ব্রিটিশ রাজনীতি

কিয়ার স্টারমার । ফাইল ছবি
পদত্যাগের ভাষণে যা যা বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তীব্র চাপের মুখে সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ ও দলের স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেন।   পদত্যাগের ভাষণে স্টারমার বলেন, দুই বছর আগে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত। ১৪ বছর পর লেবার পার্টি সরকার গঠন করেছিল এবং দীর্ঘ হতাশা ও নিরাশার পর দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।   তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষের জীবন আরও ভালো করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। তবে সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ ছিল না।   স্টারমার বলেন, ছয় বছর আগে তিনি এমন একটি লেবার পার্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, যা রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিকভাবে কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল। সে সময় তাকে বারবার বলা হয়েছিল দলের ভবিষ্যৎ শেষ এবং তারা ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে। এমনকি সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনও অসম্ভব বলে দাবি করা হয়েছিল।   তার ভাষ্য, তারা সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন। দলকে পুনর্গঠন করা হয়েছে, ইহুদিবিদ্বেষের বিষাক্ত প্রভাব দূর করা হয়েছে এবং অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।   স্টারমার বলেন, লেবার পার্টি আবার এমন একটি দলে পরিণত হয়েছে, যে দল নিজের জাতীয় পতাকার পাশে গর্বের সঙ্গে দাঁড়ায়। এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতার জন্য ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং ব্রিটেনকে আরও ভালো দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।   তিনি বলেন, আরও ন্যায়ভিত্তিক দেশ গঠন, মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠা এবং সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল সরকারের লক্ষ্য। মাত্র দুই বছরেই সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।   স্টারমারের মতে, ব্রিটিশ অর্থনীতি এখন আরও শক্তিশালী এবং সমপর্যায়ের দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিটি মাসে মজুরি মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত বেড়েছে। বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়েছে এবং কঠোর ব্যয় সংকোচনের যুগের অবসান ঘটেছে।   তিনি বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত হারে কমেছে। শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকারের ক্ষেত্রে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন হয়েছে এবং শীতল যুদ্ধের পর থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি ঘটেছে।   স্টারমার আরও বলেন, ছোট নৌকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার কমেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলগুলো বন্ধ হচ্ছে, তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে এবং তার সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে পাঁচ লাখ শিশু দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রিটেনের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম পুনরুদ্ধার হয়েছে। ব্রিটেন আবারও শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সরকার নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে, ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে, নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষা করেছে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করেছে।   তিনি বলেন, একটি লেবার সরকার যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই পরিবর্তনের জন্য লড়েছে এবং তা বাস্তবায়নও করেছে।   তবে এখন দলের সামনে নতুন প্রশ্ন এসেছে বলে উল্লেখ করেন স্টারমার। তিনি বলেন, লেবার পার্টিকে পরিবর্তন করে ক্ষমতায় আনা এবং মানুষের জীবন উন্নয়নের কাজ শুরু করার জন্য তিনি উপযুক্ত ছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর ইতোমধ্যেই পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন দলের প্রশ্ন হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি এখনও সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না।   স্টারমার বলেন, সংসদীয় দলের কাছ থেকে তিনি যে উত্তর শুনেছেন, তা তিনি সৌজন্য ও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করছেন।   তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনি দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নিয়েছেন। আর সেই কারণেই তিনি লেবার পার্টির নেতা পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। সোমবার সকালে তিনি তার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রাজাকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।   দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে স্টারমার বলেন, তিনি লেবার পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিকে একটি সময়সূচি নির্ধারণের অনুরোধ করবেন, যাতে ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হয় এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।   তার মতে, নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে এই সময়সূচি নিশ্চিত করবে যে সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।   নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে স্টারমার বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তর যেন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।   তিনি তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থনের প্রতিশ্রুতিও দেন। স্টারমারের ভাষ্য, নতুন নেতা এমন একটি ব্রিটেনের দায়িত্ব নেবেন, যা দুই বছর আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী, আরও ন্যায়সঙ্গত এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত।   ভাষণের শেষ অংশে তিনি গত ছয় বছর বা তারও বেশি সময় ধরে পাশে থাকা বন্ধু ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মী এবং দেশের সিভিল সার্ভিস সদস্যদের জনসেবার জন্য অবদানের প্রশংসা করেন।   ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে স্টারমার বলেন, দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি পরিবারের জন্য আরও বেশি সময় দিতে চান। স্ত্রী ভিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুখে-দুঃখে তিনি সবসময় পাশে ছিলেন। একই সঙ্গে সন্তানদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ও গর্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।   ভাষণের শেষে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের অবসান ঘটছে।   পদত্যাগের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।   স্টারমার বলেন, তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।   তিনি আরও বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার উপযুক্ততা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রশ্নের জবাব তিনি শুনেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন বলে জানান।   লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তিনি দলীয় ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে অনুরোধ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।   বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণা এলো।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধান পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সোমবার ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর ফলে গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের অবসান ঘটছে।   পদত্যাগের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।   স্টারমার বলেন, তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ছিল দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে। তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।   তিনি আরও বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে তার উপযুক্ততা নিয়ে দলীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রশ্নের জবাব তিনি শুনেছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন বলে জানান।   লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য তিনি দলীয় ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে অনুরোধ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে।   বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণা এলো।

Unknown জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বখ্যাত মার্কিন র‍্যাপার কানিই ওয়েস্ট | ছবি: সংগৃহীত
ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য: যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ কানিই ওয়েস্ট, ‘ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যাল’ বাতিল

বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বিশ্বখ্যাত মার্কিন র‍্যাপার কানিই ওয়েস্টের (ইয়ে)। দীর্ঘ ১১ বছর পর ব্রিটিশ ভক্তদের মাতাতে লন্ডনের মঞ্চে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু পুরোনো ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের খেসারত দিতে হলো তাকে। ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে লন্ডনে প্রবেশের অনুমতি পাননি এই শিল্পী, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে লন্ডনের জনপ্রিয় ‘ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যাল’-এর ওপর। প্রধান শিল্পীর অনুপস্থিতিতে পুরো উৎসবটিই বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা। আজ মঙ্গলবার উৎসবের আয়োজক সংস্থা ‘ফেস্টিভ্যাল রিপাবলিক’ এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনস্বার্থ বিবেচনা করে কানিই ওয়েস্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ১০ থেকে ১২ জুলাই লন্ডনের ফিন্সবারি পার্কে নির্ধারিত তিন দিনের এই মেগা ইভেন্টটি বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে টিকিট ক্রেতাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। কানিই ওয়েস্টের অতীতে করা অ্যান্টি-সেমেটিক বা ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য এবং অ্যাডলফ হিটলারের প্রশংসা করার বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই যুক্তরাজ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এই কনসার্ট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পাশাপাশি বিতর্কের মুখে পেপসি ও ডিয়াজিও-র মতো বড় স্পন্সররা উৎসব থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। মূলত সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই ব্রিটিশ সরকার তাকে দেশটিতে প্রবেশের ভিসা দিতে অস্বীকার করে। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে নমনীয় সুর শোনা গেছে ইয়ের কণ্ঠে। এক বিবৃতিতে তিনি ব্রিটেনের ইহুদি নেতাদের সঙ্গে দেখা করে ক্ষমা চাওয়ার এবং ঐক্য ও শান্তির বার্তা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে গত জানুয়ারিতে নিজের মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি জনসম্মুখে ক্ষমা চেয়েছিলেন, যা ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্ত বদলাতে যথেষ্ট ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৫ সালের পর যুক্তরাজ্যে ফেরার এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় কানিই ওয়েস্টের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

ফিলাডেলফিয়ায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মাহফুজুল হক | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় ডোরড্যাশে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মাহফুজুল হক

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০