- প্রচ্ছদ
- Topic
বিয়ে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের বিশেষ খাবার ‘খদরে’ আস্ত খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বিয়ে না করেই ফিরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া একদিনের ব্যবধানেই নতুন করে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট রাতে নতুন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এবারের আয়োজনে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থাও ছিল বলে বিয়ের ছবি ও স্বজনদের বক্তব্যে জানা গেছে। নতুন কনের নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়া এলাকার জাহের মিয়ার মেয়ে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জুনায়েদের বাড়িও একই এলাকায়। নতুন বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ টাকা। বিয়ের পর জুনায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টে তিনি নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নতুন বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের বিশেষ খাবারের আয়োজনও নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে খদরে খাসি পরিবেশনের দৃশ্য দেখা যায়। আগের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই খাসিকে ঘিরেই বিরোধ তৈরি হওয়ায় নতুন বিয়েতে একই আয়োজনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এর মাত্র একদিন আগে সোমবার ১৭ আগস্ট আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন জুনায়েদ। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে বরপক্ষের জন্য বিশেষভাবে সাজানো খাবার ‘খদর’ পরিবেশন করা হয়। কনেপক্ষের অভিযোগ, ওই খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান। কনেপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ফুল ও অন্যান্য আয়োজন নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খাবারের সময় খদরে খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উপস্থিত স্বজনরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি বিয়েতে রাজি হননি বলে দাবি কনেপক্ষের। তবে ঘটনার পর জুনায়েদ পাল্টা বক্তব্য দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, শুধু খাসি না থাকাই বিয়ে না হওয়ার কারণ ছিল না। তার অভিযোগ, বিয়ের আসরে পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অনেক বেশি কাবিন দাবি করা হয়েছিল এবং তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। জুনায়েদের অভিযোগের বিপরীতে প্রথম কনেপক্ষ জানিয়েছে, ১৪ আগস্ট দুই পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ের বিষয়ে লিখিত সমঝোতা হয়েছিল। তাদের দাবি, দুই লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং বরের পক্ষের একজন প্রতিনিধিও সেই লিখিত ফর্দে স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে বিয়ের দিন হঠাৎ অতিরিক্ত কাবিন দাবির অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে। প্রথম ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কনের স্বজনদের বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কনের বাবা জানিয়েছিলেন, আগে থেকে জানানো হলে বরের জন্য খাসির ব্যবস্থা করা যেত। তার দাবি ছিল, এমন কোনো বিশেষ শর্তের কথা তাকে আগে জানানো হয়নি। খাসি নিয়ে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জুনায়েদকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। সেই আলোচনা থামার আগেই পরদিন রাতে তার নতুন বিয়ের খবর সামনে আসে। নতুন বিয়েতে ছয় লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ এবং বরের খদরে খাসি পরিবেশনের ছবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিন আগে যে খাসিকে ঘিরে বিয়ে না হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, একদিন পর সেই খাসির আয়োজনের মধ্যেই নতুন সংসার শুরু করলেন আলোচিত জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়া।
শিল্পীর ক্যানভাসে কল্পনার রঙে আঁকা ছবি কখনো কখনো যে বাস্তবের রূপ নিতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য ও রোমান্টিক প্রমাণ হয়ে উঠলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদি। নিজের কল্পনায় স্বপ্নের এক নারীর প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন তিনি। তখনো জানতেন না, এই নারী বাস্তবে শুধু অস্তিত্বই রাখেন না, বরং একদিন তিনিই হতে যাচ্ছেন তার জীবনসঙ্গী। রূপকথার গল্পকেও হার মানানো এই নিখাদ প্রেমের কাহিনী এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার শুরু ২০০৮ সালে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় পরিবার থেকে, বিশেষ করে মায়ের তরফ থেকে বিয়ের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল আহাদকে। কিন্তু মনের মতো সঙ্গী না পাওয়ায় বিয়েতে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। মায়ের চাপ সামলাতে না পেরে অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের স্বপ্নের জীবনসঙ্গীকে অন্তত শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলবেন। তার মাথায় কোনো নির্দিষ্ট মানুষের চেহারা ছিল না; সম্পূর্ণ নিজের কল্পনা থেকে তিনি একটি মুখচ্ছবি তৈরি করেন। এই ছবি আঁকতে তিনি কোনো সাধারণ রং-তুলি ব্যবহার করেননি। তিনি ব্যবহার করেছিলেন 'আজারনেগারি' নামের এক বিশেষ ইরানি শিল্পরীতি, যেখানে আগুন ও কাপড়ের সমন্বয়ে অর্থাৎ কাপড় পুড়িয়ে নিখুঁত সব ছবি তৈরি করা হয়। ছবি তো তৈরি হলো, কিন্তু মূল চমকের তখনও বাকি। ২০০৯ সালের শেষের দিকে ইরানের তাবরিজ শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে নিজের শিল্পকর্মগুলোর প্রদর্শনী করেন আহাদ। সেই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থী হিসেবে আসেন পারিসা করমনেজাদ নামের আরেকজন শিল্পী। গ্যালারি ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ ওই ছবিটির সামনে এসে থমকে দাঁড়ান তিনি। পারিসা যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ছবির মেয়েটির কোঁকড়ানো চুল, চোখের দৃষ্টি, মুখের গড়ন—সবকিছু হুবহু তার মতো! বিস্ময়ে হতবাক পারিসার দিকে নজর পড়ে আহাদেরও। তিনি নিজেও চমকে ওঠেন। কিন্তু সে সময় পারিসা অন্য একটি সম্পর্কে যুক্ত থাকায় তাদের মধ্যে আর কথা এগোয়নি। দুজনেই সেদিনের মতো নিজেদের গন্তব্যে পা বাড়ান। তবে নিয়তি হয়তো তাদের মিলনের জন্যই সবকিছু গুছিয়ে রেখেছিল। ওই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পারিসাকে খুঁজে পান আহাদ। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, পারিসার আগের সম্পর্কটি ভেঙে গেছে এবং তিনি এখন একাই আছেন। এরপর আর কালক্ষেপণ করেননি আহাদ। পারিসাকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান তিনি। পারিসাও সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেন। একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সময়, একে অপরকে খুব বেশি না জানা সত্ত্বেও, হঠাৎ করেই পারিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন এই শিল্পী। পারিসা সেই রাতে কোনো উত্তর দেননি। তবে গল্পটা অসম্পূর্ণ থাকেনি। পরের দিন সকালেই আহাদকে ফোন করে তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান পারিসা। এ যেন বাস্তবের বুকে জন্ম নেওয়া এক নিখুঁত প্রেমের উপাখ্যান। কল্পনার তুলিতে যে মানুষকে তিনি এঁকেছিলেন, তাকেই বাস্তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আহাদ ও পারিসা জুটি এখন দারুণ সুখী। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং নিয়তির এক অদ্ভুত খেলায় তারা আজ এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন।
দীর্ঘ প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট পর্তুগালের উপকূলীয় শহর কাসকাইসে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত আয়োজনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ করেন রোনালদো। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দুজনের হাতের বিয়ের আংটি দেখা যায়। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন শুধু, ‘C❤️G’। পোস্টটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই অনেকটা গোপন রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী লিসবনের কাছের কাসকাইসে ছোট পরিসরে সিভিল সেরিমনির মাধ্যমে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরু ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম পরিচয় হয় তাদের। সেখানে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন জর্জিনা। অন্যদিকে রোনালদো তখন রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম বড় তারকা। পরের বছর তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হন তারা। এরপর থেকে রোনালদোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নিয়মিত সঙ্গী হয়ে ওঠেন জর্জিনা। একই বছর তাদের পরিবারও বড় হয়। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেসির মাধ্যমে রোনালদোর যমজ সন্তান এভা মারিয়া ও মাতেওর জন্ম হয়। ওই বছরের নভেম্বরে রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম হয়। ২০২২ সালে আরও একবার যমজ সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন এই দম্পতি। তবে সন্তান জন্মের সময় তাদের ছেলে অ্যাঞ্জেল মারা যায়। বেঁচে যায় যমজ কন্যা বেলা এসমেরাল্ডা। সে সময় সন্তান হারানোর খবর নিজেরাই প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বর্তমানে পাঁচ সন্তানকে ঘিরে তাদের পরিবার। রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ এভা ও মাতেও, এবং রোনালদো ও জর্জিনার দুই মেয়ে আলানা ও বেলা তাদের সঙ্গে রয়েছে। বিয়ের ঠিক এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের খবর প্রকাশ করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। জর্জিনা তখন ইনস্টাগ্রামে বাগদানের আংটির ছবি দিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি রাজি। এই জীবনেও এবং আমার সব জীবনেই।’ ঠিক এক বছর পর ১১ আগস্টই বিয়ে করলেন তারা। ফুটবল ক্যারিয়ারে রোনালদো বিশ্বের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়দের একজন। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জেতা এই পর্তুগিজ তারকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের আল নাসরের হয়ে খেলছেন। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন ধরে রেকর্ড গড়ে চলেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, একসঙ্গে পরিবার গড়ে তোলা এবং বাগদানের এক বছর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হলেন রোনালদো ও জর্জিনা। বড় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বদলে একটি ছবি, দুটি বিয়ের আংটি আর ‘C❤️G’ দিয়েই জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবরটি ভক্তদের জানিয়েছেন রোনালদো।
নাইজেরিয়ার কানোর গণবিয়েতে নতুন করে সংসার শুরু করলেন হারুনা বশির। চলতি বছরের শুরুতে এক ভয়াবহ হামলায় স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর কয়েক মাস পর ৮ আগস্ট আয়োজিত এই গণবিয়েতে তিনি আবার বিয়ে করেছেন। একই অনুষ্ঠানে মোট ১,৫০০ দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কানো রাজ্যের গভর্নর আব্বা কবির ইউসুফের উদ্যোগে শুক্রবার ও শনিবার এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধবা, তরুণী ও আর্থিকভাবে সংকটে থাকা নারীদের বিয়েতে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছে। বশিরের জন্য অনুষ্ঠানটি ছিল শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভয়াবহ পারিবারিক ক্ষতির পর নতুন করে জীবন শুরু করার একটি সুযোগ। কানো স্টেট হিসবাহ বোর্ডের কমান্ডার জেনারেল শেখ আমিনু ইব্রাহিম দাউরাওয়া জানান, ঘটনার পর বশির দীর্ঘ সময় মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতেন না। তবে নতুন এই বিয়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। গণবিয়েতে অংশ নেওয়া সব দম্পতির জন্য আগে স্ক্রিনিং ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে ধর্মীয় ও আইনি প্রয়োজনীয়তাও সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক কনে ২ লাখ নাইরা বা প্রায় ১৪৫ ডলার দেনমোহর হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য দেওয়া হচ্ছে অর্থসহায়তা। নবদম্পতিদের বিছানা, ম্যাট্রেস, কম্বল, বেডশিট ও রাগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। কানো রাজ্য সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের ৪৪টি স্থানীয় সরকার এলাকাতেও একই সময়ে গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। গভর্নর ইউসুফ এই উদ্যোগকে সামাজিক সহায়তার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বিয়ের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দুর্বল ও সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কানো নাইজেরিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যগুলোর একটি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি সংস্কৃতির কেন্দ্র। সেখানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও তরুণীদের সহায়তায় গণবিয়ের আয়োজন নতুন নয়। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় এ ধরনের কর্মসূচি চালু রয়েছে। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের জন্য বিয়ের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে কানো সরকারের গণবিয়ের কর্মসূচিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিয়ের খরচ কমানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। হারুনা বশিরের জন্য অবশ্য এই আয়োজনের অর্থ আরও ব্যক্তিগত। স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর গভীর শোকের পর নতুন জীবন শুরু করার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, ১,৫০০ দম্পতির এই গণবিয়ে তাঁর জীবনে হয়ে উঠেছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে বিয়ের ঠিক এক দিন আগে একটি চার্চে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের দাবি, ওই নারী নিজেই তার বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল এমন একটি এলডিএস চার্চে অগ্নিসংযোগ করেন। ঘটনাটি ডেভিস কাউন্টির একটি চার্চে ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার পর তদন্তে সন্দেহের তীর যায় ২৬ বছর বয়সী ওই কনের দিকে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করছেন, বিয়ের আগের দিন পরিকল্পিতভাবে চার্চের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। অগ্নিকাণ্ডের কারণে চার্চ ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি। তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্ত নারী কেন এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তার কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। পুলিশ তার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। গ্রেপ্তারের পর ওই নারীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আদালতে চলবে। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, কারণ একটি বিয়ের আয়োজনের ঠিক আগে ধর্মীয় স্থাপনায় এমন ঘটনা ঘটায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
বিয়ের দিনটিকে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখেন অনেকেই। সেই দিনটিতে নিজের সেরা রূপে হাজির হতে সৌন্দর্যচর্চা, শরীরচর্চা ও নানা প্রসাধনী সেবায় মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করাও এখন অনেক কনের কাছে নতুন বাস্তবতা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ৩০ বছর বয়সী মেকআপ শিল্পী জেড ভয়েট এমনই একজন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে ইতালির টাসকানিতে অনুষ্ঠিতব্য নিজের বিয়ের আগে শুধু সৌন্দর্যচর্চার জন্যই প্রায় ৬২ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করবেন। তবে এসব খরচের বিস্তারিত তিনি তার হবু স্বামী রায়ানকে জানাতে চান না। নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেড বলেন, বাগদান হওয়ার পর তার প্রথম চিন্তা ছিল না বিয়ের ভেন্যু বা সাজসজ্জা নিয়ে। বরং তিনি ঠিক করেন, কীভাবে নিজেকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিয়ের জন্য প্রস্তুত করবেন। তিনি বলেন, "এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোর একটি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেই দিনটি কাটাব। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি আমার সেরা রূপে থাকতে চাই। বিয়ের ছবিগুলো সারাজীবন থাকবে। একদিন আমার সন্তানেরা যেন বলতে পারে, ‘আমার মা দারুণ সুন্দর ছিলেন।’" জেডের সৌন্দর্যচর্চার তালিকায় রয়েছে উন্নতমানের ত্বক পরিচর্যা, বিশেষ ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা, মাইক্রোনিডলিং, নিয়মিত বোটক্স ও ফিলার, চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত ত্বক পরিচর্যার পণ্য এবং নিয়মিত পিলাটিস অনুশীলন। চোখের নিচের কালচে দাগ দূর করতে তিনি প্রতি সেশনে প্রায় এক হাজার ডলার ব্যয়ে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ বিশেষ জেল চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া মুখ, গলা ও হাতের ত্বকের জন্য নিয়মিত মাইক্রোনিডলিং করাচ্ছেন। চিকিৎসা-মানের ত্বক পরিচর্যার পণ্য ব্যবহারেও প্রতি রিফিলে তার খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার। প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর বোটক্স ও ফিলারের জন্য তার ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ডলার। শরীরকে কাঙ্ক্ষিত আকৃতিতে রাখতে প্রতি মাসে ৩০০ ডলার ব্যয়ে পিলাটিস ক্লাসেও অংশ নিচ্ছেন। জেড জানান, একসময় তিনি ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ে স্তন অস্ত্রোপচারের কথাও ভেবেছিলেন। তবে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। যদিও এখনো বাহুর চর্বি অপসারণের অস্ত্রোপচার করানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন, যার সম্ভাব্য খরচ প্রায় ১০ হাজার ডলার। তার ভাষায়, এসব খরচ বহন করতে তিনি অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। তবে তার হবু স্বামীকে সবকিছু জানাননি। তিনি বলেন, "সব বিষয় জানার দরকার নেই। কিছু সৌন্দর্যের গোপন রহস্য নিজের কাছেই রাখতে চাই।" শুধু জেড নন, যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক কনে বিয়ের আগে সৌন্দর্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছেন। লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা এবং সম্প্রতি বিয়ে করা ২৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রা মাহল ডিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেই তিনি বিয়ের আগে নিজের সৌন্দর্যচর্চায় প্রায় ২৬ হাজার ৮৯০ ডলার ব্যয় করেছেন। তার মোট বিয়ের বাজেট ছিল প্রায় দেড় লাখ ডলার। তিনি চোখ ও মুখের ত্বকের চিকিৎসা, মাইক্রোনিডলিং, বিলাসবহুল ত্বক পরিচর্যার পণ্য, চুলে এক্সটেনশন এবং নিয়মিত পিলাটিসে অর্থ ব্যয় করেন। তবে বিয়ের পর তার উপলব্ধি, পুরো বিষয়টি কিছুটা বাড়াবাড়িও হতে পারে। তিনি বলেন, "বিয়ের দিনের জন্য এত প্রস্তুতি নেওয়া হয়, কিন্তু পরদিন তো আবার নিজের স্বাভাবিক চেহারাতেই ফিরে যেতে হয়।" অন্যদিকে আগস্ট ২০২৬-এ বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া সামি স্কটি তার ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর করতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। উন্নত ত্বক পরিচর্যা, বোটক্স, চুলের পরিচর্যা, নখের যত্ন, স্প্রে ট্যান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাসহ তার মোট সৌন্দর্যচর্চার সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ২৭৬ ডলার। তিনি জানান, তার হবু স্বামী মোটামুটি খরচের ধারণা জানেন এবং তাকে সমর্থনও করেন। তবে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটকের #BridalGlowUp-এর মতো ট্রেন্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আগে ও পরে' ধরনের সৌন্দর্য পরিবর্তনের ভিডিও অনেক কনের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। ফলে বিয়ের আগে নিখুঁত দেখানোর আকাঙ্ক্ষায় অনেকেই ব্যক্তিগত বাজেটের বড় অংশ সৌন্দর্যচর্চায় ব্যয় করছেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিয়ের প্রস্তুতিতে নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সৌন্দর্যচর্চা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হলেও সেটি যেন সামাজিক চাপ বা অবাস্তব প্রত্যাশার কারণে না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।