মিসিসিপি

বয়সের ৬১ বছরের ব্যবধান, ৮৫ বছরের স্বামীর সন্তানের মা হতে চান ২৪ বছরের তরুণী
বয়সের ৬১ বছরের ব্যবধান, ৮৫ বছরের স্বামীর সন্তানের মা হতে চান ২৪ বছরের তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্টার্কভিলের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী মিরাকল পোগ এবং তার ৮৫ বছর বয়সী স্বামী চার্লস পোগের বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। দুজনের মধ্যে বয়সের ব্যবধান দীর্ঘ ৬১ বছর, যা চার্লসকে মিরাকলের নিজের দাদার চেয়েও প্রায় এক দশকের বড় করে তুলেছে। বয়সের এই বিশাল ব্যবধান ও সামাজিক নানা নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে এই দম্পতি এখন নিজেদের পরিবার শুরু করার জন্য ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ (IVF) পদ্ধতির শরণাপন্ন হয়েছেন। চার্লসের কোনো সন্তান না থাকায় তিনি নিজের বংশধর রেখে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।   ২০১৯ সালে একটি লন্ড্রিতে কাজের সুবাদে মিরাকলের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট খাতের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী চার্লসের পরিচয় হয়। প্রথমদিকে চার্লস কৌশলে মিরাকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেন এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গাঢ় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিচয়ের এক বছর পর চার্লস তার মনের কথা প্রকাশ করে মিরাকলকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং গত বছরের জুলাইয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মিরাকলের দাবি, বয়সের পার্থক্য জেনেই তিনি চার্লসকে ভালোবেসেছেন এবং তার শান্ত স্বভাব, বুদ্ধিমত্তা ও জীবনদর্শন তাকে মুগ্ধ করেছে।   পরিবারের দিক থেকে শুরুতে কিছুটা বাধা এলেও পরবর্তীতে সবাই এই সম্পর্ক মেনে নেন। মিরাকলের মা ও দাদা শুরু থেকেই তাদের পাশে থাকলেও, তার বাবাকে রাজি করাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার বাবাও এই সম্পর্ক মেনে নেন। তবে অনলাইনে এই দম্পতিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে মিরাকলের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং তাকে আর্থিকভাবে সুবিধাভোগী বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে পেশায় নার্স মিরাকল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নিজের যোগ্যতায় স্বাবলম্বী এবং সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই চার্লসকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।   ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিরাকল জানান, তারা সন্তান লাভের আশায় একাধিক আইভিএফ ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। যদিও বয়সের কারণে চিকিৎসাগত জটিলতা বা সামাজিক কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তবুও তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ আশাবাদী। চার্লসের বয়স বেশি হওয়ায় ভবিষ্যতে তাকে হারানোর শঙ্কা মনের কোণে কাজ করলেও, বর্তমান সময়টুকুকে তারা পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে চান। প্রজন্মের ব্যবধান সত্ত্বেও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ভালোবাসার ওপর ভর করেই তাদের এই ব্যতিক্রমী সংসার এগিয়ে চলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
আসমা আলী, মিসিসিপির একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।   ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।   মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।    এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
কলেজছাত্র নোলান
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্তে মিলছে না উত্তর

মিসিসিপির কিশোর নোলান ওয়েলসের মৃত্যুর রহস্য আরও ঘনীভূত, স্বাধীন ময়নাতদন্তেও কারণ অজানা; তদন্ত অব্যাহত, পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বাড়ছে আলোচনা ও উদ্বেগ।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ১৮ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থী ও ফুটবল খেলোয়াড় নোলান জেভিয়ার ওয়েলসের মৃত্যুর রহস্য আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের উদ্যোগে পরিচালিত স্বাধীন ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ ও ধরন—উভয়ই ‘তদন্তাধীন’ (Undetermined, Pending Investigation) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   নোলান ৪ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে মিসিসিপি উপকূলের হর্ন আইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি নিখোঁজ হন এবং দুই দিন পর দ্বীপের উপকূল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তদন্তকারীরা।    শিকাগোতে এনএএসিপির জাতীয় সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প জানান, স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষায় শরীরে বড় ধরনের ভাঙা হাড় বা স্পষ্ট আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহের পচন এবং প্রথম ময়নাতদন্তে সংরক্ষিত কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষার জন্য অনুপস্থিত থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   পরিবারের দাবি, তদন্তে আরও স্বচ্ছতা এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। তারা মনে করছেন, নোলানের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটনে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এদিকে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সরকারি ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে অভিযুক্ত করেনি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
মা, খালা ও ২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা I ছবি: সংগৃহীত
মা, খালা ও ২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জ্যাকসনে মা, খালা এবং দুই বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই মামলায় মোট চারজনকে আটক করা হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্যাকসন পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি জানান, সর্বশেষ সন্দেহভাজনকে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তার বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডার বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হত্যার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তার পরিচয় প্রকাশ্যে আনছে না পুলিশ। গত শনিবার রাতে জ্যাকসনের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী কিয়ানা ওয়েদারসবি, তার দুই বছর বয়সী ছেলে কামারি গিভেন্স এবং ৩০ বছর বয়সী বোন এরিকা ওয়েদারসবির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   এর আগে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী মিকাইলা ইয়াং এবং কর্নেলিয়াস কার্টার ও জর্ডান কার্টার নামের আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধেই ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত কাউকেই জামিন দেয়নি।   তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত দুই পুরুষেরই দীর্ঘ ও ভয়ংকর অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। জর্ডান কার্টারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপহরণ ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলা ছিল। অন্যদিকে, ঘটনার সময় আদালতের নির্দেশে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরা অবস্থায় ছিল কর্নেলিয়াস কার্টার।   পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন বা এলোমেলো ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলতে রাজি হয়নি পুলিশ। জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।   এদিকে নিহত দুই বোনের ভাই ডেমার্কো বেইলি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে তার পরিবার ও ছোট্ট ভাগ্নের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার দুই বোন অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং মিলেমিশে শিশুটিকে বড় করছিলেন।   হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে ফেডারেল সংস্থা ও এফবিআই। পুলিশ একটি সন্দেহজনক গাড়ির সূত্র ধরে প্রথম দুই সন্দেহভাজনকে আটকের সময় বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও নিহতদের একটি নিখোঁজ গাড়ি পরদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।   জ্যাকসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরে সম্প্রতি বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩৮টিই বন্দুক হামলার ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহর কর্তৃপক্ষ বিশেষ দল গঠন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
মিসিসিপি উপকূলে মাছ ধরার পর ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হন স্টিভ উইলসন। ছবি: সংগৃহীত
মাছ ধরতে গিয়ে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, হাঁটার ক্ষমতা হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৫০ বছর বয়সী স্টিভ উইলসন। সংক্রমণ এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি হাঁটার ক্ষমতা হারান এবং পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করতে হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, ব্যাকটেরিয়াটি তার পায়ের একটি ছোট ক্ষত বা পোকামাকড়ের কামড়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।   স্টিভ উইলসন ও তার স্ত্রী আমান্ডা উইলসন গত সপ্তাহান্তে মিসিসিপি উপসাগরীয় উপকূলের ক্যাট আইল্যান্ডের কাছে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা থাকায় উপকূলীয় পানিতে থাকা ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। এ কারণে পানিতে নামার আগে শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করেছিলেন।   তবে স্টিভের স্ত্রী, যিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স, মনে করছেন ঘোড়ামাছি (হর্সফ্লাই) বা অন্য কোনো পোকামাকড়ের ছোট একটি কামড় থেকেই অদৃশ্য ক্ষত তৈরি হয়েছিল। মাছ ধরার সময় স্টিভ পায়ে পোকার কামড়ের কথা বলেছিলেন এবং পরে কীটনাশক স্প্রে ব্যবহারও করেছিলেন। আমান্ডার ধারণা, সেই ক্ষুদ্র ক্ষত দিয়েই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে।   পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্টিভ ডান পায়ের গোড়ালির কাছে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার পা ফুলে যায়, ত্বক লালচে হয়ে ওঠে এবং তিনি আর হাঁটতে পারেননি। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায় এবং তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, ভিব্রিও ভালনিফিকাস ব্যাকটেরিয়া তার পায়ের টিস্যু দ্রুত নষ্ট করে দিচ্ছে।   চিকিৎসকেরা জরুরি অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত অংশের চাপ কমানোর চেষ্টা করেন এবং শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করেন। তবে তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এরপর পায়ের কতটা স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হবে।   অমান্ডা উইলসন জানান, এত সতর্ক থাকার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা তারা কখনো কল্পনাও করেননি। তিনি বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকায় বেড়াতে যাওয়া মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস সাধারণত উষ্ণ উপকূলীয় লবণাক্ত বা আধা-লবণাক্ত পানিতে জন্মায়। শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সেই ক্ষতের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুক, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, লিভারের রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালে পানির তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই খোলা ক্ষত নিয়ে সমুদ্র বা উপকূলীয় পানিতে না নামা, কাঁচা সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে বন্দুক হামলায় দুই নারী ও দুই বছরের শিশুসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসন শহরে বন্দুক হামলায় দুই নারী ও দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। জ্যাকসন পুলিশ বিভাগের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি জানান, শনিবার রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে কুইন আলেকজান্দ্রিয়া লেনের ৩০০ নম্বর ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।   সেখানে পৌঁছে তারা দুই নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্যমতে, নিহত দুই নারীর বয়স ২৬ ও ২০ বছর। তিনজনের শরীরেই একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।   রোববার ভোরে পুলিশ জানায়, হামলার পর একটি লাল রঙের মিতসুবিশি মিরাজ গাড়িতে করে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে সশস্ত্র এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই তিনি জড়িত।   পরে রোববার দেওয়া হালনাগাদ তথ্যে পুলিশ জানায়, উত্তর জ্যাকসন এলাকায় সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গাড়িটি উদ্ধারের সময় সেখানে কেউ ছিল না। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনার পর জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন শহরে বন্দুক-সহিংসতা দমনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।   এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কোনো পরিবারই সহিংসতার কারণে প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট পাওয়ার যোগ্য নয়।   তিনি আরও বলেন, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনাকে শহরের স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০