সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নাগরিকত্ব বাতিল

নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে বাতিল হয়েছে নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এক নারীর মার্কিন নাগরিকত্ব। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জালিয়াতির আশ্রয়ে নাগরিকত্ব অর্জন, ১৩ বছর পর বাতিল মার্কিন নাগরিকত্ব

অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভিভিয়ান চিকি ওবিচেরে। গত ১৩ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। ২০১৩ সালের জুনে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ওবিচেরের ক্ষেত্রে এই আদেশ কার্যকর ধরা হয়েছে নাগরিকত্ব পাওয়ার দিন থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে অন্য এক মার্কিন নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ ঘটনার সূত্রপাত।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওবিচেরে ১৯৯২ সালে ‘সি.সি.ও.’ নামে চিহ্নিত এক মার্কিন নাগরিকের নাম, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্মস্থান ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে মার্কিন পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ২০০২ সালে তিনি ওই পাসপোর্ট নবায়নও করেন। পরে ২০০৩ সালে নিজের প্রকৃত পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পান। তবে ২০১২ সালে তিনি আবারও অন্যের পরিচয়ে নেওয়া পাসপোর্ট নবায়নের চেষ্টা করেন। একই সময়ে নিজের আসল নাম ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনও করেন।   বিচার বিভাগের বিবরণ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের জন্য সাক্ষাৎকারের সময় শপথ নিয়ে ওবিচেরে দাবি করেছিলেন, তিনি কখনো ‘সি.সি.ও.’ নামটি ব্যবহার করেননি। অথচ ওই বক্তব্য মিথ্যা ছিল বলে জানায় বিভাগটি। ২০১৫ সালে পাসপোর্টের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও পাসপোর্ট ব্যবহারের ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে মামলা করে বিচার বিভাগ।   মামলার চারটি অভিযোগের মধ্যে একটির ভিত্তিতে আদালতের সম্মতিমূলক রায় মেনে নেন ওবিচেরে। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে গত ১৩ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দেন। বাকি তিনটি অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়েই সেগুলো খারিজ করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাঁকে নাগরিকত্বের সনদ এবং তাঁর কাছে থাকা মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট সরকারি নথি, যেমন মার্কিন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট কার্ড, জমা দিতে হবে।   তবে আদালতের এই আদেশে ওবিচেরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকতে পারবেন কি না, তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে কি না কিংবা আটক করা যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। অভিবাসন আইনের আওতায় অন্য কোনো সুবিধা বা সু   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ জোরদার করার মধ্যে এ ঘটনাটি সামনে এল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের (ট্র্যাক) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৮৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫০টি মামলা দায়ের হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুরো দেশে দায়ের হওয়া প্রায় ১২৫টি মামলার তুলনায় চলতি বছরের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেশি।   ওবিচেরের মামলার পাশাপাশি কিউবায় জন্ম নেওয়া মিলাগ্রোস মারিলেইসিস আকোস্তা তোরেসের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের কথাও জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব পাওয়া আকোস্তা তোরেসের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচালিত ক্যাসিনো থেকে জাল ঋণপত্রের মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার আত্মসাতের অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ২০২০ সালে এ ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রায় দেড় লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৪ অক্টোবর আদালত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বেসামরিক বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ শুমেট বলেন, অপরাধ গোপন করে বা মার্কিন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে নাগরিকত্ব অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও নিউজউইক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশির পর তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি মার্কিন সরকার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল কি আদৌ সম্ভব? যা বলছেন আইন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আদালতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এর কয়েক দিন পর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি।   মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জমা দেওয়া নথিতে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর বয়সসংক্রান্ত তথ্য এবং এ বিষয়ে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল কি না। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   তল্লাশির সময় ফেডারেল কর্মকর্তারা নথিপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং তাঁর পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলহান ওমরের আইনজীবীরা এ তল্লাশির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ বলেছে, আদালতের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়। সাধারণত নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা না থাকার মতো বিষয় প্রমাণ করতে হয়। শুধু তদন্ত শুরু হওয়া কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার কারণে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। সরকারকে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড পূরণ করে আদালতে মামলা করতে হবে। এ ধরনের মামলায় প্রমাণের ভিত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বোস্টন কলেজের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ক্যানস্ট্রুমের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব একবার পাওয়ার পর তা বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারের জন্য আইনি বাধা অনেক উঁচু। নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা সফল করতে হলে সরকারকে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ফলে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হলেও তা থেকে সরাসরি তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।  ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ তদন্তে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে সিএনএন জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় আগের পরিচয় ও অভিবাসন-ইতিহাস গোপনের অভিযোগে শিকাগোর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৫ বছর আগে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ, হতে পারে বহিষ্কারও

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ বছর পর তা হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন শিকাগোর এক ব্যক্তি। নাইজেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ইমানুয়েল তাইয়ো আকিনকুনমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগের পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এ অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে মামলা করেছে মার্কিন সরকার। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব বাতিলের কার্যক্রম জোরদার করেছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের করা মামলায় বলা হয়েছে, আকিনকুনমি ২০১১ সালের ৮ জুন নাগরিকত্বের শপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। কিন্তু তার অভিবাসন-ইতিহাসে এর আগে অন্য পরিচয় ব্যবহারের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, তিনি আগে ‘ইজেকিয়েল আরেমু আদেতায়ো’ নাম ব্যবহার করেছিলেন এবং ওই পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল। এসব তথ্য পরবর্তী অভিবাসন আবেদন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় গোপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সরকারের।   মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে আগের পরিচয়ে আকিনকুনমির গ্রিন কার্ডের মর্যাদা পরিত্যক্ত হয়েছিল এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৭ সালে দেশটির অভিবাসন আপিল বোর্ড ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আকিনকুনমি নাম ব্যবহার করে নতুন গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেন এবং এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা পাওয়ার বিষয়টিও জানাননি। ২০০০ সালে তার ওই আবেদন অনুমোদন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনেও একই ধরনের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।   ২০১০ সালে নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় আকিনকুনমি আগের পরিচয় ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা প্রবেশে বাধার আদেশ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভাষ্য, এসব তথ্য সত্য হলে তিনি আইনসম্মতভাবে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য ছিলেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নিয়েছিলেন। এ কারণে তার নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলায় আকিনকুনমির পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম নথিভুক্ত ছিল না বলে নিউজউইক জানিয়েছে। তার পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   আকিনকুনমির বিরুদ্ধে মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের নাগরিকত্ব বাতিলের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫ অক্টোবর জানায়, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, প্রতারণা কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিলের প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন। তবে বিচার বিভাগও স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো আদালতে নিষ্পত্তি হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’। দেশটির আইনে, কেউ বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব পেলে অথবা নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। তবে শুধু কোনো ভুল তথ্য পাওয়া গেলেই নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। ২০১৭ সালে ‘মাসলেনজাক বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বেআইনি কাজ বা মিথ্যা তথ্যের বাস্তব প্রভাব থাকতে হবে। অর্থাৎ, তথ্যটি এমন হতে হবে, যা নাগরিকত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।   ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ১১টি এ ধরনের মামলা করেছিল ফেডারেল সরকার। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে বছরে গড়ে প্রায় ২৫টিতে পৌঁছায়। বর্তমান প্রশাসন আরও বেশি মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রতিটি মামলায় সরকারের অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করা যায় না। আকিনকুনমির ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত নাগরিকত্ব বাতিলের চূড়ান্ত রায় হয়নি।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগে ভারতীয়সহ ১৭ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৭ জন অভিবাসী নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন, আর্থিক জালিয়াতি, ভিসা প্রতারণা, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কেউ যদি প্রতারণা, তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিয়ে থাকেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে “ডিন্যাচারালাইজেশন” বলা হয়।   ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, “যারা অপরাধ লুকিয়ে নাগরিকত্বের সুযোগ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার, এটি প্রতারণার মাধ্যমে অর্জনের সুযোগ নেই।”   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিনও একই ধরনের কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “যারা আইন ভঙ্গ করে এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেয়, তারা এই সুযোগ হারাবে। প্রশাসন আইনগত সব পথ ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেবে।”   বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কিউবার নাগরিক ৫৪ বছর বয়সী লেইডিস ডেলমাস গার্সিয়ার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়, তিনি ও তার সহযোগীরা ফ্লোরিডায় ৩০টি ফিজিক্যাল থেরাপি ক্লিনিক পরিচালনা করে বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ভুয়া বিলের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন। অথচ নাগরিকত্বের আবেদনকালে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন।   হাইতির নাগরিক জ্যঁ ক্লদ আলফ্রেডের বিরুদ্ধে নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে দীর্ঘ সময় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগেই তিনি এসব অপরাধে জড়িত ছিলেন, কিন্তু আবেদনপত্রে তা গোপন করেন। পরে আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।   কলম্বিয়ার নাগরিক আন্দ্রেয়া মারোকুইনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা থেকে আসা অর্থ ব্যবহার করে মিয়ামিতে ভুয়া রিয়েল এস্টেট লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, তিনি এক প্রভাবশালী কলম্বিয়ান মাদক ব্যবসায়ীর মেয়ে এবং বাবার মৃত্যুর পর আর্থিক জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন।   ভারতের নাগরিক নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ভুয়া এইচ-১বি ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নিউ জার্সিভিত্তিক একটি কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি জাল নথি ও ভুয়া করপোরেট তথ্য ব্যবহার করে একাধিক ভিসা আবেদন করেছিলেন এবং নাগরিকত্বের সময় এসব তথ্য গোপন করেন।   এছাড়া জামাইকা, মেক্সিকো, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, চীন, কঙ্গো এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, মাদক বিতরণ, আর্থিক জালিয়াতি, পরিচয় গোপন এবং অভিবাসন প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।   একজন কলম্বিয়ান ক্যাথলিক পুরোহিত ফার্নান্দো ক্রিস্টানচোর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ধর্মীয় নেতৃত্বের সুযোগ ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনভাবে নির্যাতন করেন। পরে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন এবং ২২ বছরের কারাদণ্ড পান।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এসব মামলার তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিস সহযোগিতা করেছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার হওয়ার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সমালোচকরা বলছেন, এতে বৈধ অভিবাসীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়তে পারে। তবে প্রশাসনের দাবি, কেবল প্রতারণা ও গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০