জর্জিয়ার আটলান্টায় পৃথক সহিংস হামলার ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর এক কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের একজন লোরেন বুলিস , যিনি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি -এর অফিস অফ ইন্সপেক্টর জেনারেল -এ কর্মরত ছিলেন। তিনি সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে হামলার শিকার হন। আরেক নারী পৃথক স্থানে নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত এক পুরুষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের নাম ওলাওলুকিতান এডন আবেল। তদন্তকারীরা জানান, হামলাগুলো এলোমেলোভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের আশপাশে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত দুইজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ঘটনাস্থলে কয়েক মিনিট ধরে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের সামনে টানা গুলিবর্ষণ চলছে এবং এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য কিছু ফুটেজে এক হামলাকারীকে পার্ক করা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির আড়াল নিয়ে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। কনস্যুলেটটি ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থিত। ২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তুরস্কে কোনো ইসরায়েলি কূটনীতিক অবস্থান করছেন না। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজন একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যারা ধর্মকে অপব্যবহার করে। নিহতদের মধ্যে দুজন সহোদর ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত আটজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (৩০ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গালফ) আসিম আর মাহাজন জানান, সর্বশেষ রোববার কুয়েতে এক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, কুয়েতে অবস্থিত ভারতীয় মিশন ইতোমধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। এর আগে ২০ মার্চের এক বৈঠকে জানানো হয়েছিল, ছয়জন ভারতীয় নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটে দাঁড়িয়েছে, তবে নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান এখনও অজানা। এদিকে সৌদি আরবে ভারতের দূতাবাসও সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে, ১৮ মার্চ রিয়াদে এক ভারতীয় নাগরিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক ওই অঞ্চল থেকে দেশে ফিরেছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গালফ ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, উত্তেজনা কমাতে সংযম প্রদর্শন এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের ওপর ভারত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতি এবং সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঘটনাও নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী। মাহাজন বলেন, ওই অঞ্চলে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে গত চার সপ্তাহে নিহত মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে, জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন তিন হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ, যার মধ্যে ১২৪ শিশু অন্তর্ভুক্ত। গত শনিবার এবং রোববার দুই দিনে সংঘটিত হামলায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন উদ্ধারকর্মী এবং তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছেন যে, চলমান সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে এবং জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এই ঘটনায় লেবাননের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটি ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার ভোরে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় এক শিশু ও তিনজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলাকে গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো খান ইউনিসের দুটি পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। হামলায় আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ) জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল-মাওয়াসি অঞ্চলের 'বীর ১৯' এলাকায় একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। পরবর্তীতে খান ইউনিসের বানি সুহেইলা চত্বরের কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। সব মিলিয়ে রোববারের এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে আসছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েলি হামলায় ৬৯১ জন নিহত এবং ১৮৭৬ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো। বর্তমানে লেবাননে স্থল অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গাজায় এই নৃশংসতা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
দক্ষিণ লেবাননের আল-হানিয়া পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক ভয়াবহ হামলায় ৪ জন সিরীয় কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই ওই অঞ্চলে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। কোনো উস্কানি ছাড়াই হঠাৎ এই বিমান হামলা চালানো হয়। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ লেবাননে ক্রমাগত এই উত্তেজনা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টিল কারখানায় বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। হামলাগুলো শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সংঘটিত হয়। ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আহভাজের কাছের খুজেস্তান স্টিল এবং ইস্ফাহানের মোবারাখে স্টিল কারখানায় ইসরায়েলের বিমানবাহিনী হামলা চালিয়েছে। উভয় কারখানার আংশিক মালিক ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। হামলার ফলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তারা ইরানে হামলার তীব্রতা আরও বাড়াবেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। আজ ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী 'সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস' ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। কালিহাতীর ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশনের একজন কর্মকর্তা এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহতরা সবাই গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কালিহাতীর ধলাটেঙ্গর এলাকায় রেললাইন ও সড়কপথ একেবারে সমান্তরাল। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে রেললাইনের পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতগতিতে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের নিচে চাপা পড়েন তারা। রেজাউল করিম নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। বর্তমানে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাসড়কের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া শেষ করে রাস্তা পার হওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বুড়িচং এলাকায় বিরতি নিয়ে তারা একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার সেরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর উঠে যায়। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রাইভেট কারটিতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী একটি শিশু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে পুলিশ জব্দ করতে পারলেও চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনার জেরে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরম জেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানায়, শুরুতে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। দুর্ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান। মার্কাপুরমের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) নাগার্জু একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, অন্তত ৮ জন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১৮ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ‘হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলস’-এর একটি বাস তেলেঙ্গানার নির্মল থেকে নেল্লোরের দিকে যাচ্ছিল। পথে একটি টিপার লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুদের ওপর নেমে আসা মানবিক বিপর্যয়ের এক লোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২,১০০-এর বেশি শিশু নিহত অথবা আহত হয়েছে। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন ৮৭ জন শিশু এই যুদ্ধের নির্মম শিকার হচ্ছে। সোমবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইউনিসেফের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টেড চাইবান এই উদ্বেজনক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান লড়াই বন্ধ না হলে এই সংখ্যা আরও ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশভিত্তিক হতাহতের পরিসংখ্যান: টেড চাইবানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানে ২০৬ জন এবং লেবাননে ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইসরায়েলে ৪ জন এবং কুয়েতে ১ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল নথিভুক্ত করা তথ্য; প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ শিশু: যুদ্ধের ভয়াবহতায় কেবল প্রাণহানিই ঘটছে না, লাখ লাখ শিশু ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে: লেবানন: দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজারই শিশু। অর্থাৎ মোট বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই শিশু। ইরান: ইরানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখে পৌঁছেছে, যেখানে কয়েক লাখ শিশু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। টেড চাইবান বলেন, "পুরো অঞ্চলের শিশুরা এই যুদ্ধের জন্য এক চড়া মূল্য দিচ্ছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া এবং দ্রুত হারে বাস্তুচ্যুতির ফলে একটি পুরো প্রজন্ম গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।" প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো স্কুল এবং বিভিন্ন সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের সীমান্ত এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড় এবং মানবিক সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, শিশুদের জীবন রক্ষায় এবং এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ ও যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।