বিশ্ব

অরুণাচলে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস: নিহত ২, আহত ৪; সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ৪:১৪
অরুণাচলে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস
অরুণাচলে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস

ভারতের অরুণাচল প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। লোহিত জেলার তেজুর কাছে শিবাজি নগর এলাকায় এ দুর্ঘটনায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও চারজন।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে নির্মাণস্থলের ওপর। এতে পাঁচজন পরিযায়ী শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। তাদের মধ্যে একজন নিজেই কোনোভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ও আহতরা স্থানীয় একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই লোহিত জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং অরুণাচল প্রদেশ পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে একই সময়ে টানা বৃষ্টির কারণে অরুণাচল প্রদেশের তিরাপ জেলাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খোংসা-লাজু সড়কের প্রায় ১১০ মিটার অংশ ধসে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। খোংসার পোস্ট অফিসের কাছের অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

এই সড়কটি লাজু প্রশাসনিক এলাকার অন্তত ১৬টি গ্রামের সঙ্গে সংযোগের প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তুতনু ব্লকের গ্রাম, লাপনান, খেতি ও থিনসা এলাকার বাসিন্দারা দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এপিএসটিএস বাস স্টেশন, আসাম রাইফেলস ও সিআরপিএফের সদর দপ্তর এবং খোংসার সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্যও এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

এর আগে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছিল। সংস্থাটি আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।

 

বুধবার নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে লোহিত জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি ও সরকারি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা: কড়া নিন্দা জানাল মিসর

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েত ও বাহরাইনসহ আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসর। কায়রো এই হামলাকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ‘চরম লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, আরব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে— এমন যেকোনো পদক্ষেপকে মিসর দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।   বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে মিসর জানায়, তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। মিসরের দৃষ্টিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কেবল ওই দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং মিসরের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।   ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত হামলার পক্ষে কোনো যৌক্তিক কারণ বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ৪:৫৯
মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া

মোদির সফরে ইউরেনিয়াম রপ্তানি চুক্তি করল ভারত–অস্ট্রেলিয়া, জোরদার হচ্ছে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

অরুণাচলে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস

অরুণাচলে টানা বৃষ্টিতে ভূমিধস: নিহত ২, আহত ৪; সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত ইরানের

মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত ইরানের

নাজাফ থেকে মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ
নাজাফ থেকে মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ থেকে ইরানের মাশহাদে নেওয়া হচ্ছে। বুধবার নাজাফ ও কারবালায় তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে গোটা অঞ্চলে।   আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদেই খামেনির দাফন সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।   খামেনির মৃত্যুর পর গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে ব্যাপক শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানে জানাজা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।   নাজাফ থেকে মাশহাদে মরদেহ স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে শেষপর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় তিনি নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের পাশে দাফন করা হয়।   সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে মাশহাদেই তার দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটালেও তার দাফনকে ঘিরে যে জনসমাগম ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে, তা দেশটির ভেতরে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৯, ২০২৬ ১:৫৯
কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ মৃত ৬০০ ছাড়াল

কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ: মৃত ৬০০ ছাড়াল, আক্রান্ত ১,৭৫৯

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিমান নিরাপদে অবতরণ করান শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

প্রশিক্ষণ ফ্লাইট চলাকালে বিমানের বাইরে ঝাঁপ দিলেন প্রশিক্ষক, নিরাপদে অবতরণ করালেন শিক্ষার্থী

দাঁতের চিকিৎসার সময় মারা যাওয়া সাত বছরের এলা কোকাচোগুর। ছবি: সংগৃহীত
একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করতে গিয়ে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু

তুরস্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসার সময় হৃদ্‌যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে এলা কোকাচোগুর নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একসঙ্গে আটটি দাঁতের ফিলিং করার জন্য তাকে সাধারণ অজ্ঞান (জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া) দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এরই মধ্যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুরদুর শহরের বাসিন্দা এলা গত ৩ জুলাই দাঁতের চিকিৎসার জন্য পাশের ইসপার্তা শহরের দাভরাজ প্রাইভেট ইয়াশাম হাসপাতাল যান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির দাঁতে একাধিক ক্ষয় (ক্যাভিটি) ছিল। তার বয়স কম হওয়া এবং দাঁতের চিকিৎসা নিয়ে ভীত থাকার কারণে আলাদা আলাদা সময়ে চিকিৎসা না করে একবারেই আটটি ফিলিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য তাকে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়।   তবে চিকিৎসা চলাকালেই এলা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে পুনরুজ্জীবিত (রিসাসিটেশন) করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর শোকাহত পরিবার স্থানীয় প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।   পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অজ্ঞান করার আগে প্রয়োজনীয় সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তাদের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, চিকিৎসার আগে অ্যালার্জি পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল কি না। এছাড়া অ্যানেস্থেশিয়ার মাত্রা সঠিক ছিল কি না এবং পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একজন যোগ্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এলার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতোমধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করবেন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসার সময় সব ধরনের চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি একটি অপ্রত্যাশিত জটিলতা ছিল। অন্যদিকে ইসপার্তা চেম্বার অব ডেন্টিস্টস-এর সভাপতি নাইম শেনইউর্ত বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তে যদি কোনো অবহেলা বা পেশাগত ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এলার মৃত্যু তুরস্কে শিশুদের ক্ষেত্রে জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ও জটিল দাঁতের চিকিৎসার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এ ধরনের জটিল চিকিৎসা শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালেই করা উচিত, যেখানে জরুরি শিশু চিকিৎসা দল সব সময় প্রস্তুত থাকে।   এলা ছিলেন মেহমেত ইয়িলদিজলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিকস ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। দুই ভাইবোনের সঙ্গে স্থানীয় একটি ক্রীড়া ক্লাবে নিয়মিত অনুশীলন করতেন এবং অল্প বয়সেই কয়েকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৮, ২০২৬ ২২:৪৫
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

‘মার্কিন রণতরীতে হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক জাপান’, কেন বললেন ট্রাম্প

ইরানের ইরানশাহর বিমানবন্দর এলাকায় হামলার পরের পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইরানশাহর বিমানবন্দরে মার্কিন হামলা, নিহত ১ দমকলকর্মী

ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটো সম্মেলনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র চুক্তি

ট্রাম্পের চাপের মুখে ন্যাটো সম্মেলনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র চুক্তি

0 Comments