মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত আটজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (৩০ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গালফ) আসিম আর মাহাজন জানান, সর্বশেষ রোববার কুয়েতে এক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ইতোমধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। এর আগে ২০ মার্চের এক বৈঠকে জানানো হয়েছিল, ছয়জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটে দাঁড়িয়েছে, তবে নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান এখনও অজানা। এদিকে সৌদি আরবে ভারতের দূতাবাসও সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে, ১৮ মার্চ রিয়াদে এক ভারতীয় নাগরিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক ওই অঞ্চল থেকে দেশে ফিরেছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গালফ ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, উত্তেজনা কমাতে সংযম প্রদর্শন এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘটনাও নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী। মাহাজন বলেন, ওই অঞ্চলে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে গত চার সপ্তাহে নিহত মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে, জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন তিন হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ, যার মধ্যে ১২৪ শিশু অন্তর্ভুক্ত। গত শনিবার এবং রোববার দুই দিনে সংঘটিত হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন উদ্ধারকর্মী এবং তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছেন যে, চলমান সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে এবং জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এই ঘটনায় লেবাননের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার ভোরে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় এক শিশু ও তিনজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলাকে গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো খান ইউনিসের দুটি পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। হামলায় আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ) জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল-মাওয়াসি অঞ্চলের 'বীর ১৯' এলাকায় একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। পরবর্তীতে খান ইউনিসের বানি সুহেইলা চত্বরের কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। সব মিলিয়ে রোববারের এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে আসছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েলি হামলায় ৬৯১ জন নিহত এবং ১৮৭৬ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো। বর্তমানে লেবাননে স্থল অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গাজায় এই নৃশংসতা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
দক্ষিণ লেবাননের আল-হানিয়া পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক ভয়াবহ হামলায় ৪ জন সিরীয় কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই ওই অঞ্চলে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। কোনো উস্কানি ছাড়াই হঠাৎ এই বিমান হামলা চালানো হয়। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ লেবাননে ক্রমাগত এই উত্তেজনা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টিল কারখানায় বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। হামলাগুলো শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সংঘটিত হয়। ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আহভাজের কাছের খুজেস্তান স্টিল এবং ইস্ফাহানের মোবারাখে স্টিল কারখানায় ইসরায়েলের বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে। উভয় কারখানার আংশিক মালিক ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। হামলার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তারা ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়াবেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। আজ ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী 'সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস' ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কালিহাতীর ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনের একজন কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহতরা সবাই গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কালিহাতীর ধলাটেঙ্গর এলাকায় রেললাইন ও সড়কপথ একেবারে সমান্তরাল। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে রেললাইনের পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতগতিতে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের নিচে চাপা পড়েন তারা। রেজাউল করিম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। বর্তমানে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাসড়কের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া শেষ করে রাস্তা পার হওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বুড়িচং এলাকায় বিরতি নিয়ে তারা একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার সেরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর উঠে যায়। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রাইভেট কারটিতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী একটি শিশু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে পুলিশ জব্দ করতে পারলেও চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনার জেরে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরম জেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানায়, শুরুতে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। দুর্ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান। মার্কাপুরমের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) নাগার্জু একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, অন্তত ৮ জন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১৮ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ‘হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলস’-এর একটি বাস তেলেঙ্গানার নির্মল থেকে নেল্লোরের দিকে যাচ্ছিল। পথে একটি টিপার লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুদের ওপর নেমে আসা মানবিক বিপর্যয়ের এক লোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২,১০০-এর বেশি শিশু নিহত অথবা আহত হয়েছে। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন ৮৭ জন শিশু এই যুদ্ধের নির্মম শিকার হচ্ছে। সোমবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইউনিসেফের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টেড চাইবান এই উদ্বেজনক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান লড়াই বন্ধ না হলে এই সংখ্যা আরও ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশভিত্তিক হতাহতের পরিসংখ্যান: টেড চাইবানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানে ২০৬ জন এবং লেবাননে ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইসরায়েলে ৪ জন এবং কুয়েতে ১ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল নথিভুক্ত করা তথ্য; প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ শিশু: যুদ্ধের ভয়াবহতায় কেবল প্রাণহানিই ঘটছে না, লাখ লাখ শিশু ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে: লেবানন: দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজারই শিশু। অর্থাৎ মোট বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই শিশু। ইরান: ইরানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখে পৌঁছেছে, যেখানে কয়েক লাখ শিশু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। টেড চাইবান বলেন, "পুরো অঞ্চলের শিশুরা এই যুদ্ধের জন্য এক চড়া মূল্য দিচ্ছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া এবং দ্রুত হারে বাস্তুচ্যুতির ফলে একটি পুরো প্রজন্ম গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।" প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো স্কুল এবং বিভিন্ন সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের সীমান্ত এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড় এবং মানবিক সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, শিশুদের জীবন রক্ষায় এবং এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ ও যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইরানে চলমান সংঘাতের মানবিক প্রভাব তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২১০ শিশু রয়েছেন, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। এইচআরএএনএ জানায়, নিহতদের মধ্যে ১,৩৯৪ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, যারা সরাসরি হামলা বা যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। তাছাড়া, ১,১৫৩ জন সৈনিকের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি ৬৩৯ জনের মৃত্যু এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তাদেরকে ‘অমীমাংসিত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শহরাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো ইরানে দীর্ঘমেয়াদী মানবিক সংকটের সৃষ্টি করছে। বিশেষভাবে শিশুদের মধ্যে এত বড় মৃত্যুহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, যদি যুদ্ধের তীব্রতা কমে না, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিপূর্বে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও ইরানের বেসামরিক এলাকায় হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সংঘাতের এই ভয়াবহতা বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্র: হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি
ইরান দাবি করেছে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তাদের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নৌসদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনাকে প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলা পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ইরানের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-র নৌসদস্যদের রক্তের প্রতিশোধ এবং দেশের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব হত্যার জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে, ৪ মার্চ শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’-কে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র টর্পেডো হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তেহরান। ভারতের মহড়া শেষে দেশে ফেরার পথে এই জাহাজে হামলার কারণে ৮০-এর বেশি নৌসদস্য নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।
বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে একটি মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায়। নিহতরা হলেন শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং গাড়ির ড্রাইভার রিন্টু (৪৭)। আহতদের মধ্যে আছে শিশু ফাতেমা (১০) ও আরহাম (৭)সহ নয়জন। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ঈদের ছুটিতে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ছোনকা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তে গাড়িতে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতায় যাত্রীদের বের হওয়া খুবই কঠিন ছিল। শেরপুর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন জানিয়েছেন, আহতদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার পর নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় একটি দোকানের ছাদ ধসে পড়ে আটজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। জানা গেছে, নিহত ও আহত নারীরা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম (বিআইএসপি) থেকে আর্থিক সহায়তা নিতে ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে দোকানটির ছাদ ভেঙে পড়লে সেখানে উপস্থিত অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। দুর্ঘটনাটি রহিম ইয়ার খানের টাব্বা ১২৩পি এলাকায় ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাদ ধসে পড়ার পর অন্তত ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। তাদের অনেককেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করতে হয়। ঘটনার পর রহিম ইয়ার খানের ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পার নির্দেশে শেখ জায়েদ হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চিকিৎসক ও প্যারামেডিকেল কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রেসকিউ ১১২২, এধি ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেপুটি কমিশনার জহির আনোয়ার জাপ্পা নিজেই পুরো উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।
ইরাকে সামরিক মিশনের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সহায়তায় মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন করা হয়েছে। নিহত ওই কর্মকর্তা তিন সন্তানের জনক ছিলেন, তার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে সহকর্মী, বন্ধু এবং সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন। জানা গেছে, অপারেশন চলাকালে কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলে তিনি নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই তার পরিবারের জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অনুদানের পরিমাণ কয়েক লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে তা মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বলে আয়োজকরা জানান। সহকর্মীরা বলেন, নিহত সেনা কর্মকর্তা একজন দক্ষ পাইলট ও দায়িত্বশীল সামরিক সদস্য ছিলেন। তিনি পরিবারপ্রেমী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতেন। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন এমন দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নেতানিয়াহু নিহত হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে মূলত মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পোস্টে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটার পরিচালনা করেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে হামলার কোনো ভিডিও, ছবি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। বরং নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তার অনুপস্থিতি, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার সম্ভাব্য সফর স্থগিত হওয়া এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে একটি কথিত ফোনালাপের উল্লেখসহ বিভিন্ন পরিস্থিতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন ইসরায়েলের বিরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত কয়েকজনকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেও ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার দাবি করেছিল। গত ২ মার্চ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পরে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ দাবিকে গুজব বলে
বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদ জানিয়েছে যে, ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্থানের আরবিলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে তিনজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ তারেক (পাসপোর্ট নং EL-0875891) ও মো: সাব্বির, উভয়ই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার, এবং মেহেদী হাসান (পাসপোর্ট নং A18633961), ফেনীর বাসিন্দা। ঘটনাটি ০৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঘটেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইরাক নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সংঘটিত সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১,০৯৭ জন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির তথ্য তারা সংগ্রহ করেছে। নিহতদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ১৮১ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এ সময় আহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৪০২ জনে, যাদের মধ্যে অন্তত ১০০ জন শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১০৪টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক স্থাপনা, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকা। এছাড়া, আরও কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর খবর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র: BBC
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ৮৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং ১১ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Activists News Agency (এইচআরএএনএ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এই তথ্য তুলে ধরে। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পরিচালিত সংস্থাটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে মোট নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা অন্তত ৭৪২ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ইরানের ত্রাণ সংস্থা Iranian Red Crescent Society মৃতের সংখ্যা ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছিল। তবে প্রকাশিত এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এইচআরএএনএ আরও জানায়, সর্বশেষ হামলায় একাধিক সামরিক ঘাঁটি, দুটি আবাসিক এলাকা এবং বান্দার আব্বাসে অবস্থিত শহীদ বাহোনার পিয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানে পরিচালিত বিশেষ সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চলাকালে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, এই অভিযানে তাদের ৩ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ৫ জন সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার থেকে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম নিজেদের কোনো সেনা নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল ওয়াশিংটন। সেন্টকমের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে। এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের পাল্টা হামলায় শতাধিক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে, যদিও পেন্টাগন এই দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং দুই দেশের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের মিসাইল হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি এবং একজন নেপালি, জানিয়েছে গালফ নিউজ। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরান থেকে মোট ১৬৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, দুটি ক্রুজ মিসাইল এবং ৫৪১টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের সকাল পর্যন্ত অন্তত ২০টি মিসাইল ছোড়া হয়েছে, যার মধ্যে আটটি সমুদ্রে পড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি ক্রুজ মিসাইল এবং ৩১১টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, তবে ২১টি ড্রোন বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে। ১৬৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইলের মধ্যে ১৫২টি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকি ১৩টি সমুদ্রে পড়েছে। তাদের দাবি, কোনো মিসাইল সরাসরি আমিরাতে আঘাত হেনেনি। হামলায় মোট তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছে, তবে কতজন তা প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জেরুজালেমের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সময় প্রায় ২৭ জনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ক্ষেত্রের তথ্য নিশ্চিত করেছে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড এডম, যা কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা প্রকাশ করেছে। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী দল, চিকিৎসা টিম এবং আহতদের সরিয়ে আনার জন্য হেলিকপ্টার কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews