ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল
ক্যালিফোর্নিয়ার ঋণগ্রস্ত হাসপাতালগুলোর জন্য বড় দুঃসংবাদ। হাসপাতালগুলোর আর্থিক সংকট দূর করতে এবং ঋণ মওকুফের জন্য প্রস্তাবিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়েছে। আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে জনসাধারণের মতামতের আগেই বিলটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।
ডিস্ট্রিক্ট ২৭-এর অ্যাসেম্বলি মেম্বার এসমেরালদা সোরিয়া বিদ্যমান 'অ্যাসেম্বলি বিল ১৯২৩' (এবি ১৯২৩) সংশোধন করেছেন। মূলত 'ডিস্ট্রেসড হসপিটাল লোন প্রোগ্রাম' বা দুর্দশাগ্রস্ত হাসপাতালগুলোর ঋণ কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত এই বিলটির জায়গায় এখন ফ্রেসনো কাউন্টিতে আধা-সেন্ট বিক্রয় কর (সেলস ট্যাক্স) অব্যাহত রাখার একটি উদ্যোগ যুক্ত করা হয়েছে। মূল বিলটির পরিবর্তে এখন নভেম্বরের ব্যালটে 'বেটার রোডস, সেফ স্ট্রিটস' বা উন্নত ও নিরাপদ রাস্তাঘাট উদ্যোগটি স্থান পাবে। বিলটির প্রণেতা সোরিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তাদের চারপাশে থাকা রাস্তাঘাট ও ফুটপাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর জরুরি মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে।
হাসপাতাল লোন প্রোগ্রামটি পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার (গোল্ডেন স্টেট) সব হাসপাতালকে সাহায্য করতে পারত, অথচ নতুন উদ্যোগটি শুধুমাত্র ফ্রেসনো কাউন্টির রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সীমিত। এতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা। কাওয়াহ হেলথের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক মের্টজ বলেন, বিলটি এখন শুধু ফ্রেসনোর রাস্তাঘাটে সীমাবদ্ধ হওয়ায় এটি পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
মের্টজ আরও জানান, তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬২ শতাংশ রোগী 'মেডি-ক্যাল'-এর অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে হাসপাতালের কর্মীদের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্যসেবা খাতের ন্যূনতম মজুরির নিয়ম মেনে চলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় মেডি-ক্যাল রেট অন্যতম সর্বনিম্ন হলেও এখানকার স্বাস্থ্যসেবার খরচ অনেক বেশি।
অন্যদিকে, অ্যাসেম্বলি মেম্বার সোরিয়া বিষয়টিকে কোনো একটির চেয়ে অপরটিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন না; বরং তিনি এটিকে সময়ের প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করছেন। তার মতে, বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবি ১৯২৩ বিলটি একটি অন্যতম সেরা মাধ্যম ছিল। হাসপাতাল লোন প্রোগ্রামটি বাতিল করার বিষয়ে তিনি জানান, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকার এরই মধ্যে চলতি বছর হাসপাতালগুলোর জন্য প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলার অনুদান অনুমোদন করেছে, তাই ফ্রেসনোর অবকাঠামো উন্নয়ন আপাতত বেশি জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমাত্র ২০ ডলারের একটি ইউটিউব বিজ্ঞাপন প্রচারণা থেকে শুরু। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর গেমিং চ্যানেলের প্রচারে বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ড থেকে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মাইটি মাইক প্লেজ’ চ্যানেলকে ঘিরে। তবে পুরো অর্থের খরচ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। শিশুটির নাম মাইক। সে মাইনক্রাফট ও রোবলক্সের গেমিং ভিডিও তৈরি করে। তার বাবা ডেভ জানান, ভিডিওগুলোতে দর্শক কম আসায় তিনি ছেলেকে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থায় একটি ছোট প্রচারণা তৈরি করে দেখিয়েছিলেন। ওই প্রথম প্রচারণার বাজেট ছিল প্রায় ২০ ডলার। পরে ছেলে নিজেই একই পদ্ধতিতে আরও বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করে বলে বাবার দাবি। বড় সমস্যাটি তৈরি হয় পেমেন্ট তথ্য সংরক্ষিত থাকায়। বাবার কোম্পানির ক্রেডিট কার্ডের তথ্য একটি গুগল অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই যুক্ত ছিল। ফলে পরবর্তী বিজ্ঞাপন প্রচারণাগুলো চালানোর সময় একই পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক বুঝতে পারেনি যে প্রতিটি প্রচারণার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ কেটে যাচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ পর বিষয়টি ধরা পড়ে। বাবাকে কোম্পানির ম্যানেজার, করপোরেট কর্মকর্তা ও অর্থ বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে ডেকে বিজ্ঞাপন বাবদ হওয়া বিপুল খরচের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে তিনি ছেলের চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবশ্য ভিডিওগুলোর দর্শক বেড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি প্রচারিত ভিডিও প্রায় ২ লাখ করে ভিউ পেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞাপনে পাওয়া ভিউয়ের সঙ্গে প্রকৃত দর্শক বা দীর্ঘমেয়াদি চ্যানেল প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক আলাদাভাবে যাচাই করা হয়নি। ঘটনার সর্বশেষ আপডেটে বাবার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি চাকরি হারিয়েছেন এবং অর্থ পরিশোধের বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছেন। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই চাকরি হারানো এবং পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার দায়—দুটিকেই আপাতত বাবার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ঘটনাটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে পেমেন্ট তথ্য ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে কোনো শিশুর ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টে কোম্পানি বা পরিবারের বড় অঙ্কের পেমেন্ট পদ্ধতি সংরক্ষিত থাকলে ব্যয়ের সীমা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আলাদা পেমেন্ট ব্যবস্থা রাখার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। পরিবারটি এখন সংরক্ষিত পেমেন্ট তথ্য সরানো এবং ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। সোর্স: ইন্ডিয়া টুডে, ইউওএল।
বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট কড়াই কিচেনের নাম উঠল নিউইয়র্ক টাইমসের যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৫০-এ
পিকআপের পানির ট্যাংকে লুকিয়ে ছিলেন চার অভিবাসী, মার্কিন নাগরিকসহ আ টক করল সীমান্তরক্ষী
মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ, কট্টর সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমেছে ৮ পয়েন্ট
টেক্সাসে আইসিইর একটি অ ভি যা নের ভিডিও করছিল দুই ১৭ বছর বয়সী কিশোর। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে থামার পর তাদের আ টক করা হয় এবং একজনকে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরানো হয়। আরেক কিশোরকে আইসিইর এক কর্মকর্তা আ ঘা ত করেন বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। দুই কিশোরের পরিবারের দাবি, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য রি ক্রু টিং অফিসে যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের আলামো এলাকায়। লুইস ওচোয়া নামে এক কিশোরের ভাষ্য, তারা রাস্তার পাশে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে সেটি ভিডিও করার জন্য গাড়ি থামিয়েছিল। এরপর কর্মকর্তারা তাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন কিশোরকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মাটিতে ফেলে হা ত ক ড়া পরাতে দেখা যায়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে থাকা আরেক কিশোর নেমে আসার পর এক আইসিই কর্মকর্তা তাকে কয়েকবার আ ঘা ত করছেন। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘সে অ প্রা প্ত ব য় স্ক।’ পরে ওই কিশোরকেও মাটিতে ধরে রাখা হয় এবং হা ত ক ড়া পরানো হয়। লুইস ওচোয়া অ ভি যোগ করেছেন, তাকে ম রি চের স্প্রে দেওয়া হয় এবং মাটিতে ফেলে আ টক করা হয়। তার দাবি, এ সময় তার কবজিতে আ ঘা ত লাগে। ওচোয়ার মা তেরেসা ওচোয়া জানান, ছেলের সঙ্গে প্রায় আট ঘণ্টা যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য, ছেলে অ প্রা প্ত ব য় স্ক হওয়ায় ঘটনাটি পরিবারের জন্য আরও উদ্বেগের ছিল। দুই কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তারা মেরিনসে যোগ দেওয়ার জন্য একটি রি ক্রু টিং অফিসে যাচ্ছিল। পথে আইসিইর অ ভি যা ন দেখতে পেয়ে তারা সেখানে থেমে ভিডিও করছিল। তবে ঘটনাটি নিয়ে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বা ডিএইচএসের বক্তব্য ভিন্ন। সংস্থাটি দুই কিশোরকে আইসিই কর্মকর্তাদের কাজে বা ধা দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ডিএইচএসের দাবি, তাদের একজন আইসিইর গাড়ির জানালায় বারবার আ ঘা ত করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের থামার নির্দেশ উপেক্ষা করেছিলেন। ডিএইচএসের ভাষ্য, পরে ওই কিশোরকে আ টক করতে গেলে তিনি মৌখিক ও শারীরিকভাবে প্র তি রোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব ল প্র য়োগ করেছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, ঘটনায় দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আ হ ত হন এবং তাদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে কিশোরদের পক্ষ থেকে ডিএইচএসের এসব অ ভি যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের পরিবারের বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা দৃশ্য নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওর পুরো প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ঘটনার পর দুই কিশোর আলামো পুলিশের কাছে অ ভি যোগ করেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইসিইর অ ভি যা নের সময় দুই কিশোরের আ টক এবং তাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য এখন তদন্তের আওতায় এসেছ
মেয়ের সঙ্গে বাগ বি তণ্ডার জেরে বৃদ্ধকে পি টিয়ে হ ত্যার অভিযোগ বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লেই খুলবে হরমুজ, ইরানি কর্মকর্তার কড়া বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা
নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায়, সাবওয়ে স্টেশন ও অন্যান্য পাবলিক স্পেসে থাকা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ হাজার ৯৯১ জনে পৌঁছেছে। ১০ মার্চের এক রাতের গণনায় এই সংখ্যা পাওয়া যায়, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিউইয়র্ক সিটির বার্ষিক হোমলেস আউটরিচ পপুলেশন এস্টিমেট বা হোপ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। এ জরিপে স্বেচ্ছাসেবকেরা এক রাত ধরে শহরের পাঁচ বরোর বিভিন্ন রাস্তা, সাবওয়ে স্টেশন ও অন্যান্য পাবলিক স্পেস ঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষকে গণনা করেন। ২০২৬ সালের জরিপে ১ হাজার ১৫৭ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। হোপ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৩৯ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২ জন এবং ২০২৪ সালে ৪ হাজার ১৪০ জনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫০৪ জন। চলতি বছরের হিসাবে তা আরও বেড়ে ৪ হাজার ৯৯১ জন হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিউইয়র্ক সিটির মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা নয়। হোপ জরিপ মূলত নির্দিষ্ট একটি রাতে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে দৃশ্যমানভাবে থাকা মানুষকে গণনা করে। ফলে বিভিন্ন অস্থায়ী জায়গায় বা অন্যভাবে অবস্থানরত অনেক মানুষ এই হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন। নিউইয়র্ক স্টেটের কম্পট্রোলার কার্যালয়ের এক বিশ্লেষণেও শহরের আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং তাদের জন্য পরিচালিত সেবা নিয়ে আলাদা করে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এবারের জরিপ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পরে অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র শীতের আবহাওয়ার কারণে আগের নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ১০ মার্চ রাতে হোপ জরিপ পরিচালনা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকেরা মধ্যরাত থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা রাস্তায় থাকা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। শহরের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডারে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ শহরের আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে একক প্রাপ্তবয়স্ক, শিশুসম্বলিত পরিবার এবং প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। রাস্তায় থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জন্য আউটরিচ ও সহায়তা কার্যক্রমও চালু রয়েছে। নিউইয়র্কের হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগ বিভিন্ন এলাকায় আউটরিচ টিমের মাধ্যমে রাস্তায় থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। হোপ জরিপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন সেবা ও সম্পদ পরিকল্পনায় সহায়তা করা। তবে হোপের এক রাতের গণনা দিয়ে নিউইয়র্কের গৃহহীনতার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। শহরের গৃহহীনতার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ ছাড়াও অনিরাপদ বা অস্থায়ী বাসস্থানে থাকা ব্যক্তিরা রয়েছেন। ফলে রাস্তায় থাকা প্রায় ৫ হাজার মানুষের হিসাবটি সমস্যাটির একটি নির্দিষ্ট অংশের চিত্র তুলে ধরে। ২০২৬ সালের হোপ জরিপের ফল তাই নিউইয়র্কে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে শহরের আশ্রয় ব্যবস্থা, আউটরিচ কার্যক্রম এবং স্থায়ী আবাসনে স্থানান্তরের উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিও গৃহহীনতার সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ডুবে ১৩ বছরের কিশোরের মৃত্যু
'সেলফ ড্রাইভিং' মোডে গাড়ি ছেড়ে চলন্ত টেসলায় ঘুমাচ্ছিলেন চালক, জরিমানা করল পুলিশ