বন্যা

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্ডিয়ানা, প্রাণহানি বেড়ে ৬, বিদ্যুৎহীন দেড় লাখ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্ডিয়ানা, প্রাণহানি বেড়ে ৬, বিদ্যুৎহীন দেড় লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ ঝড় ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত ১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে রাজ্যটিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে জেনিংস কাউন্টির চার বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে, যার বাড়ির ওপর ঝড়ের সময় গাছ ভেঙে পড়েছিল। এছাড়া ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ এবং ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রাজ্যের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।   টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ইন্ডিয়ানাপোলিসসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র জো হগসেট। পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্যের গভর্নর মাইক ব্রন ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।   তিনি জানিয়েছেন, এই দুর্যোগ ও ঐতিহাসিক বন্যার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন এবং উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বহু পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।   ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় তারা অর্ধশত পানি থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে ৯১ জন বাসিন্দা এবং ৪৫টি পোষা প্রাণীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। নোবলসভিল শহরের মেয়র ক্রিস জেনসেন জানিয়েছেন, সেখানে হোয়াইট নদীর পানি ১১৩ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ২৪ দশমিক ৬ ফুটে পৌঁছেছে, যা ১৯১৩ সালের পর সর্বোচ্চ।   আবহাওয়া পূর্বাভাসে ইন্ডিয়ানাপোলিস, ওহাইওর কলম্বাস এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার চার্লসটনসহ বেশ কিছু এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক জোনাথন হুইথাম জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি অন্তত আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে, এরপরই পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ক্যারোলিনা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ক্যারোলিনা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী লাখো মানুষের গ্রীষ্মের সপ্তাহান্তের পরিকল্পনা আবারও ভেস্তে যেতে বসেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই ছুটির দিনে ঘরের বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে একটি বড় ধরনের ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করছে, যার প্রভাবে সপ্তাহান্তের শুরুতেই ফ্লোরিডা এবং ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে প্রচুর ক্রান্তীয় জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা প্রবেশ করেছে।   এই অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ভারী বর্ষণ ঘটাতে সক্ষম। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় সাউথ ক্যারোলিনার চার্লসটন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সপ্তাহান্তের শুরুতে চার মাত্রার স্কেলে ২ নম্বর আকস্মিক বন্যার সতর্কতা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড রিস্ক) জারি করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার মিয়ামি থেকে নর্থ ক্যারোলিনার উইলমিংটন পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ১ নম্বর সতর্কতা বহাল রয়েছে।   আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার বিকেল নাগাদ ধীর গতির ঝড় তৈরি হলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দুই থেকে তিন ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে শনিবার সুদূর উত্তর ফ্লোরিডা, দক্ষিণ-পূর্ব জর্জিয়া এবং ক্যারোলিনা অঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও রবিবার পর্যন্ত মধ্য ফ্লোরিডা থেকে শুরু করে জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলিনার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সামগ্রিকভাবে এক থেকে দুই ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের আসামে বন্যায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে । ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, ২৫ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের ২৫টি জেলায় এখনো ১১ লাখের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্রসহ রাজ্যের একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি।    আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শতাধিক ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।    উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় নৌকায় করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।    বন্যার প্রভাব পড়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানেও। প্রতিবছরের মতো এবারও উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যপ্রাণী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণসহ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    আসামে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের বন্যাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন কর্মকর্তারা। আবহাওয়া বিভাগ আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উদ্ধার অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মুষলধারে বৃষ্টির পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে সেতু, বন্ধ হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে শত শত ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর প্যাট্রিক মরিসি।   মঙ্গলবার রাতে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ৫৫টি কাউন্টিতেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর। বুধবারও কয়েকজন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যাচাই ছাড়া কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে গভর্নরের দপ্তর।   প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের উদ্ধারকারী দল অন্তত ৮৫টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। ন্যাশনাল গার্ড ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের ১৯টি হেলিকপ্টার সরাসরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে অথবা জরুরি প্রয়োজনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষের জন্য তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে একশর বেশি বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাকবলিত অনেক এলাকায় পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকারীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি।   আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, কোনো কোনো এলাকায় সাত ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। গভর্নর মরিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি স্থানে মাত্র ৩৭ মিনিটে সাড়ে চার ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আগে থেকেই মাটি পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী, খাল ও নিচু এলাকায় জমে যায়।   লুইস ও আপশার কাউন্টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে। ওয়েস্টনের একটি বিপণিবিতানের পার্কিংয়ে রাখা গাড়ি পানিতে ডুবে যায় এবং কাদামিশ্রিত পানি ভবনের অনেক ভেতর পর্যন্ত ঢুকে পড়ে। কাছের একটি হোটেলের নিচতলাও প্লাবিত হয়।   বাকহ্যানন শহরের মেয়র রবি স্কিনার ক্ষয়ক্ষতিকে হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন। দুর্গতদের সহায়তার জন্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ওয়েসলিয়ান কলেজে ত্রাণসামগ্রী গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   বন্যার কারণে ইন্টারস্টেট ৭৯, ইউএস রুট ৪৮ এবং বহু স্থানীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফায়েটভিল শহরে বৃষ্টির কারণে তৈরি একটি গর্তে একটি গাড়ি তলিয়ে যায়। প্লাবিত সড়কে আটকা পড়া বহু মানুষকে উদ্ধার করেছে জরুরি বিভাগ।   মঙ্গলবারের ঝড়ের সময় ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কয়েকটি এলাকায় টর্নেডোর আশঙ্কাও দেখা দেয়। সেন্ট মেরিস ও বেলমন্ট এলাকায় সম্ভাব্য টর্নেডোর কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।   বুধবার বৃষ্টি কমে এলেও নদী ও খালের আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা সতর্কতা বহাল ছিল। বাকহ্যাননের কাছে স্যান্ড রান নামের একটি খালের পানি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ১৯৮৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় ওই খালের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতার রেকর্ড হয়েছিল। সেই দুর্যোগে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াজুড়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।   গভর্নর মরিসি জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। দুর্গত জনপদগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে ব্যাপক সহায়তার প্রয়োজন হবে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ভারতে দুর্যোগ, ছবি: সংগৃহীত
বন্যা, ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত ভারত, প্রাণহানি বেড়ে ২৫

 টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যা, ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে এসব দুর্যোগে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড, আসাম, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্য। কোথাও পাহাড় ধসে বসতবাড়ি চাপা পড়েছে, কোথাও নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে সড়ক ও জনপদ।   জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।   অন্যদিকে, আসামে বন্যার পানিতে কয়েকটি জেলা প্লাবিত হয়েছে। হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং বহু কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে।   নাগাল্যান্ডেও ভারী বৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।   ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। হিমাচল প্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকির কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ভারতে প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা মৌসুমি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা নিয়মিত হলেও, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বহু অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট হলিউডে ১০০ বছরের পুরোনো পানির পাইপ ফেটে প্লাবিত সড়ক-ঘরবাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট হলিউডে ১৯১৬ সালে বসানো একটি শতবর্ষ পুরোনো পানির পাইপ ফেটে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সানসেট বুলেভার্ড এবং হলোওয়ে ড্রাইভ এলাকায় হঠাৎ করেই এই বিপত্তি ঘটে। শুক্রবার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের ওই বিশাল ধাতব পাইপটিতে একটি বড় গর্ত ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অংশ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের শাসনামলে এই পাইপলাইনটি স্থাপন করা হয়েছিল।   হঠাৎ পাইপ ফেটে রাস্তায় প্রবল বেগে পানি আছড়ে পড়লে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। পানির তোড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং রাস্তার মাঝখানে সিঙ্কহোল বা বিশাল গর্ত তৈরি হয়ে দুজন ব্যক্তি তাতে পড়ে যান। তবে তারা অক্ষত আছেন বলেই জানা গেছে। এছাড়া এলাকার জনপ্রিয় 'ডায়ালগ ক্যাফে'সহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিচতলার অ্যাপার্টমেন্ট এবং আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ও ভয়াবহ ছিল যে, একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা জানান, হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করলে তা আটকানোর কোনো উপায়ই তাদের ছিল না। তবে ওয়েস্ট হলিউডের মেয়র জন হেইলম্যান সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে এলাকার সব বাসিন্দা নিরাপদে আছেন।   এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস ডিপার্টমেন্ট অব ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার (এলএডিডব্লিউপি)-এর কর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের ২৫ ফুটের একটি অংশ নিরাপদে সরিয়ে ফেলার জটিল কাজটি শুরু করতে ইতোমধ্যেই প্রায় ২ লাখ গ্যালন পানি সেচে ফেলেছেন। মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ৮ ইঞ্চি ব্যাসের একটি বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু বাসিন্দাকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তাদের পানি সাশ্রয় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সানসেট বুলেভার্ডের কিছু অংশ ও ফুটপাত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মেট্রো বাস চলাচলের পথও পরিবর্তন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো পাইপলাইনটি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে ১০ মাইল দীর্ঘ নতুন পাইপ বসানোর পরিকল্পনা থাকলেও, ২০৩১ সালের আগে সেই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
টানা বৃষ্টিতে টেক্সাস হিল কান্ট্রির বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে আবারও ভয়াবহ বন্যা, জরুরি উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যাঞ্চল ও হিল কান্ট্রি এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। আকস্মিক বন্যায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত ফুলে ওঠা নদীর পানি সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি প্লাবিত করায় জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।   বৃহস্পতিবার টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেন। রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার জরুরি কর্মী, উদ্ধার নৌযান, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে টেক্সাস হিল কান্ট্রির বিভিন্ন এলাকা, যেখানে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গুয়াদালুপে নদীসহ একাধিক নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ কয়েকটি অঞ্চলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি’ জারি করে বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেক এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীর পানি অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পায়। এতে বহু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহন পানিতে আটকা পড়ে। উদ্ধারকারী দল নৌকা ও হেলিকপ্টারের সাহায্যে আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। বন্যার কারণে টেক্সাসের বিভিন্ন কাউন্টিতে বহু সড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা, নিচু অঞ্চল এবং বন্যাপ্রবণ বসতিগুলোর বাসিন্দাদের বাধ্যতামূলক বা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   গত বছরের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি টেক্সাসের এই অঞ্চল। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই হিল কান্ট্রি এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের বহু শিশু ও কর্মীও ছিলেন। এবারও একই অঞ্চলে নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।   আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে চলা ভারী বৃষ্টিতে মাটি আগে থেকেই সম্পৃক্ত থাকায় নতুন বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী ও খালে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করেছে। কিছু এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ
ঘানায় ভয়াবহ বন্যা: মৃত বেড়ে ৩৪, বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯০ হাজার মানুষ

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।   ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ন্যাডমো) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া মৃতদের মধ্যে রাজধানী আক্রাতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। সংস্থাটির পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক রিচার্ড অ্যামো ইয়ার্টে বলেন, নিখোঁজদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নতুন করে মরদেহ পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় টেলিভিশন টিভি৩-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দল এখনো নিখোঁজদের খোঁজে তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।   ন্যাডমোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশের সাতটি অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোট ৮৯ হাজার ৭৩৬ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রেটার আক্রা অঞ্চল, যেখানে ৫৪ হাজার ৭১২ জন মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এর পরেই রয়েছে সেন্ট্রাল অঞ্চল, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৮২ জন।   এ ছাড়া ভোল্টা, ওয়েস্টার্ন, আশান্তি, ওয়েস্টার্ন নর্থ এবং ইস্টার্ন অঞ্চলেও হাজারো মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। তবে ইস্টার্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বন্যার ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
আইভরি কোস্টে বন্যায় নিহত ৫৯, বাড়তে পারে প্রাণহানি
আইভরি কোস্টে বন্যায় নিহত ৫৯, বাড়তে পারে প্রাণহানি; ঘানা-আক্রাতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বন্যায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের কারণে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।   বুধবার (১ জুলাই) রাজধানী আবিদজানে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সরকারের মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চলতি বছরে বন্যায় এত মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে সর্বশেষ দফার বন্যায় ঠিক কতজন প্রাণ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি তিনি।   এর আগে সোমবার ঘানা ও আইভরি কোস্টের রাজধানী এলাকাগুলোতে কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টির পর হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ২৪ জন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।   ঘানার রাজধানী আক্রায় বন্যার পানিতে বহু সড়ক ও ভবন তলিয়ে যায়, ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী তেমা শহরেও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে নিত্যদিনের জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   অন্যদিকে আইভরি কোস্টের অর্থনৈতিক কেন্দ্র আবিদজানেও কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় সংহতি বিষয়ক মন্ত্রী মাইস বেলমন্দে দোগো জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই আবিদজানের আতেকুবে ও ইয়োপুগন পৌর এলাকার বাসিন্দা।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মুখপাত্র আমাদু কুলিবালি সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং যেসব এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার অনেক দেশই এখন ক্রমবর্ধমান চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে আফ্রিকার অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে এই মহাদেশের দেশগুলোই। ফলে প্রতিবছরই বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বাড়ছে।   এই প্রতিবেদনটি এবিসি নিউজের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে আজ সন্ধ্যায় তীব্র ঝড়ের সতর্কতা, আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ মিনেসোটা ও উত্তর আইওয়া অঙ্গরাজ্যে আজ (১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শক্তিশালী থেকে অতি তীব্র বজ্রঝড় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে প্রবল দমকা হাওয়া, বড় আকারের শিলাবৃষ্টি, বিচ্ছিন্ন টর্নেডো এবং অতিভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।   সকালের ঝড় সরে যাওয়ার পর দিনের বেলায় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করবে। বিকেলের শেষ ভাগ থেকে নতুন করে বজ্রঝড় সৃষ্টি হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ১১৩ কিলোমিটার (৭০ মাইল) বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এছাড়া গলফ বলের সমান বা তারও বড় শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নিচু এলাকা, ছোট নদী-খাল এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। ধীরগতির বজ্রঝড়ের কারণে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা ও সড়ক প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং বজ্রঝড় শুরু হলে নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে প্লাবিত সড়ক পার হওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিপাতে ২৫ জনের মৃত্যু, বিপর্যস্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত এক সপ্তাহে প্রদেশটির বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই টানা বৃষ্টিপাতে প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে এখন পর্যন্ত ৭৭টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৩৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোহাট, বান্নু, ডেরা ইসমাইল খান এবং কারাক জেলা। এসব এলাকায় ভূমিধস এবং দেয়াল ধসে পড়ার মতো ঘটনায় অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দেশটির প্রধান জরুরি মানবিক সেবা সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দুর্গতদের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দুর্গম এলাকাগুলোর সড়ক থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এদিকে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় পিডিএমএ প্রদেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই মৌসুমি ও প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টিপাতে পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং পাহাড়ি এলাকায় অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Unknown এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০