ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্সেস কেট ক্যান্সার ধরা পড়ার পর নিজের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তনের কথা খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন। সম্প্রতি লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, অসুস্থতার পর থেকে তিনি জীবনধারা নিয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন এবং বিশেষ করে মদ্যপান অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। লন্ডনের একটি বীয়ারহলে সফরের সময় তাকে পানীয় অফার করা হলে ৪৪ বছর বয়সী প্রিন্সেস কেট বলেন, “আমার রোগ ধরা পড়ার পর থেকে আমি খুব বেশি অ্যালকোহল পান করি না। এখন আমাকে এ বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়।” স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মদ্যপান স্তন ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার, খাদ্যনালী ক্যান্সার এবং মুখ ও গলার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল কম পান করা বা পুরোপুরি পরিহার করা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রিন্সেস কেটের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সতর্ক ও সচেতন জীবনযাপনের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।
যুক্তরাজ্যের আকাশসীমায় বাড়ছে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা। গ্লুচেস্টারশায়ারের রয়্যাল এয়ার ফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে নতুন করে আরও তিনটি মার্কিন বি-১ বি ল্যান্সার বোম্বার অবতরণ করেছে। ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরই এই বি-১ বোম্বারগুলো যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে শুরু করে। লন্ডন এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একটি 'প্রতিরক্ষামূলক' অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রথম একটি বি-১ ল্যান্সার বোম্বার এই ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এরপর শনিবার আরও দুটি বিমান এসে পৌঁছায়। বর্তমানে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বোম্বারদের একটি শক্তিশালী বহর অবস্থান করছে, যা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম। বি-১ ল্যান্সার মূলত একটি সুপারসনিক কৌশলগত বোম্বার, যা বিশাল পরিমাণ অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং দূরপাল্লার অভিযানে অত্যন্ত কার্যকর।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে রণসজ্জা শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। রাজকীয় নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অফ ওয়েলস-কে মাত্র পাঁচ দিনের নোটিশে যাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের প্রস্তুতির জন্য ১৪ দিন সময় নেওয়া হলেও, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটিশ সম্পদ এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই রণতরীটি মোতায়েন করা হতে পারে। মূলত সাইপ্রাসকে শত্রুপক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেই এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলে ব্রিটেনের শক্তিশালী টাইপ ৪৫ ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইপ্রাসে অতিরিক্ত ৪০০ জন সেনাসদস্য এবং টাইফুন ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও এই বছরের শেষের দিকে উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরে রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় রণতরীটির যাওয়ার কথা ছিল, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট সেই পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত জানুয়ারি মাস থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্রিটিশ বিমান বাহিনী ইতোমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেফতার করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসদাচরণের’ গুরুতর অভিযোগে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, আজই তার ৬৬তম জন্মদিন ছিল। টেমস ভ্যালি পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট এক বিবৃতিতে জানান, “একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়নের পর, আমরা এখন সরকারি অফিসে অসদাচরণের অভিযোগের ভিত্তিতে এই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি।” রাজকীয় জাঁকজমক থেকে থানার লক-আপ বিবিসির রাজকীয় বিষয়ক সংবাদদাতা শন কফলান এই ঘটনাকে ‘সংবাদ জগতের এক ভূমিকম্প’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর ক্যাসেলের বিলাসিতা ছেড়ে রাজপুত্রের জন্য এখন অপেক্ষা করছে থানার সাধারণ লক-আপ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা থাকবে না; বরং সাধারণ বন্দিদের মতো একটি কক্ষ, একটি বিছানা এবং একটি টয়লেট সংবলিত ‘হেফাজত স্যুট’-এ তাকে রাখা হবে। এই গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে রাজা চার্লস অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।” তদন্তের মূলে যা রয়েছে যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেনি, তবে জানা গেছে এই তদন্ত অ্যান্ড্রুর ‘বাণিজ্য দূত’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত। এপস্টিন সংযোগ: অভিযোগ রয়েছে যে, বাণিজ্য দূত থাকাকালীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তিনি জেফরি এপস্টিনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। গুরুতর অভিযোগ: দ্বিতীয় এক নারীকে যৌন সম্পর্কের উদ্দেশ্যে জেফরি এপস্টিন কর্তৃক যুক্তরাজ্যে পাঠানোর বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তল্লাশি অভিযান: গ্রেফতারের ফলে পুলিশ এখন অ্যান্ড্রুর বাড়ি, কম্পিউটার সরঞ্জাম, ফাইল এবং ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি করার আইনি ক্ষমতা পেয়েছে। ইতোমধ্যেই উইন্ডসর গ্রেট পার্কের ‘রয়েল লজ’-এ তল্লাশি শুরু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী ধাপ সাবেক পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট দাল বাবু জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই অ্যান্ড্রুর ওপর আইনি চাপ বাড়ছিল। বর্তমানে তাকে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখা সম্ভব, যদিও সাধারণত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ গঠন বা জামিনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনি বিশেষজ্ঞ ডমিনিক ক্যাসিয়ানির মতে, ‘সরকারি অফিসে অসদাচরণ’ প্রমাণ করা বেশ জটিল। প্রসিকিউটরদের চারটি প্রধান দিক খতিয়ে দেখতে হবে: অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই সময়ে ‘সরকারি কর্মকর্তা’ ছিলেন কি না। তিনি ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন কি না। তার কর্মকাণ্ড ‘জনগণের আস্থার অপব্যবহার’ কি না। তার এই কাজের পেছনে কোনো ‘যুক্তিসঙ্গত অজুহাত’ ছিল কি না। অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর শুরু থেকেই সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তবে এই গ্রেফতারি ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সুর! দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পিটার ম্যান্ডেলসন অবশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস থেকে স্থায়ীভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে তার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই বিদায় কি সাধারণ কোনো প্রস্থান, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? খবরের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে: বিস্ফোরক অভিযোগ: কুখ্যাত 'এপস্টিন ফাইলে' নাম আসার পর থেকেই চাপে ছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৯ সালের দিকে সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য জেফরি এপস্টিনকে সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তের মুখে: বিষয়টি বর্তমানে ক্যাবিনেট অফিস থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই তথ্য পাচারের অভিযোগগুলো কতটা সত্য। স্পিকারের ঘোষণা: লর্ড স্পিকার লর্ড ফোরসাইথ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবসরের বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং হাউজের মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই ম্যান্ডেলসন এই নোটিশ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকার পর ম্যান্ডেলসনের এই চূড়ান্ত বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস