আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে রেস্তোরাঁয় গাছ ভেঙে বাবার মৃত্যু, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে পরিবারের মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৫:৪৯
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে একটি বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় গাছ ভেঙে চাপা পড়ে চার সন্তানের জনক কার্ক ফয়েলের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছে তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা গাছটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে অস্টিনের গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ রেস্তোরাঁর খোলা প্যাটিওতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী কার্ক ফয়েল। এ সময় এলাকায় ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি বড় পেকান গাছ গোড়া থেকে ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

মামলায় গাছটিকে ‘উইডো মেকার’ বা প্রাণঘাতী গাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও গাছটি পাশের একটি সম্পত্তিতে ছিল, এর বড় অংশ গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর খোলা বসার জায়গার ওপর বিস্তৃত ছিল।

 

পরিবারের অভিযোগ, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এবং পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অ্যাসপেন হ্যাটারের মালিকরা গাছটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সম্পর্কে জানতেন অথবা যথাযথ তদারকি করলে জানতে পারতেন। কিন্তু তারা গাছটি পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ বা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেননি। একই সঙ্গে ক্রেতাদের জন্যও কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

 

মামলায় গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে পচন, রোগ এবং কাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগছিল। সাধারণ পরিদর্শনেই এর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। তবুও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি।

 

ট্রাভিস কাউন্টির ডেপুটি মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাছের বড় ডালের আঘাতে সৃষ্ট গুরুতর আঘাতেই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউর দাবি, দুর্ঘটনার রাতে গাছটিতে বজ্রপাত হয়েছিল এবং সেটিই গাছ ভেঙে পড়ার কারণ।

 

তবে ফয়েলের পরিবার ও তাদের আইনজীবীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বজ্রপাত নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই দুর্ঘটনার মূল কারণ। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফয়েলের মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর গাছটি যে সম্পত্তিতে ছিল, সেই সম্পত্তির মালিকরা ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলারের একটি ডিড অব ট্রাস্টের মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন সম্পন্ন করেন।

 

পরিবারের দাবি, বিবাদীরা চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। তাই কার্ক ফয়েলের মৃত্যু, পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং আইনি ব্যয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তারা ১০ লাখ ডলার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে গ্রিন মেসকুইট বারবিকিউ ও অ্যাসপেন হ্যাটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আদালতে কয়েদির পোশাকে জেরেমি উইলিয়ামস এবং বাঁ পাশে নিহত পাঁচ বছর বয়সী শিশু কামারি হল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আলাবামায় জর্জিয়ার যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে বৃহস্পতিবার আলাবামায় জর্জিয়ার বাসিন্দা জেরেমি উইলিয়ামসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সী কামারি হল্যান্ডকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন।   ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর জর্জিয়ার কলম্বাসে মায়ের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় কামারি। তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে শিশুটির মায়ের সঙ্গে উইলিয়ামসের যোগাযোগ হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘণ্টার যৌন নির্যাতনের বিনিময়ে শিশুটিকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে উইলিয়ামসের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছিল।   তদন্তকারীরা উইলিয়ামসের মুঠোফোনের অবস্থান অনুসরণ করে আলাবামার ফেনিক্স সিটির একটি মোটেলে তাকে তার চাচার সঙ্গে আটক করেন। পরে তার ফোনে ১৩ ডিসেম্বর ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। তদন্তের সূত্র ধরে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির স্টোরেজ কক্ষ থেকে কামারির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ২০২৪ সালের মার্চে উইলিয়ামস চারটি গুরুতর হত্যার অভিযোগসহ মরদেহ গোপন করা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অপরাধের ভিডিও ধারণের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তবে আলাবামার আইনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে জুরি ট্রায়াল বাধ্যতামূলক হওয়ায় পরবর্তী সময়ে জুরি তিন দিন ধরে সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। পরে বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।   আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, ২০০৫ সালে আলাস্কায় নিজের এক মাস বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগও ছিল উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া পাঁচ বছর বয়সী সৎমেয়েসহ আরও কয়েকটি শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।   কামারির বাবা কোরি হল্যান্ড মেয়েকে প্রাণবন্ত শিশু হিসেবে স্মরণ করেন। তিনি জানান, কামারি রাজকন্যার সাজ ও বিভিন্ন পোশাক নিয়ে খেলতে ভালোবাসত এবং অন্যদের হাসাত।   মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর আলাবামার গভর্নর কে আইভি ঘটনাটিকে ‘অশুভ’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অপরাধটির ভয়াবহতাই আলাবামায় মৃত্যুদণ্ডের বিধানের প্রয়োজনীয়তার কারণ।   এ ঘটনায় কামারির মা ক্রিস্টি সিপল শিশুটিকে যৌন পাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ২:৪০
ইবে থেকে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় পাওয়া ফিল্মের ছবি এবং সেগুলোর প্রকৃত মালিক খোঁজা ম্যাট টাইগে। ছবি: সংগৃহীত

ইবেতে কেনা পুরোনো ক্যামেরায় মিলল ২০ বছর আগের হারানো ছবি

সমাবর্তনের পোশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ড. নাহিয়ান বিন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাবি থেকে ইয়েল, অর্থনীতিতে নতুন যাত্রা ড. নাহিয়ানের

লস অ্যাঞ্জেলেসের পালমডেলে ফস্টার কেয়ার ভিলেজ প্রকল্পের নির্মাণাধীন এলাকা ও ক্রিশ্চিয়ান বেল দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

আশ্রয়ের শিশুরা যেন ভাইবোনের থেকে বিছিন্ন না হয়, ২২ মিলিয়ন ডলারের গ্রাম গড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি গ্রাম ঘেরাওকারীদের ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বললেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ঘিরে রাখা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তাদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ ও সন্ত্রাস হিসেবে নিন্দা জানিয়ে হাকাবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে ওই এলাকা থেকে হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কয়েক দিন ধরে তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। এর একটি বাড়ি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন পরিবারের।   হাকাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে কুসরা গ্রাম এবং এক মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ঘিরে রাখা ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসীদের’ সরিয়ে দিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি ঘটনাটিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাস হিসেবে বর্ণনা করেন।   ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হাকাবির কাছ থেকে এমন বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পক্ষেও তিনি অতীতে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। ফলে বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ ব্যবহার করাকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে বসতি স্থাপনকারীরা কুসরার ওই বাড়িগুলোর আশপাশে অবস্থান নেয়। তারা পাথর ছোড়ে, একটি পাথরের দেয়াল ভাঙার চেষ্টা করে এবং বাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের বাইরে বের হতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   ওহাইওতে থাকা বাড়ির মালিক লুই রিদি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, তার ৪৮ বছর বয়সী ভাই ও ভাতিজা বাড়িটি রক্ষার জন্য ভেতরে অবস্থান করছিলেন। কয়েক দিন তারা সেখান থেকে বের হতে পারেননি এবং খাবার ও পানির স্বাভাবিক সরবরাহ থেকেও বিচ্ছিন্ন ছিলেন।   স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পাঁচ রাত ধরে কয়েকটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এলাকাটিকে ক্লোজড মিলিটারি জোন ঘোষণা করে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। ইসরায়েলি বাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের তৈরি কিছু অস্থায়ী স্থাপনাও সরিয়ে দেয়। তবে সেনাবাহিনীর পদক্ষেপের পরও বসতি স্থাপনকারীরা একাধিকবার ফিরে আসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।   ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত একজনকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সহিংসতা ঠেকাতে তারা কাজ করছে।   কুসরা পশ্চিম তীরের এমন একটি এলাকা যেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘাতের ঘটনা আগেও ঘটেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার তথ্যেও গ্রামটিকে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার এলাকাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   চলতি বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি বসতি স্থাপনকারী হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর, যানবাহন, কৃষিজমি ও জলপাই গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলছে, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিরা বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না এবং আইন ভাঙলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   হাকাবিও এর আগে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা জানালেও তা পুরো ইসরায়েলি সমাজ বা সব বসতি স্থাপনকারীর প্রতিনিধিত্ব করে না বলে মন্তব্য করেছিলেন।   কুসরার ঘটনায় তার এবারের বক্তব্য আরও কড়া। বিশেষ করে একজন মার্কিন নাগরিকের পরিবারের বাড়ি সরাসরি অবরোধের শিকার হওয়ায় ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বেড়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর সরাসরি চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার মধ্যেই ঘটনাটি সামনে এলো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। ইসরায়েল এই অবস্থানের বিরোধিতা করে আসছে।   এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের মুখে ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ এবং ‘সন্ত্রাস’ শব্দের ব্যবহার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে ওয়াশিংটনের বিরল ও কঠোর প্রকাশ্য নিন্দা হিসেবে সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১:৪১
ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ডি-তে আলাদা অজু স্টেশন বসানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম যাত্রীদের জন্য সুখবর, অজুর জন্য বিমানবন্দরে বসছে বিশেষ ব্যবস্থা

মেট্রো আটলান্টায় আবাসনের সীমিত সরবরাহ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের ধীরগতি মানুষের স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টায় বাড়ির ভয়াবহ সংকট, দামও চড়া, কমছে নতুন মানুষের আগমন

ইমিগ্রেশন চেক-ইনে হাজির হওয়ার পর অনেকের পায়ে জিপিএস অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে দিচ্ছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত

টিপিএস হারানোদের আইসিই চেক-ইনে ডেকে পরানো হচ্ছে অ্যাঙ্কেল মনিটর! নতুন নজরদারিতে বিতর্ক

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত
তিন মাস ধরে দুধ নেই! মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে খাবার সংকটে নাবিকদের আর্তনাদ

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট এবং নাবিকদের মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজে থাকা এক নাবিকের পরিবারের কাছে পাঠানো বার্তায় দাবি করা হয়েছে, তিন মাস ধরে তারা দুধ পাননি, তাজা খাবারের সরবরাহও অত্যন্ত সীমিত। কখনো কখনো জাহাজে পৌঁছানো মাংসও নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।   দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নাবিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া থেকে তাকে রক্ষা করতেই পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে তার পাঠানো বার্তাগুলো সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছায়।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও সামরিক সদস্য নিয়ে মোতায়েন হয়। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কারণে সেটি কয়েক দফা দীর্ঘ হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম পোর্ট কলের কারণে জাহাজের নাবিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।   পরিবারের কাছে পাঠানো একটি বার্তায় ওই নাবিক জানান, সরবরাহকারী জাহাজ থেকে তাজা ফল ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার নিয়মিত পৌঁছানো যাচ্ছে না। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসব খাবার পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে মূলত হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।   আরেকটি বার্তার সঙ্গে একটি পাত্রে রাখা সিরিয়ালের ছবি পাঠান তিনি। সেখানে দুধ ছাড়াই সিরিয়াল খাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, তিন মাস ধরে দুধ পাননি।   শুধু খাবারের সংকট নয়, দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে নাবিকদের হতাশার কথাও উঠে এসেছে ওই বার্তাগুলোতে। নাবিকের দাবি, আগে বহুবার মোতায়েন হওয়া সহকর্মীদের কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতিকে তাদের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করছেন। পরিবার থেকে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় দূরে থাকতে হওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।   জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ অবশ্য শুধু এসব ব্যক্তিগত বার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মিলিটারি টাইমস এবং স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে খাবার ও পানির সরবরাহ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মেইল পৌঁছাতে বিলম্ব এবং মানসিক চাপের বিষয়ে পরিবারের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।   সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কয়েকজন নাবিকের ওভারবোর্ডে যাওয়ার ঘটনার অভিযোগ ঘিরে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ মোতায়েনের মধ্যে একাধিক নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মার্কিন নৌবাহিনী নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার রিপোর্ট বেড়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে।   পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে নেভাল এয়ার স্টেশন নর্থ আইল্যান্ডে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি টাউন হল বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে খাবার, পানি, মেইল, জাহাজের পরিবেশ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ জানান তারা।   নৌবাহিনীর কর্মকর্তারাও জাহাজে কিছু লজিস্টিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে টয়লেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের অভাবে শাওয়ার এলাকায় ছত্রাক তৈরি হওয়া এবং তাজা ফল ও মেইল পৌঁছাতে বিলম্বের মতো সমস্যা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।   মার্কিন নৌবাহিনী বলেছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। জাহাজে কাউন্সেলর, চ্যাপলেইন, মেডিক্যাল কর্মী এবং অন্যান্য সহায়তাও রয়েছে।   অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জাহাজটির পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। পানামা সফরের সময় তিনি বলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতিকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে তা পুরো পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়। তার ভাষ্য, মোতায়েন থাকা প্রতিটি জাহাজ ও ক্রুকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে প্রতিরক্ষা বিভাগ। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু মোতায়েন অন্যগুলোর তুলনায় দীর্ঘ হয় এবং কম পোর্ট কলের মধ্যে নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়।   এদিকে দীর্ঘ মোতায়েন শেষে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স জানিয়েছে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে এবং সেটি আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন আগে থেকেই পরিকল্পিত রোটেশনের অংশ।   ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে সমুদ্রে রয়েছে এবং এর মোতায়েন ইতিমধ্যে আট মাস ছাড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় পোর্ট কল ছাড়া সমুদ্রে অবস্থান, সরবরাহ সংকটের অভিযোগ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ এখন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের নজরেও এসেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের কাছে জাহাজটির পরিস্থিতি এবং নাবিকদের জন্য কী ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।   নৌবাহিনী বলছে, নাবিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে জাহাজ থেকে আসা অভিযোগ, পরিবারের উদ্বেগ এবং দীর্ঘায়িত মোতায়েনের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে চাপ ও প্রশ্ন দুটিই বাড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ০:৪১
অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবর্তে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ছবি: সংগৃহীত

ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বাদ দিয়ে স্টিম ব্যবস্থায় ফিরতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে ট্রাম্পের নির্দেশ

তদন্তে উঠে এসেছে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটির অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে দাঁতের চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ডেন্টিস্ট

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিলের হার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল, ভিসাধারীদের জরুরী ৫ করণীয়

0 Comments