সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মার্কিন রাজনীতি

নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, অথচ ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে তিনি সবার নিচে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকেই দেশটির ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। অথচ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিজের প্রকাশ করা তালিকায় তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের মতো ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্টদেরও ওপরে নিজেকে রেখেছেন।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি তালিকার ছবি প্রকাশ করেন। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত জরিপে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে কোন প্রেসিডেন্টকে তারা সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেন, তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই জরিপে ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি পছন্দের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আব্রাহাম লিংকন ও রোনাল্ড রিগ্যানকে পেছনে ফেলেন।   এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি ‘সেরা’ তালিকা তুলে ধরেন। সেখানে নিজের নাম একেবারে শীর্ষে রাখেন তিনি। তবে তালিকাটি প্রকাশের পর এর নানা দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তালিকায় রোনাল্ড রিগ্যান ও জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নাম না থাকায় প্রশ্ন ওঠে। ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ডব্লিউ জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প যেন রিগ্যান ও বুশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবস্থান নিয়েই কোনো মতামত দেননি।   আরেক মন্তব্যে ইতিহাস ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে কাজ করা মাইক রথশিল্ড দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকাটি আসলে ১৯৪৮ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি তালিকার আদলে তৈরি। তার দাবি, ওই পুরোনো তালিকার ওপর ট্রাম্প নিজের নাম যোগ করেছেন এবং যেসব ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টকে তিনি পছন্দ করেন না, তাদের নিচের দিকে রেখেছেন।   তবে ট্রাম্প নিজেকে যতই ওপরে রাখুন, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন তার সঙ্গে একেবারেই মেলে না। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মাইকেল বেইলি সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রাম্পের সময়ে দুর্নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তা অতীতের অন্য প্রেসিডেন্টদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।   এর আগেও একই ধরনের মূল্যায়ন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের একটি জরিপে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টদের তালিকার একেবারে নিচে রাখা হয়েছিল। ওই জরিপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৪তম অবস্থানে ছিলেন। শুধু বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেই ট্রাম্প পিছিয়ে নেই। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপের চিত্র দেখা গেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের অনুমোদন হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।   ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টদের ছবি ও তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা নিয়ে একটি ‘ওয়াক অব ফেম’ স্থাপন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের অবদান তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ইতিহাসবিদেরা ওই ফলকগুলোর তথ্যের পক্ষপাতদুষ্টতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।   একজন ইতিহাসবিদ মন্তব্য করেছিলেন, ওই ফলক তৈরিতে যে ধরনের গবেষণা করা হয়েছে, তা অন্যের ছবিতে গোঁফ এঁকে দেওয়ার মতোই দুর্বল। ট্রাম্পের ইতিহাসচর্চার আগ্রহ শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে সংবেদনশীল ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে থাকা কিছু ফলক ও তথ্য সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ইতিহাসও ছিল।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রদর্শনী ও সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। সমালোচকদের মতে, ইতিহাসের এমন অংশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকা তাই নতুন করে তার ইতিহাস দেখার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে, অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে তার অবস্থান একেবারেই বিপরীত।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ডাকযোগে ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প

ডাকযোগে ভোট বা মেইল-ইন ব্যালট ব্যবস্থাকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে বারবার সমালোচনা করলেও নিজেই আবার সেই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ডাকযোগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, পাম বিচ কাউন্টির ভোটিং রেকর্ড অনুযায়ী, ট্রাম্প গত জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি মেইল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ১৩ আগস্ট তিনি সেটি পূরণ করে জমা দেন। এ নিয়ে চলতি বছর নিজের বর্তমান ঠিকানা ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ডাকযোগে ভোট দিলেন ট্রাম্প।   এর আগে গত মার্চ মাসে ফ্লোরিডার একটি বিশেষ নির্বাচনেও ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন, যদিও সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করছিলেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানিয়েছিল, যখন সশরীরে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, তখন ট্রাম্প পাম বিচেই অবস্থান করছিলেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য তখন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হওয়া সমালোচনাকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।   ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন তরুণ ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'ভোটারস অব টুমরো'-এর নির্বাহী পরিচালক সান্তিয়াগো মেয়ার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটি সত্যিই একটি হাস্যকর ব্যাপার। ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবেন আমরা সবাই বোকা। প্রেসিডেন্ট দিনের পর দিন ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, আবার নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দেন। তিনি যদি ডাকযোগে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে এত স্বাচ্ছন্দ্যে মিথ্যা বলতে পারেন, তবে ভেবে দেখুন তিনি আমাদের কাছে আরও কত বিষয় নিয়ে মিথ্যা বলছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি একজন চরম ভণ্ড এবং গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এখন সময় এসেছে এমন একটি কংগ্রেস নির্বাচন করার, যারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।”   এ বিষয়ে নিউজউইকের পক্ষ থেকে সোমবার ইমেইলের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। গত জুলাই মাসেও ট্রাম্প ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থাকে "পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি এই ব্যবস্থার ব্যবহার সীমিত করার পক্ষে মত দিয়ে বলেছিলেন, এটি কেবল অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, সামরিক দায়িত্ব পালন বা ভ্রমণের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত।   তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাননি তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা। ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক কোটি ডাকযোগে পড়া ভোটের মধ্যে বড়জোর চারটিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল।   এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের প্রামাণ্য দলিল বাধ্যতামূলক করতে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের জন্য কংগ্রেসের ওপর চাপ প্রয়োগের নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলের সঙ্গে এই ভোটিং বিলটি জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের মাধ্যমে বিলটিকে সর্বোচ্চ আইনি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।   ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, এই প্রস্তাবটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। তবে বিরোধীদের মতে, এটি যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোট দেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে। আর অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার যে সমস্যার কথা বলে এই বিল পাসের চেষ্টা করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো বড় ভিত্তি নেই।   সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' নিয়ে এক পোস্টে ট্রাম্প ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, “চলতি মাসের শুরুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন বৈধ ছবিযুক্ত আইডি ছাড়া আপনারা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন করেন? ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন! সেখানে ১ শতাংশেরও কম মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন এবং প্রতিটি ভোটারের কাছে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছিল। আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে হবে!”

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। ছবি: সংগৃহীত
নতুন আমদানি শুল্ক ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ ঘোষিত আমদানি শুল্কের বিরুদ্ধে একযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে আগের শুল্কনীতির আইনি ভিত্তি বাতিল হওয়ার পর প্রশাসন নতুন নামে একই ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে, যা আইনসম্মত নয়।   সোমবার দায়ের করা মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউস নতুন শুল্ক আরোপের যে আইনি যুক্তি দেখিয়েছে, তা মূলত আগের বাতিল হওয়া নীতিকে ভিন্ন উপায়ে কার্যকর করার প্রচেষ্টা।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বে আরোপ করা অনেক শুল্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত আইনি ভিত্তি প্রেসিডেন্টকে ওই ধরনের কর আরোপের ক্ষমতা দেয় না। সেই রায়ের পরই নতুন শুল্ক ঘোষণাকে ঘিরে আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও প্রশাসন আবারও পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অবৈধভাবে নতুন করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।”   গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস নতুন শুল্কের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যায্য আচরণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রেসিডেন্টের বিদ্যমান ক্ষমতার আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী আরোপিত শুল্ক বৈধ এবং প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদ থেকেই এটি কার্যকর ও টেকসই একটি আইনি ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর প্রযোজ্য হবে, যেগুলো মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ সরবরাহ করে। নতুন ব্যবস্থায় কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো ও তাইওয়ানের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।   এটি নতুন শুল্ককে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা নয়। গত ২৩ জুলাই শুল্ক ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পৃথক দুটি মামলা করে। সেসব মামলায়ও অভিযোগ করা হয়, নতুন শুল্ক কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং হোয়াইট হাউস ব্যাখ্যা দিতে পারেনি, কীভাবে এই ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জোরপূর্বক শ্রম কমাতে কার্যকর হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি লড়াই শুধু শুল্ক নীতির বৈধতাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের বাণিজ্য-সংক্রান্ত নির্বাহী ক্ষমতার সীমা নিয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতি কার্যকর থাকবে কি না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
নতুন জরিপে ট্রাম্পের নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ উত্তরদাতা। ছবি: সংগৃহীত
নিজের দলেই ধস: জনপ্রিয়তায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নতুন করে নিম্নমুখী হয়েছে বলে উঠে এসেছে সিএনএন ও এসএসআরএস পরিচালিত এক জনমত জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। একই সঙ্গে দেখা গেছে, তার প্রতি অসন্তোষ শুধু বিরোধী সমর্থকদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে।   ২৩ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপ বুধবার প্রকাশ করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, আর ৬৬ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিএনএনের মতে, এই হার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর তার যে সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা ছিল, তার সমান।   জরিপে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তার কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে মাত্র ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় নিয়ে তারা খুবই আশাবাদী। গত বসন্তে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।   জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার সঠিক নয়। বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি দেশের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।   অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি নেতিবাচক মূল্যায়ন উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ বলেছেন, তার নীতির ফলে অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। বাকি ১৩ শতাংশের মতে, এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।   ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও জনমত নেতিবাচক। জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরান-সংক্রান্ত ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ২১ শতাংশ মনে করেন, এতে দেশের উপকার হয়েছে এবং ১২ শতাংশ বলেছেন, এতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।   এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান এসব প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, আর ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের জনমত জরিপ রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যদিও একটি জরিপই জনমতের চূড়ান্ত চিত্র নয়, তবু সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা তার প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নতুন জরিপে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের মতামতের চিত্র উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
প্রতি ৩ জন আমেরিকানের মধ্যে ২ জনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিপক্ষে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সমর্থন কতটা, তা নিয়ে নতুন এক জরিপে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বড় একটি অংশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   জরিপে অংশ নেওয়া অনেক নাগরিক জানিয়েছেন, ইরানের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে তারা সমর্থন দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সামরিক অভিযানে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে শুধু কৌশলগত বিষয় নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ জনমতও বিবেচনায় নিতে হয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষেত্রে জনগণের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ইস্যুতে মার্কিন জনগণের মনোভাব বিভিন্ন ঘটনার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন এই জরিপ আবারও দেখাচ্ছে, বিদেশে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট করে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৪৫ পোস্ট, ট্রাম্পের অস্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৎপরতা ঘিরে প্রশ্ন

মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৪৫টি পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সকাল ১১টা ১৬ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এসব পোস্টের বড় অংশজুড়ে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বা পরিবর্তিত ছবি। হিসাব অনুযায়ী, ওই ছয় ঘণ্টায় গড়ে প্রতি আট মিনিটে একটি করে পোস্ট করেছেন তিনি। অল্প সময়ে এমন ধারাবাহিক পোস্ট এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   রোববার ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে নিয়ে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশের মধ্য দিয়ে দিনের আলোচিত ধারাবাহিক পোস্ট শুরু হয়। এরপর সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, কৌতুকাভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে একের পর এক ব্যঙ্গাত্মক ও কৃত্রিম ছবি প্রকাশ করেন তিনি।   বিকেলের দিকে পোস্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিকেল ৩টা ২২ মিনিটের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ছবি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি কাল্পনিক চলচ্চিত্রের পোস্টার, হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের দৃশ্য এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পকে দেখানো কৃত্রিম ছবি।   পোস্টগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশে ছিল ‘ট্রাম্প ২০২৮’ বার্তা। কোনো ছবিতে ট্রাম্পকে ২০২৮ লেখা টুপি পরা অবস্থায় দেখা যায়, আবার কোনোটি ছিল নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টারের আদলে তৈরি। একটি পোস্টারে প্রতিপক্ষকে দুঃস্বপ্ন দেওয়ার বার্তাও ছিল।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। ট্রাম্প ২০১৬ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তার এসব পোস্টকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হলেও তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সংবিধানে স্পষ্ট বাধা রয়েছে।   সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ইরানকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি কৃত্রিম ছবি। একটি ছবিতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার কাল্পনিক দৃশ্য দেখানো হয়। আরও কয়েকটি ছবিতে ট্রাম্পকে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই ধরনের দৃশ্যের একাধিক সংস্করণও পোস্ট করা হয়।   আরেকটি কৃত্রিম ছবিতে ইরানি জাহাজে বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়। কোথাও ট্রাম্পকে নৌবাহিনীর কমান্ডারের মতো পোশাকে, কোথাও আবার সামরিক শক্তির প্রতীকী উপস্থাপনার মধ্যে দেখা গেছে। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার সময় একজন ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন কাল্পনিক সামরিক দৃশ্য প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।   দিনের পোস্টে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের সমালোচকেরাও ছিলেন। জিমি ফ্যালন, জিমি কিমেল, স্টিফেন কোলবার্ট, রোজি ও’ডোনেল, সাবেক নিউ জার্সি গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বা পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করা হয়। রিপাবলিকান সিনেটর জন থুনকে লক্ষ্য করেও একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প।   কৃত্রিম ছবিগুলোতে ট্রাম্পকে বিভিন্ন কাল্পনিক ভূমিকায়ও তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও চিকিৎসক, কোথাও সামরিক কমান্ডার, আবার কোথাও জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সময় ভ্রমণভিত্তিক কাল্পনিক চলচ্চিত্রের চরিত্র হিসেবে তাকে দেখানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেও একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।   রোববারের এই ধারাবাহিক পোস্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মিডিয়াইট, ডেইলি বিস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবির ধারাবাহিক পোস্ট এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে প্রকাশিত ছবিগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের কেউ কেউ ট্রাম্পের আচরণ ও এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক পোস্ট প্রকাশের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে কারও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্ণয় করা যায় না এবং ট্রাম্প কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, এমন চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ্যে নেই।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ট্রুথ সোশ্যালকে রাজনৈতিক বক্তব্য, নীতিগত ঘোষণা, প্রতিপক্ষের সমালোচনা এবং সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে রোববার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৪৫টি পোস্ট এবং সেগুলোর বড় অংশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি রাজনৈতিক ও সামরিক ছবি ব্যবহারের ঘটনা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরন নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: বামে এওসি, মাঝে পিট বুটিজেজ এবং ডানে কমলা হ্যারিস (সংগৃহীত)
২০২৮ নির্বাচনের আগাম ডেমোক্র্যাটিক জরিপে বড় চমক, শীর্ষে এওসি, কমলা হ্যারিসের সমর্থন ৫ শতাংশ

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখনও দুই বছরের বেশি দূরে। তবে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের নিয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারে পরিচালিত নতুন এক জরিপে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ, যিনি  এওসি নামে পরিচিত, ২২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সমর্থন নেমে এসেছে ৫ শতাংশে।   ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার সার্ভে সেন্টার এর গ্রানাইট স্টেট পোল এর সর্বশেষ ফলাফল ২২ জুলাই প্রকাশ করা হয়। এতে সম্ভাব্য ২০২৮ নিউ হ্যাম্পশায়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রাইমারিতে এওসির ঠিক পেছনে রয়েছেন সাবেক পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজেজ। তিনি পেয়েছেন ২১ শতাংশ সমর্থন। ফলে শীর্ষ দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র এক শতাংশ পয়েন্ট।   এরপর বেশ বড় ব্যবধান রয়েছে। অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলি ৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে তৃতীয় এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ৮ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। ভারমন্টের সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স পেয়েছেন ৬ শতাংশ সমর্থন। কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এই জরিপে হ্যারিসের চেয়ে স্যান্ডার্সও এগিয়ে রয়েছেন।   জরিপে এওসির অবস্থান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ কয়েক মাসের ব্যবধানে তার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের ফেব্রুয়ারির জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের মধ্যে পিট বুটিজেজ এগিয়ে ছিলেন। তখন এওসির সমর্থন ছিল ১৫ শতাংশ। সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে।   একই সময়ে কমলা হ্যারিসের সমর্থন কমেছে। ফেব্রুয়ারির জরিপে তিনি ১১ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জুলাইয়ে তা কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। এই পরিবর্তন নিউ হ্যাম্পশায়ারের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি ভোটারদের পছন্দে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ইউএনএইচ সার্ভে সেন্টার এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এওসি বিশেষভাবে নিজেদের সোশ্যালিস্ট ও প্রগ্রেসিভ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটারদের কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন পাচ্ছেন। অন্যদিকে বুটিজেজের সমর্থন প্রগ্রেসিভ, লিবারেল ও মডারেট ভোটারদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত। তবে জরিপটির ফলাফলকে জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত কোনো জাতীয় জরিপ নয়। জরিপটি নিউ হ্যাম্পশায়ারের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রাইমারি ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি।   তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনীতিতে নিউ হ্যাম্পশায়ারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে এই রাজ্যের ভোট দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় মনোযোগ পেয়ে আসছে। ফলে নির্বাচন থেকে অনেক দূরে পরিচালিত হলেও এখানকার জরিপগুলো সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক রাজনৈতিক শক্তি ও ভোটারদের আগ্রহ বোঝার একটি সূচক হিসেবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।   এওসি এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। একইভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি। তাই বর্তমান জরিপকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক অবস্থানের একটি চিত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনও অনেক দূরে। এর মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের পছন্দে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের সর্বশেষ জরিপে আপাতত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চিত্র হলো এওসির উত্থান এবং কমলা হ্যারিসের সমর্থন ৫ শতাংশে নেমে আসা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন অর্ধেকেরও বেশি আমেরিকান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না অধিকাংশ আমেরিকানরা, নতুন জরিপে স্পষ্ট বার্তা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই যুদ্ধবিরোধী অবস্থান জোরালো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি আমেরিকান এখনই যুদ্ধ বন্ধ করে বাকি লক্ষ্যগুলো সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক উপায়ে অর্জনের পক্ষে মত দিয়েছেন।   ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ পোল’-এ অংশ নেওয়া অধিকাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে অবিলম্বে তা শেষ করা উচিত। জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ১৯ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৫২ শতাংশের মত, ইরানে চলমান যুদ্ধ এখনই বন্ধ করে যেসব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি, সেগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা উচিত।    জরিপ অনুযায়ী, এ অবস্থানের পক্ষে সবচেয়ে বেশি সমর্থন এসেছে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের কাছ থেকে। তাদের ৭৬ শতাংশ যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। স্বতন্ত্র (ইন্ডিপেনডেন্ট) ভোটারদের মধ্যে এ হার ৬৫ শতাংশ, আর রিপাবলিকানদের মধ্যে ২৩ শতাংশ।     এছাড়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষেও জনসমর্থন সীমিত। জরিপে মাত্র পাঁচজনের একজন বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সামরিক অভিযান সমর্থনযোগ্য। একই সঙ্গে অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি ফেলেছে। মাত্র ১৫ শতাংশ বিশ্বাস করেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে।   জরিপটি ১৭ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিচালনা করা হয়। এতে ইপসোসের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ১৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত নেওয়া হয়। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির হার ছিল প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।    এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে ওয়াশিংটনে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে। যদিও এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ এখনও অনিশ্চিত, তবুও এটি যুদ্ধ নিয়ে জনমতের পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক অস্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।    সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি জাতীয় জরিপেও একই ধরনের প্রবণতা উঠে এসেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমছে, আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনা নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেক ভোটার আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, জ্বালানির দাম এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ওহাইওর একটি দোকানে সাজিয়ে রাখা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান সংবলিত আতশবাজি | ছবি: এপি
আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও রাজনৈতিক বিভেদ, এক হতে পারছে না ব্র্যান্ড ও এনজিওগুলো

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে (সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল) কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বড় ধরনের সেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং দেশাত্মবোধক ক্যাম্পেইন শুরুর পরিকল্পনা করা হলেও, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও অলাভজনক সংস্থাগুলো (এনজিও) যখন দেশবাসীকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করছে, তখন সাধারণ মানুষের মাঝে দেশপ্রেম এবং জাতীয় প্রতীক নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র মতভেদ।   পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী কমিশনের কারণে। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে গঠিত ‘আমেরিকা ২৫০’ (America250) নামের অফিশিয়াল অরাজনৈতিক গ্রুপের পাশাপাশি, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের শেষের দিকে ‘ফ্রিডম ২৫০’ (Freedom 250) নামে আরেকটি বিকল্প অলাভজনক সংস্থা গঠন করেন। দুটি আলাদা লোগো ও ভিন্ন ধারার প্রচারণার কারণে সাধারণ মানুষ এবং বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ঘরানার এই আয়োজন থেকে ইতিমধ্যে অনেক সঙ্গীতশিল্পী নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।   এরই মধ্যে অরাজনৈতিক উদ্যোগে ‘আমেরিকা গিভস’ কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষকে স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে বড় বড় অনেক এনজিও এতে অংশ নিতে দ্বিধাবোধ করছে, কারণ অনেকেই এটিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বলে ভুল করছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় সেবামূলক ফেডারেল সংস্থা ‘আমেরিকর্পস’-এর বাজেট ও কাঠামো সংকুচিত করায় এনজিওগুলো কর্মী ও অর্থায়নের সংকটে পড়েছে। ফলে তরুণ সমাজকে দেশব্যাপী বড় কোনো কার্যক্রমে যুক্ত করার চেয়ে স্থানীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।   এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যেও ওয়ালমার্ট এবং কোকা-কোলার মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো সাবধানে তাদের প্রচারণামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়ালমার্ট দেশজুড়ে মানুষের মুখে ইতিহাসের গল্প সংগ্রহের জন্য মোবাইল রেকর্ডিং স্টুডিও চালু করেছে, যা লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে কোকা-কোলা স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে দেয়ালচিত্র বা ম্যুরাল তৈরির পাশাপাশি ৫০টি অঙ্গরাজ্যের জন্য বিশেষ মিনি ক্যান বাজারজাত করছে।   ইতিহাসবিদদের মতে, ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালে আমেরিকার ২০০তম বার্ষিকীর সময়েও ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের কারণে একই রকম রাজনৈতিক বিভেদ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার চেয়ে স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পরিবেশ রক্ষা ও ভোটদানের মতো সামাজিক আন্দোলনগুলোই সেই উৎসবকে সফল করেছিল। ২৫০তম এই বার্ষিকীতেও শেষ পর্যন্ত রাজনীতির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্থানীয় উদ্যোগগুলোই বড় অবদান রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ডেমোক্রেটিক প্রার্থী মাহবুব খান (সংগ্রহীত)
মিশিগানের ৬১ নম্বর হাউস রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খানের প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা অগ্রাধিকার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ৬১ নম্বর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খান নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেনিস মেন্টজারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় মাহবুব খান বলেছেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য, শুধু কয়েকজনের জন্য নয়’—এই বার্তাকে সামনে রেখে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জননিরাপত্তা জোরদার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় সহায়তা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষাকেও তিনি তাঁর নির্বাচনী এজেন্ডায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর নীতিনির্ধারণই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।   মাহবুব খান ঢাকা নবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল ওয়ারেশ খানের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ঢাকা ডিভিশন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সাবেক সহ-সভাপতি, ASAAL মিশিগান চ্যাপ্টারের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, AMPAC-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মিশিগানের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   মিশিগানের ৬১তম হাউস ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে মাহবুব খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেনিস মেন্টজার, যিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন। প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর মুখোমুখি হবেন।   মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির একটি অংশের মতে, মাহবুব খানের প্রার্থিতা কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে তাঁর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরায় ডিস্ট্রিক্টের ভোটারদের দৈনন্দিন জীবন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে আলোকসজ্জা উদ্বোধনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী | ছবি: গেটি ইমেজেস
ভবিষ্যতের করদাতাদের ঋণী বানিয়ে নিউইয়র্কে রেকর্ড বাজেট পাস করলেন মেয়র মামদানী

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন যৌথভাবে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন। বাজেট ঘোষণার পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মেয়র মামদানী দাবি করেন, পুঁজিবাদীদের চেয়ে সমাজতন্ত্রীরা অর্থনীতি ভালো বোঝেন এবং পূর্বসূরিদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা তাঁরা সহজেই সমাধান করতে পারেন।   তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আইনি নীতি বিষয়ক গবেষক জন কেচাম মেয়রের এই দাবিকে নিছক সস্তা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সিটির এই নতুন বাজেটটি মোটেও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই। আপাতদৃষ্টিতে বাজেটটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও এটি মূলত কিছু সাময়িক কৌশল ও আর্থিক কারচুপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে সিটির জন্য বড় সংকট ডেকে আনবে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র মামদানী তাঁর সম্ভাব্য দুই মেয়াদের পেনশনের কিস্তি বাবদ প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়া থেকে বাঁচতে বর্তমানের বিলটি ভবিষ্যতের করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানের কিস্তি ফাঁকি দেওয়ার এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সিটিকে অতিরিক্ত প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সুদ গুনতে হবে। বর্তমানের দায় এড়াতে গিয়ে সিটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।   সিটির এই চূড়ান্ত বাজেটে গত বছরের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১১৬ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের প্রস্তাবিত খসড়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এজেন্সির কর্মসূচিতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিটির অভ্যন্তরীণ অর্থ প্রবাহ বা নগদ তহবিলের অবস্থা ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়েছে, যেখানে ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি খুবই নগণ্য।   বর্তমান বাজেটে সংকট এড়ানো গেলেও আগামী জানুয়ারি মাসেই মেয়রকে আবারও বড় ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে হবে। মেয়রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা সিটির হিসাব নিয়ন্ত্রকের মতে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগামী বছর সিটির সরকারি কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেতন বাড়ানোর জন্য ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের চাপ আসবে, যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তহবিল সিটির হাতে নেই।   তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক এবং পুলিশ-বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে মেয়র মামদানী সিটির পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ৫৮০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, যা নিয়ে স্পিকারের সাথে তাঁর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। একই সাথে হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে খরচ বাড়ানোর ফলে সিটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রকম সমাজতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থনীতির এই কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব নয়।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: টাইম
আমেরিকা ফিরে এসেছে, কিছুদিন আগেও আমরা মৃত দেশ ছিলাম: ট্রাম্প

যুদ্ধবিমানের গর্জন, সামরিক ব্যান্ডের সুর আর হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাসে বুধবার রাতে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’-এর উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রায় ৩০ মিনিটের ভাষণে তিনি রাজনৈতিক সাফল্য, দেশপ্রেম এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে তুলে ধরেন।   ওয়াশিংটন মনুমেন্টের সামনে বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতে স্বাধীনতার ২৫০তম বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি— আমেরিকা ফিরে এসেছে। কিছুদিন আগেও আমরা একটি মৃত দেশ ছিলাম। এখন আমরা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ। আমাদের নিয়ে আর কেউ হাসে না।”   পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর প্রশাসনের প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখন এক স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছি। এর আগে এমন সময় কখনও আসেনি।”   ভাষণে ইরান প্রসঙ্গও উঠে আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি “ঐতিহাসিক চুক্তি” হয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে এবং ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   দেশীয় সামাজিক নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন শিশুদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার-সম্পর্কিত চিকিৎসা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং সরকারি নীতিতে পুরুষ ও নারী—এই দুই লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিয়েছে।   ১৬ দিনব্যাপী ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’-এ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ছয়টি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করার কথা রয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্য এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।   অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়ে। আয়োজকদের তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন শিল্পী শেষ মুহূর্তে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানটিকে অরাজনৈতিক হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে তা রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পরিবহনমন্ত্রী সিন শাফি ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ট্রাম্পকে জর্জ ওয়াশিংটনের পর মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট বলে উল্লেখ করেন। এদিকে নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। জরিপে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও উঠে এসেছে।   জাতীয় উৎসবকে রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা সমালোচনা করলেও ট্রাম্প সমর্থকদের কাছে অনুষ্ঠানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্জাগরণ উদযাপনের একটি প্রতীকী মুহূর্ত।   রাতের আকাশে স্টেলথ বোমারু বিমানের উড়ান এবং দেশাত্মবোধক সংগীতের আবহে ভাষণের শেষদিকে ট্রাম্প বলেন, “সেরাটা এখনো আসেনি।”

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের মিশ্র চিত্র জর্জিয়া নির্বাচনে, রিপাবলিকান রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জয় করলেও একই সময়ে রাজ্যের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্প সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্স ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আগামী নভেম্বরে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্প ও কেম্প উভয়ের সমর্থন থাকা প্রার্থী জনসন পরাজিত হয়েছেন স্ব-অর্থায়িত ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনের কাছে।   জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ মূলত ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেম্প সমর্থন দিয়েছিলেন সাবেক ফুটবল কোচ ডেরেক ডুলিকে, যিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি অবস্থান থেকে প্রচারণা চালান।   অন্যদিকে, ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মাইক কলিন্সকে সমর্থন দেন। কলিন্স নিজেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা MAGA আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প এক ফোনালাপে বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ায় তার পরাজয় নিয়ে কেম্পের অবস্থান নিয়ে তিনি এখনো অসন্তুষ্ট, যা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ আগামী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রচার তহবিলে বর্তমানে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী কলিন্সের তুলনায় অনেক বেশি।   অসফকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচনের ফলাফলই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   গভর্নর নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন স্ব-অর্থায়নে ৯১ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রচারণা ব্যয় করে রিপাবলিকান মনোনয়ন জয় করেন। তিনি ট্রাম্প ও কেম্প সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন।   জ্যাকসন নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একজন ‘আউটসাইডার’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং প্রচারণায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি এখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক আটলান্টা মেয়র কেশা ল্যান্স বটমসের মুখোমুখি হবেন।   চলতি বছরে ট্রাম্প সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর পরাজয়ের প্রবণতা সামনে এসেছে। এর আগে আইওয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় হেরে যান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশে প্রভাব ফেললেও সব ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত জয় এনে দিচ্ছে না।   জর্জিয়ার এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার মতো সুইং স্টেটগুলোতে ভোটার বিভাজন এবং দলীয় প্রভাব ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ বর্জন করছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ বা বৃহৎ মার্কিন মেলা বয়কট করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে নির্মাণাধীন এই বিশাল মেলাপ্রাঙ্গণে প্রতিটি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের নিজস্ব প্যাভিলিয়ন থাকার কথা থাকলেও ওরেগন, ওয়াশিংটন এবং নর্থ ক্যারোলাইনা এই উৎসবে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দেশপ্রেমমূলক বিশ্ব মেলার আয়োজন নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মূলত অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের কথা উল্লেখ করলেও ওরেগনের ডেমোক্রেটিক গভর্নর টিনা কোটেকের একজন মুখপাত্র এই অনুষ্ঠানের তীব্র দলীয় রাজনৈতিক বা পক্ষপাতমূলক চরিত্রের দিকে সরাসরি ইঙ্গিত করেছেন। ওরেগনের মুখপাত্র লিউক হারকিন এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অংশ নেওয়ার অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি এই মেলাটি মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রচারণার মঞ্চে পরিণত হতে যাচ্ছে। এমন গভীর উদ্বেগ থেকেই ওরেগন রাজ্য এই আয়োজন থেকে নিজেদের পুরোপুরি সরিয়ে নিয়েছে। ওরেগনের কর্মকর্তারা মেলার আনুমানিক পরিবহন খরচ হিসেবে ৭০ হাজার ডলারের কথা উল্লেখ করেছেন, যা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।   তবে মেলার প্রধান আয়োজক ও ট্রাম্পপন্থী অলাভজনক সংস্থা ‘ফ্রিডম ২৫০’ দাবি করেছে যে, কোনো কোনো অঙ্গরাজ্য সরাসরি গভর্নরদের মাধ্যমে অংশ না নিলেও স্থানীয় পর্যটন বোর্ড বা বিখ্যাত কোনো বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে মেলায় সবকটি রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। আগামী ২৫ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত চলতে যাওয়া এই মেলায় বিশাল সাদা রঙের প্যাভিলিয়ন, একটি বিশাল ১১০ ফুটের ফেরিস হুইল এবং ট্রাম্পের পূর্বপ্রস্তাবিত ২৫০ ফুট উচ্চতার ‘বিজয় তোরণ’ বা ট্রিয়ামফাল আর্চের একটি ছোট প্রতিরূপ তৈরি করা হচ্ছে। মেলার প্রদর্শনী হিসেবে ইতিমধ্যে সাউথ ক্যারোলাইনা মিনি-গলফ কোর্স, টেক্সাস ঐতিহাসিক আলা মো দুর্গের প্রতিরূপ এবং মন্টানা ফসিল খনন কেন্দ্রের নকশা জমা দিয়েছে।   এই মেলার মূল পৃষ্ঠপোষক সংস্থা ‘ফ্রিডম ২৫০’ মূলত ন্যাশনাল পার্ক ফাউন্ডেশনের একটি অলাভজনক সহযোগী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর আর্থিক স্বচ্ছতা ও দাতা সংস্থাগুলোর পরিচয় জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এই গোপনীয়তা নিয়ে ওয়াচডগ বা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো তীব্র সমালোচনা করছে এবং ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের এই ধরনের পদক্ষেপকে জনগণের করের টাকার চরম অপচয় বলে অভিহিত করেছেন। একই সাথে হোয়াইট হাউসে এই উৎসবের অংশ হিসেবে আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ বা ইউএফসি লড়াইয়ের আয়োজন নিয়ে তীব্র আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার বিরুদ্ধে ভার্জিনিয়ার দুজন বাসিন্দা ইতিমধ্যে একটি ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতের যেকোনো জাতীয় স্বাধীনতা দিবস বা শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এই জাতীয় উৎসবকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে মেলাটির উদ্বোধনী কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা থাকা বেশ কয়েকজন নামী সংগীতশিল্পী এই রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন যে, তিনি মেলাপ্রাঙ্গণে কোনো গায়কের গান চান না, বরং তিনি একে একটি বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ দেবেন। অন্য দিকে ‘পাবলিক এমপ্লয়িজ ফর এনভায়রনমেন্টাল রেসপন্স’ নামের একটি সংস্থা মেলার নথিপত্র ফাঁসের দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যার জবাব আগামী ২৬ জুনের মধ্যে দেওয়ার জন্য ফেডারেল আদালত প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তাবাস্সুম জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সহযোগীদের অর্থায়নে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ ফাঁস

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি গোপন তহবিল থেকে লাখ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন কিছু ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার পর জানা গেছে, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার ও বড় অঙ্কের অর্থায়ন করেছে।   ফাঁস হওয়া সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেলাওয়্যারে নিবন্ধিত এই শক্তিশালী তহবিলটির পরিচালক হিসেবে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আইনজীবী ক্লেটা মিচেল এবং গবেষক হিদার হানি সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ক্লেটা মিচেল ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন উল্টে দেওয়ার ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রচেষ্টায় সরাসরি আইনি সহযোগিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, হিদার হানি বর্তমানে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে (ডিএইচএস) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। অতীতে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প যে সমস্ত জালিয়াতির মনগড়া অভিযোগ করেছিলেন, তার পেছনে হানির তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ গবেষণাই মূল উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল।   অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে ‘আমেরিকান প্রিন্সিপলস প্রজেক্ট ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থাকে এই তহবিল থেকে ৩ লাখ ডলার দেওয়া হয়। ওই সংস্থাটি পেনসিলভেনিয়া ও নেভাদাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছিল যে, স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন বা চূড়ান্ত করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর; মার্কিন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন করা কর্মকর্তাদের জন্য আইনি বাধ্যতাবাধকতা। ট্রাম্প হেরে গেলে নির্বাচনের ফলাফলকে বিতর্কিত করার এবং ভোট গণনা আটকে দেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই মূলত এই ভয় ও সংশয় ছড়ানো হয়েছিল।   এছাড়া, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারদের অধিকার সংকুচিত করার একটি বিলের পক্ষে জনমত গড়তে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ব্যয় করে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় অভিবাসী বিরোধী বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ট্রাম্পের আরেক কট্টর সহযোগী মাইক ডেভিসের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার দেওয়া হয়। এই তহবিলের পেছনে মূল অর্থদাতা হিসেবে কাজ করেছে ‘কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউট’ (সিপিআই), যা ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের অনুগতদের অন্যতম প্রধান নীতি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে সিপিআই এই ফান্ডে ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দেয়।   আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন যখন দেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার সততা নিয়ে আবারও অন্যায্য প্রশ্ন তুলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প শিবিরের এই কোটি কোটি ডলারের গোপন প্রচারণার তথ্য সামনে এল। ওয়াচডগ বা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন এবার বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধা মতো নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র, জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের ভাড়া কমাতে নতুন আবাসন পরিকল্পনা, ১০ বছরে ২ লাখ ঘর গড়ার পরিকল্পনা

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সবচেয়ে কম আয়ের ভাড়াটেদের জন্য ভাড়ার বোঝা কমাতে একটি নতুন আবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার এই পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এতে "অত্যন্ত স্বল্প আয়ের" বাসিন্দারা, অর্থাৎ চার সদস্যের পরিবারে বার্ষিক আয় ৫০,৮৮০ ডলার বা তার কম, নগর-ভর্তুকির অ্যাপার্টমেন্টে আয়ের ৩০ শতাংশের বদলে কেবল ২৫ শতাংশ ভাড়া দেবেন।   নগর গৃহায়ন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের (এইচপিডি) কমিশনার দিনা লেভি বলেছেন, "আমরা ভাবছি 'কার জন্য সাশ্রয়ী' এই প্রশ্নটা নিয়ে।" তিনি জানান, নতুন ভাড়ার হার কার্যকর হবে জুন ২০২৬ বা তার পরে অর্থায়ন চূড়ান্ত হওয়া এইচপিডি-অর্থায়িত নতুন প্রকল্পগুলোতে। ভাউচার ব্যবহারকারী পরিবারগুলো এর আওতায় পড়বেন না।   "যখন শ্রমজীবী মানুষদের এই শহর থেকে ঠেলে বের করা হচ্ছে, তখন অর্ধেক পদক্ষেপ বা দেরি করার সুযোগ নেই। এই পরিকল্পনা আবাসন সংকটের জরুরিতাকে সেভাবেই মোকাবিলা করছে যেভাবে দরকার।" জোহরান মামদানি, মেয়র, নিউ ইয়র্ক সিটি   দশ বছরে ২ লাখ ঘর মামদানি প্রশাসন আগামী দশ বছরে দুই লাখ সাশ্রয়ী ঘর নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী দুই বছরে প্রতি বছর আট হাজার নতুন সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে, যা আগের দুই বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বছরে প্রায় দুই হাজার ৪০০টি অ্যাপার্টমেন্ট হবে এলাকার মধ্যমান আয়ের ৩০ শতাংশ বা তার কম উপার্জনকারীদের জন্য এবং এক হাজার ৬০০টি হবে মধ্যমান আয়ের ৩১ থেকে ৫০ শতাংশ উপার্জনকারী পরিবারের জন্য।   কমিশনার লেভি জানিয়েছেন, বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ, গৃহমালিকানার সুযোগ তৈরি এবং মূলধনি তহবিল ছাড়াই কর সুবিধার মাধ্যমে নির্মাণ ত্বরান্বিত করে দুই লাখ ঘরের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।   এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসন বছরে এক হাজার নতুন প্রবীণ আবাসন তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। নতুন কৌশলে শুধু বয়স্কদের জন্য আলাদা প্রকল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য মিশ্র প্রজন্মভিত্তিক আবাসন নির্মাণও করা হবে।   "ফেডারেল সরকার সাশ্রয়ী আবাসনে তাদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। সেকশন ৮-এ সম্প্রসারণ হচ্ছে না, বরং কোথাও কোথাও কমছে। তাই মিশ্র প্রজন্মের প্রকল্পগুলো সেকশন ৮ না বাড়িয়েই বেশি প্রবীণ আবাসন তৈরির পথ দেখাচ্ছে।" দিনা লেভি, কমিশনার, এইচপিডি   পরিকল্পনায় আবাসনের বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান সাশ্রয়ী অ্যাপার্টমেন্ট রক্ষা করা, নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ, ভবন বিধি প্রয়োগ এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উৎসাহিত করতে ভূমি ব্যবহারে পরিবর্তন আনা। প্রথম পর্যায়ের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপ ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে বলে কমিশনার জানিয়েছেন।

Unknown মে ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মুখোমুখি হচ্ছেন মামদানি–ওবামা, শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার একটি শিশুশিক্ষা কর্মসূচিতে তাঁদের এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। খবর সিএনএনের।   মেয়রের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির একটি প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে শিশু ও অভিভাবকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন মামদানি। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকবেন ওবামাও।   এর আগে গত নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ফোনে কথা হয়েছিল দুই নেতার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেই আলোচনায় ওবামা মামদানিকে সতর্ক করে বলেন—একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে তিনি কীভাবে দেশের বৃহত্তম শহর পরিচালনা করেন, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে অনেকেই। একই সঙ্গে প্রশাসনে দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।   ওই কথোপকথনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রশাসন পরিচালনার বাস্তবতার পার্থক্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পান মামদানি। এদিকে, মেয়র হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দুবার সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন মামদানি।   তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত ‘পাইড-আ-তের’ কর নীতির সমালোচনা করে দাবি করেন, এই নীতির মাধ্যমে নিউইয়র্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই কর নীতির আওতায় শহরে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।   ট্রাম্পের সমালোচনার বিষয়ে মামদানি বলেন, তিনি এ ধরনের অবস্থানে বিস্মিত নন এবং নীতিগত পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক।

Unknown এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির ইলিভেন্থ ডিস্ট্রিক্ট কংগ্রেসনাল আসনে জয়ী অ্যানালিলিয়া মেহিয়া | ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে রিপাবলিকানদের হারিয়ে জয়ী ডেমোক্র্যাট অ্যানালিলিয়া মেহিয়া; ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা

নিউ জার্সির ইলিভেন্থ ডিস্ট্রিক্ট কংগ্রেসনাল আসনের উপনির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন উদারপন্থী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যানালিলিয়া মেহিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়েকে পরাজিত করে তিনি এই জয় ছিনিয়ে নেন। নিউ জার্সির বর্তমান গভর্নর মিকি শেরিল নিয়ম অনুযায়ী কংগ্রেস সদস্যের পদ ত্যাগ করার পর এই আসনটি শূন্য হয়েছিল।   ভোট শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস মেহিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই মেহিয়া এই নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর একটি ‘পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করে আসছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি রিপাবলিকানদের নীতির সমালোচনা করে স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানি খাতে সাধারণ মানুষের কর সুবিধা কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।   মেহিয়ার এই লড়াইয়ে তাঁর পাশে ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক ও স্বতন্ত্র সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সফলতাকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিউ জার্সির ইলিভেন্থ ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত হলো।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সহকর্মীকে নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোটোমায়ার

অভিবাসন নীতি নিয়ে সহকর্মী বিচারপতিকে উদ্দেশ করে করা মন্তব্যে বিতর্কের মুখে পড়ার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়ার। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি সহকর্মী বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানোর একটি রায় নিয়ে সমালোচনা করেন। পরে নিজের মন্তব্যকে ‘অনুপযুক্ত’ স্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সহকর্মীর কাছে ক্ষমা চান।   গত সপ্তাহে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে দেওয়া বক্তব্যে সোটোমায়ার বলেন, ক্যাভানো হয়তো ঘণ্টাভিত্তিক কাজ করা মানুষের বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝেন না। তার এই মন্তব্য ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে বিতর্ক শুরু হয়।   এই মন্তব্যটি আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রেক্ষাপটে, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপ চালুর অনুমতি দেয়। সমালোচকদের মতে, ওই নীতিতে ‘জাতিগত বৈশিষ্ট্য’ বিবেচনায় নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মামলায় ক্যাভানো তার পৃথক মতামতে উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তিকে আটকের ক্ষেত্রে ‘দৃষ্টিগোচর জাতিগত পরিচয়’ একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হতে পারে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের আইন প্রয়োগ অবশ্যই সাময়িক ও যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।   অন্যদিকে সোটোমায়ার এ রায়ের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার সঙ্গে একমত হন বিচারপতি এলিনা কাগান ও কেটাঞ্জি ব্রাউন জ্যাকসন। ভিন্নমতে সোটোমায়ার সতর্ক করেন, এই ধরনের নীতি প্রয়োগে শুধুমাত্র চেহারা, ভাষা বা পেশার ভিত্তিতে মানুষকে আটক করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সাংবিধানিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি।   তার এই ব্যক্তিগত মন্তব্য আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। পরে ক্যাভানোর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠলে বুধবার এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন সোটোমায়ার।   তিনি বলেন, ‘আমি সহকর্মীর সঙ্গে মতবিরোধের প্রসঙ্গ তুলে এমন মন্তব্য করেছি, যা অনুপযুক্ত ছিল। আমি আমার কষ্টদায়ক মন্তব্যের জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ এর আগে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিচারকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রাখার গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে ভোট গ্রহণ, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার খরচ প্রধান ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে শূন্য পদে প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে আইউইটনেস নিউজ।   এই আসনটি শূন্য হয় মিকি শেরিল গভর্নর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর কংগ্রেসের আসন ত্যাগ করলে। ফলে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রগ্রেসিভ নেতা অ্যানালিলিয়া মেজিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অ্যালান বন্ড।   নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জ্বালানি খরচ প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য কর স্থগিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, নিউ জার্সিতে বাড়ির মালিক হওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।   অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যানালিলিয়া মেজিয়া অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকান নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানি খাতে কর সুবিধা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে।   জাতীয় রাজনীতির প্রভাবও এই নির্বাচনে স্পষ্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থান ভিন্ন। হ্যাথাওয়ে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজের দল ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করবেন, যদি তা তার এলাকার জন্য উপকারী হয়। অপরদিকে মেজিয়া অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের নীতির সমর্থক।   নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যক্তিগত আক্রমণও দেখা গেছে। ইসরায়েল ও ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে একে অপরের অবস্থানকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করেছেন দুই প্রার্থী। ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। অনেক ভোটারই বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Unknown এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগনে হেগসেথ ও ড্রিসকলের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্রতর

 পিট হেগসেথ ও ড্যান ড্রিসকল-এর মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে পেন্টাগনে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের পর এই বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য ড্রিসকলকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছু কর্মকর্তার দাবি, হেগসেথ আশঙ্কা করছেন ড্রিসকল তার অবস্থানকে ছাপিয়ে যেতে পারেন। তবে পেন্টাগন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হেগসেথ সব বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছেন। তবুও অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, হেগসেথের দল মনে করে ড্রিসকল পেন্টাগনের ভেতরে তার এবং প্রেসিডেন্টের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। সম্প্রতি হেগসেথ একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন, যাদের মধ্যে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এতে প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি। অন্যদিকে, ড্রিসকল দুই দলের মধ্যেই ইতিবাচক মূল্যায়ন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে এবং তাকে সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় নেতার ওপরই আস্থা রাখছেন এবং তাদের নেতৃত্বে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। বর্তমানে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ এই ক্ষমতার লড়াই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যদিও উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০