ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের মিশ্র চিত্র জর্জিয়া নির্বাচনে, রিপাবলিকান রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জয় করলেও একই সময়ে রাজ্যের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্প সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্স ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আগামী নভেম্বরে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্প ও কেম্প উভয়ের সমর্থন থাকা প্রার্থী জনসন পরাজিত হয়েছেন স্ব-অর্থায়িত ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনের কাছে।
জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ মূলত ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেম্প সমর্থন দিয়েছিলেন সাবেক ফুটবল কোচ ডেরেক ডুলিকে, যিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি অবস্থান থেকে প্রচারণা চালান।
অন্যদিকে, ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মাইক কলিন্সকে সমর্থন দেন। কলিন্স নিজেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা MAGA আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প এক ফোনালাপে বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ায় তার পরাজয় নিয়ে কেম্পের অবস্থান নিয়ে তিনি এখনো অসন্তুষ্ট, যা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ আগামী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রচার তহবিলে বর্তমানে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী কলিন্সের তুলনায় অনেক বেশি।
অসফকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচনের ফলাফলই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গভর্নর নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন স্ব-অর্থায়নে ৯১ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রচারণা ব্যয় করে রিপাবলিকান মনোনয়ন জয় করেন। তিনি ট্রাম্প ও কেম্প সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন।
জ্যাকসন নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একজন ‘আউটসাইডার’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং প্রচারণায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি এখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক আটলান্টা মেয়র কেশা ল্যান্স বটমসের মুখোমুখি হবেন।
চলতি বছরে ট্রাম্প সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর পরাজয়ের প্রবণতা সামনে এসেছে। এর আগে আইওয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় হেরে যান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশে প্রভাব ফেললেও সব ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত জয় এনে দিচ্ছে না।
জর্জিয়ার এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার মতো সুইং স্টেটগুলোতে ভোটার বিভাজন এবং দলীয় প্রভাব ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপ্রথম শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল ছয় বছরের ছোট্ট শিশু এমারসন 'এমি' ব্রিজার্সের। কিন্তু একটি সাধারণ টনসিল অপারেশনের ঠিক আগেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় স্কুল ও কমিউনিটিতে। বার্টো কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, এমির টনসিল সার্জারি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর করা সম্ভব হয়নি। ঠিক কী কারণে অপারেশনের আগেই শিশুটির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। করোনার জোয়েল গায়টন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে এমিকে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে তারা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) ময়নাতদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউহার্লি এলিমেন্টারি স্কুল থেকে কিন্ডারগার্টেন শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল এমি। স্কুল কর্তৃপক্ষের এক আবেগঘন শোকবার্তায় বলা হয়, "এমি ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা, তার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।" অন্যদের প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের কারণে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা মিসেস রোজ ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন 'লিটল মামা'। স্কুলের ওপেন হাউস অনুষ্ঠানের জন্য সে গোলাপের থিমযুক্ত একটি বিশেষ পোশাকও পছন্দ করে রেখেছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের আক্ষেপ, "নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ওর শূন্য আসন এবং না পরা পোশাকটির কথা ভাবাই আমাদের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক।" এমির পরিবারের সহায়তায় খোলা একটি 'গোফান্ডমি' ক্যাম্পেইনের সংগঠক হিদার স্মিথ জানান, মঙ্গলবার শিশুটির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় একটি ফিউনারেল হোম শেষকৃত্যের সব খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। ছোট্ট এমিকে স্মরণ করতে একটি বিশেষ মোটরসাইকেল রাইডের আয়োজন করা হবে, যেখানে তার প্রিয় রঙের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই গোলাপি রঙের পোশাক পরে অংশগ্রহণ করবেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপমাত্রার পারদ ১১০ ডিগ্রিতে, বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরে নামার পর নিখোঁজ, এক সপ্তাহ পর মিলল হাঙরের শিকার ট্রায়াথলেটের মরদেহ
নিউইয়র্কে আবাসন সংকটের সমাধানে পড়ে থাকা সরকারি জমিতে ৫০ হাজার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনাকাটার সময় কোনো পণ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেখা দেখেই অনেক ক্রেতা ধরে নেন সেটি দেশেই উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীরা ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির অসঙ্গতি শনাক্ত করতে পারলেও সেই তথ্য ক্রেতাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে না। এতে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে গবেষকদের আশঙ্কা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলাম্বিয়া ল স্কুলের সেন্টার ফর ল অ্যান্ড দ্য ইকোনমি প্রকাশিত এক গবেষণায় অ্যামাজনের ‘অ্যালেক্সা শপিং সহকারী’ এবং ওয়ালমার্টের ‘স্পার্কি’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ার লিনা খান। গবেষণায় বলা হয়েছে, দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত অসঙ্গতি শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্রেতাদের সতর্ক করার পরিবর্তে প্রায়ই নিরপেক্ষ বা এড়িয়ে যাওয়ার মতো উত্তর দেয়। গবেষকদের দাবি, এর ফলে যেসব ক্রেতা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য কিনতে চান, তারা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিশেষ করে অনলাইনে কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এ ধরনের তথ্য উপস্থাপনের ধরন ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্ন করার ধরন পরিবর্তন করলে একই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিন্ন ধরনের উত্তর দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তালিকা জানতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জানায় যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কিন্তু একই প্রশ্ন অন্যভাবে করলে সেই ব্যবস্থাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তথ্য দেখাতে সক্ষম হয়। গবেষকদের মতে, এটি তথ্যের অভাব নয়; বরং তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতির সমস্যা নির্দেশ করে। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে গবেষণার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রস্তুতকারক বা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা উৎপত্তি-সংক্রান্ত তথ্য দিলে তা পণ্যের তথ্য পাতায় প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছে এসব তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দিতে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সেবার উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেবেল নিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি নতুন নয়। ২০২৫ সালে ফেডারেল ট্রেড কমিশন অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টকে চিঠি দিয়ে তাদের অনলাইন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। কমিশন জানায়, কোনো পণ্যকে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ হিসেবে প্রচার করতে হলে সেটি ‘সম্পূর্ণ বা কার্যত সম্পূর্ণ’ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হতে হবে। অন্যথায় এমন দাবি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়বে, এই প্রযুক্তি কোন তথ্য ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরবে আর কোন তথ্য আড়াল করবে, সেটিও ভোক্তা অধিকার ও বাজারের স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। ফলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য উপস্থাপন নিয়েও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ফ্ল্যাটআয়রন ভবনে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, দাম ৫৮.৫ মিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত আদালত শুনানিতে বাড়ছে অভিবাসীদের বহিষ্কারের আদেশ
টেসলা ও ক্লাউডকিচেনসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এআইভিত্তিক কোম্পানি গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রে একটি এমআরআই স্ক্যানের খরচ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া একটি তুলনায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি এমআরআই করানোর জন্য রোগীকে যে পরিমাণ অর্থ নিজ পকেট থেকে ব্যয় করতে হতে পারে, সেই অর্থের চেয়েও কম খরচে চীনে বিমান ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেলে থাকা এবং এমআরআই করিয়ে ফিরে আসা সম্ভব। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও মার্কিন সাময়িকী ফর্চুন এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয়ের উচ্চ হার এবং স্বাস্থ্যবিমার জটিল কাঠামোর কারণে অনেক রোগীকেই ডিডাক্টিবল ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ হিসেবে উল্লেখযোগ্য অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে একটি সাধারণ ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাও অনেকের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এমআরআইয়ের খরচ হাসপাতাল, অঙ্গভেদে পরীক্ষার ধরন, কনট্রাস্ট ব্যবহারের প্রয়োজন এবং বীমা সুবিধার ওপর নির্ভর করে কয়েকশ ডলার থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একই পরীক্ষার জন্য হাসপাতালভেদে মূল্যেও বড় পার্থক্য দেখা যায়। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এমআরআইয়ের মূল্য স্বচ্ছতার অভাব এবং হাসপাতালভেদে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, চীনের বড় শহরগুলোর সরকারি ও উন্নত হাসপাতালগুলোতে একই ধরনের এমআরআই তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে করা যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-পর্যটন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেখানে একটি এমআরআইয়ের মূল্য সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বিমান ভাড়া, কয়েক রাতের হোটেল এবং অন্যান্য ভ্রমণ ব্যয় যোগ করলেও মোট খরচ অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হাসপাতালের এমআরআই বিলের চেয়ে কম পড়তে পারে। তবে প্রকৃত ব্যয় শহর, হাসপাতাল, পরীক্ষার ধরন এবং ভ্রমণ মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্য বৈষম্য চিকিৎসা পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে। আগে যেখানে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মূলত প্রসাধনমূলক অস্ত্রোপচার বা দাঁতের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন অনেক রোগী ব্যয়বহুল ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের জন্যও বিদেশমুখী হচ্ছেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু খরচ নয়, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, পরবর্তী ফলো-আপ, ভাষাগত যোগাযোগ, চিকিৎসা নথির গ্রহণযোগ্যতা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্যবিমার কাঠামো এবং রোগীদের ব্যক্তিগত ব্যয়ের চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
পকেটে এক ডলারও খরচ নয়, বিনা খরচে নিউইয়র্ক ঘুরে বেড়ানোর নতুন কৌশল
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ সদস্যের পদোন্নতি উদযাপন করল বাপা