরবি সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব খুব দ্রুতই বিমানের ভাড়ায় পড়তে পারে এবং এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে। এই যুদ্ধের কারণে শুধু তেলের বাজারই অস্থির হয়নি, বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিমান চলাচল বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক বিমান সংস্থা লাভজনক রুটও বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বাজারে টিকিটের সংকট তৈরি হচ্ছে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সাবেক নির্বাহী রব ব্রিটন বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত বিমান ভাড়াও বাড়ে। তার মতে, জ্বালানির দাম যে হারে বাড়ে, টিকিটের দামও প্রায় একই অনুপাতে বাড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লেই সব সময় বিমান সংস্থাগুলো পুরো বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এভিয়েশন নিউজলেটার ‘ফ্রম দ্য ট্রে টেবিল’-এর লেখক জ্যাক গ্রিফ বলেন, ভাড়ার ওপর চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতির বড় প্রভাব থাকে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হলে বা ভ্রমণের চাহিদা কমে গেলে বিমান সংস্থাগুলো সহজে ভাড়া বাড়াতে পারে না। এদিকে তেলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লাইট কমে গেলে বাজারে সিটের জোগান কমে যাবে এবং এর ফলে টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে যারা জুন বা জুলাই মাসে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তারা আগে থেকেই টিকিট বুক করে রাখা ভালো। বিশেষ করে পরিবর্তনযোগ্য বা ফেরতযোগ্য টিকিট কিনলে পরে পরিস্থিতি বদলালে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান–কে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর মতে, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: Al Jazeera
ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সদস্য দেশগুলো জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মুক্ত করার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। আইইএ নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী আবার সচল না হলে এই তেল সরবরাহ খুব সীমিত প্রভাবই ফেলবে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বাজারে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়া হয়েছিল, যা বর্তমানে ঘোষণা করা ৪০ কোটি ব্যারেলের থেকেও কম। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অবরুদ্ধ তেল থাকায় এই সরবরাহ খুব নগণ্য এবং মাত্র ২৫ দিনে শেষ হয়ে যাবে। আইইএর ঘোষণার পরও বিশ্ব তেলের বাজারে দাম প্রভাবিত হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি, আর মার্কিন WTI প্রায় ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে তার কিছু উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে তাকে একটি ‘এক্সিট র্যাম্প’ বা সম্ভাব্য প্রস্থানপথ খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তেলের দাম দ্রুত বাড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন উদ্বেগ থেকেই এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযানের অধিকাংশ লক্ষ্য ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই এগিয়ে আছেন। তার ধারণা, এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। ইরানের জনগণ যারা বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন, তাদের সহায়তা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায় তিনি দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি চান। নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি ততটা আগ্রহী নন। তিনি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা চান যা বহু বছরের শান্তির পথ খুলে দিতে পারে; আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে এখনই বিষয়টি শেষ করা ভালো। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়ায় তিনি হতাশ। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় তেহরান পিছু হটতে রাজি নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বলেছেন, তেহরান যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে থাকে এবং ইসরাইল যদি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সহজে এই যুদ্ধ থেকে সরে আসা কঠিন হবে। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে থাকে, তাহলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় সন্তোষজনক বিজয় দাবি করতে না পারা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করা হবে না। এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট অজ্ঞাত সূত্রের ভিত্তিতে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, প্রেসিডেন্টের শীর্ষ উপদেষ্টারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন এবং শেষ পর্যন্ত এ অভিযান কখন শেষ হবে তা নির্ধারণ করবেন প্রেসিডেন্ট নিজেই। এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর বলেন, গ্যাস ও তেলের দাম বাড়লে অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যায়, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews