বিশ্ব

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন সরকার। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট Ferdinand Marcos Jr. এক নির্বাহী আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। সরকার বলছে, বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন এবং দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।

 

ফিলিপাইনের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানির দাম একাধিকবার বেড়েছে এবং বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্য আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

 

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বিদ্যমান জ্বালানি মজুত দিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন চাহিদা মেটানো সম্ভব। এই সীমিত মজুতকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে সরকার জ্বালানি খাতে বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে। এখন থেকে সরাসরি জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয় ও মজুত করা যাবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া।

 

প্রাথমিকভাবে এই জরুরি অবস্থা এক বছরের জন্য বলবৎ থাকবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী এর সময়সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফিলিপাইন সরকার আশা করছে, এই বিশেষ ব্যবস্থা দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তেলের দাম দ্রুত কমার আশা, বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী চাপের আশঙ্কা

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ধাক্কা বলে উল্লেখ করে যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দিলেও, অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা ভিন্ন আশঙ্কার কথা বলছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। ফলে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দামও বেড়ে প্রায় ৩.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক ডলার বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডির ভাষায়, জ্বালানি বাজারে একটি প্রচলিত বাস্তবতা হলো—দাম বাড়ে দ্রুত, কিন্তু কমে ধীরে। তার মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও তেল সরবরাহ ও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর দাম কিছুটা কমে এলেও তা যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নাও ফিরতে পারে।   এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীর আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে খাদ্যপণ্য, পরিবহন এবং বিমান ভাড়ার ওপরও। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা বিমান ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।   এদিকে, জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও অনিশ্চয়তার কথা বলা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সময়সীমা—সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতি এখনও অস্থির। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি দামের ওপর চাপ পুরোপুরি কমতে সময় লাগবে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ইরানের তৈরি ড্রোনগুলো প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি

সস্তা ড্রোন, ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা: ইরানি হামলা ঠেকাতে চাপে উপসাগরীয় দেশগুলো

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন — ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা জার্মান প্রেসিডেন্টের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়ছে: মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস

ইরান যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে এখন ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর সর্বনিম্ন। চার দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা এবং ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পর থেকেই সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।  জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ নাগরিকই ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার বিপক্ষে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন, যেখানে মাত্র ৩৫ শতাংশ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আস্থা রাখছেন মাত্র ২৫ শতাংশ ভোটার।  উল্লেখ্য, ১,২৭২ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের ওপর পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে ৩ শতাংশ মার্জিন অফ এরর বা ত্রুটির মাত্রা ধরা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: ফিলিপাইনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় আমিরাতি সামরিক ঠিকাদার নিহত, ৫ সেনা আহত

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর তুরস্ক: এরদোয়ান

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর ও হাইফা বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা

ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ান এবং হাইফা বন্দর এলাকায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদকদের বরাতে বলা হয়েছে, ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের অবকাঠামো—বিশেষ করে বিমানে জ্বালানি সরবরাহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হয়। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দরসংলগ্ন সামরিক ও মহাকাশ শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং হাইফা বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।   এদিকে একই দিনে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে ইরান। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   বাহরাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে দেশটি। তবে এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক উদ্ধারকর্মী। ২৪ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে ইরানের দফায় দফায় হামলা, হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের মন্তব্যে তেহরানের কটাক্ষ

ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে ৮৭ শিশু: ইউনিসেফের ভয়াবহ রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা

0 Comments