সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#বেকারত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না কর্মীদের মজুরি

যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে কৃষি খাতের বাইরে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশে। তবে চাকরি বাড়লেও কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির হার সর্বশেষ প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হারের নিচে রয়েছে। শুক্রবার, ৬ নভেম্বর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে চাকরির বাজারের এই চিত্র উঠে এসেছে।   ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের হিসাবে, অক্টোবরে বেসরকারি খাতে ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় আগের মাসের তুলনায় ১৪ সেন্ট বেড়ে ৩৮ ডলার হয়েছে। মাসিক হিসাবে এই বৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ।   অন্যদিকে সর্বশেষ প্রকাশিত সেপ্টেম্বরের হিসাবে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ওই মাসে গ্যাসোলিনের দাম আগের মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিক মাসিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকের বেশি এসেছে গ্যাসোলিনের দাম থেকে। অক্টোবরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে ১০ নভেম্বর।   নতুন চাকরির বড় অংশ এসেছে পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে। সেখানে অক্টোবরে ৭০ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। হেলথকেয়ার খাতে বেড়েছে ৪২ হাজার এবং পরিবহন ও ওয়্যারহাউসিং খাতে ২৫ হাজার চাকরি। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতেও কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৯ হাজার। অন্য বড় খাতগুলোতে কর্মসংস্থানের পরিবর্তন ছিল সামান্য।   আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের চাকরির হিসাবও সংশোধন করা হয়েছে। নতুন হিসাবে আগস্টে ১ লাখ ৮৬ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ৬০ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। দুই মাস মিলিয়ে আগের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে চাকরির সংখ্যা ৮৪ হাজার বেশি। অক্টোবরে চাকরি বৃদ্ধিও আগের ১২ মাসের মাসিক গড় ৪৮ হাজারের চেয়ে বেশি ছিল।   তবে ফুলটাইম কাজ চেয়েও পার্টটাইম করতে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা অক্টোবরে ৩ লাখ ৩৯ হাজার বেড়ে ৪৮ লাখ হয়েছে। কাজের সময় কমে যাওয়া অথবা ফুলটাইম চাকরি না পাওয়ায় তাঁরা পার্টটাইম কাজ করছেন। একই সময়ে মোট বেকার মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস ও ডব্লিউটিএক্সএল।

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ৫, ২০২৬ ১৩:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ মাসের বেশি বেকার এমন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, নির্বাচনের আগে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ মাসের বেশি বেকার এমন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, নির্বাচনের আগে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে টানা ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কাজ খুঁজেও চাকরি পাচ্ছেন না, এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে নিউজউইকের প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যাঁরা অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার এবং সক্রিয়ভাবে চাকরি খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাব অনুযায়ী, এই শ্রেণির মানুষদের সাধারণ বেকার জনগোষ্ঠী থেকে আলাদাভাবে গণনা করা হয়। কারণ দীর্ঘ সময় চাকরির বাইরে থাকলে আয় ও সঞ্চয়ের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরিতে ফিরে আসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের বৃদ্ধি সাধারণ বেকারত্বের হার থেকে ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে। সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও যাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন, তাঁদের একটি অংশ নতুন চাকরি পেতে বেশি সময় নিতে পারেন। ফলে শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না।   দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে পরিবারের নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মর্টগেজ, রেন্ট, গাড়ির কিস্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সঞ্চয় সীমিত থাকলে সেই চাপ আরও বাড়ে। চাকরি খোঁজার সময় দীর্ঘ হলে অনেককে পেশা পরিবর্তন কিংবা আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরির কথাও বিবেচনা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাকরির বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের হার এবং বেকারত্বের মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে কতটা আগ্রহী এবং চাকরিপ্রার্থীরা কত দ্রুত কাজে ফিরতে পারছেন।   তবে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বাড়ার অর্থ এই নয় যে সব খাতে সমানভাবে চাকরির সুযোগ কমেছে। বিভিন্ন শিল্প, পেশা ও অঞ্চলে নিয়োগ পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণ করতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিউজউইকের প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বেকারের সর্বশেষ সংখ্যা, আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিস্থিতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের সাম্প্রতিক প্রবণতা তাই শ্রমবাজারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস।  

সামিয়া ইসলাম নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০ 0
হিউস্টনে সেপ্টেম্বরে কমেছে ৭ হাজার ৩০০ চাকরি
টেক্সাসের হিউস্টনের শ্রমবাজারে হঠাৎ মন্দার সংকেত, এক মাসে কমেছে ৭ হাজার ৩০০ কর্মসংস্থান

টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন অঞ্চলে সেপ্টেম্বরে ৭ হাজার ৩০০টি চাকরি কমেছে। বছরের এই সময়ে সাধারণত কর্মসংস্থান বাড়লেও এবার তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের প্রধান শিল্পগুলোতে একযোগে চাকরি কমে যাওয়ায় স্থানীয় শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসটিতে হিউস্টনে চাকরি কমার হার ১৯৯০ সালের পর ওই মাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পতন। মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাব সমন্বয় করার পরও কর্মসংস্থান কমেছে ১৪ হাজার ৬০০টি। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে স্কুলের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ বাড়ে। কিন্তু এবার সেই স্বাভাবিক প্রবণতা দেখা যায়নি। বেসরকারি খাতেই চাকরি কমার চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরে এ খাতে মোট ১৯ হাজার ৪০০টি চাকরি কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে অবসর ও আতিথেয়তা খাতে। রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং বিনোদনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসহ এই খাতে কর্মসংস্থান কমেছে ৭ হাজার ৩০০টি। এ ছাড়া পেশাগত ও ব্যবসায়িক পরিষেবা খাতে ৩ হাজার ৯০০টি এবং বাণিজ্য, পরিবহন ও ইউটিলিটি খাতে ২ হাজার ৬০০টি চাকরি কমেছে। অর্থাৎ, শুধু একটি শিল্পে নয়, হিউস্টনের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক খাতেই কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে। তবে সরকারি খাতে কিছুটা নিয়োগ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এ খাতে ১২ হাজার ১০০টি চাকরি যুক্ত হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তারপরও সরকারি খাতের চাকরি বৃদ্ধির পরিমাণ সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণত যে হারে বাড়ে, এবার তা তার চেয়ে কম ছিল। ফলে সরকারি নিয়োগ বেসরকারি খাতের বড় ধরনের চাকরি হ্রাসের প্রভাব পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। হিউস্টনের শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়ার্কফোর্স সলিউশনস গালফ কোস্টের অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আহমাদিজাদেহ। তাঁর মতে, সেপ্টেম্বরে চাকরি কমার বিস্তৃতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। বিশেষ করে হিউস্টনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিল্পগুলোতেও পতন দেখা গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মাত্র এক মাসের পরিসংখ্যান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। তবে বিভিন্ন খাতে একসঙ্গে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে পরবর্তী কয়েক মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে। মাসিক হিসাবে চাকরি কমলেও গত এক বছরের চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিউস্টন অঞ্চলে মোট ৩৩ হাজার ৬০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। এই সময়ে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ শতাংশ। এদিকে সেপ্টেম্বরে হিউস্টনের বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। হারটি কমলেও তা টেক্সাস অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্বের হারের চেয়ে বেশি ছিল। অর্থাৎ, বার্ষিক হিসাবে নতুন চাকরি তৈরি এবং বেকারত্বের হার কমার ইতিবাচক দিক থাকলেও আঞ্চলিক শ্রমবাজারের কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। ওয়ার্কফোর্স সলিউশনস গালফ কোস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিউস্টন অঞ্চলে প্রায় ২৯ হাজার ৯০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। তবে সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন শিল্পে দেখা দেওয়া পতন এই পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কতটা সম্ভব হবে, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত পরিসংখ্যান আগামী ২০ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে নতুন চাকরি সৃষ্টি, বিভিন্ন শিল্পের নিয়োগ পরিস্থিতি এবং বেকারত্বের হারের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত এক মাসের পতনকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; তবে হিউস্টনের শ্রমবাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য নতুন তথ্যের দিকে নজর থাকবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডিধারী গবেষক জ্যাক ওয়েইস দুই হাজারের বেশি চাকরিতে আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
প্রিন্সটন থেকে পিএইচডি, নোবেল কমিটির স্বীকৃত গবেষণা, ২৩০০ আবেদন করেও মিলছে না চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করেছেন। তাঁর গবেষণার উল্লেখও করেছে ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি। অথচ দুই বছর ধরে চাকরির খোঁজে ২ হাজার ৩০০টির বেশি আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি ৩০ বছর বয়সী জ্যাক ওয়েইস। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির এই বাসিন্দা এখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন। গবেষণাগার ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ, এমনকি খাবার তৈরির কাজেও আবেদন করেছেন তিনি। তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর পাননি, আর কিছু আবেদন শেষ হয়েছে প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই দীর্ঘ চাকরির লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।       ওয়েইসের শিক্ষাজীবনের রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল। তিনি রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন, যা শেষ হয় ২০২৪ সালে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং অণুর পারস্পরিক ক্রিয়া। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর গবেষণার উল্লেখ করা হয়। তবে এই উল্লেখের অর্থ ওয়েইস নিজে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, এমন নয়। এত ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও পছন্দের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও কাজ খুঁজতে হয়েছে।       প্রথম দিকে ওষুধশিল্পের গবেষণাগার এবং জাতীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চতর গবেষণা বৃত্তিতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েইস। কিন্তু অধিকাংশ আবেদনের কোনো জবাব আসেনি। পরে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের চাকরিতে আবেদন করেন। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক তৈরি ও বিক্রি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুতের কাজেও আবেদন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত একজন গবেষকের চাকরি খোঁজার পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ।       ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য কাজ পেয়েছিলেন ওয়েইস। মারকর নামের প্রতিষ্ঠানটির হয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের জন্য রাসায়নিক প্রকৌশলবিষয়ক প্রশ্ন তৈরি করতেন, মডেলের উত্তর যাচাই করতেন এবং সেগুলো আরও উন্নত করতে সহায়তা করতেন। ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেলেও কাজের পরিমাণ নিয়মিত ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেতেন, আবার কোনো সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়। পরে কাজ কমতে কমতে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সুযোগও তাঁর জন্য স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি।       দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ওয়েইসের পরিবারকেও বিস্মিত করেছে। তাঁর বাবা জন ওয়েইস একজন চিকিৎসক। ছেলের মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও কেন তিনি কাজ পাচ্ছেন না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই নিয়োগ পেতে সমস্যার কথা বলছেন। প্রায় ২১৮ জন চাকরিপ্রার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করার পর নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। তীব্র প্রতিযোগিতা, বয়সভিত্তিক বৈষম্যের আশঙ্কা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।       এখন বিকল্প পেশার কথাও ভাবছেন ওয়েইস। আগামী নভেম্বরে আইন বিষয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এমন একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, যাতে লাগানো এলইডি লেজারের সাহায্যে মির্টল স্পার্জ নামের ক্ষতিকর আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, প্রচলিত চাকরির বাইরে নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার ব্যবহার ঘটানোর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। দুই হাজারের বেশি আবেদন করেও স্থায়ী চাকরি না পাওয়া ওয়েইসের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।       সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে কেন এত সংকট, মাসের পর মাস আবেদন করেও কাজ পাচ্ছেন না অনেকে

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরি খুঁজে পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। মাসের পর মাস আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না বহু চাকরিপ্রার্থী। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক সেবা ও বিভিন্ন দাপ্তরিক পেশায় নিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু অংশে নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও সব খাতের চাকরিপ্রার্থীরা সমানভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার চাকরির বাজারকে জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করেছিল, বর্তমানে সেই প্রবণতা আর দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে বেশি কাজ করানো এবং ব্যয় কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। চাকরির বাজারের এই পরিস্থিতি শুধু বেকারত্বের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন কাজ না পেলে বাড়ি কেনা, পরিবার গঠন, ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে হয়। কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণদের জন্য সমস্যাটি আরও প্রকট। কারণ, অভিজ্ঞ কর্মীদের তুলনায় তাঁদের পেশাগত যোগাযোগের সুযোগ কম এবং কাজের অভিজ্ঞতাও সীমিত। ফলে একই পদের জন্য বহু আবেদনকারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেও তাঁরা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাচ্ছেন না। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় নিয়োগে সতর্ক প্রতিষ্ঠানগুলো নিউজউইকের প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি অ্যাট মার্টিনের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষক অ্যালেক্স বীনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার থেকে শুরু করে কিছু খাতে ভোক্তাদের ব্যয় কমে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় বর্তমান চাকরির বাজারে চাপ তৈরি করছে। তবে নিয়োগদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হলো আগামী ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কেমন থাকবে, পরিচালন ব্যয় কতটা বাড়বে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ করে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, তা বিবেচনা করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সম্ভাব্য শুল্ক এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের মতো আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে, বিশেষ করে যেসব পদে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। বীনের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগের গতি ধীর থাকতে পারে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব কাজ প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব, সেগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর ফলে চাকরির বাজারে সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও নতুন নিয়োগের জন্য অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। মানবসম্পদবিষয়ক পরামর্শক ব্রায়ান ড্রিসকলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের এককভাবে দায়ী করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, অনেক নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী না নিয়েও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বাড়িভাড়া, খাবার, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় কর্মীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয় সমানতালে না বাড়লে কম বেতন বা অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়াও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিসংখ্যানে কর্মসংস্থান বাড়লেও সব খাতে একই চিত্র নয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানবিষয়ক এডিপি ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোট ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। তবে এই প্রবৃদ্ধি সব খাতে সমান ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার এবং অবসর ও আতিথেয়তা খাতে ২২ হাজার কর্মসংস্থান বাড়ে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার এবং উৎপাদন খাতে ১৭ হাজার কর্মী যুক্ত হন। বিপরীতে আর্থিক কর্মকাণ্ডে ১৬ হাজার এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবায় ১১ হাজার কর্মসংস্থান কমে যায়। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থান বাড়লেও অনেক দাপ্তরিক পেশায় চাকরির সুযোগ সংকুচিত হওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। তবে বেসরকারি খাতের এই পরিসংখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো শ্রমবাজারের চিত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে কৃষিবহির্ভূত মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগের মাসের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতের হিসাবের আওতা ও পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এডিপি এবং সরকারি প্রতিবেদনের সংখ্যাও এক নয়। তবে দুটি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিক শ্রমবাজারে নিয়োগের গতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সমস্যাটি শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। কোনো দেশে কর্মরত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নতুন চাকরির সুযোগ যদি নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে অন্য খাতের আবেদনকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের পাশাপাশি নতুন স্নাতকদেরও একই পদের জন্য আবেদন করতে হলে কর্মজীবনের শুরুতে থাকা প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি চাকরির সুযোগ কমাচ্ছে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার আরেকটি কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখন মূল্যায়ন করছে, প্রযুক্তির সাহায্যে কোন কাজগুলো দ্রুত ও কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে তথ্য বিশ্লেষণ, দাপ্তরিক কাজ, গ্রাহকসেবা এবং কিছু লেখালেখি ও যোগাযোগের দায়িত্বে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যে অধিকাংশ কর্মীকে সরাসরি প্রতিস্থাপন করেছে। বরং প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে কর্মীদের দায়িত্ব কীভাবে বদলে দিতে পারে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে কিছু নিয়োগদাতা নতুন কর্মী নেওয়ার আগে অপেক্ষা করছে। যেসব কাজ বিদ্যমান কর্মী বা প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে, সেসব পদে নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ, কর্মজীবনের শুরুতে থাকা অনেকেই এমন পদে আবেদন করেন, যেগুলোতে আগে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একই দায়িত্ব বর্তমান কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেয় অথবা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়, তাহলে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কোন খাতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক বেশি বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খাতে কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, আবাসিক পরিচর্যা, বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নির্মাণ এবং দক্ষ কারিগরি পেশা উল্লেখযোগ্য। দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও পরিচর্যাসেবার চাহিদাও বাড়ছে। ফলে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মীর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। এডিপির সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৫৫ হাজার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। অবসর ও আতিথেয়তা খাতেও ২২ হাজার কর্মসংস্থান বেড়েছে। নির্মাণ খাতে ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান কোনো নির্দিষ্ট পেশায় সারা দেশে সমানসংখ্যক শূন্য পদ থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অঞ্চল, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নিয়োগদাতার চাহিদা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। নাইনআই ক্যাপিটাল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন থম্পসন নিউজউইককে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশ বর্তমানে তথ্যকেন্দ্র ও নির্মাণের মতো নির্দিষ্ট খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অবসর ও আতিথেয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক সেবার মতো খাতে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল। অন্যদিকে ব্যাংকিং, আর্থিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, প্রযুক্তি, করপোরেট প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ খাতের কিছু অংশে নিয়োগের গতি কমেছে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও নতুন নিয়োগ কমেছে, আবার কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা নতুন পদ তৈরির প্রবণতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। থম্পসনের পরামর্শ হলো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থীদের প্রয়োজনে পদমর্যাদা, বেতন কিংবা দায়িত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত লক্ষ্য ঠিক রেখে কাছাকাছি ধরনের অন্য পদ বা চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগও খতিয়ে দেখা যেতে পারে। চাকরি পেতে কী কৌশল নিতে পারেন প্রার্থীরা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ ও ২০২২ সালের তুলনামূলক সক্রিয় নিয়োগের সময়ের মতো শুধু অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষা করার কৌশল এখন অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। বরং কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ চলছে, কী ধরনের দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে এবং নিজের অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত যোগাযোগও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাবেক সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট পেশার পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন নিয়োগের খবর পাওয়া যেতে পারে। কিছু পদে পরিচিত ব্যক্তির সুপারিশ বা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিয়োগদাতার নজরে আসার সুযোগ পান। তবে সুপারিশ থাকলেই চাকরি নিশ্চিত হয় না, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। ড্রিসকল চাকরিপ্রার্থীদের এমন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে নিয়োগের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ইতিহাস তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবনবৃত্তান্তে দায়িত্বের তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে আগের কাজের সুনির্দিষ্ট অর্জন ও ফলাফল তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আবেদন করা পদের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত সাজাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে। তবে সেখানে উল্লেখ করা তথ্য অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিকল্প পেশার সুযোগ বিবেচনা করা। নিজের মূল ক্ষেত্রের পাশাপাশি কাছাকাছি দক্ষতা প্রয়োজন এমন অন্য খাতেও আবেদন করা যেতে পারে। সাময়িক বা চুক্তিভিত্তিক কাজ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের একটি ধাপ হতে পারে। তবে বেতন, কাজের শর্ত এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই না করে শুধু চাকরি পাওয়ার তাগিদে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। সামনে কী হতে পারে বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ধসের চেয়ে ধীরগতির নিয়োগ ও তীব্র প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রাখলেও অন্যরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে চাকরির বাজারে সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাড়লেও নতুন চাকরি খোঁজা মানুষের জন্য সুযোগ পাওয়া সহজ হচ্ছে না। বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয়ও এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ড্রিসকলের মতে, অনেক কর্মী নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে কম বেতন বা অনুকূল নয় এমন কাজ গ্রহণ করছেন পেশাগত পছন্দের কারণে নয়, বরং নিয়মিত খরচ মেটানোর প্রয়োজন থেকে। চাকরি না থাকার আর্থিক ঝুঁকি বেশি হলে কর্মীদের পক্ষে ভালো সুযোগের অপেক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে বর্তমান চ্যালেঞ্জের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন খাতে অসম কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি, নিয়োগদাতাদের সতর্কতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনীতির অবস্থা, ব্যবসায়িক চাহিদা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
চাকরি প্রার্থীরা
চাকরি বাড়ার গতি থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে, বেকারত্বের হার বেড়ে নতুন শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে সেপ্টেম্বর মাসে আবারও ধীরগতির চিত্র দেখা গেছে। দেশটির নিয়োগদাতারা মাসটিতে মাত্র ২৯ হাজার নন-ফার্ম চাকরি যোগ করেছেন। একই সময়ে বেকারত্বের হার আগস্টের ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   চাকরি সৃষ্টির এই সংখ্যা গত এক বছরের গড় মাসিক বৃদ্ধির তুলনায় বেশ কম। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের আগে ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার নন-ফার্ম চাকরি বেড়েছিল। ফলে সেপ্টেম্বরে মাত্র ২৯ হাজার চাকরি যোগ হওয়া শ্রমবাজারের গতি কমে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।   তবে সরকারি প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে সেপ্টেম্বর মাসে বড় বড় শিল্পখাতগুলোর বেশিরভাগেই কর্মসংস্থানে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ এটি এমন কোনো প্রতিবেদন নয় যেখানে একসঙ্গে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক চাকরি হারানোর চিত্র দেখা যাচ্ছে। বরং নতুন চাকরি তৈরির গতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে।   বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছালেও গত কয়েক মাসে এটি ৪ দশমিক ১ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের একটি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে প্রায় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষ বেকার ছিল বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে আমেরিকায় চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে নতুন গ্র্যাজুয়েট, ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চাওয়া কর্মী এবং যারা সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন, তাদের নতুন চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।   তবে সব খাতে একই পরিস্থিতি নয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সেপ্টেম্বরেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ১৭ হাজার চাকরি যোগ হয়েছে। এর মধ্যে বহির্বিভাগীয় স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, যদিও নার্সিং ও আবাসিক যত্নের কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরি কমেছে।   স্বাস্থ্যসেবা খাতের এই প্রবণতা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের কারণে এই খাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। ফলে সামগ্রিক শ্রমবাজার ধীর হলেও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় সুযোগ থাকতে পারে।   অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের সংখ্যাও নজরে রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ২৭ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চাকরিহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ছিল। মোট বেকার মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারদের অংশ ছিল ২৭ দশমিক ১ শতাংশ।   এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ দীর্ঘদিন বেকার থাকার ফলে একজন কর্মীর আর্থিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে অনেকের সঞ্চয় কমে যায়, ঋণের চাপ বাড়ে এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।   বিশেষ করে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও অন্যান্য বড় রাজ্যের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে চাকরি হারানোর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যবীমা, গাড়ির কিস্তি, খাবার এবং শিশুদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের বাজেটের বড় অংশ নিয়ে নেয়।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও শ্রমবাজারের এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী কর্মীরা স্বাস্থ্যসেবা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, প্রযুক্তি, গুদাম ও বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ করেন। কোনো খাতে নিয়োগ কমে গেলে এসব কর্মীর নতুন চাকরি খোঁজার সময় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।  

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ধীরগতির নতুন চিত্র উঠে এসেছে সর্বশেষ প্রতিবেদনে
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাকরির বাজারে ধীরগতি, প্রভাব পড়তে পারে সুদ ও খরচে

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রতিবেদনে দেশটির শ্রমবাজারে ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন নিয়োগদাতারা ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন, যা অর্থনীতিবিদদের প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।   শ্রমবাজারের এই ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। অর্থনীতি বিশ্লেষক স্যামুয়েল টবের মতে, চাকরির বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।   এর একটি কারণ হতে পারে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দুর্বল চাকরির বাজার এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাতে নন-ফার্ম চাকরি ২৯ হাজার বেড়েছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক গড়ের চেয়েও কম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই খাতেও আগের এক বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় গতি কমেছে।   একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির আগের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব ২১ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার চাকরি কমেছে হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব দেখাচ্ছে।   এই চাকরির তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের এক এপি-নরস জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়।   সাধারণ মানুষের জন্য চাকরির বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই পড়তে পারে। নিয়োগ ধীর হলে নতুন চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে এবং আয় বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নিয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ির অর্থায়নের খরচে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই শেষ মাসিক চাকরির প্রতিবেদন হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাকরির একটি মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী মাসগুলোর চাকরি, মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার—সবগুলো তথ্য একসঙ্গে দেখলেই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা কমে ৫৭ বছরের কাছাকাছি সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ১ হাজার কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৬৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।   বৃহস্পতিবার দেশটির শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করছে যে, গ্রীষ্মের ধীরগতির পর মার্কিন শ্রমবাজার আবারও তার পুরোনো গতি ফিরে পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্থিতিশীল শ্রমবাজারের কারণে চলতি মাসে বেকারত্বের হার ৪.১ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে।   তবে শ্রমবাজারের এই ইতিবাচক খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বিশেষত ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   এই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদ বৃদ্ধির ঘটনা।   এফডব্লিউডি বন্ডস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রাপকির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে মার্কিন অর্থনীতি আপাতত পুরোদমে সচল রয়েছে।   অন্যদিকে, বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী ইয়েল্ডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধকি ঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার ৭.০৩ শতাংশে পৌঁছালেও আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির বিক্রি অপ্রত্যাশিতভাবে ৬.৪ শতাংশ বেড়েছে।   মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দাম কমানোসহ নানা প্রণোদনা দেওয়ায় গত মাসে বার্ষিক হিসেবে ৬ লাখ ৮৪ হাজার নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। তবে বিক্রি বাড়লেও বাজারে অবিক্রীত বাড়ির বিশাল মজুত রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
টেনেসি অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে চাকরির বাজারে নতুন সংকট, একটি পদের জন্য বাড়ছে প্রতিযোগিতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও রাজ্যটির বেকারত্বের হার এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবুও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ধীরগতি শ্রমবাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।   টেনেসির সাম্প্রতিক শ্রমবাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক বছরে রাজ্যটিতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি কমে প্রায় ৩৩ লাখ ৭২ হাজারে নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের শেষ দিকের পর সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিয়োগদাতাদের জরিপে অ-কৃষি খাতে কিছু নতুন চাকরি সৃষ্টি হলেও সেই প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় অনেক ধীর। একই সময়ে মৌসুমি সমন্বয় করা বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব টেনেসির বয়েড সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের পরিচালক অর্থনীতিবিদ ডন ব্রুস বলেন, সমস্যার মূল কারণ চাকরির ঘাটতি নয়; বরং শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়া। অনেক মানুষ শ্রমবাজার ছেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের সামগ্রিক চিত্রে এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যের মতো টেনেসিতেও ‘লো-হায়ার, লো-ফায়ার’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইও করছে না, আবার নতুন নিয়োগেও আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে নতুন চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং একটি পদের জন্য প্রতিযোগীও বেড়ে যাচ্ছে।   জাতীয় পর্যায়েও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা, উচ্চ ঋণব্যয় এবং নিয়োগে সতর্ক অবস্থানের কারণে শ্রমবাজারে এই ধীরগতি দেখা দিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্বের হার কম থাকলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি আরও কমে গেলে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং চাকরি পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। তাই আগামী কয়েক মাসের শ্রমবাজারের গতিপ্রকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০