সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

এনওয়াইপিডির সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২৩:৪৮
সম্মাননা গ্রহণ করছেন লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা | ছবি: বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন
সম্মাননা গ্রহণ করছেন লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা | ছবি: বাংলাদেশী আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা ‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। এশিয়ান আমেরিকান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার হেরিটেজ মাস উপলক্ষে গত ২১ মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

বাংলাদেশ আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ফজিলাতুন নেছার এই অর্জন তার পেশাগত নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং কমিউনিটির প্রতি দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা এনওয়াইপিডির ভেতরে ও বাইরে প্রশংসিত হয়েছে।

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তার এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এদিকে সংগঠনটি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও তার সাফল্য ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
রাশিয়ায় সিআইএ প্রধানের গোপন সফর, ‘যুদ্ধ নিয়ে কিছু একটা হতে পারে’ বললেন ট্রাম্প
রাশিয়ায় সিআইএ প্রধানের গোপন সফর, ‘যুদ্ধ নিয়ে কিছু একটা হতে পারে’ বললেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ায় র‍্যাটক্লিফের এই সফরকে ‘আধা-রুটিন’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, এই সফর থেকে ‘কিছু একটা হতে পারে’।    মঙ্গলবার র‍্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে রাশিয়ার ক্রেমলিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সিআইএ প্রধান রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি।    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফল পুতিনকে দ্রুত জানানো হয়েছে। তবে আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। পেসকভ বলেন, এমন যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়, যদিও এর মাধ্যমে দুই দেশের গভীর সংকট কতটা কমবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি।    র‍্যাটক্লিফের সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ ২০২১ সালের পর এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইএ পরিচালক মস্কো সফর করলেন। ২০২১ সালে তৎকালীন সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস মস্কো সফর করে পুতিনকে ইউক্রেনে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কয়েক মাস পরই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু করে।    র‍্যাটক্লিফের এবারের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেন কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর হামলা না চালায়, সে বিষয়ে সতর্ক করতেই র‍্যাটক্লিফ মস্কো গিয়েছিলেন। সিবিএস নিউজও একাধিক সূত্রের বরাতে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই ব্যাখ্যা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।    গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, র‍্যাটক্লিফ ‘অসাধারণ একজন ব্যক্তি’ এবং তিনি মস্কো গিয়েছেন এমন কোনো কারণে নয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের দাবি, সফরটি আধা-রুটিন ধরনের হলেও এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হতে পারে।   ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ‘খুব কঠোরভাবে কাজ করছে’। তার ভাষ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের অবসান চায়। তবে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি।    এদিকে র‍্যাটক্লিফের সফরের আগে ইউক্রেনকে মস্কোয় একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে জানানো হয়েছিল এবং সফর চলাকালে রাশিয়ার ওপর দূরপাল্লার হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।    র‍্যাটক্লিফের সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত। একই সময়ে ন্যাটোকে ঘিরে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ন্যাটোর ঐক্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে সাইবার হামলা বা সীমিত ধরনের সামরিক ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।    তবে র‍্যাটক্লিফ ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটো, ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের কথায় ‘কিছু একটা’ হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও সফরটির প্রকৃত ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৩:১৭
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত, তবে গুরুতর আহত

ট্রাম্পের দাবি - ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জীবিত, তবে গুরুতর আহত

ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায়  অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন

ভেনেজুয়েলার নাগরিককে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত আইসিই এজেন্ট মুক্তি পাচ্ছেন

বর্জ্য প্লাস্টিক ও উদ্ভিদবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে ভ্যানিলা স্বাদের প্রোটিন বিস্কিট

বর্জ্য প্লাস্টিক ও উদ্ভিদবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে ভ্যানিলা স্বাদের প্রোটিন বিস্কিট

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রবার্ট কিয়োসাকি। দুজন মিলে দুটি বইও লিখেছেন। ছবি: সংগৃহীত
মানুষকে ধনী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক নিজেই ১২০ কোটি ডলার ঋণে

‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের কথা জানিয়েছেন। অর্থ নিয়ে পরামর্শ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই লেখকের বিপুল ঋণের খবর সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় ঋণের পরও কীভাবে তিনি নিজেকে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে উপস্থাপন করছেন।   তবে বিষয়টি যতটা সরলভাবে শোনা যাচ্ছে, বাস্তবতা ততটা নয়। কিয়োসাকি নিজে এবং তার সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১২০ কোটি ডলারের পুরো অর্থ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ নয়। এর বড় অংশ বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে করা আবাসন বিনিয়োগের ঋণ। অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে রয়েছে সম্পদ ও আয় তৈরি করা সম্পত্তি। সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত ক্রিস্টোফার কক্সের দীর্ঘ প্রতিবেদনে কিয়োসাকির অর্থনৈতিক দর্শন, ব্যক্তিজীবন এবং ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের পেছনের গল্প উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের জন্য অ্যারিজোনায় কিয়োসাকির সঙ্গে দেখা করেন কক্স। সেখানে ৭৯ বছর বয়সী এই লেখক তার বিপুল ঋণ, বিনিয়োগ এবং জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেন।   ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ কিয়োসাকিকে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত লেখকে পরিণত করে। বইটি ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে ভ্যানিটি ফেয়ার ও প্রকাশনা-সংক্রান্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে। বইটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ব্যক্তিগত অর্থ ও বিনিয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বইটির মূল ধারণা ছিল, শুধু চাকরি করে বেতন পাওয়ার ওপর নির্ভর না করে সম্পদ তৈরি করা এবং আয় সৃষ্টি করতে পারে এমন সম্পদে বিনিয়োগ করা। কিয়োসাকি বিশেষ করে আবাসন, ব্যবসা ও অন্যান্য সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে ঋণকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি ঋণকে ভালো ও খারাপ, এই দুই ভাগে দেখেন। তার মতে, যে ঋণ আয় তৈরি করা সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়, সেটি সম্পদ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।   এই দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কিয়োসাকি নিজের বিনিয়োগে বড় অঙ্কের ঋণ ব্যবহার করেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রী কিম জানান, তাদের অংশীদারদের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি আবাসন ইউনিট রয়েছে। এসব সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ মিলিয়েই ১২০ কোটি ডলারের অঙ্কটি দাঁড়িয়েছে। কিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এর বড় অংশ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত দায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   কিয়োসাকি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিপুল ঋণ থাকা তার কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়। ২০২৪ সালেও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তার ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের বেশি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি নগদ অর্থ জমিয়ে রাখার বদলে ঋণ ব্যবহার করে সম্পদ কেনার কৌশলে বিশ্বাস করেন। তার যুক্তি হলো, কোনো সম্পত্তির মূল্য বাড়লে সেই সম্পত্তির বিপরীতে আরও ঋণ নেওয়া যায়। সেই অর্থ আবার নতুন সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। তার ভাষায়, ধনীরা ঋণকে সম্পদ তৈরির জন্য ব্যবহার করেন। তবে এই কৌশল একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে, কারণ সম্পত্তির মূল্য কমে গেলে বা আয় কমে গেলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।   কিয়োসাকির নিজের দাবি অনুযায়ী, তার মাসিক আয় একসময় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ছিল। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে অবশ্য তিনি বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ডলার বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত ঋণের অংশ মোট ১২০ কোটি ডলারের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। কিমের হিসাব অনুযায়ী, তা আনুমানিক ৩ কোটি থেকে ৬ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে কিয়োসাকির আর্থিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১২ সালে ‘রিচ ড্যাড’ নামের সেমিনারভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রিচ গ্লোবাল এলএলসি দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল। এর আগে এক ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বিরোধে আদালত ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তার আর্থিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ও মামলা হয়েছে।   তারপরও ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের জনপ্রিয়তা কমেনি। প্রথম দিকে বইটি নিজ উদ্যোগে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে এটি বেস্টসেলার তালিকায় জায়গা করে নেয় এবং ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’তে কিয়োসাকির উপস্থিতির পর বইটির বিক্রি আরও বেড়ে যায়। কিয়োসাকির নিজের জীবনও বইটির দর্শনের মতোই নানা বাঁকে ভরা। ১৯৪৭ সালে হাওয়াইয়ের হিলোতে জন্ম নেওয়া কিয়োসাকি জাপানি-আমেরিকান পরিবারের সন্তান। তার বাবা রালফ কিয়োসাকি ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি এবং হাওয়াইয়ের শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিয়োসাকি বইটিতে নিজের বাবাকে ‘পুওর ড্যাড’ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যদিও বাস্তব জীবনে বাবার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ছিল।   অন্যদিকে বইয়ের ‘রিচ ড্যাড’ চরিত্রটি পুরোপুরি তার নিজের বাবার বিপরীত এক অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতীক। ২০১৮ সালে কিয়োসাকি জানান, এই চরিত্রের পেছনে হাওয়াইয়ের হোটেল ব্যবসায়ী রিচার্ড কিমির প্রভাব ছিল। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বইয়ে তার বাবাকে ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে রালফই একসময় ছেলের ব্যবসায়িক উদ্যোগে ১ লাখ ডলার ঋণ দিয়েছিলেন। বাবার সঙ্গে এই জটিল সম্পর্কই সম্ভবত কিয়োসাকির আর্থিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি। তার বোন তেনজিনও মনে করেন, বাবার শিক্ষা ও মূল্যবোধ তার ভাইয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কিয়োসাকি নিজেও স্বীকার করেছেন, তার বাবা তাকে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছিলেন।   কিয়োসাকির জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ। তিনি মার্কিন মেরিন বাহিনীতে যোগ দিয়ে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার জীবন ও চিন্তাভাবনায় বড় প্রভাব ফেলে। পরে তিনি ব্যক্তিগত উন্নয়ন, দর্শন ও আর্থিক শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি ভবিষ্যৎচিন্তক ও স্থপতি বাকমিনস্টার ফুলারের সঙ্গে পরিচিত হন। ফুলারের চিন্তাধারা কিয়োসাকির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। কিয়োসাকি পরে উপলব্ধি করেন, তার লক্ষ্য শুধু নিজে ধনী হওয়া নয়, বরং অন্যদের অর্থনৈতিক শিক্ষা দেওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় ‘ক্যাশফ্লো’ নামের বোর্ড গেম এবং পরে সেই গেমকে বোঝাতে গিয়ে জন্ম নেয় ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের ধারণা।   কিয়োসাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। দুজন মিলে ‘হোয়াই উই ওয়ান্ট ইউ টু বি রিচ’ এবং ‘মিডাস টাচ’ নামে দুটি বই লিখেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে কিয়োসাকির ট্রাম্পের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও ঘনিষ্ঠতার কথাও উঠে এসেছে। তবে কিয়োসাকির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও কম নয়। বাজার ধস, স্বর্ণের দাম ও অর্থনীতি নিয়ে তার বিভিন্ন পূর্বাভাস অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি। তার উচ্চমূল্যের আর্থিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। ২০১৮ সালে রিচ ড্যাড এডুকেশনের বিরুদ্ধে একটি শ্রেণি-আদালত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ও ব্যয়বহুল কোর্স ও পরামর্শ সেবায় যুক্ত করাই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। মামলাটি অবশ্য কারিগরি কারণে খারিজ হয়ে যায়।   সব মিলিয়ে ১২০ কোটি ডলারের ঋণের খবর কিয়োসাকির ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থে দেউলিয়াত্বের গল্প নয়। বরং এটি তার দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ দর্শনেরই একটি চরম উদাহরণ। তিনি যে ধরনের ঋণকে সম্পদ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে দেখান, তার নিজের ব্যবসায়ও সেই কৌশলের প্রয়োগ রয়েছে। তবে বিপুল ঋণের সঙ্গে বিপুল সম্পদ থাকলেও ঝুঁকি যে থাকে, সেটিও এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: ভ্যানিটি ফেয়ার, ফরচুন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২৩:২৬
বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরও জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কর্মস্থলের তালিকায়। ছবি: সংগৃহীত

কাজ ও ভালো বেতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ২৫ শহরের তালিকা প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটের মধ্যে আমদানি বাড়িয়ে ভোক্তাদের জন্য দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমাতে ট্রাম্পের বড় উদ্যোগ, ৩ লাখ টন আমদানির অনুমোদন

ফ্লোরিডাকে পেছনে ফেলে অবসরজীবনের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে ডেলাওয়্যারের সমুদ্রতীরবর্তী শহরগুলো। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডা নয়, কম কর আর সমুদ্রসৈকতের টানে ডেলাওয়্যারে ছুটছেন অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকানরা

১৬ মাসে প্রাণ গেল অন্তত ৮ বাংলাদেশির
স্বপ্নের আমেরিকায় এসেও পূর্ণ হলো না স্বপ্ন, ১৬ মাসে প্রাণ গেল অন্তত ৮ বাংলাদেশির

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন, জীবিকা কিংবা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো অন্তত আটজন বাংলাদেশি গত ১৬ মাসে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও টেনেসির মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কেউ কর্মস্থলে, কেউ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, আবার কেউ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।   নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার পেছনে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে কোনো সংঘবদ্ধ হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে একের পর এক এমন মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এই প্রাণহানির শুরুটা হয়েছিল ফ্লোরিডায়। ২০২৫ সালের মে মাসে মাউন্ট ডোরায় ৪৪ বছর বয়সী মনিকা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যার অভিযোগে তার ভাশুর শাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই জোড়া খুনের অভিযোগে তাদের সাবেক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে, গত এপ্রিলে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মরত ৫১ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী নিলুফা ইয়াসমিন এক দুর্বৃত্তের হাতুড়ির আঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন।   নিউইয়র্কেও একাধিক বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময় বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সাহসী অফিসার দিদারুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে যান।   এছাড়া, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। একই ঘটনায় রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এর আগে জুলাই মাসে ব্রুকলিনেই ছোটখাটো এক সড়ক দুর্ঘটনার বিরোধ মেটাতে গিয়ে মুখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ট্যাক্সিচালক রুহুল আমিন নাসির।   পেনসিলভানিয়া ও টেনেসিতেও বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় 'ডোরড্যাশ' অ্যাপে খাবার ডেলিভারি করতে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে নিহত হন মো. মাহফুজুল হক। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বাংলাদেশে পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন।   অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট টেনেসির বেলস এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি ও হত্যার শিকার হন বাংলাদেশি অভিবাসী শাহেদ রানা মোহসিন।   এই আটটি মৃত্যুর পেছনে কোনো অভিন্ন কারণ নেই। পারিবারিক বিরোধ, কর্মস্থলে ডাকাতি বা আকস্মিক বন্দুক হামলার মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ঘটেছে। তাই একে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বা ধারাবাহিক হামলা বলার সুযোগ নেই।   তবে রেস্তোরাঁ, গ্যাস স্টেশন, খাবার ডেলিভারি বা ট্যাক্সি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই আটটি মৃত্যু শুধু আটটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গই নয়, বরং স্বপ্নের দেশে নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশাকে ঘিরে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২০:৩
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, পলাতক ঘাতকের খোঁজে পুলিশ

নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, পলাতক ঘাতকের খোঁজে পুলিশ

ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের

ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের

নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির

নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির

0 Comments