সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে মামলা করা হয়। একই সময়ে নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে কয়েকটি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলা করেছে। নতুন নিয়মটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। 

 

নতুন নীতিতে গ্রিন কার্ড, নির্দিষ্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন পর্যালোচনার সময় কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাড়ানো হয়েছে। এর আওতায় মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং শিশুদের স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচির মতো কিছু সরকারি সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। রাজ্যগুলো বলছে, এতে বৈধভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করা অভিবাসী পরিবারগুলো গ্রিন কার্ডের আবেদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। 

 

মামলাকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কলোরাডোসহ মোট ২২টি রাজ্য রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াও যুক্ত হয়েছে। মামলাটি নিউইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে করা হয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, নতুন নীতিটি ডিএইচএসের আইনগত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নিয়মও লঙ্ঘন করেছে। 

 

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে পৃথক একটি মামলায় শিকাগো, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং কয়েকটি কাউন্টি ও স্থানীয় সরকার যুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর দাবি, নতুন নীতির কারণে অভিবাসী পরিবারগুলো মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা বা অন্যান্য বৈধ সরকারি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। এতে শুধু অভিবাসীদের নয়, এসব কর্মসূচি পরিচালনাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারের ওপরও আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে তারা আদালতে যুক্তি দিয়েছে। 

 

ডিএইচএস অবশ্য নতুন নীতিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে এমন ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ড বা ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের কোনো আবেদনকারীর পরিস্থিতি কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। 

 

নতুন নিয়মটি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে চালু করা অনুরূপ নীতির সঙ্গে মিল রয়েছে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই নীতি বাতিল করে ২০২২ সালে তুলনামূলকভাবে সীমিত একটি কাঠামো চালু করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিএইচএস সেই ২০২২ সালের বিধান বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, নতুন নিয়ম ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হবে। 

 

মামলার ফলে এখন ফেডারেল আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুন নীতিটি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে কার্যকর করা হয়েছে কি না এবং তা সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত কার্যকর তারিখ ঘিরে গ্রিন কার্ড ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তির গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন সরল নিয়ম নয়; কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তিন বছর পর নীতিগত সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। ছবি: সংগৃহীত
৩ বছর পর সুদের হার বাড়াল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে

তিন বছর পর আবারও নীতিগত সুদহার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বুধবার সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৩ সালের পর এটিই ফেডের প্রথম সুদহার বৃদ্ধি।   ফেডের সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম এবং আমদানি ব্যয় নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির প্রভাব। এসব বিষয় মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘ সময় ধরে উঁচু পর্যায়ে রাখার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে ফেডের কর্মকর্তারা মনে করছেন।   ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। তবে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি পুরোপুরি কমে যায়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিকে শুধু জ্বালানি বা আমদানি ব্যয়ের সাময়িক প্রভাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ বিস্তৃত হচ্ছে।   ফেডের সর্বশেষ পূর্বাভাসে আরও সুদহার বৃদ্ধির ইঙ্গিতও রয়েছে। ১৮ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ১৬ জনই চলতি বছর অন্তত আরও এক দফা সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে সুদহার স্থিতিশীল রাখার এবং পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে কমানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।   মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ সরকারি তথ্যও ফেডের সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক এক বছরের ব্যবধানে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। আগস্টে মাসিক ভিত্তিতেও ভোক্তা মূল্যসূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।   খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্য জুলাইয়ের তুলনায় ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে জ্বালানি খাতে মূল্যবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি। আগস্টে জ্বালানির দাম মাসিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। পেট্রলের দামও এক বছরে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।   ফেডের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে তৈরি জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। ইরানকে ঘিরে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন থেকে শুরু করে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের খরচ বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বেড়েছে। এর একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি দামের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি মূল্যও বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।   ফেডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনায় এসেছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মার্কিন ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সুদহার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। বুধবার ফেড সুদহার বাড়ানোর পর তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কম সুদহার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন।   রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নীতিগত অবস্থানের পার্থক্যও এখন আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঋণের ব্যয় কমানোর জন্য কম সুদহার চান। অন্যদিকে ফেডের বর্তমান নেতৃত্বের প্রধান উদ্বেগ মূল্যস্ফীতিকে আবারও নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা।   সুদহার বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ, ব্যবসায়িক ঋণ এবং অন্যান্য ঋণের সুদে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বেশি সুদহার মানুষের ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত সময় ধরে সুদহার উঁচু থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।   তবে বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতির কিছু সূচক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। আগস্টে দেশটির খুচরা বিক্রি ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এই তথ্য থেকে অর্থনীতিতে ভোক্তাদের ব্যয়ের সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   ফেডের নতুন পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ধীরে কমে ২০২৯ সালের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় ফিরতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডকে আরও দীর্ঘ সময় কঠোর নীতি ধরে রাখতে হতে পারে।   ফেডের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন সুদহার বাড়লে সাধারণত ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং অন্যান্য দেশের মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সুদের কারণে মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াতে পারেন। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পুঁজিপ্রবাহ, বিনিময় হার এবং ঋণের খরচেও প্রভাব পড়তে পারে।   সব মিলিয়ে, তিন বছর পর ফেডের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বড় উদ্বেগ হয়ে ওঠার বিষয়টি সামনে এনেছে। চলতি বছর আরও একবার সুদহার বাড়ানো হয় কি না এবং জ্বালানি ও আমদানি ব্যয়ের চাপ আগামী মাসগুলোতে কতটা স্থায়ী হয়, তার ওপর ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে।   সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ, ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৭:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায়, ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম ঠেকাতে ২২ রাজ্য ও ডিসির মামলা

আইসিইর ধরপাকড় ও বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাবে ৬০ লাখ

আইসিইর ধরপাকড় ও বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাবে ৬০ লাখ, নতুন প্রতিবেদন

পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার

পানির বোতলে ব্লিচ ঢেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে খাওয়ান হোমকেয়ার, ভিডিও ভাইরাল

দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের
দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে কূটনৈতিক বিরোধ

দক্ষিণ আফ্রিকার নির্দিষ্ট কিছু নাগরিকের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, জাতিগত বৈষম্য, সহিংসতায় উসকানি এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের মতো নীতির সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।    রুবিওর অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার গ্রামীণ এলাকায় অপরাধ, সহিংস ও অবমাননাকর বক্তব্য এবং আফ্রিকানারসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্যমূলক নীতি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতিতে এসব নীতি তৈরি বা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।    এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি অধিগ্রহণের নীতি, জাতিগত বৈষম্য এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আসন্ন সহিংসতায় উসকানির অভিযোগও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী বা এতে সহযোগী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা হবে।   দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আপত্তি অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভূমি আইন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং কৃষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই আদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধের নির্দেশ এবং নির্যাতনের শিকার আফ্রিকানারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছিল।    তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। দেশটির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস, বৈষম্য ও ভূমি সংস্কারের বাস্তবতা যথাযথভাবে তুলে ধরে না। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে নিজেদের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।    এদিকে নতুন ভিসা নীতির আওতায় ঠিক কোন কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাদের নাম প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূমি সংস্কার, জাতিগত নীতি, গ্রামীণ অপরাধ এবং রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নতুন এই পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ০:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে বড় মজুরি পরিবর্তনের প্রস্তাব, ঘণ্টায় ৭.২৫ থেকে ২৫ ডলার

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক

ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের চেক: মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন প্রতিশ্রুত অর্থ দেবেন তিনি

ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক

ট্রাকে গাদাগাদি করে ৩১ অভিবাসী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক

যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত - ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির সুদের হার দ্রুত কমিয়ে ১ শতাংশ বা তারও নিচে নামানোর দাবি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, তাই দ্রুত সুদ কমানো উচিত।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরপরই। বুধবার ফেড শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়িয়ে ফেডারেল ফান্ডস রেটের লক্ষ্যসীমা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ফেডের প্রথম সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।   ফেড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শক্তিশালী থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি। মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে বুধবারের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে এবং দেশটির ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা শক্তিশালী। তাই তিনি দ্রুত সুদ কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুদের হার দ্রুত কমান” - একই পোস্টে তিনি হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত বলে দাবি করেন।   ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি ট্রাম্পের নিজস্ব দাবি; এ হিসাবের বিস্তারিত ভিত্তি তিনি পোস্টে দেননি।   এদিকে ফেডের সেপ্টেম্বরের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার মধ্যম পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ২ শতাংশ।   ফলে সুদের হার নিয়ে ট্রাম্পের দাবি এবং ফেডের বর্তমান নীতির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ট্রাম্প দ্রুত সুদ কমানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আর ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদ বাড়িয়েছে।   সোর্স: রয়টার্স, ফেডারেল রিজার্ভ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২১:৯
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের স্কুল বাছাইয়ে ভুল এড়াতে বাবা-মায়ের যে বিষয়গুলো দেখা উচিত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের স্কুল বাছাইয়ে ভুল এড়াতে বাবা-মায়ের যে বিষয়গুলো দেখা উচিত

হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে ৯৭৭ ডলার দেনা, নিলামে বিক্রি সাড়ে চার লাখ ডলারের বাড়ি

হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশনে ৯৭৭ ডলার দেনা, নিলামে বিক্রি সাড়ে চার লাখ ডলারের বাড়ি

প্রবাসীদের কাজে আসতে পারে যেসব অ্যাটর্নির ফোন নম্বর

আইনি ঝামেলায় পড়লে কাকে ফোন করবেন? প্রবাসীদের কাজে আসতে পারে যেসব অ্যাটর্নির ফোন নম্বর

0 Comments