- প্রচ্ছদ
- Topic
ফেডারেল বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের এক ফেডারেল বিচারক আরও বেশি আইসিই (ICE- ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দেখতে চেয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, এক কর্মকর্তা সরকারি গ্রেপ্তারের রেকর্ডে মিথ্যাচার করেছেন এবং সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমেই এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত ডিস্ট্রিক্ট জজ মুস্তাফা টি. কাসুভাই জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের বিবরণে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে আদালতের উচিত কেবল লিখিত বিবৃতির ওপর নির্ভর না করে তাদের সরাসরি জেরা করা। বিচারক তার আদেশে স্পষ্ট করে লেখেন, "সত্য অনুসন্ধানের জন্য সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। যখন সাক্ষীরা অবলীলায় মিথ্যা বলতে প্রস্তুত থাকেন, তখন লিখিত বিবৃতি কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।" বিচারকের এই কঠোর সমালোচনার সূত্রপাত মূলত ওয়ারেন্ট ছাড়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। জে.জি. (J.G.) নামের এক আইসিই কর্মকর্তার তৈরি করা গ্রেপ্তারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, কর্মকর্তাদের কাছে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেই তার গাড়ির কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, গাড়ি থামানোর সময় তিনি ওই ব্যক্তির অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং তার কাছে কোনো ওয়ারেন্টও ছিল না। বিচারক কাসুভাই এই ঘটনাটিকে ভুল হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে একে ‘ইচ্ছাকৃত ও সমন্বিত জালিয়াতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তাকে যদি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জেরা না করা হতো, তবে তার এই মিথ্যাচার কখনোই সামনে আসতো না। এই ঘটনার পর বিচারক কাসুভাই আইসিই কর্মকর্তাদের ওপর থেকে 'প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি' বা সরকারি কর্মকর্তাদের আইনি কাজের প্রতি সাধারণ যে আইনি আস্থা রাখা হয়, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, আইসিই এজেন্টরা নিজেদের কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ম্যাসাচুসেটসের এক ফেডারেল বিচারকও আইসিই কর্মকর্তাদের 'ধারাবাহিক মিথ্যাচারের' কারণে তাদের ওপর থেকে এই আইনি আস্থা প্রত্যাহার করেছিলেন। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপকহারে অভিবাসী বিতাড়নের নীতির সাথে ফেডারেল আদালতগুলোর এই সংঘাত বেশ কয়েকবারই সামনে এসেছে, যেখানে বিচারকরা আইসিই-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, আগ্রাসী গ্রেপ্তার ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। পাশাপাশি আইসিই-এর আই-২১৩ (I-213) গ্রেপ্তারি রেকর্ড এবং প্রতিবেদনের পদ্ধতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারক কাসুভাই। আইসিই দাবি করেছিল যে, ছয় মাসে তারা ওয়ারেন্ট ছাড়া মাত্র ১৩টি গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু বিচারকের মতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে সংস্থাটি অরেগনে ৫৭৪টি গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এই রেকর্ডগুলোতে একাধিক ভুল, একই ভাষার পুনরাবৃত্তি এবং ভুয়া তথ্যের উপস্থিতি পেয়েছেন। বিচারকের মতে, এ ধরনের অসদাচরণ অরেগনে আইসিই কর্মকর্তাদের পূরণ করা সমস্ত আই-২১৩ ফর্মের সত্যতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক আদালতের তিনটি নির্দেশ অমান্য করে এক আশ্রয়প্রার্থীকে এল সালভাদরে বিতাড়িত করার দায়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। শুক্রবার দেওয়া এক আদেশে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ স্টেফানি গ্যালাগার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের নথিতে 'ই.এল.এ.' (E.L.A.) হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই সঙ্গে তাঁর আশ্রয়ের আবেদন পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিতাড়নের কোনো আদেশ কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে সরকারকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে দুবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। প্রথমবার বিতাড়নের পর তিনি গত ৭ আগস্ট স্বেচ্ছায় বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং নিজেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সমর্পণ করেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বন্দি রাখার পর মার্কিন সরকার তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো এমন একটি দেশে জোরপূর্বক ফেরত পাঠায়, যেখানে তিনি নিপীড়নের আতঙ্কে ছিলেন। এই ঘটনাটি মূলত ২০১৯ সালের একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলার অংশ, যা অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের আশ্রয়ের অধিকার আইনিভাবে রক্ষা করে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইনি সুরক্ষার আওতায় থাকা অন্তত ১০৭ জন ব্যক্তিকে (যার মধ্যে ৫৪ জন নিশ্চিত এবং ৫৩ জন সম্ভাব্য সুরক্ষিত সদস্য) তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অন্যায়ভাবে বিতাড়ন করা হয়েছে। এছাড়া, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ২,৫০০ ডলার অনুদান দেওয়ারও প্রস্তাব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসেও বিচারক গ্যালাগার ডিএইচএস-কে দেওয়ানি অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। সে সময় তিনি রায় দিয়েছিলেন যে, আইনগত বাধা থাকা সত্ত্বেও সরকার বারবার তরুণ আশ্রয়প্রার্থীদের বিতাড়িত করছে। সর্বশেষ এই ঘটনা নিয়ে এবিসি নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ডিএইচএস-এর কোনো মুখপাত্র তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। শুক্রবারের ওই আদেশে আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ওই আশ্রয়প্রার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি আদালতকে জানাতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) একটি নতুন নীতি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাসের মেয়াদকাল ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ম্যাসাচুসেটসের ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ. ডেনিস সেয়লর ফোরথ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নীতিটি দেশব্যাপী কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বিচারকের আদেশের ফলে আইনি প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় তা আর কার্যকর হচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আগের সেই ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থাই আপাতত বহাল থাকছে। গত ১৭ জুলাই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের চূড়ান্ত নিয়মনীতি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করে। এর অধীনে এফ, জে এবং আই ভিসার ক্ষেত্রে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-এর বদলে নির্দিষ্ট মেয়াদের সময়সীমা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছিল। নতুন নীতি অনুযায়ী, এফ এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্টদের জন্য তাদের প্রোগ্রাম বা কোর্সের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। যেসব শিক্ষার্থী বা এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতো, তাদের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এছাড়া, বিশেষ ক্ষেত্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাবও ছিল এই নীতিতে। অন্যদিকে, আই স্ট্যাটাসধারী বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মাত্র ২৪০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে বিচারক সেয়লর উল্লেখ করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই সিদ্ধান্তটি অনেকটাই খামখেয়ালি ও যুক্তিহীন। সংস্থাটি জনসাধারণের মতামতের যথাযথ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি। নতুন নীতিটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারক। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে এবং সরাসরি প্রায় ৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। নফসা (NAFSA), প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য সংগঠনের দায়ের করা একটি সম্মিলিত মামলার প্রেক্ষিতেই বিচারক এই সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। আপাতত নতুন নীতি কার্যকর না হওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের একটি স্বস্তি মিলেছে, তবে এটি চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় আইনি লড়াই এখনও চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর থেকে একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন রোড আইল্যান্ডের প্রধান ফেডারেল বিচারক জন জে. ম্যাককনেল জুনিয়র। ২০২৫ সালে প্রশাসনের ফেডারেল তহবিল স্থগিতের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর তার আদালতে ৪০০টির বেশি ক্ষুব্ধ ও হুমকিমূলক ফোনকল আসে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ম্যাককনেল জানান, হুমকির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ইউএস মার্শালস সার্ভিস তার নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একটি হুমকিতে তার বাড়ির ঠিকানা খুঁজে সেখানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের শুরুর দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি ব্যয় স্থগিত করার ব্যাপক উদ্যোগ নিলে ম্যাককনেল সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রশাসনের অর্থ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে আটকে দেন। ওই রায়ের পর ট্রাম্পপন্থী সমর্থকদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। শুধু বিচারক ম্যাককনেলই নন, তার পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করা হয়। এক পর্যায়ে তার মেয়ের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে সাধারণত ডক্সিং বলা হয়। পাশাপাশি তাকে অভিশংসনের দাবিও ওঠে এবং কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল একটি পিৎজা ডেলিভারি। ম্যাককনেলের পরিবার কোনো পিৎজা অর্ডার না করলেও তার বাড়িতে একটি পিৎজা পৌঁছে যায়। অর্ডারে ব্যবহার করা হয়েছিল ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্লের নাম। ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্ল ছিলেন নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক এসথার সালাসের ২০ বছর বয়সী ছেলে। ২০২০ সালে বিচারক সালাসকে লক্ষ্য করে তার নিউ জার্সির বাড়িতে হামলা চালানো হলে দরজা খুলতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন অ্যান্ডার্ল। হামলাকারী ডেলিভারি কর্মীর ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে গিয়েছিল। ম্যাককনেলের বাড়িতে অ্যান্ডার্লের নামে পিৎজা পৌঁছানোর বিষয়টি ইউএস মার্শালস সার্ভিস তাকে জানায়। পরে তিনি বিচারক সালাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই নামে অন্য ফেডারেল বিচারকদের বাড়িতেও পিৎজা পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ম্যাককনেল বলেছেন, অ্যান্ডার্লের নাম ব্যবহার করে তার বাড়িতে পিৎজা পাঠানোর ঘটনাটি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু তাকে নয়, তার পরিবারকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রায় ১৫ বছর ধরে ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাককনেল। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারক। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার কারণে আরও কয়েকজন ফেডারেল বিচারক রাজনৈতিক সমালোচনা, অনলাইন হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন। ২০২৬ সালের জুনেও ম্যাককনেল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত কয়েকটি নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। ওই রায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অ্যাসাইলাম, গ্রিন কার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটসহ বৈধ অভিবাসন সুবিধা স্থগিত করার প্রশাসনিক পদক্ষেপকে আইনের পরিপন্থী বলে বাতিল করেন। ফেডারেল বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিচারকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির মাত্রা নিয়ে কয়েকজন বিচারক প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য, আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে বিচারক ও তাদের পরিবারকে ভয় দেখানো হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় থাকে না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ম্যাককনেলের ভাষায়, বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আদালতে যে সিদ্ধান্তই দেওয়া হোক, সেটি আইন ও আদালতের রেকর্ডের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিচারকদের ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকির মধ্যে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।