যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একটি সমুদ্রসৈকতে ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন ২০ বছর বয়সী মাহিয়াল স্রান, যিনি সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন, এবং হর্ষিতা নায়ার, যিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে অধ্যয়ন করতেন। দুজনই সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিও-টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সান্তা ক্রুজ কাউন্টির উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যান তারা। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
সান্তা ক্রুজ কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন কাইল ব্রেটন জানান, উদ্ধার অভিযানে আটজন প্রশিক্ষিত সাঁতারু অংশ নেন। এছাড়া তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন এবং নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করেন।
উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত দুই শিক্ষার্থীকে সমুদ্র থেকে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, তারা হয়তো সৈকতে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং জোয়ারের পানিতে ভেসে যান। তবে পরে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সেই ধারণা ভুল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
মাহিয়াল স্রানের বাবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তার মেয়ের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ শুকনো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ থেকে তার ধারণা, তারা পানির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং হঠাৎ একটি শক্তিশালী ঢেউ এসে তাদের আঘাত করে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায়।
ক্যাপ্টেন ব্রেটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার পরিবর্তনশীল জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, পান্থার বিচ ও ইয়েলো ব্যাংক বিচের মাঝখানে একটি সরু পথ রয়েছে, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘কিহোল’ বলা হয়। জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করলে এই পথ দ্রুত অচল হয়ে যায় এবং অনেক দর্শনার্থী বুঝে ওঠার আগেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে যান।
তিনি জানান, অনেকেই সুন্দর একটি দিন কাটানোর আশায় ওই পথে সৈকতে প্রবেশ করেন। কিন্তু জোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে যান।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, তথাকথিত ‘স্নিকার ওয়েভ’ বা হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে তীরে আছড়ে পড়া বড় ঢেউও এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের ঢেউ অনেক সময় কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই আসে এবং মানুষকে সমুদ্রে টেনে নিতে সক্ষম হয়।
হর্ষিতা নায়ারের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের শিক্ষার্থী সমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদের সভাপতি অ্যাবিগেইল ভেরিনো বলেন, হর্ষিতা ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার একজন মানুষ।
তিনি বলেন, “অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি সবসময় এগিয়ে থাকতেন। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার বিষয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের চেয়ে বৃহত্তর একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অর্থ সত্যিকারভাবে ধারণ করতেন।”
এদিকে দুর্ঘটনার পর উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রের অস্বাভাবিক ঢেউ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে ‘বিচ হ্যাজার্ড স্টেটমেন্ট’ এখনও কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
ক্যাপ্টেন ব্রেটন জানান, মাত্র এক মাইল দীর্ঘ এই উপকূলীয় এলাকায় গত এক মাসেই পাঁচটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অথচ সাধারণত পুরো বছরে এই অঞ্চলে ছয় থেকে আটটি সমুদ্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
কর্তৃপক্ষ সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিশেষ করে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি, আবহাওয়ার অবস্থা এবং হঠাৎ সৃষ্ট বড় ঢেউয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে পরিবারের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রোমাঞ্চ মহাজন। বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার পর সেন্ট্রাল পার্কে একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেই আনন্দময় ভ্রমণ পরিণত হয় শোকাবহ ট্র্যাজেডিতে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রোমাঞ্চ। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও এই ঘটনার ধাক্কা তাদের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন রোমাঞ্চ। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা দীপক মহাজন, মা প্রিয়া মহাজন এবং ছোট ভাই। পার্কের একটি পরিচিত ফোয়ারার সামনে পরিবারের স্মরণীয় একটি ছবি তোলার জন্য গাড়িচালক ঘোড়ার গাড়ি থামান। পরিবারের দাবি, ছবি তোলার সুবিধার্থে চালক কিছুটা দূরে সরে গেলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত ছুটতে শুরু করে। রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন জানান, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘোড়াটি ফুটপাতে উঠে যায় এবং পরে ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে দৌড়াতে থাকে। এ সময় চালক ঘোড়ার পেছনে ছুটলেও সেটিকে থামাতে পারেননি। দীপক মহাজন বলেন, “আমরা বারবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম। সবাই একে অপরকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল।” তিনি আরও জানান, দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা গাড়ি থেকে তার স্ত্রী প্রিয়া মহাজন ছিটকে পড়ে গেলে রোমাঞ্চ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। মাকে বিপদে দেখে সে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে। “আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। সে বারবার ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছিল,” বলেন আবেগাপ্লুত দীপক মহাজন। গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে রোমাঞ্চ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে দ্রুত নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম আহত হন। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়ার গাড়িটি পরে আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুপুর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা নিউ ইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রাণীকল্যাণকর্মী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে সেন্ট্রাল পার্কে পর্যটকদের বহনকারী ঘোড়ার গাড়িগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ঘোড়ার গাড়িচালকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল ১০০-ও ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে চালক ঘোড়ার কাছ থেকে এমন দূরত্বে সরে গিয়েছিলেন, যেখানে তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তার মতে, ছবি তোলার জন্য কোনো চালকেরই গাড়ি বা ঘোড়াকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটার কথা নয়। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।” ইউনিয়নের তথ্যমতে, ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটি মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে সেন্ট্রাল পার্কে কাজ শুরু করেছিল। দুর্ঘটনার পর ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘোড়ার গাড়িচালককে গাড়ির মালিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে ইউনিয়ন। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, চালকের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে সফরটি মহাজন পরিবারের জন্য আনন্দ ও স্মৃতির হওয়ার কথা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। মাকে বাঁচানোর চেষ্টায় এক তরুণের মৃত্যু এখন নিউ ইয়র্কজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) ল্যাবের মারাত্মক এক ভুলের কারণে এক দম্পতির গর্ভে জন্ম নিয়েছে অন্য এক দম্পতির জিনগত সন্তান। তবে এই চাঞ্চল্যকর চিকিৎসাগত বিভ্রাটের পরও শিশুটির জন্মদাত্রী মা ও তার স্বামী তাকে নিজেদের কাছেই রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিশুটির আসল বা জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) মা-বাবার সঙ্গে একটি পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে তারা এই স্থায়ী অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফ্লোরিডার বাসিন্দা টিফানি স্কোর এবং স্টিভেন মিলস দম্পতি গত শুক্রবার অরেঞ্জ কাউন্টি আদালতে জানান যে, তারা তাদের ৬ মাস বয়সী কন্যাসন্তান শিয়া-র আসল জিনগত মা-বাবাকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। একই সাথে তাদের সাথে একটি ‘যৌথ কাস্টডি’ বা অভিভাবকত্ব চুক্তিতেও উপনীত হয়েছেন। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, টিফানি ও স্টিভেনই শিশু শিয়া-র চিরস্থায়ী আইনি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে জিনগত মা-বাবার গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই চুক্তির অন্যান্য বিস্তারিত বিবরণ আদালতের বাইরে গোপন রাখা হয়েছে। দম্পতির আইনজীবী জ্যাক স্কারোলা জানিয়েছেন, উভয় পরিবারই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি সুদৃঢ় বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের এপ্রিলে, যখন ‘ফার্টিলিটি সেন্টার অব অরল্যান্ডো’-র ল্যাবরেটরিতে ভুলবশত টিফানি স্কোরের শরীরে অন্য এক দম্পতির ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর গত ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে টিফানি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর শিশুটির শারীরিক গঠন ও গায়ের রঙে ভিন্নতা দেখে দম্পতির মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি জিনগতভাবে টিফানি বা স্টিভেনের সাথে মোটেও সম্পর্কিত নয়, বরং সে শতভাগ দক্ষিণ এশীয় (সাউথ এশিয়ান) বংশোদ্ভূত। ল্যাবের এই চরম অবহেলার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই দম্পতি ক্লিনিকের প্রধান চিকিৎসক ড. মিল্টন ম্যাকনিকোলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টিফানি ও স্টিভেন আদালতকে আরও জানিয়েছেন যে, তারা তাদের বাকি থাকা নিজস্ব ভ্রূণটি অন্য একটি নিরাপদ মেডিকেল সেন্টারে সরিয়ে নিয়েছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেটির পিলগ্রিম বা পৈতৃক সত্ত্বা পরীক্ষা করা হবে। ল্যাবরেটরির এই মারাত্মক ভুলের প্রমাণ পাওয়ার পর, ‘ফার্টিলিটি সেন্টার অব অরল্যান্ডো’ কর্তৃপক্ষ ২০ মে-র মধ্যে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, শুনানির সময় অরল্যান্ডোর বিচারক মার্গারেট শ্রাইবার এই দুই পরিবারের সমঝোতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, শিশুটি ছোট থাকতেই এই ধরনের একটি সুন্দর চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত ইতিবাচক এক সিদ্ধান্ত। এর আগে এক আবেগঘন বার্তায় টিফানি ও স্টিভেন বলেছিলেন, "আমাদের সন্তান যেদিন জন্ম নিয়েছিল, সেদিন যেমন সত্য ছিল আজও ঠিক তেমনি সত্য—আমরা তাকে আজীবন ভালোবাসব এবং চিরকাল তার মা-বাবা হয়েই থাকব।"
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে এসে অনেক বাংলাদেশিকেই প্রথম দিকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা ভালো চাকরি থাকলেও নতুন দেশে এসে ভাষা, স্থানীয় অভিজ্ঞতা এবং চাকরির বাজার সম্পর্কে সীমিত ধারণার কারণে অনেকেই শুরুতে উবার বা লিফট চালানো, ফুড ডেলিভারি, গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোর কিংবা অন্যান্য খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত হন। তবে কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কিছু পেশা রয়েছে যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ছাড়াই কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ বা সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করে একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশ করা সম্ভব। এসব পেশায় একবার প্রবেশ করতে পারলে ভবিষ্যতে আয় বৃদ্ধি, পদোন্নতি এবং আরও বড় সুযোগের পথ তৈরি হয়। ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র কাজ করেন আমিনুর রহমান বলেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন একটি পেশা নির্বাচন করা, যেখানে প্রবেশের সময় কম, খরচ তুলনামূলক কম এবং ভবিষ্যতে উন্নতির সুযোগ বেশি। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রবেশের অন্যতম জনপ্রিয় পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স বা কিউএ টেস্টিং। সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করাই এ পেশার মূল দায়িত্ব। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন নতুন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন। এই সেক্টরে যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের মতে, এন্ট্রি-লেভেলে একজন কিউএ টেস্টারের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউএ অ্যানালিস্ট থেকে সিনিয়র কিউএ ইঞ্জিনিয়ার, কিউএ লিড, টেস্ট ম্যানেজার কিংবা সফটওয়্যার প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এই পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতেও নতুন অভিবাসীদের জন্য রয়েছে বিস্তৃত সুযোগ। এর মধ্যে ফ্লেবোটোমিস্ট পেশা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফ্লেবোটোমিস্টদের কাজ হলো রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করা এবং বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রস্তুত করা। হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ব্লাড ব্যাংকে এ পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেই একজন কর্মী এ খাতে কাজ শুরু করতে পারেন। এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। পরবর্তীতে মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ল্যাব সুপারভাইজার বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সার্টিফাইড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সিএনএ পেশাটিও নতুন অভিবাসীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের দৈনন্দিন পরিচর্যা, চলাফেরায় সহায়তা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন তারা। সাধারণত এক থেকে তিন মাসের প্রশিক্ষণেই এই পেশায় প্রবেশ করা সম্ভব। একজন সিএনএর বার্ষিক আয় সাধারণত ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে। তবে এ পেশার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি নার্সিং পেশায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান। অনেকেই সিএনএ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স বা নিবন্ধিত নার্স হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল পেশা হলো মেডিকেল বিলিং ও কোডিং। রোগীদের চিকিৎসা তথ্য, স্বাস্থ্যবিমা দাবি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত এই পেশায় সরাসরি রোগী সেবা দিতে হয় না। ফলে যারা অফিসভিত্তিক কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ খাতে প্রবেশ করা যায়। এন্ট্রি-লেভেলে বার্ষিক আয় ৪৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে হতে পারে। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রেভিনিউ সাইকেল ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসন কিংবা বীমা খাতেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে প্রবেশের আরেকটি কার্যকর পথ হলো আইটি হেল্প ডেস্ক সাপোর্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করা। কম্পিউটার, সফটওয়্যার, ইমেইল, নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করাই এ পেশার মূল কাজ। তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণ এবং কিছু আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন অর্জনের মাধ্যমে অনেকেই এ খাতে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। একজন আইটি হেল্প ডেস্ক কর্মীর বার্ষিক আয় সাধারণত ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। পরবর্তীতে সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড বিশেষজ্ঞ কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞ আমিনুর রহমান আরও মনে করেন, নতুন অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিন অস্থায়ী বা স্বল্প আয়ের কাজে আটকে থাকা। তিনি বলেন, সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একজন ব্যক্তি একটি পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক সফল পেশাজীবীর অভিজ্ঞতাও একই বার্তা দেয়। তাদের অনেকেই কর্মজীবনের শুরুতে সাধারণ চাকরিতে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কর্পোরেট খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সফল ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো দক্ষতা অর্জন। সঠিক পরিকল্পনা, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ এবং অধ্যবসায় থাকলে নতুন অভিবাসীদের জন্য পেশাদার কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত।