বিশ্ব রাজনীতি

যুদ্ধ চলবে - এমন ঘোষণায় তেলের দাম বাড়লো আরো ১০ শতাংশ

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ছবি - সংগৃহিত

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভাষণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং তেলের দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে গেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে।

 

একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচাইতে বড় একদিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।

 

জাতি উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন যে আমেরিকা খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছে এবং তারা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

 

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে। কিন্তু তিনি কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবেন তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম আশাহত হয়েছেন।

 

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভাষণে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো উল্লেখ না থাকায় তেলের দাম যেকোনো সময় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। নৌপথে ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী।

 

বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

 

এদিকে বুধবার কাতারের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের জ্বালানি সংস্থা লিজ নেওয়া ওই জাহাজে হামলার পর পারস্য উপসাগরে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যা বিশ্ববাজারে তেলের আগুনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এমন সরাসরি আঘাত আগে কখনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলেনি।

 

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ সতর্ক করেছে যে এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে। মহাদেশটি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে পুরনো চুক্তির কারণে ইউরোপ কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও এখন সেই মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আমেরিকার অভ্যন্তরেও তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্পকে চরম রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে।

 

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে কোনো শক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া তেলের দাম কমার সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই কম। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

 

দিনশেষে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে এখন কেবল ট্রাম্পের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো পৃথিবী। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর শান্তি চুক্তি না হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

 

এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রতিটি দেশের সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে থাকা যুদ্ধের মেঘ কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং অর্থনৈতিক ধস নামাতেও সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিবিধিই নির্ধারণ করবে বিশ্বের পরবর্তী অর্থনৈতিক গন্তব্য ও স্থিতিশীলতা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
ছবি - সংগৃহিত
'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্ভিক ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েলে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের সাইরেন বাজছে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, ঠিক তখনই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফা বন্দরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।   এর আগে টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ড্রোন ছোঁড়ার ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আমেরিকানদের আশ্বস্ত করেন।   ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তার মতে, ইরানের সামরিক শক্তি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং সংঘাত চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে।   তবে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব চিত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক উল্টো। হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র রোখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আকাশ অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।   ইরান এর প্রতিশোধ নিতে কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজার বিপর্যস্ত।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ট্রাম্পের অনুমান ভুল প্রমাণিত করে ইরান তাদের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন এক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে আজ।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এবার ইরানে স্প্লিন্টার ছাড়া গ্রেনেড ব্যাবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি - সংগৃহিত

চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : চীনের গোপন পরমাণু প্রকল্পের রোমহর্ষক তথ্য ফাঁস

ছবি - সংগৃহিত

যুদ্ধ চলবে - এমন ঘোষণায় তেলের দাম বাড়লো আরো ১০ শতাংশ

ছবি - সংগৃহিত
ইরান যুদ্ধ থামাতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: আসছে বড় ঘোষণা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার এই দুই শীর্ষ নেতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেহরানের সঙ্গে চলমান গোপন আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন।   হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোনালাপের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য না করলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই নতুন মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে রাখা হয়েছে।   ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো ধরনের বৈঠকের খবর পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত অবাস্তব ও একপাক্ষিক।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক চরম অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন আমেরিকান সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন, যা হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণভাবে প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়াচ্ছে।   যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   ইরানও এই আগ্রাসনের জবাবে চুপ করে বসে নেই, তারা ইসরায়েলসহ জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা, যা সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে।   রিয়াদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন ছাড়া এই অঞ্চলে যেকোনো স্থায়ী সমাধান প্রায় অসম্ভব হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সংঘাত কমানোর কৌশলগত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   যদিও তেহরান এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং আরব দেশগুলোর সম্মিলিত চাপ ইরানকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের এই যৌথ প্রচেষ্টার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যাতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এবং সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আবার স্বস্তি ফিরে আসে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে যুদ্ধের ঘন কালো মেঘ জমেছে, তা সরাতে এখন সর্বোচ্চ স্তরে কূটনৈতিক লড়াই চলছে যা শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের আগামীর ভাগ্য ও স্থিতিশীল শান্তি নির্ধারণ করবে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

মার্কিন দূতাবাসে হামলার তথ্য দিলেই ৩০ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা ওয়াশিংটনের

ছবি - সংগৃহিত

ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা চূর্ণ করে তেল আবিবে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি - সংগৃহিত

ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ইসরায়েলি আইনের তীব্র নিন্দা জানাল পোল্যান্ড

ছবি - সংগৃহিত
গাজায় ত্রাণকর্মী নিহত: ইসরায়েলের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চাইল ব্রিটেন

গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত ত্রাণকর্মী নিহতের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ইসরায়েলের কাছে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছে ব্রিটেন।   ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় প্রাণ হারানো তিন ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবার দীর্ঘ দুই বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে তা জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান।   ফ্যালকনার এই হামলাকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, জীবন রক্ষাকারী সেবা দেওয়ার সময় কোনো ত্রাণকর্মীকে হত্যার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।   ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় খাবার বিতরণের সময় একটি কনভয়ে হামলা চালিয়ে সাতজন ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক এবং একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক ছিলেন।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছিল এবং ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেস ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইসরায়েল সে সময় এটিকে একটি ভুল হিসেবে বর্ণনা করলেও ত্রাণ সংস্থাটি একে সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করে।   ব্রিটিশ মন্ত্রী নিহত সাবেক সেনা জন চ্যাপম্যান, জেমস হেন্ডারসন এবং জেমস কিরবির সাহসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন যে, এই পরিবারগুলোর জানার অধিকার রয়েছে কেন তাদের প্রিয়জনদের এমন নৃশংস পরিণতির শিকার হতে হয়েছে।   ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পাঁচ শতাধিক ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে ফ্যালকনার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, যুদ্ধবিরতির আগে গাজা ছিল বিশ্বের সবচাইতে বিপজ্জনক স্থানগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে মানবিক সহায়তা দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।   ব্রিটেন সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে এই বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তারা মনে করে যে, এই ধরনের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ব্রিটেনের এই দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে যে, কেবল মৌখিক দুঃখ প্রকাশ নয় বরং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।   সবশেষে ব্রিটিশ মন্ত্রী পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো যেন সত্য জানতে পারে, সেজন্য ইসরায়েলকে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

গাজায় শান্তি ফেরাতে তুরস্কে হামাস ও তুর্কি গোয়েন্দা প্রধানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক!

ছবি - সংগৃহিত

ভয়াবহ সৈন্য সংকটে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী: জরুরি জনবল নিয়োগের আহ্বান

ছবি - সংগৃহিত

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হলেই যুদ্ধবিরতির কথা ভাববে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের নতুন শর্ত

0 Comments