বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে ৮৭ শিশু: ইউনিসেফের ভয়াবহ রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুদের ওপর নেমে আসা মানবিক বিপর্যয়ের এক লোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২,১০০-এর বেশি শিশু নিহত অথবা আহত হয়েছে। সেই হিসেবে গড়ে প্রতিদিন ৮৭ জন শিশু এই যুদ্ধের নির্মম শিকার হচ্ছে।


সোমবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইউনিসেফের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর টেড চাইবান এই উদ্বেজনক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান লড়াই বন্ধ না হলে এই সংখ্যা আরও ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


দেশভিত্তিক হতাহতের পরিসংখ্যান: টেড চাইবানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানে ২০৬ জন এবং লেবাননে ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইসরায়েলে ৪ জন এবং কুয়েতে ১ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পরিসংখ্যানগুলো কেবল নথিভুক্ত করা তথ্য; প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।


বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ শিশু: যুদ্ধের ভয়াবহতায় কেবল প্রাণহানিই ঘটছে না, লাখ লাখ শিশু ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে:


লেবানন: দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজারই শিশু। অর্থাৎ মোট বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই শিশু।


ইরান: ইরানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ লাখে পৌঁছেছে, যেখানে কয়েক লাখ শিশু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।


টেড চাইবান বলেন, "পুরো অঞ্চলের শিশুরা এই যুদ্ধের জন্য এক চড়া মূল্য দিচ্ছে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া এবং দ্রুত হারে বাস্তুচ্যুতির ফলে একটি পুরো প্রজন্ম গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।"


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো স্কুল এবং বিভিন্ন সরকারি ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সিরিয়া ও লেবাননের সীমান্ত এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড় এবং মানবিক সহায়তার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, শিশুদের জীবন রক্ষায় এবং এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ ও যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Advertisement

বিশ্ব

View more
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর তুরস্ক: এরদোয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে তুরস্ক তার সমস্ত শক্তি ও সম্পদ নিয়ে কাজ করে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।  মঙ্গলবার আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, এই যুদ্ধ কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি তুরস্কের অর্থনীতিসহ পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি "অগ্নিবলয়" হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করে বলেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে আজ পুরো বিশ্বকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলো এই যুদ্ধের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই যুদ্ধ থেকে তুরস্কের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ইতিমধ্যেই বহুমুখী পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। আঙ্কারা বর্তমানে পাকিস্তান, মিশর এবং কাতারসহ বিভিন্ন দেশের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে যাতে একটি দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হয়। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে এই মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দর ও হাইফা বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা

ইসরায়েলের তেল আবিবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক উদ্ধারকর্মী। ২৪ মার্চ ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলে ইরানের দফায় দফায় হামলা, হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের মন্তব্যে তেহরানের কটাক্ষ

ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন নিহত হচ্ছে ৮৭ শিশু: ইউনিসেফের ভয়াবহ রিপোর্ট

ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ধস নামতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত 'পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স' বা পিএমআই-এর জরিপ থেকে এই উদ্বেগের চিত্র সামনে এসেছে।  তথ্যমতে, যুদ্ধের কারণে উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। এসএন্ডপি গ্লোবালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা গত মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন থমকে গেছে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ইউরোজোনের ২১টি দেশেও। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিগত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। অর্থনীতিবিদরা একে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির মুদ্রাস্ফীতির সংকেত হিসেবে দেখছেন, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেমে থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে।  ফলে সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। যদিও বর্তমান সূচক এখনো পতনের একদম শেষ সীমানায় পৌঁছায়নি, তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর

ইরানের নতুন সেনাপতি মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর

ইরান ইস্যুতে সামরিক সিদ্ধান্তের দায় হেগসেথের দিকে ঠেললেন ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে সামরিক সিদ্ধান্তের দায় হেগসেথের দিকে ঠেললেন ট্রাম্প

চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইরানের

চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইরানের

যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত পাকিস্তান
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত পাকিস্তান

বিবদমান পক্ষগুলো সম্মত হলে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করতে পাকিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। মঙ্গলবার এ তথ্য তুলে ধরা হয়, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।   পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগ্রহ দেখালে ইসলামাবাদ সংলাপ আয়োজনের জন্য সবসময় প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান বরাবরই কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনার পক্ষে।   এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা বেশ ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে তেহরান এ ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে এবং মার্কিন বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে।   এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক সাম্প্রতিক সময়ে পরোক্ষভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। এই দেশগুলো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।   কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, খুব শিগগিরই ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।   অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেছেন।   সব মিলিয়ে, চলমান উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'ড্রাগন'

সাইপ্রাস রক্ষায় ব্যর্থ 'ড্রাগন' ডেস্ট্রয়ার: ব্রিটেনের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা ফাঁস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

কেন ইরানের সঙ্গে আলোচনার ‘ধাপ্পা’ দিয়েছেন ট্রাম্প?

ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ, শীর্ষে কোন দেশ?

0 Comments