সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

দুর্ঘটনা

ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের
ফ্লোরিডায় স্লাইডে খেলতে গিয়ে জামা আটকে শ্বাসরোধ, হাসপাতালে এক সপ্তাহ পর মৃ ত্যু ১৩ বছরের ওলভিনের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় খেলার মাঠের স্লাইডে জামা আটকে শ্বাসরোধে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মা এস্তেফানিয়া ভালাদারেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘লোকাল ১০’-কে জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিয়ামির শেনানডোহ পার্কে খেলতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁর ছেলে ওলভিন ড্যানিয়েল ক্যাব্রেরা ভালাদারেস। ঘটনার দিন ওলভিনের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও সে ক্লাসে না গিয়ে স্কুটার চালিয়ে পার্কে ঘুরতে চলে যায়।   এস্তেফানিয়া জানান, ওই দিনই সন্তানদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা এক ব্যক্তি স্লাইডের একটি স্ক্রুর সাথে ওলভিনকে আটকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। উদ্ধারের সময় দেখা যায়, স্লাইডের একটি আলগা স্ক্রুর সাথে ওলভিনের জামা পেঁচিয়ে গেছে এবং কলারটি গলায় শক্তভাবে চেপে বসে তার শ্বাসরোধ হয়ে পড়েছে।   আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। টানা এক সপ্তাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর গত ১ অক্টোবর চিকিৎসকরা তাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন।   নগর প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কিশোরের মৃত্যুর পরদিন অ-ফৌজদারি তদন্তের স্বার্থে পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরদিনই স্লাইডটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।   শোকাহত মা এস্তেফানিয়া অন্যান্য অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, শিশুদের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবার আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, যেন কোনো পরিবারকে এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
টেসলার সাইবারট্রাক পেছাতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিজের ছেলেকেই পিষে মেরেছেন মিস্টার অলিম্পিয়া বিচারক টেরেক এল গিন্ডি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বাবার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে টেসলা সাইবারট্রাক পেছনে নেওয়ার সময় নিজের ছেলেকে গাড়ির নিচে চাপা দেওয়ার ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির বয়স ছিল ছয় বছর। দুর্ঘটনায় জড়িত তার বাবা টেরিক এল গুয়িন্ডি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ শরীরচর্চা প্রতিযোগিতার একজন বিচারক।   ঘটনাটি শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমেকুলা শহরের ব্রুকহেভেন কোর্ট এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেরিক এল গুয়িন্ডি গাড়িটি পেছনে নেওয়ার সময় তার ছয় বছর বয়সী ছেলে প্রেস্টন গাড়িটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। পরিবার দ্রুত জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে। পরে শিশুটিকে উইলডোমারের ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তবে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।   পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টেফানি চেসব্রো শিশুটির জন্য একটি অনুদান সংগ্রহের পেজ খুলেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় প্রেস্টন বাইরে খেলছিল। একটি চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে মায়ের পাশে থাকা অবস্থায় মারা যায়। পরিবার জানিয়েছে, প্রেস্টন মাত্র গত মাসে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করেছিল।   দুর্ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা এল গুয়িন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সাইবারট্রাকটি স্বয়ংক্রিয় চালনা বা অটোপাইলট ব্যবস্থায় চলছিল না। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল।   তবে দুর্ঘটনার আগে গাড়ির ভেতরের কোনো সতর্কতা ব্যবস্থা চালককে গাড়ির পেছনে শিশুটির উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল।   টেরিক এল গুয়িন্ডি শরীরচর্চা জগতের পরিচিত মুখ। তিনি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করেন। প্রতিযোগিতাটিতে বিশ্বের শীর্ষ পেশাদার বডিবিল্ডারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বিচারকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অলিম্পিয়া টিভির সঙ্গেও যুক্ত এবং ‘প্রাইম টাইম মাসল’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিং নিয়ে আলোচনা করেন।   বডিবিল্ডিং অঙ্গনে এল গুয়িন্ডি নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন। ছয়বারের মিস্টার অলিম্পিয়া বিজয়ী ক্রিস বামস্টেড সম্পর্কেও তিনি আগে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। বামস্টেড ২০২৪ সালে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এল গুয়িন্ডি তাকে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   এদিকে, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেস্টন সবসময় হাসিখুশি থাকত এবং তার আশপাশের মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিত। দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির স্মৃতি তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন।   ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এল গুয়িন্ডির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা বা তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার দায় বা কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল, ওয়ার্ল্ড বডিবিল্ডিং নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের পথে দুর্ঘটনা, হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর। তবে দুর্ঘটনার কারণে বিয়ে পিছিয়ে না দিয়ে হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন বর-কনে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার বিকেলে। কাপরি ডিরামাস ফ্লোরিডার আলটামন্টে স্প্রিংসে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। বিয়ের ভেন্যুতে পৌঁছানোর মাত্র ১৫ মিনিট আগে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে তার গাড়ি থামানো ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মিডিয়ান অতিক্রম করে তার গাড়িকে সামনাসামনি ধাক্কা দেয় বলে জানান কনের ভাই মরিস ম্যাথিস। দুর্ঘটনায় ডিরামাসের দুই হাত ও চোয়াল ভেঙে যায়। তার পাঁজরেও আঘাত লাগে এবং হাঁটুতে গুরুতর ক্ষত হয়। পরে তাকে অরল্যান্ডো রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে কনে টায়াসিয়া থমাস জানতে পারেন যে তার হবু স্বামী দুর্ঘটনায় পড়েছেন। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসার পর ডিরামাসের অবস্থা স্থিতিশীল হলে তারা বিয়ে স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা। ডিরামাসের দাদা বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। পরে তিনি দুজনকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং পরিবারের সদস্যরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। কনে থমাস বলেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে আহত হবু স্বামীকে দেখে তিনি গভীরভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ডিরামাসকে হারানো। অন্যদিকে ডিরামাস বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনি এতটাই বিভ্রান্ত ছিলেন যে তখন কী ঘটছে, তা বুঝতেই পারছিলেন না। হাসপাতাল থেকে বুধবার বিকেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সামনে এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জ। হানিমুনে যাওয়ার পরিবর্তে তাদের চিকিৎসা ব্যয়, আয় হারানোর ক্ষতি, দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়ি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে হচ্ছে। এসব ব্যয়ে সহায়তার জন্য কনের ভাই একটি GoFundMe তহবিল চালু করেছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার জমা পড়েছে।    

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ামিতে অ্যামাজনের বোয়িংয়ের দুর্ঘটনা
মিয়ামিতে অ্যামাজনের বোয়িংয়ের দুর্ঘটনা, একাধিক গাড়িতে ধাক্কা - বন্ধ সব রানওয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিওতে বিমান থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।    ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এটি ২১ এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮, একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে।   মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট পাঠানো হয়। একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, তাদের আঘাতের মাত্রা বা প্রাণহানির বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।   দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উড্ডয়ন-অবতরণে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়।    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটিকে সড়কের পাশে আগুনে জ্বলতে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে।    সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট⁠ | রয়টার্স⁠| অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
থার্ড টার্মিনালের র‍্যাম্পে দুর্ঘটনা
থার্ড টার্মিনালে দায়িত্ব পালনকালে বিমানবাহিনীর পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৩

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের র‍্যাম্পে ওঠার সময় দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল - সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে থার্ড টার্মিনালের র‍্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় নিহত তিনজন হলেন - সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মাহমুদ, করপোরাল মনিরুজ্জামান ও এলএসি জোবায়দুল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের র‍্যাম্পে ওঠার সময় তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত চারজনকে দ্রুত উদ্ধার করে সিএমএইচে নেওয়া হয়। তাদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সোর্স: যুগান্তর প্রতিবেদন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি
হঠাৎ বাড়ির ছাদে উঠে গেল এসইউভি, নিহত ৭৮ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ম্যাকনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি এসইউভি বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়ার ঘটনায় ৭৮ বছর বয়সী চালক উইলি এইচ. স্মিথ জুনিয়র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু আগে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ ও উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।    বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, স্মিথ একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স এসইউভি নিয়ে ওয়েভারল্যান্ড ড্রাইভ দিয়ে পূর্বদিকে যাচ্ছিলেন। উডল্যান্ড ড্রাইভের কাছে এসে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে ১৯০০ ব্লক উডল্যান্ড ড্রাইভের একটি বাড়ির ছাদে গিয়ে আঘাত করে।    দুর্ঘটনার পর প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলেই স্মিথকে চিকিৎসা দেন। পরে তাকে স্থানীয় একটি মেডিকেল ফ্যাসিলিটিতে নেওয়া হলে কাউন্টি করনার লিওন জোনস তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আর কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।    দুর্ঘটনার পর বাড়ির ছাদে উঠে যাওয়া এসইউভিটি সরাতে উদ্ধারকারী দলকে ক্রেন ব্যবহার করতে হয়। ঘটনাস্থলের ছবিতে বাড়ির ছাদে গাড়িটির অবস্থান এবং উদ্ধার তৎপরতার দৃশ্য দেখা যায়।   তবে ঠিক কী কারণে স্মিথ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার আগে তার কোনো মেডিকেল জরুরি অবস্থা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীরা এখনো জানাতে পারেননি। দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও কর্মকর্তারা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেননি।    বিব কাউন্টি শেরিফের অফিস দুর্ঘটনাটির তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসইউভিটি কীভাবে রাস্তা থেকে ছিটকে বাড়ির ছাদে উঠে গেল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো কারণ জানানো হয়নি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডায় স্বামীর চোখের সামনেই বজ্রপাতে মা ও দুই বছরের কন্যার মৃত্যু
ফ্লোরিডায় স্বামীর চোখের সামনেই বজ্রপাতে মা ও দুই বছরের কন্যার মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক আকস্মিক ও মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তাঁর দুই বছর বয়সী শিশু কন্যা। গত রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফ্লোরিডার মার্গেট এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম কেনিয়া গ্লাসগো (৩১) এবং তাঁর যমজ কন্যাদের একজন কেনেডি। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত কেনিয়ার স্বামী ক্যাম গ্লাসগো তাঁর নিজের চোখের সামনেই স্ত্রী ও সন্তানকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন।   মার্গেট পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মা ও মেয়েকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। পরে দ্রুত তাঁদের আলাদা দুটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন। এই অভাবনীয় দুর্ঘটনায় শোকে পাথর হয়ে গেছেন ক্যাম গ্লাসগো। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই ঘটনাকে '১২ লাখে একবার ঘটা' দুর্ঘটনা উল্লেখ করে লেখেন, “সবকিছু আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। বজ্রপাত হওয়ার পর মাটিতে এর প্রভাব আমার গায়েও লাগে, আর তখনই পাশে তাকিয়ে দেখি তারা মাটিতে পড়ে আছে।”   ক্যাম জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে কেনিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ৪ বছর আগে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিজের 'সেরা বন্ধু' এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হৃদয়ের অধিকারী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি সবসময় নিজের আগে অন্যদের কথা ভাবতেন। এখন তাঁদের বেঁচে থাকা আরেক যমজ কন্যা কেনসলিকে তার বোনের শূন্যতা নিয়েই বড় হতে হবে। স্ত্রী ও হারানো সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্যাম আরও লেখেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তান কোনো কষ্ট পায়নি। তারা যে সুন্দর আলো আমাদের জীবনে নিয়ে এসেছিল, সেটিই এখন আমাদের বেঁচে থাকার সম্বল।” তিনি আত্মীয় ও বন্ধুদের সমর্থনের ওপর ভরসা করে কন্যা কেনসলিকে নিয়ে সামনের দিনগুলো পার করার কথা জানিয়েছেন।   বর্তমানে মার্গেট পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ন্যাশনাল লাইটনিং সেফটি কাউন্সিলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বছর যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রপাতে নিহতের তালিকায় কেনিয়া এবং কেনেডির মৃত্যুটি যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম ঘটনা।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সাইকেলে চাপা দেওয়া প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে  বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে  হাসপাতালে শিশু
সাইকেলে চাপা দেওয়া প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে হাসপাতালে শিশু

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাইরাংয়ে ছয় বছর বয়সী ডেরেক সি. লালছানহিমার মানবিকতার একটি ঘটনা ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। দুর্ঘটনাবশত প্রতিবেশীর একটি মুরগির ছানাকে সাইকেলের নিচে চাপা দেওয়ার পর সেটিকে বাঁচাতে নিজের কাছে থাকা সব টাকা, মাত্র ১০ রুপি, নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় শিশুটি।   সাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ মুরগির ছানাটির ওপর দিয়ে চলে যায় ডেরেকের সাইকেল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আহত ছানাটিকে কোলে তুলে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসে সে। এরপর বাবা ধীরাজ ছেত্রীর কাছে ছানাটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে।   ছেলের এমন অনুরোধে অবাক হলেও বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেননি ধীরাজ। বরং তিনি বলেন, ছানাটিকে হাসপাতালে নেওয়া এতটাই জরুরি মনে হলে ডেরেক নিজেই যেন সেটিকে নিয়ে যায়।   বাবার কথা শুনে এক মুহূর্তও দেরি করেনি ডেরেক। নিজের কাছে থাকা একমাত্র ১০ রুপির নোটটি হাতে নেয়। এক হাতে আহত মুরগির ছানা এবং অন্য হাতে নিজের সব সঞ্চয় নিয়ে ছুটে যায় কাছের হাসপাতালে।   হাসপাতালে গিয়ে ছানাটিকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য চায় শিশুটি। তবে ততক্ষণে মুরগির ছানাটি মারা গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা সেটিকে আর বাঁচাতে পারেননি। হাসপাতালের কর্মীরা ডেরেককে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন।   হাসপাতালে মুরগির ছানা ও ১০ রুপির নোট হাতে উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ডেরেকের একটি ছবি তোলা হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি শেয়ার করে সাঙ্গা সেজ নামের এক ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনার পর নিজের সব টাকা নিয়ে ছানাটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল শিশুটি।   ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের এই সরলতা ও প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সাঙ্গা সেজ ডেরেকের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।   হাসপাতাল থেকে ফিরে ডেরেক কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, হাসপাতালের লোকজন ছানাটিকে চিকিৎসা না দিয়ে শুধু তার ছবি তুলেছে। পরে সে নাকি বাবাকে জানিয়েছিল, পরেরবার ১০ রুপির বদলে ১০০ রুপি নিয়ে হাসপাতালে যাবে, যাতে চিকিৎসকেরা অবশ্যই ছানাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।   ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ডেরেকের স্কুলও তার সহমর্মিতার স্বীকৃতি দেয়। তাকে প্রশংসাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মিজো শাল পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।   ডেরেকের মানবিকতার বিষয়টি পরে প্রাণীকল্যাণ সংগঠন পেটা ইন্ডিয়ার নজরেও আসে। ২০১৯ সালে সংগঠনটি তাকে ‘সহমর্মী শিশু পুরস্কার’ দেয়।   একটি দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে আহত প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া ডেরেকের এই ঘটনা শিশুদের সহজাত মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মই থেকে পড়ে গাছের ডাল মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছালেও সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচেছেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। ছবি: সংগৃহীত
মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় গাছের ডাল, অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৫ বছর বয়সী ট্রয় হ্যাথাওয়ে। মই থেকে পড়ে যাওয়ার সময় গাছের একটি মোটা ভাঙা ডাল তার মুখ ভেদ করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর আঘাতের পরও তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেননি। পরে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ডালটি সফলভাবে অপসারণ করেন।   সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির গ্লাসবোরো এলাকায় নিজের বাড়ির পেছনের উঠানে গাছের ডাল কাটছিলেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। এ সময় হঠাৎ মই ভেঙে গেলে তিনি প্রায় আট ফুট নিচে পড়ে যান। মাটিতে উঠে দাঁড়ানোর পর তার ধারণা ছিল, হয়তো চোয়াল ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, গাছের একটি বড় ভাঙা ডাল তার চোয়াল ভেদ করে মুখের ভেতর দিয়ে নাক অতিক্রম করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।   হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি, বমি বমি ভাবও ছিল না। সামান্য ব্যথা ছাড়া নিজেকে মোটামুটি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ডালটি গাল, নাক এবং চোখের পাশ দিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি করেনি। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের সহায়তা নেওয়া হয়।   অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া নিউরোসার্জন ডা. ক্রিস ফ্যারেল বলেন, ডালটি ছিল বেশ বড় এবং এটি রোগীর মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি কেটে অস্ত্রোপচার না করে নাকের ভেতর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ডালটি অপসারণের পরিকল্পনা করেন। মস্তিষ্কের কিছু টিউমার অপসারণেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।   প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডালটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকটি সেলাই, সামান্য ক্ষতচিহ্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন হ্যাথাওয়ে। বর্তমানে তার গালে একটি দাগ রয়েছে। তবে দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বা সংক্রমণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।   তিন সন্তানের বাবা হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন।   চিকিৎসকদের মতে, ডালটি যদি কয়েক মিলিমিটার ভিন্ন পথে প্রবেশ করত, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
লেক মিশিগানে ডুবে মারা যাওয়া শিক্ষিকা হান্নাহ জভেইগ ও তার ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। ছবি: সংগৃহীত
লেকে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, ডুবে মারা গেলেন তরুণ শিক্ষিকা ও তার ভাই

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ড এলাকার অ্যাডামস হাই স্কুলের জনপ্রিয় এক শিক্ষিকা এবং তার ছোট ভাই লেক মিশিগানে ডুবে মারা গেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএনডিইউ (WNDU)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষিকার নাম হান্নাহ জভেইগ (২১)। তিনি সাউথ বেন্ডের অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনদক্ষতা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে লেকে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। পানিতে ডুবে দুজনই মারা যান।   কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। কী পরিস্থিতিতে তারা পানিতে ডুবে যান, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। অ্যাডামস হাই স্কুলের অধ্যক্ষ জিম সাইটজ হান্নাহকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, নিবেদিতপ্রাণ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক।   তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে হান্নাহ তাকে একটি ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে যাচ্ছেন এবং অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। সেই ই-মেইল থেকেই তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।   গত বছর শিক্ষকতা শুরু করার পর খুব অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। অধ্যক্ষের ভাষায়, একজন ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষককে সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলবাস থেকে নামার পর থেকে বিকেলে বাসে ওঠা পর্যন্ত তাদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। হান্নাহ এ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন।   জিম সাইটজ বলেন, হান্নাহ তার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য যেকোনো শিক্ষকের তুলনায় তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে বেশি কথা বলতেন, যাতে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ বেন্ড কমিউনিটি স্কুল করপোরেশন তাকে ‘রুকি টিচার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে।   সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হান্নাহ সব সময় অন্যদের এগিয়ে নিতে কাজ করতেন। স্কুলে বিভিন্ন উদ্যোগ আয়োজনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সাফল্যও তিনি সবার সামনে তুলে ধরতেন। নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়াই ছিল তার স্বভাব।   পরিবারের ঘনিষ্ঠদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছোট ভাই ইয়োসেফ ছিলেন হান্নাহর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবাসার অন্যতম কারণ হিসেবেও তিনি ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাই অনেকের মতে, জীবনের শেষ যাত্রাতেও ভাই-বোন একসঙ্গেই রয়ে গেলেন।   ঘটনার পর অ্যাডামস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই হান্নাহকে একজন মানবিক, কর্মঠ এবং শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দিতে নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা পলা পাঞ্চ বোলসের প্রাকৃতিক জলস্লাইডে দুর্ঘটনার শিকার হন এক নারী।
ভিডিও বানাতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাকৃতিক ওয়াটারস্লাইডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে আছড়ে পড়লেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ভেনচুরা কাউন্টির সান্তা পলা পাঞ্চ বোলস এলাকায় প্রাকৃতিক জলস্লাইডে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে আছড়ে পড়েছেন এক নারী। পুরো ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীদের একজনের ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নারীটি পিচ্ছিল গ্রানাইট পাথরের প্রাকৃতিক জলপথ বেয়ে দ্রুত নিচে নামছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ক্যানিয়নের খাড়া পাথরের দেয়ালে জোরে আঘাত করেন। এরপর আরও কয়েকবার পাথরে আছড়ে পড়ে নিচের পানিতে গিয়ে থামেন। আশপাশে থাকা দর্শনার্থীরা পুরো ঘটনাটি হতবাক হয়ে দেখছিলেন।   সান্তা পলা পাঞ্চ বোলস লস পাদ্রেস ন্যাশনাল ফরেস্টের ভেতরে সান্তা পলা ক্যানিয়নে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল। সবুজাভ পানির প্রাকৃতিক পুল, পাহাড়ি ঝরনা, উঁচু পাথর থেকে পানিতে লাফ দেওয়া এবং প্রাকৃতিক জলস্লাইডের কারণে এটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছর হাজারো মানুষ রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার আশায় সেখানে ভিড় করেন।   তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি এলাকাটি ভেনচুরা কাউন্টির অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, ভেজা গ্রানাইট পাথর অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়। এছাড়া পানির নিচে থাকা বড় পাথর, দ্রুত স্রোত, খাড়া পাহাড় এবং দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে সেখানে অতীতে বহু গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে।   দুর্গম অবস্থানের কারণে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আহত ব্যক্তিদের অনেক ক্ষেত্রেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্যানিয়ন থেকে উদ্ধার করতে হয়েছে। গত জুন মাসেই পাঞ্চ বোলস এলাকার কাছে পাহাড়ি পথে পড়ে গিয়ে এক পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরও কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।   স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, পাথর থেকে পানিতে লাফ দেওয়া কিংবা প্রাকৃতিক জলস্লাইডে নামা অনেকের কাছে রোমাঞ্চকর মনে হলেও সামান্য অসাবধানতায় তা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিও সেই সতর্কবার্তাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম মনোরম এই প্রাকৃতিক জলাধার একই সঙ্গে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সেটিরই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে ঘটনাটি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
মৃত্যুর খবর শুনেই ছুটে গেলেন ডিউটিরত পুলিশ, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলেন নিথর দেহটি নিজের সন্তানের I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মৃত্যুর খবর শুনেই ছুটে গেলেন ডিউটিরত পুলিশ, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলেন নিথর দেহটি নিজের সন্তানের

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে হতবাক হয়ে গেছেন দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি আবিষ্কার করেন, রাস্তায় পড়ে থাকা নিথর দেহটি তারই দশ বছর বয়সী আদরের সন্তান তুহিন আবদুল ওয়াহেদের। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে শহরের গাইটাল এলাকায় অবস্থিত আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত তুহিন ওই বিদ্যালয়েরই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে স্কুলের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক শিশু তুহিনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সদর মডেল থানা থেকে কনস্টেবল সামসুল পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে, সেখানে তার নিজের ছেলেরই লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলের নিথর দেহ দেখে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সেখানে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে উপস্থিত সহকর্মী পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা শোকাহত এই পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।   কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কনস্টেবল সামসুল তাদের থানার একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজেই সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন এবং গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহ দেখতে পান। ওসি আরও জানান, প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটিকে ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি
জাপানে ১২ তলা থেকে পথচারী নারীর ওপর পড়লেন যুবক: নারীর মৃত্যু, জীবিত যুবক

জাপানের নাগোয়া শহরে একটি ১২ তলা আবাসিক ভবন থেকে এক যুবক নিচে পড়ে এক নারী পথচারীর ওপর আছড়ে পড়ার ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ওপর থেকে পড়া ২৯ বছর বয়সী যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে ওই যুবক ভবন থেকে পড়ে গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—উভয় দিক থেকেই তদন্ত চলছে।   জাপানি গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় ১টার দিকে নাগোয়া শহরের সাকায়ে এলাকার ইয়াবাচো স্টেশনের কাছে ঘটনাটি ঘটে। নিহত তরুণী হৌরা ইনাবা (২৩) এক বন্ধুর সঙ্গে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় শিনসেই তাগুচি (২৯) নামের এক ব্যক্তি ১২ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে সরাসরি তাঁর ওপর আছড়ে পড়েন।   ঘটনার পর ইনাবার সঙ্গে থাকা বন্ধু জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, একজন ব্যক্তি ওপর থেকে পড়ে তাঁর বন্ধুকে গুরুতর আহত করেছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত শকে (হেমোরেজিক শক) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ইনাবার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে তাগুচি এখনো অচেতন এবং তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   আইচি প্রিফেকচার পুলিশ জানিয়েছে, এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি তাগুচি দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ভবন থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তিনি ভবনের ঠিক কোন তলা থেকে পড়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট বা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি।   দুর্ঘটনাস্থলটি নাগোয়া শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, যেখানে অফিস, আবাসিক ভবন, দোকানপাট এবং বিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। গভীর রাত হলেও এলাকায় পথচারীদের চলাচল ছিল। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।   জাপানে এ ধরনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ইয়োকোহামায় একটি ভবন থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্রী নিচে থাকা এক নারী পথচারীর ওপর পড়লে ওই পথচারীর মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২০ সালে ওসাকায়ও বহুতল ভবন থেকে ঝাঁপ দেওয়া এক কিশোরের সঙ্গে নিচে থাকা এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে এ ধরনের দুর্ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাসাচুসেটসের ডেভিস স্টেশনে এসকেলেটর দুর্ঘটনায় নিহত স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের বাবার মৃত্যু, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কেউ সাহায্য করেনি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে চলতি বছরের শুরুতে একটি সাবওয়ে স্টেশনের এসকেলেটরে আটকে দুই সন্তানের এক বাবার মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে পড়ে যাওয়ার পর তার পোশাক গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ হয়। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাবে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই আঘাতই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   ম্যাসাচুসেটস অফিস অব দ্য মেডিকেল এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সী স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ম্যাসাচুসেটস বে ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমবিটিএ) ডেভিস স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসকেলেটরে নিচে নামার সময় ম্যাকক্লাসকি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। পরে তার পোশাক এসকেলেটরের যন্ত্রাংশে আটকে গিয়ে গলায় চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসরোধ হয় এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে 'হাইপক্সিক ইস্কেমিক এনসেফালোপ্যাথি' বলা হয়। পাশাপাশি শরীরে ভোঁতা আঘাতও তার মৃত্যুর একটি সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে তিনি এসকেলেটর দিয়ে প্ল্যাটফর্মে নামছিলেন। নিচে পৌঁছানোর পর হঠাৎ পড়ে গিয়ে এসকেলেটরের নিচের অংশে আটকে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই আটকে থাকলেও আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী বহু মানুষ তাকে উপেক্ষা করে চলে যান। কেউ কেউ অল্প সময়ের জন্য থামলেও কার্যকর কোনো সহায়তা করেননি।   ভিডিও অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর এমবিটিএর এক কর্মী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে জরুরি 'স্টপ' বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করেন। পরে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তখন তার শরীরে কোনো স্পন্দন ছিল না। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর নিহতের বোন শ্যানন ফ্ল্যাহার্টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনা মানুষের প্রতি তার বিশ্বাসকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তার ভাষায়, এত মানুষ একজন অসহায় মানুষকে এভাবে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ যাই হোক না কেন, একজন মানুষ এত দীর্ঘ সময় অচেতন অবস্থায় সাহায্য না পেয়ে পড়ে থাকবেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   ঘটনার পর এমবিটিএ একে একটি 'মর্মান্তিক দুর্ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতিটি এসকেলেটরের ওপর ও নিচে লাল রঙের 'স্টপ' বোতাম থাকে। জরুরি পরিস্থিতিতে যে কেউ ওই বোতাম চাপ দিয়ে এসকেলেটর বন্ধ করতে পারেন। এরপর দ্রুত ৯১১ নম্বরে ফোন করে জরুরি সেবা ডাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   পরিবারের সদস্যরা জানান, স্টিভেন ম্যাকক্লাসকি একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি ছিলেন এবং দুই ছেলের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল বাবা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছেও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলে জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভূমিকা এবং দ্রুত সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত কিশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোরের হাত গুরুতর জখম, তদন্তের দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের একজনের হাতের একাধিক আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং চিকিৎসকেরা তার হাত রক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির পর অবৈধ আতশবাজির উৎস খুঁজে বের করতে পুলিশের প্রতি তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।   দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট ও সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই অরেঞ্জ কাউন্টির অ্যানাহাইমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের একজনের মা মারিয়া এসকালান্তে জানান, তার যমজ ছেলেদের একজন এবং তার এক বন্ধু রাস্তা থেকে পাওয়া একটি অবৈধ আতশবাজিতে আগুন দিলে সেটি মুহূর্তেই তাদের হাতে বিস্ফোরিত হয়।   বিস্ফোরণে তার ছেলের ডান হাতের কয়েকটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার দুই হাতেই ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। মারিয়া এসকালান্তে বলেন, তার ছেলে অন্তত দুই মাস হাসপাতালে থাকতে পারে। চিকিৎসকেরা পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে অবশিষ্ট আঙুলগুলোতে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন না থাকলে কিছু আঙুল কেটে ফেলতে হতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।   তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। প্রথমে তারা দেখবেন অবশিষ্ট আঙুলে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন রয়েছে কি না। সেটির ওপরই পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করবে। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা আহত কিশোরের যমজ ভাই পুরো বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখেছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।   ঘটনার পর মারিয়া এসকালান্তে অ্যানাহাইমের সাউথ মাউন্টেন ভিউ অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাস্থলে ফিরে যান। সেখানে তিনি অবৈধ আতশবাজির বিভিন্ন অংশ খুঁজে পান। এরপর তিনি অ্যানাহাইম পুলিশ বিভাগের প্রতি এই অবৈধ আতশবাজি কোথা থেকে বিক্রি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তার দাবি, অন্য আহত কিশোরের মা তাকে জানিয়েছেন যে প্রতি বছর ওই এলাকায় অবৈধ আতশবাজি বিক্রি হয়। তাই এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর তদন্ত চালানো উচিত।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আহত অপর কিশোরের দুই হাতও গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির কারণে প্রতিবছরই বহু দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ওই বছর অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৭১৮ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং আরও ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।   এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিষিদ্ধ আতশবাজির বড় একটি অংশ পাশের নেভাডা অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে অবৈধ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আতশবাজি বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
বজ্রপাতে প্রাণ হারানো ৮ বছরের শিশু কিন্সলি চিডা। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় হঠাৎ বজ্রপাত, আট বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু!

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেরেনা এলাকায় বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঝড় শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল কিন্সলি চিডা (Kinslee Tschida)। দোলনা থেকে নামার ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, WGN এবং ABC7 Chicago (WLS)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ইলিনয়ের লাসাল কাউন্টির সেরেনা এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় কিন্সলি তার চাচাতো বোনদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলছিল। এ সময় আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে পরিবারের বড়রা শিশুদের ঘরের ভেতরে চলে আসতে বলেন। দূরে বজ্রধ্বনিও শোনা যাচ্ছিল।   কিন্সলির দাদা ক্রিস শেইব স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল WGN-কে বলেন, তার ছেলে কিন্সলি এবং নিজের মেয়েকে দোলনা থেকে নেমে আসতে বলেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কার্যকর হওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার ভাষায়, "কিন্সলি দোলনা থেকে নামছিল। হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল। কোনো আগাম সংকেত ছিল না। চোখে পড়ার মতো বজ্রপাতও দেখা যায়নি। মুহূর্তেই বজ্রপাত এসে গাছের মাঝখানে আঘাত হানে।"   ঘটনার সময় কিন্সলির পাশে থাকা আরেকটি শিশু অক্ষত থাকে। তবে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় কিন্সলি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। কিন্সলির মা, যিনি পেশায় একজন নার্স, ঘটনাস্থলেই অন্য স্বজনদের সহায়তায় শিশুটিকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন দাদা ক্রিস শেইব। তিনি বলেন, "জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। এই ঘটনা আমাকে বদলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, People জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লাসাল কাউন্টির করোনার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে লাসাল কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও এ ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য দেয়নি।   শিশুটির মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক সামান্থা ওয়ালেস কিন্সলিকে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় একটি শিশু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, কিন্সলি গান গাইতে, নাচতে এবং অন্যদের হাসিখুশি রাখতে ভালোবাসত। তার প্রাণখোলা হাসি যে কোনো ঘরকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারত। ছোট্ট শরীর হলেও তার হৃদয় ছিল অনেক বড়, আর তাকে যারা চিনতেন, তারা সবাই তার ভালোবাসা, উদারতা ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুগ্ধ ছিলেন।   বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই খোলা জায়গা, মাঠ, গাছের নিচে কিংবা ধাতব খেলাধুলার সরঞ্জামের কাছ থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ বজ্রপাত অনেক সময় দৃশ্যমান বিদ্যুৎ চমক দেখা দেওয়ার আগেই আঘাত হানতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা ওপর থেকে বড় পাথর ভেঙে পড়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চাপা পড়ে যান। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা সবাই বিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসেছিলেন এবং ওই পাথরখাদানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, অথবা কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণকাজ, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন
রাজস্থানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন, নিহত অন্তত ৭; আহত ২২

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসা জেলার কাছে দিল্লি-মুম্বাই মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয়নবাসে আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।   মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে চলা বাসটি একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পরপরই উভয় যানবাহনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বাসের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বাসটি উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দৌসার কাছে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   দুর্ঘটনার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ কেউ জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলের দৃশ্য থেকে দেখা গেছে, আগুনে বাস ও ট্রাক—দুটি যানই প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বাকি দুজনের মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে। দুর্ঘটনার সময় বাসের ওপরের শয্যায় থাকা কয়েকজন যাত্রী নিচে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, নিহতদের অনেকেই তখন ঘুমিয়ে ছিলেন।   আহতদের দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের চিকিৎসায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালক তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন অথবা বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল। এই দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বাসটির কারিগরি অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দুর্ঘটনার পর দমকল ও উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলে আরও প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারত। অনেকের ভাষ্য, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করা হয়।   স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও জানিয়েছেন, বাসটির মালামাল রাখার অংশে বিপুল পরিমাণ সিগারেটের প্যাকেট ছিল, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।   রাজস্থান প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চলছে। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বড় সড়ক দুর্ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত গতি, চালকদের দীর্ঘ সময় বিরতিহীনভাবে গাড়ি চালানো এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দৌসার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও গভীর করেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোর সৈকতে কুমিরের হামলায় যুবকের মৃত্যু, সামনে এলো নতুন ভিডিও

মেক্সিকোর জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালার্তার একটি সমুদ্রসৈকতে কুমিরের হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে হামলার পর একটি বিশাল কুমিরকে সৈকতের কাছে মুখ হা করে থাকতে দেখা যায়।   জালিসকো অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি মেক্সিকোর নাগরিক। কাজের সূত্রে তিনি পুয়ের্তো ভালার্তায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেরিনা ভালার্তা সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ঘটনার সময় কাছের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা পর্যটক জেমি ইয়েটার, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি এবং ইয়েটারের কিশোরী মেয়ে।   জেমি ইয়েটার জানান, হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে বসে থাকার সময় তারা সৈকতের দিক থেকে চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে তাদের ধারণা হয়েছিল, একজন ব্যক্তি সমুদ্রের প্রবল স্রোতে আটকা পড়েছেন।   তিনি বলেন, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি দ্রুত সৈকতের দিকে ছুটে গিয়ে বৈঠাবিহীন একটি কায়াকে উঠে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।   ক্রিস বুরি বলেন, সৈকতে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম ছিল না। তারা যা সম্ভব হয়েছে, তা দিয়েই সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি কায়াকে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি ওই ব্যক্তিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।তাদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর জেমি ইয়েটার অভিযোগ করেন, সৈকতে কুমিরের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি। তিনি বলেন, সৈকতের পাশে জেলিফিশ, স্টিংরে মাছ ও কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল। তবে তারা কুমিরের প্রতীকটিকে প্রথমে ইগুয়ানার ছবি বলে ভুল করেছিলেন।   তার দাবি, কেউ তাদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করেননি। এমনকি পরদিন সকালেও সৈকতটি খোলা ছিল এবং সেখানে সাঁতার কাটতে মানুষকে দেখা গেছে। সৈকত বন্ধ ছিল না, কিংবা কোথাও সাঁতার নিষিদ্ধের কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি।   ঘটনার পরও শনিবার সকালে একই সৈকতে বহু মানুষকে সমুদ্রে নামতে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই সেখানে সাঁতার কাটছিলেন।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রেস্তোরাঁয় গাছ ভেঙে বাবার মৃত্যু, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে পরিবারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে একটি বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় গাছ ভেঙে চাপা পড়ে চার সন্তানের জনক কার্ক ফয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে অস্টিনের গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ রেস্তোরাঁর খোলা প্যাটিওতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী কার্ক ফয়েল। এ সময় এলাকায় ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি বড় পেকান গাছ গোড়া থেকে ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   মামলায় গাছটিকে ‘উইডো মেকার’ বা প্রাণঘাতী গাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও গাছটি পাশের একটি সম্পত্তিতে ছিল, এর বড় অংশ গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর খোলা বসার জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল।   পরিবারের অভিযোগ, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এবং পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অ্যাসপেন হ্যাটারের মালিকরা গাছটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জানতেন অথবা যথাযথ তদারকি করলে জানতে পারতেন। কিন্তু তারা গাছটি পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ বা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেননি। একই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্যও কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।   মামলায় গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পচন, রোগ এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছিল। সাধারণ পরিদর্শনেই এর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। তবুও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি।   ট্রাভিস কাউন্টির ডেপুটি মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাছের বড় ডালের আঘাতে সৃষ্ট গুরুতর আঘাতেই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর দাবি, দুর্ঘটনার রাতে গাছটিতে বজ্রপাত হয়েছিল এবং সেটিই গাছ ভেঙে পড়ার কারণ।   তবে ফয়েলের পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বজ্রপাত নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়েলের মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর গাছটি যে সম্পত্তিতে ছিল, সেই সম্পত্তির মালিকরা ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের একটি ডিড অব ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন সম্পন্ন করেন।   পরিবারের দাবি, বিবাদীরা চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। তাই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু, পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং আইনি ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ১০ লাখ ডলার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ ও অ্যাসপেন হ্যাটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রসৈকতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একটি সমুদ্রসৈকতে ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   নিহতরা হলেন ২০ বছর বয়সী মাহিয়াল স্রান, যিনি সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন, এবং হর্ষিতা নায়ার, যিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে অধ্যয়ন করতেন। দুজনই সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিও-টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সান্তা ক্রুজ কাউন্টির উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যান তারা। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।   সান্তা ক্রুজ কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন কাইল ব্রেটন জানান, উদ্ধার অভিযানে আটজন প্রশিক্ষিত সাঁতারু অংশ নেন। এছাড়া তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন এবং নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করেন।   উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত দুই শিক্ষার্থীকে সমুদ্র থেকে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।   ঘটনার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, তারা হয়তো সৈকতে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং জোয়ারের পানিতে ভেসে যান। তবে পরে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সেই ধারণা ভুল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।   মাহিয়াল স্রানের বাবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তার মেয়ের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ শুকনো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ থেকে তার ধারণা, তারা পানির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং হঠাৎ একটি শক্তিশালী ঢেউ এসে তাদের আঘাত করে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায়।   ক্যাপ্টেন ব্রেটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার পরিবর্তনশীল জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, পান্থার বিচ ও ইয়েলো ব্যাংক বিচের মাঝখানে একটি সরু পথ রয়েছে, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘কিহোল’ বলা হয়। জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করলে এই পথ দ্রুত অচল হয়ে যায় এবং অনেক দর্শনার্থী বুঝে ওঠার আগেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে যান।   তিনি জানান, অনেকেই সুন্দর একটি দিন কাটানোর আশায় ওই পথে সৈকতে প্রবেশ করেন। কিন্তু জোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে যান।   কর্তৃপক্ষের ধারণা, তথাকথিত ‘স্নিকার ওয়েভ’ বা হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে তীরে আছড়ে পড়া বড় ঢেউও এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের ঢেউ অনেক সময় কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই আসে এবং মানুষকে সমুদ্রে টেনে নিতে সক্ষম হয়।   হর্ষিতা নায়ারের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের শিক্ষার্থী সমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদের সভাপতি অ্যাবিগেইল ভেরিনো বলেন, হর্ষিতা ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার একজন মানুষ।   তিনি বলেন, “অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি সবসময় এগিয়ে থাকতেন। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার বিষয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের চেয়ে বৃহত্তর একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অর্থ সত্যিকারভাবে ধারণ করতেন।”   এদিকে দুর্ঘটনার পর উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রের অস্বাভাবিক ঢেউ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে ‘বিচ হ্যাজার্ড স্টেটমেন্ট’ এখনও কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।   ক্যাপ্টেন ব্রেটন জানান, মাত্র এক মাইল দীর্ঘ এই উপকূলীয় এলাকায় গত এক মাসেই পাঁচটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অথচ সাধারণত পুরো বছরে এই অঞ্চলে ছয় থেকে আটটি সমুদ্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।   কর্তৃপক্ষ সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিশেষ করে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি, আবহাওয়ার অবস্থা এবং হঠাৎ সৃষ্ট বড় ঢেউয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০