যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন অনেকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। উন্নত জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ মানুষকে সেখানে আকৃষ্ট করে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি প্রতিদিনের জীবনে নানা ধরনের ঝুঁকিও বিদ্যমান, যা মোকাবিলায় সচেতনতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই, অনলাইন প্রতারণা, গাড়ি চুরি, গভীর রাতে নিরাপত্তাহীনতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ- এসব পরিস্থিতি প্রবাস জীবনে বাস্তব চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ থাকার জন্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা এবং পরিবারের কাউকে নিজের অবস্থান ও পরিকল্পনা জানানো নিরাপত্তার জন্য সহায়ক। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত চার্জিং ডিভাইস রাখাও উপকারী হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বহনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত নথি সঙ্গে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুলিপি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করাই নিরাপদ পন্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সড়কে চলাচলের সময় চারপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। হাঁটার সময় মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া বা কানে উচ্চ শব্দে গান শোনা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নির্জন ও অন্ধকার এলাকায় একা চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও শান্ত আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি থামানোর নির্দেশ পেলে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানো এবং অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে চলা উচিত। উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অভিবাসন সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে মানসিক স্থিরতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আইনজীবীদের মতে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি এবং না বুঝে কোনো নথিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া কল বা বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা এবং অজানা উৎসে তথ্য প্রদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গাড়ির নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। গাড়ির ভেতরে মূল্যবান সামগ্রী দৃশ্যমান স্থানে রেখে গেলে চুরির ঝুঁকি বাড়ে। গাড়ি তালাবদ্ধ রাখা এবং আলোযুক্ত স্থানে পার্ক করা নিরাপদ অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্য সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। বাসা ফাঁকা থাকা বা চলাচলের তথ্য প্রকাশ করলে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে।
পরিবারের জন্য জরুরি পরিকল্পনা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি পরিস্থিতিতে কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নেওয়া যাবে- এসব বিষয়ে পরিবারের সবাইকে অবগত রাখা প্রয়োজন। শিশুদের জরুরি নম্বর ও ঠিকানা শেখানোও নিরাপত্তার অংশ।
বাসায় ফেরার সময়ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করা নিরাপদ অভ্যাসের অংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট সচেতনতা ও প্রস্তুতিই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সহায়তা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস কাউন্টিতে পথচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে নতুন পার্কিং বিধিমালা। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেলাইটিং’ (Daylighting) পার্কিং আইন এবং নির্দিষ্ট বড় আকৃতির যানবাহনের পার্কিং-সংক্রান্ত বিধিমালা বাস্তবায়নে এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে লস এঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট (এলএএসডি)। এখন থেকে এসব নিয়ম ভঙ্গ করলেই চালকদের সরাসরি ৬৩ ডলারের জরিমানার টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রধানত দুটি পার্কিং লঙ্ঘনের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ডেলাইটিং’ আইন, যা ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন আইন অনুযায়ী, চিহ্নিত কিংবা অচিহ্নিত যেকোনো ক্রসওয়াকের অন্তত ২০ ফুটের মধ্যে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে যদি কোনো ক্রসওয়াকে কার্ব এক্সটেনশন (Curb Extension) থাকে, সেক্ষেত্রে পার্কিংয়ের জন্য ন্যূনতম ১৫ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে, লস এঞ্জেলেস কাউন্টির ‘নন-কনফর্মিং ভেহিকল অর্ডিন্যান্স’ অনুযায়ী, বড় আকারের বা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ যান কেবল অনইনকরপোরেটেড (Unincorporated) এলাকার নির্ধারিত স্থানেই পার্ক করা যাবে। যত্রতত্র বড় গাড়ি রাখলে তা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। উপরোক্ত দুটি নিয়মের যেকোনো একটি অমান্য করলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে ৬৩ ডলার জরিমানা গুণতে হবে। পাশাপাশি বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে আইন অমান্য করলে কর্তৃপক্ষের গাড়ি টো (Tow) করে নিয়ে যাওয়ারও পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। গাড়ি টো করা হলে সেটি উদ্ধার এবং সংরক্ষণের যাবতীয় ব্যয়ভার সম্পূর্ণভাবে গাড়ির মালিককেই বহন করতে হবে। শেরিফস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই কড়াকড়ির মূল লক্ষ্য হলো পথচারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। মোড় বা ক্রসওয়াকের কাছাকাছি গাড়ি পার্ক করা না থাকলে চালক ও পথচারী উভয়েই রাস্তা স্পষ্টভাবে দেখতে পান, যা ট্রাফিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে। এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি জরিমানার টিকিট ইস্যু করা হয়েছে বা কাউন্টির কোন কোন অনইনকরপোরেটেড এলাকায় বেশি অভিযান চলছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি শেরিফস ডিপার্টমেন্ট। তবে চালকদের অনাকাঙ্ক্ষিত জরিমানা ও আইনি ঝামেলা এড়াতে গাড়ি পার্ক করার আগে আশপাশের পরিস্থিতি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মোড় বা ক্রসওয়াকের কাছে গাড়ি রাখার সময় অন্তত ২০ ফুট (প্রায় একটি বড় এসইউভি গাড়ির সমান দূরত্ব) ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বড় বা বিশেষ ধরনের যানবাহনের মালিকদের কাউন্টির পার্কিং বিধিমালা সম্পর্কে সচেতন হতে এবং কেবল অনুমোদিত স্থানেই গাড়ি পার্ক করার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এক নারী হোটেল রুমের গরম জলের কুণ্ডে (হট টাব) আলাপ হওয়া দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই জঘন্য অপরাধের পরও ওই নারীর স্বামী তাঁর পাশে থাকার এক অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যালিসন শার্ডিন নামের ওই অপরাধী নারী ইতিমধ্যে যৌন অপরাধীদের তালিকায় (সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন এখনও বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৫২ বছর বয়সী অ্যান্থনি নিশ্চিত করেন যে তারা এখনও বিবাহিত এবং একসঙ্গে আছেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে বা আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন। ৪০ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী অ্যালিসন শার্ডিন তাঁর অপরাধের জন্য বড় মেয়াদের কারাদণ্ড এড়াতে সক্ষম হন। গত বছরের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করার পর তাঁকে মাত্র দুটি সপ্তাহান্তের (উইকেন্ড) জেল, সমাজসেবামূলক কাজ এবং পাঁচ বছরের প্রবেশন বা নজরদারির সাজা দেওয়া হয়। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি অ্যালিসন তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে রোজভিলের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কলোরাডো থেকে খেলতে আসা ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর অ্যাথলেটের সঙ্গে হট টাবে তাঁর আলাপ হয়। সেখানে ভিজতে ভিজতে অ্যালিসন ওই কিশোরদের কাছে নিজের স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী উপর থেকে চিৎকার করে বলেন, "তুমি যদি এখনই উপরে না আসো, তবে আমাদের সম্পর্ক শেষ।" এরপরই অ্যালিসন ওই কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে অ্যালিসন ওই কিশোরদের একজনের স্ন্যাপচ্যাটে বার্তা পাঠিয়ে তাদের রুমে যাওয়ার কথা বলেন। রুমে গিয়ে তিনি কিশোরদের ওপর যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, যখন অপর এক কিশোর তা দেখছিল। ভুক্তভোগীদের একজন police-কে জানায়, তারা অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল এবং কীভাবে 'না' বলতে হয় তা তাদের জানা ছিল না। এই ঘটনার পরদিন অ্যালিসন ওই কিশোরদের খেলার মাঠেও তাড়া করেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি প্রশাসনকে না জানাতে মেসেজ পাঠিয়ে অনুরোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নথি অনুযায়ী, এই ঘটনার ঠিক চার সপ্তাহ আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যান্থনি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন। তবে স্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তারা যৌথভাবে সেই মামলাটি স্থগিত করার আবেদন জানান এবং এক বছর পর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি পুরোপুরি খারিজ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে এক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র ও প্রতিকূল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত কলোরাডোর দুটি কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবারের মধ্যে ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অ্যাস্পেন একরস নামের এই ভয়াবহ দাবানলটি বর্তমানে আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে জ্বলতে থাকা প্রায় ৪০টি বড় অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের একটি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক মাসের চরম শুষ্ক আবহাওয়া এবং গত শীতকালে রেকর্ড পরিমাণ কম তুষারপাতের কারণেই এই অঞ্চলের বনাঞ্চলগুলো এতটা অগ্নিঝুঁকিতে পড়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই আগুন প্রায় ১১৫ বর্গমাইল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুয়েবলো জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুয়েবলো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ২০০ বাসিন্দার বসতি কলোরাডো সিটিসহ বিউলাহ, রাই এবং সান ইছাবেল শহরের সমস্ত মানুষকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাস্টার ও পুয়েবলো কাউন্টির সড়কগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বা চেকপয়েন্ট তদারকি করতে শুক্রবার ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫০ জন সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহের কাজ নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ নৌকাগুলোকে দূরে রাখার কাজে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা স্টেট পার্ক রেঞ্জারদের সহায়তা করছেন। রকি পর্বতের পশ্চিম দিকে কলোরাডো ও ইউটা সীমান্তের স্নাইডার ফায়ার নামের আরেকটি দাবানলের প্রায় ৬৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সেখানে আগুন নেভানোর কাজ করার সময় অগ্নিশিখার কবলে পড়ে একটি হেলিকপ্টার দলের তিন সদস্য নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ইউটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কটনউড আগুন এবং দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ব্যাবিলন আগুনও দ্রুত বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।