- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার খরচ কমাতে ডলার স্টোর থেকে খাবার কিনছেন। কিন্তু এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক একটি চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় ডলার স্টোরের আশপাশে বসবাস এবং স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারসাইড ক্যাম্পাসের গবেষকেরা ২০২৬ সালে প্রকাশিত এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ডলার স্টোর ও প্রচলিত মুদি দোকানের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে। গবেষণার প্রধান লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যানসহ গবেষক দল ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ৫০০ সিটি প্রকল্পের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবহার করেন। গবেষণায় বিশেষভাবে দেখা হয়েছে, কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ডলার স্টোর বা প্রচলিত মুদি দোকানে পৌঁছাতে কতটা সহজ। এ জন্য ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে দোকানগুলোর অবস্থান ও আশপাশের জনগোষ্ঠীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি আয়, বেকারত্বসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত মুদি দোকানের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রতিকূল স্বাস্থ্য ফলাফলের তুলনামূলক কম সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ডলার স্টোরের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক বিভিন্ন অঞ্চলে বজায় ছিল। তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকেরা ডলার স্টোরের খাবারকে এসব রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেননি। গবেষণাটি মূলত বিভিন্ন এলাকার খাবারের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ডলার স্টোর বেশি থাকার কারণেই সেখানকার মানুষ স্থূলতা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না। গবেষক রায়ান ব্রুয়েলম্যানের মতে, মূল সমস্যা খাবারের দাম নয়, বরং কী ধরনের খাবার মানুষ সহজে কিনতে পারছেন সেটি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার কম দামে বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় এ ধরনের খাবারের প্রাপ্যতা বেশি হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত মুদি দোকান ও ডলার স্টোরের খাবারের ধরনে পার্থক্য রয়েছে। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার অনেক ডলার স্টোরে তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও হালকা খাবারের উপস্থিতি বেশি হওয়ার বিষয়টি আগের গবেষণাগুলোতেও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাতেও ডলার স্টোর থেকে কেনা খাবার অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কেনা খাবারের তুলনায় সামগ্রিকভাবে কম স্বাস্থ্যকর বলে দেখা যায়। তবে সেই গবেষণায় এটাও দেখা হয়েছিল যে ডলার স্টোরে বেশি কেনাকাটা করা পরিবারগুলো অন্য জায়গা থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য কিছুটা পূরণ করতে পারে। অন্যদিকে, কম আয়ের পরিবারের জন্য ডলার স্টোরের গুরুত্বও গবেষকেরা উপেক্ষা করেননি। এসব দোকানে খাবারের দাম তুলনামূলক কম এবং অনেক এলাকায় এগুলো সহজে পৌঁছানো যায়। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় কম আয়ের ডলার স্টোর ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী দাম ও সুবিধাজনক অবস্থানের কারণেই তারা এসব দোকানে কেনাকাটা করেন। তবে তাদের অনেকেই ডলার স্টোরে আরও বেশি ফল, শাকসবজি ও উন্নতমানের প্রোটিনজাত খাবার চান। এই বাস্তবতার কারণে গবেষকেরা ডলার স্টোর কমিয়ে দেওয়াকেই সমাধান হিসেবে দেখছেন না। বরং এসব দোকানেই স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ফল ও সবজি বিক্রি, স্থানীয় কৃষক বাজার বা খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের প্রসার এবং ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য করার মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানী শাই বিষ্ণুমোহনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, মানুষ সাধারণত নিজের বাজেট, সময় ও আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগ বিবেচনা করেই খাবার বেছে নেন। তাই মানুষ কোথা থেকে কেনাকাটা করছেন, সেটিকে দায়ী করার বদলে সাশ্রয়ী দামে পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরকে খাবারের দোকান হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টিও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রচলিত সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় সাধারণ পণ্য বিক্রির দোকান হিসেবে চিহ্নিত হয়। ফলে খাদ্য পরিবেশ বা জনস্বাস্থ্য নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন বিশ্লেষণে এগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস বোঝার ক্ষেত্রে ডলার স্টোরের ভূমিকা এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী খাবার ও জনস্বাস্থ্যের মধ্যে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। কম দামের খাবার মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেও সেই খাবার কতটা পুষ্টিকর, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবারকে শুধু বড় সুপারমার্কেটেই নয়, কম আয়ের মানুষ যেসব দোকানে নিয়মিত কেনাকাটা করেন, সেখানেও সহজলভ্য করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামের এক ধরনের ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশটির ২৭ অঙ্গরাজ্যে এই ছত্রাকের ৩ হাজার ৪৩৭টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। একই সময়ে ২০২৫ সালে ৪ হাজার ২৯০টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ক্যান্ডিডা অরিস মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছড়ায় এবং গুরুতর অসুস্থ, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা কিংবা জটিল চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র, কেন্দ্রীয় শিরায় ক্যাথেটার বা অন্য কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্র ব্যবহার করা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র ও নার্সিংহোমের বাসিন্দারাও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্যান্ডিডা অরিস এক ধরনের ইস্ট বা ছত্রাক। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে। এরপর দেশটিতে প্রতিবছর ক্লিনিক্যাল কেসের সংখ্যা বেড়েছে। সিডিসির ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৮৮২টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২৮ এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ১৯৭-এ পৌঁছায়। তবে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিসাবেও ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি কেস শনাক্ত হয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৮৭৩টি কেস পাওয়া যায়। এরপর টেক্সাসে ৪৩৩ এবং টেনেসিতে ২৮৩টি কেস শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ক্যান্ডিডা অরিসের অনেক ধরন প্রচলিত ছত্রাকনাশক ওষুধে প্রতিরোধী। সিডিসির জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্যান্ডিডা অরিস নমুনা ফ্লুকোনাজল নামের বহুল ব্যবহৃত ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। সাধারণত এ ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় ইকাইনোক্যান্ডিন শ্রেণির ওষুধকে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইকাইনোক্যান্ডিন প্রতিরোধী এবং একাধিক শ্রেণির ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী কিছু ধরনও শনাক্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত হলেই যে ব্যক্তি অসুস্থ, এমন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীরে ছত্রাকটির উপস্থিতি কিন্তু কোনো উপসর্গ না থাকাকে ‘কলোনাইজেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ, ছত্রাকটি ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো অংশে থাকতে পারে, কিন্তু তখনও সংক্রমণ বা অসুস্থতা তৈরি নাও করতে পারে। সিডিসি বলছে, ক্যান্ডিডা অরিসের ক্লিনিক্যাল সংক্রমণের উপসর্গ নির্দিষ্ট নয়। শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে এবং সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রক্তে ছত্রাক পাওয়া সাধারণত আক্রমণাত্মক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিডিসি জানিয়েছে, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৩ হাজার ৫০৭টি ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪৫ বছর বা তার বেশি। সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তীব্র চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতাল এবং দীর্ঘমেয়াদি তীব্র চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে। ক্যান্ডিডা অরিসের বিস্তার সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর মতো নয়। বরং আক্রান্ত বা ছত্রাক বহনকারী ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শ এবং দূষিত চিকিৎসা-সরঞ্জাম বা পৃষ্ঠের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। হাসপাতালের বিছানার রেলিং, দরজার হাতলসহ বিভিন্ন পৃষ্ঠে ছত্রাকটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। এ কারণে হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবনে ক্যান্ডিডা অরিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে না। বরং দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা, গুরুতর অসুস্থতা, আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্রের ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যান্ডিডা অরিস মোকাবিলায় তাই দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চঝুঁকির রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করলে শরীরে ছত্রাকটি থাকা অবস্থায়ই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সিডিসির জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাত পরিষ্কার রাখা, ক্যান্ডিডা অরিসের বিরুদ্ধে কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্পর্শভিত্তিক সতর্কতা এবং রোগী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সময় তার ক্যান্ডিডা অরিসের অবস্থার তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডিডা অরিসের শনাক্তকরণ আরও বাড়তে পারে। এর একটি কারণ হলো এখন আগের তুলনায় বেশি পরীক্ষা ও নজরদারি হচ্ছে। ফলে কেসের সংখ্যা বাড়ার একটি অংশ উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ফলও হতে পারে। সিডিসিও জানিয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং স্ক্রিনিং বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিডিসির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ক্যান্ডিডা অরিসের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর বিরুদ্ধে ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই উচ্চঝুঁকির রোগীদের শনাক্তকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং হাসপাতালগুলোতে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।