ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই বছর পর মিলল ১১২ মরদেহ, গাজায় গণদাফন
গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ১১২ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করে গণদাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের মরদেহ একসঙ্গে দাফন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দীর্ঘদিন ধরে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত ছিল।
উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্টরা জানান, গাজাজুড়ে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাও জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও নিরাপদ প্রবেশাধিকার না থাকায় বহু পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের দাফন করতে পারেনি।
মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, দীর্ঘদিন পর মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত করা শুধু একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং স্বজনদের জন্য মানসিকভাবে শোক কাটিয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreদক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে এ বছর এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ২৫ জন তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং তাপপ্রবাহকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯০৪ সালে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। গত এক সপ্তাহেই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড তিনবার ভেঙেছে। অস্বাভাবিক গরমে রাজধানী সিউলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ স্তরের তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও তিব্বতি উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে গরম বাতাস আটকে পড়ায় তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও এ ধরনের চরম তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশজুড়ে কুলিং সেন্টার চালু, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাস্তা ঠান্ডা রাখতে পানির ট্রাক মোতায়েন, প্রবীণ ও একাকী বাসিন্দাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং নির্মাণ ও কৃষিখাতে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে কাজ সীমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে শ্রমিক, প্রবীণ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চরম আবহাওয়া মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ক্রীড়া অঙ্গনেও। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগের একাধিক ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বাইরের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১৮ সালেও দেশটিতে তীব্র তাপপ্রবাহে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু এবং ৩ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছিলেন। তবে এবারের তাপমাত্রা সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশটির জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই বছর পর মিলল ১১২ মরদেহ, গাজায় গণদাফন
পাকিস্তানে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক
ক্ষমা চাওয়ায় ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করল ইরান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্কের একটি হাতে আঁকা পেন্সিল স্কেচ পোস্ট করে শুধু একটি ইচ্ছার কথাই লিখেছিলেন শিল্পী "আশা করি, একদিন ইলন আমার আঁকা ছবিটি দেখবেন।” কিন্তু প্রশংসা তো দূরের কথা, মাস্ক ছবিটি দেখার পর শিল্পীকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্লক করে দেন। ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই পোস্টটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ভিউ পায়। হাজারো ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার ও মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন, ইলন মাস্ক ছবিটির কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন কি না। শেষ পর্যন্ত তিনি পোস্টটি দেখলেও প্রত্যাশিত প্রশংসা বা মন্তব্যের পরিবর্তে শিল্পীকে ব্লক করেন। ব্লক হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাস্ক একই আলোচনায় একটি হাসির ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সেই প্রতিক্রিয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে শুরু হয় নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও মিম তৈরির ঢল। ঘটনার পর অনেক ব্যবহারকারী ইলন মাস্কের নিজেদের আঁকা ছবি প্রকাশ করতে শুরু করেন। কেউ মূল ছবিটি সম্পাদনা করে নতুন সংস্করণ তৈরি করেন, আবার কেউ ‘মেলন মাস্ক’ নামে নানা হাস্যরসাত্মক মিম ছড়িয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি এক্সের অন্যতম আলোচিত ট্রেন্ডে পরিণত হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল বিতর্কের পরও ইলন মাস্ক শিল্পীর ওপর থেকে ব্লক তুলে নেননি। একটি সাধারণ ভক্তের প্রশংসাসূচক পোস্ট কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোটি মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের একটি বাড়িতে ৯০০ কেজির বোমা ফেলল মার্কিন বাহিনী, একই পরিবারের তিনজন নিহত
ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে, মোট জনসংখ্যা ৪৬ মিলিয়ন
তীব্র গরম থেকে বাঁচতে জনগণকে কুকুরের মাংস খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ার, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচার
বাহ্যিক রূপ আর শারীরিক সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো যখন সামান্য প্রতিকূলতায় ভেঙে পড়ে, তখন বিশ্বজুড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক দম্পতির ভালোবাসা। আগুনে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে যাওয়া ও দুই হাতের সাতটি আঙুল হারানোর পরও প্রেমিকার পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছিলেন এক যুবক। শুধু পাশে থাকা নয়, প্রেমিকার পরিচর্যা করার জন্য নিজের স্বপ্নের চাকরি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। অনন্য এই দম্পতি হলেন অস্ট্রেলিয়ার তুরিয়া পিট ও মাইকেল হসকিন। ঘটনার সূচনা ২০১১ সালে। পেশায় খনি প্রকৌশলী ও অ্যাথলেট তুরিয়া পিট অস্ট্রেলিয়ার কিম্বার্লি অঞ্চলে ১০০ কিলোমিটারের একটি কঠিন আল্ট্রা-ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। দৌড়ানোর মাঝপথে হঠাৎ পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের তীব্র শিখা ঘিরে ধরে তুরিয়াকে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তাপে ঝলসে যায় তার শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার এতটাই অবক্ষয় ঘটেছিল যে, চিকিৎসকেরা তাকে প্রায় এক মাস কৃত্রিম কোমা বা চিকিৎসাজনিত অচেতন অবস্থায় রাখতে বাধ্য হন। কোমা থেকে ফেরার পর শুরু হয় বেঁচে থাকার আরেক কঠিন সংগ্রাম। শরীরের ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে, দীর্ঘ চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তাকে দুই শতাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার দুই হাত মিলিয়ে মোট সাতটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছিল। তবে তুরিয়ার এই অন্ধকার সময়ে আশার আলো হয়ে পাশে ছিলেন তার জীবনসঙ্গী মাইকেল হসকিন। ২০০৯ সাল থেকেই গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে ছিলেন এই যুগল। মাইকেল পেশায় ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তুরিয়ার দুর্ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন, এই মুহূর্তে তুরিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাকে। প্রেমিকার পাশে থাকার তাগিদে মাইকেল নিজের পুলিশের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন এবং নিজেকে তুরিয়ার সার্বক্ষণিক সেবক হিসেবে নিয়োজিত করেন। হাসপাতালের বিছানা থেকে শুরু করে বাড়িতে ফেরার পর তুরিয়ার প্রতিদিনের ক্ষতের ড্রেসিং বদলে দেওয়া, ওষুধ খাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিচর্যার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নেন মাইকেল। সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়টি এসেছিল তুরিয়ার চিকিৎসার শুরুর দিকেই। তুরিয়া যখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন ও মৃত্যুর মাঝে ঝুলছিলেন, ঠিক তখনই মাইকেল তার জন্য একটি বিয়ের এনগেজমেন্ট রিং কিনে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে মাইকেলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তুরিয়ার এমন বিপর্যস্ত চেহারার পর কখনো কি তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা মাথায় এসেছিল? জবাবে মাইকেল ভালোবাসার এমন এক সংজ্ঞা দিয়েছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মাইকেল বলেছিলেন, "আমি তো তার রূপকে নয়, ভালোবেসেছিলাম তার আত্মা আর চরিত্রকে।" দীর্ঘ চিকিৎসা, পুনর্বাসন আর মানসিক লড়াই শেষে ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তুরিয়া ও মাইকেল। আগুনে তুরিয়ার শারীরিক গঠনের অনেক কিছু বদলে গেলেও মাইকেলের ভালোবাসা আর বিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে এই দম্পতির সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। আগুনের নির্মম শিখা তুরিয়ার শরীর পুড়িয়ে দিলেও, তাদের পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ছাই করতে পারেনি।
ইরানি হামলা থেকে ইসরায়েলকে বাঁচাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে!
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি নজরদারির অভিযোগে জইশ-ই-মোহাম্মদের সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেপ্তার