- প্রচ্ছদ
- Topic
মার্কিন অভিবাসন নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়ে দাবি করেছে, দেশটির ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রশাসন এত দ্রুত ও এত বেশি সংখ্যায় ভিসা বাতিল করেনি। আইন ভঙ্গ, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করার মতো বিষয়কে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দপ্তরটি। তবে কত সময়ের মধ্যে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে, কোন ধরনের ভিসা এতে অন্তর্ভুক্ত এবং কী কারণে কতজনের ভিসা বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে এবং আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় দ্রুত এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বিদেশিদের কেউ আইন ভঙ্গ করলে, জালিয়াতিতে জড়ালে কিংবা দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেললে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। তবে ভিসা বাতিলের ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য স্পষ্ট করা হয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়নি, বাতিল হওয়া ভিসাগুলোর মধ্যে কতটি অপরাধসংক্রান্ত কারণে, কতটি জালিয়াতির অভিযোগে এবং কতটি নিরাপত্তাঝুঁকির বিবেচনায় বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজনকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছে, সেই হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘোষিত সংখ্যাটি থেকে সব ভিসাধারী অপরাধে জড়িত ছিলেন বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রিপাবলিকান নেতারা সীমান্তে কঠোর নজরদারি, অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প ও তাঁর দলের নেতারা অভিবাসনকে জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। প্রশাসনের মতে, ভিসা নীতিতে কঠোরতা এবং নিয়মিত তদারকি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এ ধরনের কঠোর নীতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ব্যাপক হারে ভিসা বাতিলের ফলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রশ্ন উঠতে পারে এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি না করা বিদেশি নাগরিকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। অভিবাসীদের নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা। ভিসা বাতিলের পেছনে বিভিন্ন ধরনের কারণ থাকতে পারে। কারও ভিসার শর্ত ভঙ্গ, আবেদনে ভুল বা জাল তথ্য দেওয়া কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ ও শ্রেণিভিত্তিক হিসাব না থাকায় পুরো বিষয়টির ব্যাপ্তি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাস (ইউসি ডেভিস), স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশটির কয়েকটি পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তদন্তের ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি গবেষকদের জন্য নির্ধারিত ভিসা কর্মসূচি অতিরিক্ত ব্যবহার করে মার্কিন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কর্মসংস্থান এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করছে। ভ্যান্স বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জে-১ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি গবেষকদের নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিসা জালিয়াতি করেছে বলে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পের কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। তাঁদের দাবি, জাতীয় পর্যায়ে এই হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষকদের উপস্থিতির হার বেশি হওয়ার অর্থ নিজে থেকেই ভিসা জালিয়াতির প্রমাণ নয়। তদন্তে মূলত ভিসার শর্ত, নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের তালিকায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসি ডেভিস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ইউসি ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইতিমধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে। বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্কের অনিয়ম এবং ভিসার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভিসাসংক্রান্ত সব কেন্দ্রীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলে। ফক্স৪০-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তদন্তের বিষয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তে কী ধরনের নথি পরীক্ষা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জে-১ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত অস্থায়ী ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশটিতে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক গবেষক ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে, এইচ-১বি ভিসা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ দেয়। দুটি ভিসার উদ্দেশ্য ও শর্ত আলাদা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে উভয় কর্মসূচির ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জে-১ ভিসার মাধ্যমে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করাচ্ছে। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় গবেষকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিদেশি গবেষকদের বেতন তুলনামূলক কম কি না, কিংবা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভিসার শর্ত ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগের শর্ত, কাজের ধরন ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। বিদেশি শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে ভিসা ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হতে পারে। শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক ডি’এসপোসিটি বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরিচিতি বা মর্যাদার কারণে তদন্তের বাইরে রাখা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ভিসার অপব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশি প্রভাব এবং আর্থিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। তবে তদন্ত চলাকালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: ফক্স৪০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে। ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে। মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত ও অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের গ্রেফতারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই গঠিত হওয়ার পর গত ২৩ বছরের ইতিহাসে জুনে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে জুলাই মাসে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সীমান্তবিষয়ক প্রধান টম হোমান। টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। টম হোমান জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ও অভিবাসনবিষয়ক সংস্থাগুলো পূর্ণ উদ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে। জুনে আইসিই-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছিল, আর জুলাইয়ে অভিযানের গতি সেই পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হচ্ছে। সাবেক প্রশাসনের ঢিলেঢালা নীতির কারণে কোটি কোটি লোক অনিয়ন্ত্রিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। আইসিই-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে অক্টোবর থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যান হিসাব করলে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১,২৫৫ জন মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসে আইসিই এবং বর্ডার প্যাট্রোলের যৌথ অভিযানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৫৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা জুনে ছিল প্রতিদিন গড়ে ১,৪৩৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে অবৈধভাবে বসবাসরত অপরাধী ও বিপজ্জনক ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও ফেরত পাঠানোর এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ৩০ লাখের বেশি অবৈধভাবে অবস্থানকারী মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আটক ও ফেরত পাঠাতে প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে অভিবাসন সংস্থার এই ব্যাপক অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মেইন এবং টেক্সাসের হিউস্টনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে গাড়ি তল্লাশি ও থামানো বন্ধের চিন্তা করা হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, এই ধরনের অভিযান বন্ধ করলে অপরাধী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সুবিধা পাবে, তাই গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে বিতর্ক এড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য শরীরে ক্যামেরা পরা বাধ্যতামূলক করার কথা জানানো হয়। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টম হোমান বলেন, বডি ক্যামেরা ব্যবহার করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা সহজ হয় এবং অভিযানের সঠিক চিত্র মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হামলার পর ২০০৩ সালের মার্চে গঠিত হয় এই অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বড় আকারের ফেরত পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এখন সেটিই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক অবৈধ অভিবাসীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা ভোগ শেষে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে সাজা ঘোষণার পর অভিযুক্তকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে দায়ের হওয়া আরেকটি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করতে সেখানে পাঠানো হয়েছে। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় ও মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার ৩১ বছর বয়সী নাগরিক নিকল আলেক্সান্দ্রা কনত্রেরাস-সুয়ারেজ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ম্যানহাটনের থমাস জেফারসন পার্কের বিপরীতে অবস্থিত একটি বডেগা দোকানের শৌচাগারে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তী সময়ে মার্চ মাসে তিনি দ্বিতীয় ডিগ্রির ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। ভুক্তভোগী কিশোরকে যেন আদালতে এসে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে না হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রসিকিউশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। এই সমঝোতার ভিত্তিতে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে দ্বিতীয় স্তরের যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে। এর পাশাপাশি আগামী ১০ বছর তাকে প্রবেশন পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত একজন অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাজা ভোগ করা শেষ হলে তাকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো ভুল ছিল না, এটি ছিল সচেতন সিদ্ধান্ত। আমার ছেলের সঙ্গে এই ঘটনা না ঘটলেও অন্য কোনো শিশুর সঙ্গে এমন অপরাধ ঘটতে পারত।” আদালতে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ভুক্তভোগী কিশোর জানায়, এই ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে গভীরভাবে আঘাত করেছে এবং সে এই বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত আলোচনা করতে চায় না। সে এখন সমস্ত অতীত ভুলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে আগ্রহী। কিশোরটি বলে, “এখন অভিযুক্ত আর এখানে নেই। অবশেষে আমি মনে করছি, কিছুটা শান্তি ফিরে পেয়েছি।” মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে আটক করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই মামলায় মাত্র ছয় মাসের সাজা প্রদানের বিষয়টিকে “ন্যায়বিচারের গুরুতর ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছিল। ধর্ষণের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার ফলে কনত্রেরাস-সুয়ারেজের বিরুদ্ধে অভিবাসন-সংক্রান্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়। তবে তাকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়া কঠোর হেফাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নিউইয়র্কের সাজা শেষে কনত্রেরাস-সুয়ারেজকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের মেডফোর্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র ডাকাতি, পতিতাবৃত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ এবং হামলার অভিযোগে পৃথক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। সাম্প্রতিক এই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ অভিবাসীকে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না। ডিএইচএস জানিয়েছে, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হয়নি। বরং আগের মতোই অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন আবেদনকারীকে দেশেই থেকে প্রক্রিয়া চালাতে দেওয়া হবে কি না। এর আগে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর একটি ঘোষণার পর ধারণা তৈরি হয়েছিল যে অধিকাংশ আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে গ্রিন কার্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে অভিবাসী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে নতুন ব্যাখ্যায় ডিএইচএস বলেছে, এটি কোনো সার্বিক নীতি পরিবর্তন নয়, বরং কর্মকর্তাদের বিদ্যমান ক্ষমতা সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র জানান, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যেমন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা অন্যান্য অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে আবেদনকারীদের বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে অধিকাংশ আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যাখ্যায় কিছুটা স্পষ্টতা এলেও এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে দেশ ছাড়তে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা অনুপস্থিত থাকায় অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নীতিগত ব্যাখ্যার এই ধোঁয়াশা অভিবাসী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর আস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়, যার বড় একটি অংশ দেশটির ভেতর থেকেই আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও বর্ণবাদী চিঠি শেয়ার করেছেন। রেডিও সঞ্চালক মাইকেল সেভেজের লেখা ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে মানুষ কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসে। এর মাধ্যমে তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের অপব্যবহার করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সেভেজ তার লেখায় ভারত ও চীনকে ‘নরক’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, অভিবাসীরা গর্ভাবস্থার নবম মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং শিশু জন্ম দিয়ে মুহূর্তেই নাগরিকত্ব লাভ করে। পরবর্তীতে ওই শিশুর সূত্র ধরে তারা পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন সময়ে শেয়ার করলেন যার ঠিক একদিন আগেই তিনি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তথ্যগতভাবে এই দাবিটি সঠিক নয়। মূলত কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিশ্বের প্রায় তিন ডজনেরও বেশি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান এখনও কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক প্রচারণা এবং বর্ণবাদী মন্তব্য শেয়ার করার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি সুবিধা নিতেই তিনি আবারও কঠোর অভিবাসন বিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীরা এই ধরনের মন্তব্যকে ‘বিদ্বেষমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।