ট্রাম্পের সহযোগীদের অর্থায়নে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ ফাঁস
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি গোপন তহবিল থেকে লাখ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন কিছু ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার পর জানা গেছে, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার ও বড় অঙ্কের অর্থায়ন করেছে।
ফাঁস হওয়া সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেলাওয়্যারে নিবন্ধিত এই শক্তিশালী তহবিলটির পরিচালক হিসেবে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আইনজীবী ক্লেটা মিচেল এবং গবেষক হিদার হানি সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ক্লেটা মিচেল ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন উল্টে দেওয়ার ট্রাম্পের বিতর্কিত প্রচেষ্টায় সরাসরি আইনি সহযোগিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, হিদার হানি বর্তমানে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিতে (ডিএইচএস) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। অতীতে ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প যে সমস্ত জালিয়াতির মনগড়া অভিযোগ করেছিলেন, তার পেছনে হানির তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ গবেষণাই মূল উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে ‘আমেরিকান প্রিন্সিপলস প্রজেক্ট ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংস্থাকে এই তহবিল থেকে ৩ লাখ ডলার দেওয়া হয়। ওই সংস্থাটি পেনসিলভেনিয়া ও নেভাদাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করেছিল যে, স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জন্য ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন বা চূড়ান্ত করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর; মার্কিন আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন করা কর্মকর্তাদের জন্য আইনি বাধ্যতাবাধকতা। ট্রাম্প হেরে গেলে নির্বাচনের ফলাফলকে বিতর্কিত করার এবং ভোট গণনা আটকে দেওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই মূলত এই ভয় ও সংশয় ছড়ানো হয়েছিল।
এছাড়া, ‘ফেয়ার ইলেকশন ফান্ড’ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারদের অধিকার সংকুচিত করার একটি বিলের পক্ষে জনমত গড়তে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের পেছনে ২ লাখ ৮৫ হাজার ডলার ব্যয় করে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় অভিবাসী বিরোধী বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ট্রাম্পের আরেক কট্টর সহযোগী মাইক ডেভিসের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার দেওয়া হয়। এই তহবিলের পেছনে মূল অর্থদাতা হিসেবে কাজ করেছে ‘কনজারভেটিভ পার্টনারশিপ ইনস্টিটিউট’ (সিপিআই), যা ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের অনুগতদের অন্যতম প্রধান নীতি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে সিপিআই এই ফান্ডে ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দেয়।
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন যখন দেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থার সততা নিয়ে আবারও অন্যায্য প্রশ্ন তুলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প শিবিরের এই কোটি কোটি ডলারের গোপন প্রচারণার তথ্য সামনে এল। ওয়াচডগ বা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসন এবার বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করে নিজেদের সুবিধা মতো নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে আগামী ১৪ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ছয় দিনব্যাপী পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে আগ্রহীরা কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সরাসরি সিটি হলে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। স্টার্লিং হাইটস সিটির অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা শহরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্য এলাকার বাসিন্দারাও নিতে পারবেন। পাসপোর্ট আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের পাশাপাশি প্রসেসিং ফি পরিশোধের জন্য দুটি পৃথক চেক অথবা মানি অর্ডার সঙ্গে আনতে হবে। একটি পেমেন্ট দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নামে এবং অন্যটি স্টার্লিং হাইটস সিটির নামে। নগদ টাকা গ্রহণ করা হবে না। ওয়াক-ইন সেবার সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা দেওয়া হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে। আবেদনকারীদের পূরণ করা পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন সঙ্গে আনতে হবে, তবে আবেদনপত্রে আগে থেকে স্বাক্ষর করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং বর্তমান ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নথির তালিকা স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট বুকের জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফি ১৩০ ডলার। এর সঙ্গে সিটি কর্তৃপক্ষের পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফ্যাসিলিটি ফি ৩৫ ডলার এবং পাসপোর্ট ছবির জন্য ২০ ডলার দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপেডাইটেড সার্ভিস ও দ্রুত ডেলিভারির জন্য অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে। পাসপোর্ট ওয়াক-ইন উইক অনুষ্ঠিত হবে স্টার্লিং হাইটস সিটি হলে, ৪০৫৫৫ ইউটিকা রোড, স্টার্লিং হাইটস, মিশিগান। বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্টার্লিং হাইটস সিটির পাসপোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদনকারীদের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি, জেনে নিন
নভেম্বরে ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে, সমর্থকদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
বিয়ের পথে দুর্ঘটনা, হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও গৃহঋণের খরচ বাড়লেও কিছু কলেজ শহরে তরুণ স্নাতক ও নতুন পেশাজীবীদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ২৩১টি আবাসন বাজারের মধ্যে ডেট্রয়েট, জ্যাকসন, পাইন ব্লাফ, ম্যাকম্ব ও পিওরিয়াকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পাঁচ কলেজ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের অর্থনীতিবিদেরা ২০২৫ সালে এসব এলাকার বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেন। যেসব বাজারে ১৫টির কম বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল, সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ থাকা ২৩১টি বাজারকে বাড়ির দামের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়। তালিকায় দক্ষিণাঞ্চলের কলেজ শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ। পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ২০ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ১২ শতাংশ জায়গা দখল করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় জমি ও নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক কম। এসব এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিও ধীর এবং আগে নির্মিত বাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় আয়ের সঙ্গে বাড়ির দামের সামঞ্জস্য তুলনামূলক ভালো। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এই শহরটি তালিকায় থাকা সবচেয়ে বড় আবাসন বাজার। ডেট্রয়েট বিশ্ববিদ্যালয় মার্সি শহরটির শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ডেট্রয়েট। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটের পর ২০১৩ সালে শহরটি দেউলিয়া ঘোষণা করে। এরপর ডাউনটাউন পুনর্গঠন, নতুন বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শহরটির পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিসিসিপির রাজধানী জ্যাকসন। ২০২৫ সালে শহরটির বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি কম। জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি শহরের একমাত্র শীর্ষ পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারি ও ব্যবসায়িক খাতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শহরটির সংস্কৃতি, সংগীত ও শিল্পচর্চাও বাসিন্দাদের আকর্ষণ করে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরকানসাসের পাইন ব্লাফ। আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহরের জনসংখ্যা ৪৫ হাজারেরও কম। ২০২৫ সালে সেখানে বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৮০ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ এবং তুলনামূলক কম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরটির বাড়ির দাম এখনো জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় কম। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ম্যাকম্ব। পিওরিয়া থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছোট এই শহরের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ওয়েস্টার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে ম্যাকম্বে বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজার ১২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, সংগীত, খেলাধুলা এবং ছোট শহরের জীবনযাত্রা এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের পিওরিয়া। ব্র্যাডলি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শহরটিতে তরুণদের উপস্থিতি ও শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশ রয়েছে। ক্যাফে, ছোট দোকান, সংগীতের আয়োজন এবং হাঁটার উপযোগী বিভিন্ন এলাকা শহরটিকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচও এর অন্যতম সুবিধা। ২০২৫ সালে পিওরিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ ডলার। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, পিওরিয়ায় স্থানীয় কলেজ এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের নিয়োগদাতাদের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার আগেই স্থানীয় কমিউনিটি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। পড়াশোনা শেষে একই এলাকায় চাকরি নিয়ে থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আবাসন বাজারে বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রাথমিক বাড়ির সরবরাহ কম। বাড়ির দাম ও গৃহঋণের সুদের খরচ অনেক তরুণের জন্য বাড়ি কেনাকে কঠিন করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামের কলেজ শহরগুলো তরুণ স্নাতক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের পরিবার, সাবেক শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্তদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী কলেজ শহরগুলোর সুবিধা শুধু কম দামের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় চাকরির বাজার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কমিউনিটি সুবিধা একসঙ্গে থাকায় এসব শহর নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বসবাসেরও সুযোগ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
মাকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত, ১২ বছর পর ছাড়া পেল কুখ্যাত ‘জমজদের’ একজন
বিমানে যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ, ডাক্ট টেপে সিটে বেঁধে রাখলেন সহযাত্রীরা
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন শৈশবে মুসলিম ছিলেন না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন মুসলিমদের ২০ শতাংশ ইসলাম গ্রহণের আগে অন্য ধর্মে ছিলেন অথবা কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা যায় না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের হার বিশ্বের ১৩টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি। তাঁদের মধ্যে ১৭ শতাংশ অন্য ধর্মের পরিবারে এবং ৩ শতাংশ কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বেড়ে উঠেছেন। তবে একই সময়ে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পিউর আগের গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা মোটামুটি সমানভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যার সঙ্গে। ফলে ধর্মান্তর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধিতে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব ফেলেছে। ২০১৭ সালের পিউ জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। তখন ২১ শতাংশ মার্কিন মুসলিম জানিয়েছিলেন, তাঁরা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আগে প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন, ২০ শতাংশ ক্যাথলিক এবং ১৯ শতাংশ কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে বরং অভিবাসন ও প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রাখছে। পিউর জনমিতিক বিশ্লেষণে মুসলিমদের তুলনামূলক বেশি জন্মহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসনের ধারাবাহিকতাকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০১১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বছরে আনুমানিক এক লাখ করে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে মুসলিমদের অভিবাসন এবং তুলনামূলক বেশি জন্মহার দুটিই ভূমিকা রেখেছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন বলে যে দাবি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ সেন্টারের পর্যালোচিত গবেষণায় তার সমর্থনে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই এই সংখ্যাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হলেও মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধির প্রধান ব্যাখ্যা হিসেবে শুধু ধর্মান্তরকে দেখলে চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামোও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ৭ শতাংশের পথে মর্টগেজের হার
ট্রাম্পের এআই পোস্টকে ‘ব্রেইন রট’ বললেন সাবেক সহযোগী