মার্কিন রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগনে হেগসেথ ও ড্রিসকলের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্রতর

 পিট হেগসেথ ও ড্যান ড্রিসকল-এর মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে পেন্টাগনে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের পর এই বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য ড্রিসকলকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছু কর্মকর্তার দাবি, হেগসেথ আশঙ্কা করছেন ড্রিসকল তার অবস্থানকে ছাপিয়ে যেতে পারেন। তবে পেন্টাগন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, হেগসেথ সব বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছেন। তবুও অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, হেগসেথের দল মনে করে ড্রিসকল পেন্টাগনের ভেতরে তার এবং প্রেসিডেন্টের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। সম্প্রতি হেগসেথ একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন, যাদের মধ্যে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এতে প্রতিরক্ষা মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি। অন্যদিকে, ড্রিসকল দুই দলের মধ্যেই ইতিবাচক মূল্যায়ন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে এবং তাকে সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় নেতার ওপরই আস্থা রাখছেন এবং তাদের নেতৃত্বে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। বর্তমানে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ এই ক্ষমতার লড়াই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যদিও উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ কমলা হ্যারিসের, যুদ্ধ ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের নীতিকে কেন্দ্র করে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন।   কমলা হ্যারিস অভিযোগ করেন, ট্রাম্প এমন এক অবস্থান নিয়েছেন যা একটি “সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস” এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই সংঘাত ট্রাম্প নিজেই শুরু করেছেন, কিন্তু তা শেষ করার জন্য কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা কৌশল তার নেই।   তিনি আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কাই তৈরি করে না, বরং মার্কিন জনগণও এর পক্ষে নয়। হ্যারিসের ভাষায়, “এটি ভয়াবহ এবং অগ্রহণযোগ্য।”   হ্যারিস ট্রাম্পের নীতিকে “বেপরোয়া” আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, দেশের বৈশ্বিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।   সবশেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ধরনের “অবৈধ যুদ্ধ” বন্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরোধিতা করতে হবে এবং এর অর্থায়নের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে। এই বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প চাইলেই ন্যাটো ছাড়তে পারবেন না: মার্কিন আইন মনে করিয়ে দিলেন ন্যান্সি পেলোসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই ন্যাটো সামরিক জোট থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রভাবশালী স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেলোসি ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘অদূরদর্শী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একে রাশিয়ার জন্য একটি বড় উপহার বলে বর্ণনা করেছেন। পেলোসি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ন্যাটো জোটটি প্রায় সাতাত্তর বছর আগে শান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে এই জোট ত্যাগ করতে পারেন না কারণ এর জন্য কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন। ২০৩ সালে পাস হওয়া একটি বিশেষ আইনের বরাত দিয়ে সাবেক এই স্পিকার বলেন যে এই আইনটি অত্যন্ত পরিষ্কার এবং এখানে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতার কোনো সুযোগ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ন্যাটোকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং হরমজ প্রণালী সংকটে জোটের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে সদস্যদের ‘কাপুরুষ’ বলেছেন। ট্রাম্পের মতে ন্যাটো জোট ত্যাগ করার বিষয়টি এখন আর পুনর্বিবেচনার পর্যায়ে নেই এবং তিনি বারবার এই জোট থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তবে ন্যান্সি পেলোসি মনে করেন ট্রাম্পের এমন আচরণ মূলত ভ্লাদিমির পুতিনকে বিশ্বরাজনীতিতে আরও শক্তিশালী করবে যা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি হতে পারে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ন্যাটোর নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করে ট্রাম্প প্রশাসন যখন মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে তখন ন্যান্সি পেলোসির এই মন্তব্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। বর্তমানে হরমজ প্রণালী ও ইরান সংঘাত নিয়ে হোয়াইট হাউস যখন উত্তপ্ত সময় পার করছে তখন ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এই হুমকি মিত্র দেশগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধুদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে যা বেইজিং ও মস্কোর জন্য সুবিধাজনক। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে ন্যাটো তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা চাপাচ্ছে তবে পেলোসির মতো ডেমোক্র্যাট নেতারা এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচন ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের এই জটিল সন্ধিক্ষণে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে ও বাইরে এখন এক বড় ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ট্রাম্পের এই হঠকারী সিদ্ধান্তকে রুখে দিতে পারবে কি না এবং আটলান্টিক পাড়ের এই ঐক্য টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে পুরো বিশ্ব এখন গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছে। সব মিলিয়ে ন্যান্সি পেলোসির এই আইনি হুংকার ট্রাম্পের ন্যাটো ছাড়ার পরিকল্পনাকে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুদ্ধ কি শেষ হচ্ছে? জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের ভাষণে নতুন যে বার্তা আসছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত কি তবে এসেই গেল? ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ঘিরে যখন যুদ্ধের অবসানের গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাওয়া গেল এক ভিন্ন ইঙ্গিত।  মঙ্গলবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ট্রাম্প সম্ভবত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে অন্য কথা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এখনই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছেন না। বরং যুদ্ধের সময়সীমা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই ভাষণের মূল সুর হতে পারে 'সাময়িক কষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্তি'। তিনি আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করবেন, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা জানাবেন। তবে তার যুক্তির কেন্দ্রে থাকছে একটিই লক্ষ্য—একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে রুখে দেওয়া। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানের এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।  সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বেশ কম এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার রেটিংও নিম্নমুখী। এমতাবস্থায়, আমেরিকান জনগণের সমর্থন পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা হিসেবেই তিনি এই ভাষণকে ব্যবহার করতে চাইছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | সংগৃহীত
নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে দেখতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিত হতে চান। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি চাই ইতিহাসে আমার নাম একজন মহান শান্তির দূত হিসেবে লেখা থাকুক।" বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হলেও, তিনি নিজেকে মনেপ্রাণে একজন শান্তিস্থাপক বলে দাবি করেন।   তবে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তির কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানে আঘাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এক সময় শক্তিশালী দেশ থাকলেও বর্তমানে তারা সেই সামর্থ্য হারিয়েছে।   ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ এখনো চলছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকেই শেষ করতে হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধে জয় ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। সরাসরি বিজয় ঘোষণা না করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই লড়াইয়ে আমেরিকা জয়ী হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ‘অবৈধ যুদ্ধের’ জন্য আর এক ডলারও নয়: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভান হোলেন

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস ভান হোলেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের উচিত নয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এ অভিযানের জন্য নতুন অর্থ অনুমোদন করা।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ভান হোলেন লেখেন, “আমাদের নিরাপত্তা কমিয়ে দিচ্ছে এমন একটি অবৈধ ও ইচ্ছামতো শুরু করা যুদ্ধের জন্য আর এক ডলারও নয়।”   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্কুলশিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা, তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্য কমানো এবং করদাতাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় রোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এই যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করা।   মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফেডারেল সরকারের ব্যয় বরাদ্দের ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস-এর হাতে। এর আওতায় পেন্টাগনের সামরিক বাজেটও নির্ধারিত হয়।   তবে বর্তমানে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করা সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এ সংঘাতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই রাজনৈতিক বিরোধিতা বাড়ছে।   সূত্র: আল জাজিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে হামলার লক্ষ্যে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনায় Iran–কে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে Russia—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত United States–এর যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য মস্কো তেহরানে সরবরাহ করছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া। তবে মস্কো ঠিক কী পরিমাণ তথ্য ইরানকে দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও Israel তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার সক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে।   এ বিষয়ে The White House–এর এক মুখপাত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।   এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এবং United Nations–এ রাশিয়ার স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সীমিত করতে প্রস্তাবের বিপক্ষে ৫২ রিপাবলিকান সিনেটর

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ জন রিপাবলিকান সিনেটর। ফলে মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত ওই প্রস্তাবটি পাস হয়নি। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো যাবে না এবং চলমান শত্রুতামূলক কার্যক্রম থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   কিন্তু সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। তাদের যুক্তি, এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও চলমান সামরিক কৌশলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ডেমোক্র্যাট ও কিছু সমালোচকের মতে, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন।   মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্য। ছবি সংগৃহীত
দুই মুসলিম কংগ্রেস সদস্যকে ‘নিজ দেশে ফেরত’ পাঠানোর দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের দুই মুসলিম নারী সদস্য রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমরকে ‘নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।   বুধবার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ চলাকালে ওই দুই আইনপ্রণেতার প্রতিবাদের পর তিনি এ মন্তব্য করেন।   মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ভাষণ চলাকালে ট্রাম্পের বক্তব্যে বাধা দিয়ে প্রতিবাদ জানান তালিব ও ওমর। তাঁরা প্রশাসনের অভিবাসন নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা হাউস চেম্বার ত্যাগ করেন। বেরিয়ে যাওয়ার আগে তাঁরা ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তীব্র মন্তব্য করেন।   পরে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লেখেন, যারা দেশের জন্য ক্ষতিকর আচরণ করে এবং নীতিহীন রাজনীতি করে, তাদের যেখান থেকে এসেছে সেখানে দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া উচিত।   ইলহান ওমরের জন্ম সোমালিয়ায়। তবে তিনি তিন দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। রাশিদা তালিবের জন্ম মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে; তিনি জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিক বা বৈধ নাগরিকত্বপ্রাপ্ত কাউকে তাঁদের পূর্বপুরুষের দেশে পাঠানোর সুযোগ নেই।   ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0