- প্রচ্ছদ
- Topic
মনোবিজ্ঞান
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কি না, তা সব সময় সহজে বোঝা যায় না। কখনো যোগাযোগ কমে যাওয়া, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা কিংবা নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ খবর আর বাবা-মাকে সরাসরি না জানানোর মতো ছোট পরিবর্তন থেকেই সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত মিলতে পারে। পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আগেই সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হতে পারে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৩৯৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ১০ জনের মধ্যে চারজন অন্তত একজন ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ভাই বা বোনের সঙ্গে, ১৬ শতাংশ বাবা বা মায়ের সঙ্গে এবং ১০ শতাংশ নিজের সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্কের দূরত্ব কখনো হঠাৎ তৈরি হয়েছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এর আগে আচরণ ও যোগাযোগে কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে এসব পরিবর্তন মানেই যে সন্তান বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, তা নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, নতুন জীবন শুরু করা কিংবা স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠার কারণেও সন্তান আগের তুলনায় কম যোগাযোগ করতে পারে। ভার্জিনিয়ার ভিয়েনা শহরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত দম্পতি ও পারিবারিক থেরাপিস্ট মেরি ম্যাকলাফলিন বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি হতে পারে বাবা-মায়ের সঙ্গে নিজের জীবনের কথা ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া। আগে সন্তান হয়তো ভ্রমণের পরিকল্পনা, নতুন সম্পর্ক কিংবা কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির খবর সবার আগে বাবা-মাকে জানাত। কিন্তু ধীরে ধীরে বাবা-মা এসব খবর অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন। ম্যাকলাফলিনের মতে, তখন সন্তান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ না করলেও নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আর আগের মতো সরাসরি বাবা-মাকে জানাতে চাইছে না—এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। পারিবারিক ছুটির দিন, জন্মদিন কিংবা বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়াও সম্ভাব্য সতর্কসংকেত হতে পারে। একইভাবে ফোনকলের উত্তর না দেওয়া, বার্তার জবাব দিতে দীর্ঘ সময় নেওয়া কিংবা যোগাযোগকে সংক্ষিপ্ত ও অনিয়মিত করে ফেলার মতো আচরণও সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে। কখনো কখনো এই পরিবর্তন এতটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ভাইবোন, দাদা-দাদি, নানা-নানি বা পরিবারের অন্য সদস্যরাও মন্তব্য করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সন্তানকে দেখছেন না বা তাঁর খবর পাচ্ছেন না। ম্যাকলাফলিন আরও বলেন, কোনো সন্তান আগে পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী থাকলেও পরে বারবার ছবি তোলার সময় সরে যেতে পারে। এমন আচরণ থেকে বোঝা যেতে পারে, সে নিজেকে পরিবারের অংশ হিসেবে দেখার পরিবর্তে আলাদা পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। তবে একটি নির্দিষ্ট আচরণ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না; পরিস্থিতি ও সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করা জরুরি। পেনসিলভানিয়াভিত্তিক থেরাপিস্ট ও ব্লাইথ ল্যান্ড্রি কোচিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ব্লাইথ ল্যান্ড্রি বলেন, সন্তানের নতুন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরও পারিবারিক সম্পর্কে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে নতুন বন্ধুদের মধ্যে কেউ যদি কঠিন বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়, তাহলে তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ল্যান্ড্রি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের ঘটনাগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা শুরু করাও একটি লক্ষণ হতে পারে, যাতে আগের অভিজ্ঞতাগুলোকে বাস্তব ঘটনার তুলনায় আরও ক্ষতিকর হিসেবে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বাবা-মায়ের দেখা করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়াও সম্পর্কের দূরত্বের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁর মতে, সম্পর্কের কথাবার্তার ধরনে বড় পরিবর্তন আসা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আগে যে সন্তান স্বাভাবিকভাবে কথা বলত, তার আচরণ হঠাৎ অনেক বেশি কঠোর বা বিরূপ হয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তবে এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা বোঝার জন্য অনুমানের বদলে খোলামেলা আলোচনাই বেশি কার্যকর হতে পারে। স্বাধীনতা আর সম্পর্কের দূরত্বের পার্থক্য ২০২৪ সাল থেকে নিজের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে কানেকটিকাটের বাসিন্দা লরা ওয়েলিংটনের। তাঁর মতে, সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে স্বাধীন হতে চাওয়া এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রবণতার মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে। ওয়েলিংটন বলেন, সন্তান যখন কৈশোর পেরিয়ে তরুণ বয়সে প্রবেশ করে, তখন নিজের জীবন গড়তে এবং নিজস্ব পরিচয় তৈরি করতে বাবা-মায়ের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে যেতে পারে। অনেক অভিভাবকই এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে সন্তানকে স্বাধীনতা দিতে চান। তাঁরা প্রতিটি বিষয়ে বিরোধে না জড়িয়ে কোন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন, তা বেছে নিতে চেষ্টা করেন। কারণ প্রতিটি বিষয়ে বিরোধ তৈরি হলে যোগাযোগ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে ওয়েলিংটনের মতে, সন্তানের আচরণে যদি বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব দেখা যায়, তাহলে সেটিও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাঁর বর্ণনায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্তান এমন মনোভাব দেখাতে পারে যেন সে সবকিছু জানে, আর বাবা-মা কিছুই বোঝেন না। বাবা-মায়ের অভিজ্ঞতা বা মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং তাঁদের কথা বলার সুযোগ না রাখাও সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা জীবনযাপনের ধরনে বড় পার্থক্যও বাবা-মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে ওয়েলিংটন মনে করেন। কোনো পরিবারে সন্তানের দৃষ্টিভঙ্গি বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হতে পারে; আবার উল্টোভাবে বাবা-মায়ের কঠোর মতাদর্শও সম্পর্কের বিরোধ বাড়াতে পারে। তবে মতের অমিল থাকলেই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবে, এমন নয়। মতপার্থক্য সামলানোর ধরন এখানে গুরুত্বপূর্ণ। টেক্সাসের মনোবিজ্ঞান গবেষক রিচার্ড ব্লেক, যিনি উদ্বেগ ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে কাজ করেন, বলেন, অন্যের ভিন্ন মতামত বিবেচনা করতে অনিচ্ছুক হওয়াও সম্পর্কের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁর মতে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি আগে থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বারবার কথা বলা বন্ধ করে দেয় বা সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি নিয়ে গর্ব করে, তাহলে বাবা-মায়েরও বিষয়টি খেয়াল করা উচিত। তবে এই আচরণ দেখেই ভবিষ্যতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। যোগাযোগের সমস্যায় কী করবেন ব্লেকের মতে, বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে চলমান যোগাযোগের সমস্যা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে পারে। সন্তান যদি মনে করে, বাবা-মা তার কথা শোনেন না, তার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেন না কিংবা নিজের মতামত চাপিয়ে দেন, তাহলে বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এ অবস্থায় বাবা-মায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে মনোযোগ দিয়ে সন্তানের কথা শোনা, মাঝপথে বাধা না দেওয়া এবং সে যা বলেছে, তা নিজের ভাষায় পুনরায় তুলে ধরে বোঝার চেষ্টা করা। এরপর সহজভাবে জানতে চাওয়া যেতে পারে, তার বলার মতো আরও কিছু আছে কি না। এর মাধ্যমে সন্তান নিজের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করার সুযোগ পেতে পারে। ব্লেকের মতে, সন্তানের উদ্বেগ বারবার উপেক্ষা করলে বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সন্তানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও সেটি মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে সব সময় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। কিছু অভিভাবক জানান, তাঁরা সন্তানের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ককে খুব ঘনিষ্ঠ মনে করতেন। এরপর হঠাৎ এমন বার্তা বা চিঠি পেয়েছেন, যেখানে আর যোগাযোগ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ল্যান্ড্রির পরামর্শ, সন্তানের আচরণে দূরত্বের লক্ষণ দেখা দিলে শুধু তার ভুল খোঁজার পরিবর্তে নিজের ভূমিকাও পর্যালোচনা করা উচিত। বাবা-মায়ের কোনো কথা বা আচরণে সন্তান কষ্ট পেয়েছে কি না, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার সুযোগ আছে কি না, কিংবা সম্পর্ক মেরামতের জন্য এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না—এসব প্রশ্ন নিয়ে সৎভাবে ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের মূল কথা হলো, দূরত্বের প্রতিটি লক্ষণকে সম্পর্ক ছিন্ন করার নিশ্চিত সংকেত হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং পরিবর্তনগুলোকে আলোচনার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। দোষারোপ না করে মনোযোগ দিয়ে শোনা, পারস্পরিক সীমারেখাকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করা—এসব পদক্ষেপ সম্পর্কের সমস্যা বোঝার এবং তা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বন্ধু বা প্রিয়জন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে পাশে থাকার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে। কিন্তু কীভাবে সহায়তা করতে হবে, কোন কথা বলা উচিত আর কোন আচরণ এড়িয়ে চলা দরকার—তা বুঝতে পারেন না অনেকেই। কখনো ভালো উদ্দেশ্যে বলা একটি কথাও বিপর্যস্ত মানুষটির কষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। একজন মনোবিজ্ঞানীর মতে, সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসে এমন কঠিন সময়েই। তখন পাশে থাকার ধরনই নির্ধারণ করতে পারে, বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে, নাকি দূরত্ব তৈরি হবে। মানুষ সাধারণত বিপদের সময়ে বন্ধুদের পাশে পেলে নিজেকে ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়ার অনুভূতি অনুভব করেন। বিপরীতে, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন কাছের মানুষদের অনুপস্থিতি গভীর হতাশা ও বিশ্বাসভঙ্গের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই কারও দুঃসময়ে সহায়তা করার অর্থ শুধু সান্ত্বনার কথা বলা নয়; বরং তাঁর অনুভূতি বোঝা, প্রয়োজনের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং বাস্তবভাবে পাশে থাকা। a মানবিক সম্পর্ক ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরির বিষয়ে কাজ করা ওই মনোবিজ্ঞানী এমন পাঁচটি কথা ও আচরণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন, যা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিপর্যস্ত বন্ধুর কষ্ট বাড়াতে পারে। প্রথমত, বন্ধুকে কাঁদতে নিষেধ করা উচিত নয়। অনেকেই কাউকে কাঁদতে দেখলে বলেন, ‘কেঁদো না’ বা ‘মন শক্ত করো’। তাঁদের উদ্দেশ্য হয়তো মানুষটিকে দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলা। কিন্তু আবেগ প্রকাশ না করলে কষ্ট দূর হয়ে যায়—এ ধারণা ঠিক নয়। বরং কঠিন অভিজ্ঞতা সামলাতে অনেকেরই নিজের অনুভূতি নিয়ে কথা বলা এবং কাঁদার সুযোগ প্রয়োজন হয়। জীবনসঙ্গীকে হারানো মানুষের অভিজ্ঞতা নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা এ বিষয়ে কম কথা বলেছেন, পরবর্তী এক বছরে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অবস্থা তুলনামূলক খারাপ ছিল। শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে আরেকটি গবেষণায় একজন অংশগ্রহণকারী জানান, একজন নার্স তাঁকে কাঁদতে দিয়েছিলেন, থামানোর চেষ্টা করেননি। তাঁর কাছে এই আচরণই ছিল সবচেয়ে সহায়ক অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তাই বন্ধুর চোখে পানি এলে তাঁকে থামানোর পরিবর্তে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। বলা যায়, ‘তুমি মনের কষ্টটা প্রকাশ করছ, এটা ভালো। আমি তোমার পাশে আছি।’ এতে তিনি বুঝতে পারবেন, তাঁর আবেগ প্রকাশ করা কোনো ভুল নয়। দ্বিতীয়ত, ‘তোমাকে শক্ত হতে হবে’—এমন কথা বলাও এড়িয়ে চলা ভালো। কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা স্বাভাবিক। কিন্তু সব সময় শক্ত থাকার পরামর্শ দিলে তাঁর দুঃখ, ভয় কিংবা দুর্বলতার অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। এতে তিনি মনে করতে পারেন, নিজের কষ্ট দেখানো উচিত নয়। এর বদলে তাঁর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বেশি কার্যকর। যেমন বলা যেতে পারে, ‘তোমার এমন লাগাটা স্বাভাবিক’ অথবা ‘তুমি যা অনুভব করছ, তা নিয়ে অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।’ এমন কথা মানুষকে নিজের আবেগ বুঝতে এবং তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, ‘কিছু লাগলে আমাকে জানিও’—এই প্রচলিত কথাটিও সব সময় কার্যকর সহায়তা হয়ে ওঠে না। কারণ, বিপর্যস্ত মানুষটি হয়তো বুঝতেই পারেন না, তাঁর ঠিক কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন। আবার সাহায্য চাইতে গিয়ে অন্যকে বিরক্ত করার ভয় বা সংকোচও কাজ করতে পারে। ফলে আন্তরিক প্রস্তাব পেয়েও তিনি কিছু না বলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ হলো, সাধারণভাবে সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু কাজের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া। যেমন, ‘তোমার বাজার করে দেব?’, ‘তোমার কাপড় ধুয়ে দিতে পারি?’ অথবা ‘বাচ্চাদের কিছু সময় দেখাশোনা করব?’ শোকের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজকর্মে অন্যদের সহায়তা তাঁদের কাছে বিশেষভাবে উপকারী ছিল। এমন নির্দিষ্ট প্রস্তাবে সাহায্য চাওয়ার চাপ কমে এবং বাস্তব প্রয়োজনও পূরণ হয়। চতুর্থত, কাউকে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়। কোনো কঠিন ঘটনার কয়েক মাস পরও বন্ধু কষ্টে থাকলে কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘এবার এগিয়ে যাও’ বা ‘এখনো এসব নিয়ে ভাবছ?’ কিন্তু দুঃখ, শোক কিংবা মানসিক চাপ কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোনো চাপপূর্ণ ঘটনার পর ১১ শতাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে পারেন। আবার প্রথম দিকে যাঁদের অবস্থা স্বাভাবিক মনে হয়, তাঁদের ৯ থেকে ১২ শতাংশের পরিস্থিতি পরবর্তী সময়ে আরও খারাপ হতে পারে। অর্থাৎ, বাইরে থেকে কাউকে স্বাভাবিক দেখালেই তাঁর কষ্ট পুরোপুরি কেটে গেছে, এমন ধরে নেওয়া যায় না। নিজের আবেগকে বিচার করা বা সেগুলো নিয়ে নিজেকে দোষারোপ করাও ক্ষতিকর হতে পারে। একটি গবেষণায় যাঁরা নিজেদের অনুভূতিকে নেতিবাচকভাবে বিচার করেছেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার মাত্রা বেশি এবং মেজাজের ওঠানামাও বেশি দেখা গেছে। তাই বন্ধুকে তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত নয়। বরং বলা যেতে পারে, ‘তোমার যতটা সময় প্রয়োজন, নাও। আমি পাশে আছি।’ পঞ্চমত, বন্ধুর কঠিন সময়ের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া বা তাঁকে এড়িয়ে চলাও ক্ষতিকর। কখনো কখনো কী বলা উচিত, তা বুঝতে না পেরে মানুষ দূরে সরে যান। কেউ ফোন ধরা বন্ধ করেন, কেউ দেখা হলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এতে বিপর্যস্ত মানুষটির মনে হতে পারে, তাঁর কষ্টের কারণে অন্যরা তাঁকে এড়িয়ে চলছেন। ফলে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও ভয় পেতে পারেন এবং আরও একাকিত্বে ভুগতে পারেন। মনোবিজ্ঞানীর মতে, কঠিন সময়ে থাকা বন্ধুর খোঁজ নেওয়ার গুরুত্ব অনেক সময় আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। অথচ ছোট্ট একটি বার্তাও তাঁকে বুঝিয়ে দিতে পারে যে তিনি একা নন। সামাজিক সমর্থন মানুষের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিখুঁত কথা খুঁজে না পেলেও যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি বার্তাই যথেষ্ট হতে পারে: ‘আজ তোমার কথা মনে পড়ছিল। তুমি কেমন আছ, জানতে ইচ্ছা হলো।’ এমন বার্তা বন্ধুকে তাঁর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়, আবার কথা বলতে না চাইলে তাঁকে চাপও দেয় না। সব মিলিয়ে, কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে থাকার জন্য সব সমস্যার সমাধান জানা জরুরি নয়। বরং তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা, আবেগ প্রকাশের সুযোগ দেওয়া, দৈনন্দিন কাজে নির্দিষ্ট সহায়তা করা এবং নিয়মিত খোঁজ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে দ্রুত ভালো হয়ে যেতে বাধ্য না করে তাঁর অনুভূতিকে সম্মান জানানো বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
কোনো পুরুষ বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান ও সংসার রয়েছে, বিষয়টি জানার পরও তার প্রতি কোনো তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। এমন সম্পর্ককে শুধু বয়সের ব্যবধান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, সামাজিক অবস্থান, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা একসঙ্গে কাজ করে এ ধরনের আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। তবে শুরুতেই মনে রাখা দরকার, সব তরুণী বয়স্ক বা বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন না। আবার বয়সে বড়-ছোট হওয়ার বিষয়টিও কোনো সম্পর্কের প্রকৃতি বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। গবেষণাতেও এমন কোনো একক কারণ পাওয়া যায়নি, যার মাধ্যমে এ ধরনের সম্পর্ককে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। বয়স্ক পুরুষের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস অনেক সময় তরুণীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। জীবনের কোনো অনিশ্চিত বা কঠিন সময়ে স্থির, অভিজ্ঞ ও আত্মবিশ্বাসী কাউকে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য মনে হতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, সামাজিক পরিচিতি কিংবা জীবনের প্রতি পরিণত দৃষ্টিভঙ্গিও কারও কাছে আকর্ষণের কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও কখনো যুক্ত হতে পারে। ২০২৫ সালে ‘সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণী ও বয়স্ক পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা ও স্থিতিশীলতার ধারণার ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে গবেষণাটির নমুনা সীমিত এবং অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় এর ফলাফলকে সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। অনেক সময় বয়সের চেয়ে মানুষের আচরণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একজন পুরুষ যদি নিয়মিত খোঁজ নেন, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, প্রশংসা করেন কিংবা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার প্রতি ধীরে ধীরে আবেগ তৈরি হতে পারে। শুরুতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির সম্পর্ক থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগের ফলে সেটি অন্য ধরনের অনুভূতিতে পরিণত হতে পারে। বিবাহিত পুরুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তার সংসার ও পারিবারিক দায়িত্ব থাকার কারণে নতুন সম্পর্কটি অনেক সময় গোপনীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ, গোপন সাক্ষাৎ কিংবা একে অপরের কাছে এমন কিছু বিষয় ভাগ করে নেওয়া, যা অন্যদের সঙ্গে করা হয় না, সম্পর্কের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারে। তবে এটিকে কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বয়সের ব্যবধানযুক্ত সম্পর্ক অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। ২০২৪ সালে ইউরোপের ২৯টি দেশের প্রায় ৩৬ হাজার দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে তার সঙ্গীর বয়স কিছুটা কম হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আবার ২০২৫ সালের আরেকটি বড় গবেষণায় প্রথম দেখার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই নিজেদের তুলনায় কিছুটা কম বয়সী সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণের প্রবণতা পাওয়া যায়। মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দেখা যায়, সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়সের পছন্দ একেবারে একরকম নয়। অনেক নারী নিজেদের চেয়ে সামান্য বেশি বয়সী পুরুষকে পছন্দ করতে পারেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে নারীদের স্বাভাবিক বা সহজাত পছন্দ কেবল বয়স্ক পুরুষ। এ ধরনের সম্পর্কে মানসিক ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা, নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রশংসার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের পরিচয় থেকেও কখনো আবেগ তৈরি হয়। শুরুতে পরামর্শ নেওয়া বা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেটি বদলে যেতে পারে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দায়িত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিবাহিত পুরুষ নিজের বৈবাহিক অবস্থান গোপন করলে কিংবা অন্য ব্যক্তির আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শুধু তরুণীকে দায়ী করা একপাক্ষিক বিশ্লেষণ হবে। সম্পর্ক তৈরিতে সংশ্লিষ্ট উভয় ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও আচরণই বিবেচনা করা প্রয়োজন। বয়সের ব্যবধান নিজে কোনো সম্পর্ককে সফল বা ব্যর্থ করে না। তবে বয়সের পাশাপাশি অর্থ, সামাজিক অবস্থান ও জীবন-অভিজ্ঞতার বড় পার্থক্য থাকলে সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার পারিবারিক তথ্যভিত্তিক একটি গবেষণায় বয়সে বড় দম্পতিদের বৈবাহিক সন্তুষ্টি সময়ের সঙ্গে তুলনামূলক দ্রুত কমে যাওয়ার প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় বয়স ও ক্ষমতার পার্থক্য তরুণ সঙ্গীর ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় তাই শুধু বয়সের ব্যবধান নয়, সম্পর্কের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ, সম্মতি, প্রত্যাশা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে সম্পর্কের একজন যদি আগে থেকেই বিবাহিত হন, তাহলে তার পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্য সঙ্গীর প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সব মিলিয়ে, স্ত্রী-সন্তান ও সংসার থাকা কোনো বয়স্ক পুরুষের প্রতি একজন তরুণীর আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিত্ব, মানসিক সংযোগ, মনোযোগ, জীবন-অভিজ্ঞতা, সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত প্রত্যাশার সমন্বয়ে এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের সম্পর্ককে শুধু বয়স বা ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে বিচার না করে এর পেছনের পরিস্থিতি ও সম্পর্কের পারস্পরিক আচরণকে বিবেচনা করাই বেশি বাস্তবসম্মত। সূত্র: ইত্তেফাক, সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিলেশনশিপ থেরাপি, দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।