বাজেট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিরক্ষায় বিপুল বরাদ্দ, জনকল্যাণে ছাঁটাই: ট্রাম্পের নতুন বাজেট প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ২০২৬ অর্থবছরের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে যেমন জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতের ব্যয় বা ‘ডিসক্রিশনারি স্পেন্ডিং’ এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই বাজেট প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি খরচ কমিয়ে আনা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ কমিয়ে সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করায় মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। বাজেট প্রস্তাবের মূল দিকগুলো: ১. প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ব্যয়: ট্রাম্পের প্রস্তাবনায় পেন্টাগন বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আধুনিক সমরাস্ত্র সংগ্রহ এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে। ২. অভ্যন্তরীণ খাতে ব্যাপক কর্তন: ডিসক্রিশনারি স্পেন্ডিং বা বিবেচনামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কাটছাঁটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে আবাসন সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং বৈদেশিক সাহায্যের মতো বিষয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৩. অর্থনৈতিক যুক্তি: ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ কমাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন জরুরি। তারা মনে করছেন, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আনলে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে। বাজেট প্রস্তাবটি ঘোষণার পরপরই ওয়াশিংটনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের অনেকেই এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দলগুলোর মতে, এই বাজেট সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দেবে এবং কেবল সামরিক শিল্পকেই সমৃদ্ধ করবে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই বাজেট প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে এই বাজেট পাশ করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বাজেট রূপরেখা বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
ইরান সংঘাতের খরচ সামলাতে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন বাজেট প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য প্রায় দুইশ’ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা, এবং অর্থ জোগাড়ের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়টি রিপাবলিকানরা বিবেচনা করছে।   প্রতিবেদনগুলো জানাচ্ছে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটি ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে বিষয়টি সহজ নয়। নির্বাচনের বছর স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে ব্যয় কমানো রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে যে, বিদেশে সামরিক ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধা কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।   রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, সরাসরি সুবিধা কমানো নয়। তারা মূলত জালিয়াতি ও অপচয় বন্ধ করে খরচ কমানোর উপায় খুঁজছেন। বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অপব্যবহার শনাক্ত করে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব, এমনটাই তাদের যুক্তি।   বাজেট কমিটির নেতৃত্বে থাকা এক নেতা স্বাস্থ্য খাতে পূর্বের কিছু প্রস্তাব আবার সামনে এনেছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কিছু অতিরিক্ত অর্থপ্রদান কমানোর পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এতে সরকারের কিছু অর্থ সাশ্রয় হলেও অনেক মানুষের স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা কমে যেতে পারে।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপে কয়েক দশ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তবে এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।   এই বাজেট পাস করানোর জন্য রিপাবলিকানরা বিশেষ একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে চাচ্ছেন, যাতে বিরোধীদের প্রতিরোধ কমানো যায়। তবে তাদের নিজের মধ্যেও এ বিষয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপন্থী নেতারা নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত।   অন্যদিকে দেশীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট চাপ দিচ্ছেন। তবে বর্তমান নেতৃত্ব বিমা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থার ব্যয় কমানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   আরও কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের সেবার জন্য সমান মূল্য নির্ধারণ করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অনিয়ম কমানো। কিছু অঞ্চলে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সুবিধা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।   বিরোধী দল ইতোমধ্যেই তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তারা বলছে, বিদেশে সামরিক ব্যয়ের জন্য দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কমানো হচ্ছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।   সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত বাজেট এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।   সূত্র: অ্যাক্সিওস

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেই ফিরবে অর্থনৈতিক স্বস্তি: বাজেটে বড় পরিবর্তনের আভাস অর্থমন্ত্রীর

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বাজেটে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত, শেয়ার বাজার এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তরণে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। এছাড়া থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পুনরায় সচল করতে বাজেটে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে ড. আমির খসরু বলেন, আইএমএফ-এর শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা সম্ভব নয়, তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। হুট করে সব পরিবর্তন চাপিয়ে না দিয়ে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সংস্কার করা হবে। জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের বিষয়ে ওয়াশিংটনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ইরানে অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানে অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মোট মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশ—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা Anadolu Agency।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়। এতে অংশ নেয় বি-২ স্টেলথ বোমারু, এফ-২২, এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৮ যুদ্ধবিমান, এ-১০ আক্রমণ বিমান, ইএ-১৮জি ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার এবং প্যাট্রিয়ট ও থ্যাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের হোয়াইটম্যান বিমানঘাঁটি থেকে টানা উড্ডয়ন করে চারটি বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান ২,০০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডি-এএম) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। বি-২ বিমানের উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও দীর্ঘ উড্ডয়ন সময় বিবেচনায় কেবল এই অংশেই প্রায় ৩০.২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এছাড়া বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের সমন্বিত উড্ডয়ন ও হামলায় ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ২৭১.৩৪ মিলিয়ন ডলার। বিশেষায়িত বিমান যেমন ইএ-১৮জি গ্রাউলার, এ-১০সি থান্ডারবোল্ট ও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সামুদ্রিক টহল বিমান, গোয়েন্দা নজরদারি বিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার এবং স্থলভিত্তিক হিমার্স রকেট ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় সম্মিলিত আকাশ ও স্থল অভিযানের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৪২৩.৫৭ মিলিয়ন ডলার।   অভিযানে অংশ নেয় দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী— USS Abraham Lincoln এবং USS Gerald R. Ford। এই রণতরী ও তাদের সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোর দৈনিক পরিচালন ব্যয় আনুমানিক ১৫ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এ ধরনের ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসেবে বর্তমানে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ ডলারে, যা গত অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এই আয়ের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ টাকার অঙ্কে মানুষের আয় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ে রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন। বিবিএস জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির মোট আকার আগের বছরের ৪৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৫৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে এই অর্জনটি প্রত্যাশিত ৪৬২ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার টানা তিন বছর ধরে নিম্নমুখী রয়েছে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0