মিসিসিপির কিশোর নোলান ওয়েলসের মৃত্যুর রহস্য আরও ঘনীভূত, স্বাধীন ময়নাতদন্তেও কারণ অজানা; তদন্ত অব্যাহত, পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বাড়ছে আলোচনা ও উদ্বেগ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ১৮ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষার্থী ও ফুটবল খেলোয়াড় নোলান জেভিয়ার ওয়েলসের মৃত্যুর রহস্য আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের উদ্যোগে পরিচালিত স্বাধীন ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ ও ধরন—উভয়ই ‘তদন্তাধীন’ (Undetermined, Pending Investigation) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নোলান ৪ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে মিসিসিপি উপকূলের হর্ন আইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি নিখোঁজ হন এবং দুই দিন পর দ্বীপের উপকূল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তদন্তকারীরা।
শিকাগোতে এনএএসিপির জাতীয় সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প জানান, স্বাধীন ফরেনসিক পরীক্ষায় শরীরে বড় ধরনের ভাঙা হাড় বা স্পষ্ট আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে মরদেহের পচন এবং প্রথম ময়নাতদন্তে সংরক্ষিত কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরীক্ষার জন্য অনুপস্থিত থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পরিবারের দাবি, তদন্তে আরও স্বচ্ছতা এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। তারা মনে করছেন, নোলানের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা উদ্ঘাটনে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এদিকে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের সরকারি ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে অভিযুক্ত করেনি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাসিমুখে হাজির নিকোলাস মাদুরো, বিচারকের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি; বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার সময় ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে হাসিমুখে ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ছিলেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাও জানান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আদালতে আনার আগে মাদুরোকে নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্র থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, “আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” ও “আমি একজন যুদ্ধবন্দি বলে মনে করি।” আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও আদালতের নথির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরো আদালতে নিজেকে নির্দোষ (Not Guilty) দাবি করেন। বিচারক মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন এবং তাকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, আদালতকক্ষে প্রবেশের সময় মাদুরো শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং বিচারকের প্রশ্নের জবাব দেন। আদালতের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সংবাদকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দ্য গার্ডিয়ান আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক ডাকা হয় এবং লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশ ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। অন্য দিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অস্ত্র-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি ও তার আইনজীবীরা এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে আটলান্টিক মৌসুমের দ্বিতীয় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’। ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) তথ্যমতে, বুধবার গভীর রাতে এটি লুইজিয়ানা উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ মাইল বেগের বাতাস নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি আলাবামার মোবাইল শহর থেকে ১০৫ মাইল দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্টের মধ্যাঞ্চলে বৃহস্পতিবারজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত এবং আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড়টির ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল থেকে শুরু করে লুইজিয়ানার উপকূলীয় এলাকা—বিশেষ করে নিউ অরলিন্স এবং লেক পনচারট্রেইন পর্যন্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিপজ্জনক ঢেউ এবং সামুদ্রিক স্রোত থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে এনএইচসি। ঝড়ের আগমন সামনে রেখে গালফ কোস্টের কমিউনিটিগুলো এরই মধ্যে সৈকত বন্ধ করে দিয়েছে এবং নিউ অরলিন্সে বালির বস্তা বিতরণ শুরু হয়েছে। এদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মেক্সিকো উপসাগরে অবস্থিত শেভরন তাদের ‘পেট্রোনিয়াস’ তেল স্থাপনার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া, অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে জরুরি নয় এমন কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন এই শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান। তবে বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝড়টির প্রভাব শুধু দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, ওহাইও ভ্যালি এবং মিড-আটলান্টিক অঞ্চলেও প্রবল বজ্রঝড় ও টর্নেডোর সতর্কতা জারি করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শক্তিশালী দমকা বাতাসের পাশাপাশি এসব অঞ্চলে টর্নেডো সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটিতে টর্নেডো সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়। তবে আগে থেকেই বৃষ্টিস্নাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল প্রতিরোধে এবং ক্ষতিকর আগাছা দমনে ৪০০ ছাগল ও ভেড়ার একটি পাল নামানো হয়েছে। ফ্রেসনের উডওয়ার্ড পার্কের কাছে ১৮০ একর জমিজুড়ে ক্ষুধার্ত এই পশুর পালটিকে মোতায়েন করা হয়েছে। সিয়েরা রিসোর্স কনজারভেশন ডিস্ট্রিক্ট এবং ফ্রেসনো সিটি কর্তৃপক্ষের যৌথ পরিচালনায় ৮ সপ্তাহব্যাপী এই পরিবেশসংক্রান্ত উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পশুগুলোর মূল লক্ষ্য হলো 'ইয়েলো স্টার থিসল' নামক একধরনের আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা। ধারালো ও কাঁটাযুক্ত ফুলবিশিষ্ট এই আগাছাটি দেশীয় উদ্ভিদকে ধ্বংস করে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার তীব্র গ্রীষ্মে শুকিয়ে গিয়ে অত্যন্ত দাহ্য জ্বালানিতে পরিণত হয়। এসব আগাছার ঘন জঙ্গল দাবানলের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে। যন্ত্র দিয়ে ঘাস কাটা বা রাসায়নিক স্প্রে করার চেয়ে পশু দিয়ে ঘাস খাওয়ানো অনেক বেশি টেকসই পদ্ধতি। এটি মাটি নষ্ট না করে এবং ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই পাহাড়ি বা দুর্গম জায়গায় কাজ করতে পারে। ছাগল ও ভেড়া কাঁটাযুক্ত এই আগাছা ও এর বীজ খেয়ে ফেলে, যা ভবিষ্যতে নতুন আগাছা জন্মানো রোধ করে। এছাড়া তাদের মল মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই পশুর দলটি পুরো দাবানল সম্পূর্ণরূপে থামাতে না পারলেও ঝোপঝাড় ও আগাছা খেয়ে পাতলা করে দেয়, যা আগুনের গতি কমিয়ে দেয় এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের কাজ করার জন্য মূল্যবান সময় তৈরি করে। ছাগল ও ভেড়ার পাল তাদের কাজ শেষ করার পর, দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ওই এলাকায় স্থানীয় প্রজাতির ঘাস, গুল্ম ও গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।