মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পর্তুগাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি তাঁর পর্তুগিজ সমকক্ষ পাওলো রাঙ্গেল-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বৈঠক শেষে পাওলো রাঙ্গেল বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পর্তুগালের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাঙ্গেলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে টেকসই সমাধান সম্ভব হতে পারে। এতে লেবাননে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পর লেবাননকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থায়ী ও বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি নয় বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাতের স্থায়ী অবসানই তাদের লক্ষ্য। তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম-এর সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খাতিবজাদেহ বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি হতে হলে তা লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটিকে ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না। এই সংঘাত এখন একবারেই শেষ হওয়া উচিত।” হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই জলপথ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। যদিও এটি ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে পড়ে, তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবাধ চলাচল বজায় রাখা হয়েছে। এ অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরানের এই কূটনীতিক বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, যদি যুদ্ধবিরতি ভাঙা হয়, তাহলে তাদের যোদ্ধারা আবার ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবে’। হিজবুল্লাহ–নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশন-এ প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনটির মুজাহিদিনেরা প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা’ প্রতিহত করতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর বর্তালেও পরিস্থিতি অবনতি হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে হিজবুল্লাহ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদলাল্লাহ বলেন, ইসরায়েল যদি সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষায়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হতে পারে এমন একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিজবুল্লাহকে অবহিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘স্বস্তির খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক। উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, ইউরোপ লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে যাবে। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের পাশে থাকতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।' আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ দেখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গুতেরেস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান। শক্তি প্রয়োগের নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মহাসচিব বলেন, চলমান এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাকেও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের সংলাপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরদার করছে। যুদ্ধবিরতি টেকসই রাখা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আহ্বান জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং চলমান যুদ্ধবিরতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আব্বাস আরাঘচি বলেন, বাইরের শক্তির ‘নেতিবাচক হস্তক্ষেপ’ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এজন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ‘দায়িত্বশীল আচরণ’-এর প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুতই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ সময় ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে আরাঘচি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান সবসময় সহযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক সংকটে ওমান যে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে, তা তেহরান ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যই এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ। ইসলামাবাদ বৈঠকে ইরান মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি তোলে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্তে সম্মত না হওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ওমানের সঙ্গে এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের ভূমিকা কাজে লাগিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে চাইছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো। গত ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি বজায় রাখতে এবং এর মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে আলোচনার পরবর্তী ভেন্যু কোথায় হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ করছেন। এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তান, যাদের সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক ও মিসর। আপাতত লক্ষ্য হলো আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অন্তত দেড় মাস বাড়ানো। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন, চরম উত্তেজনার মধ্যেও যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে। তিনি বলেন, "ইসলামাবাদে একটানা ২১ ঘণ্টা সরাসরি আলোচনা হয়েছে, যার সাক্ষী আমি নিজে। কিছু বাধা থাকলেও সেগুলো নিরসনের চেষ্টা চলছে।" জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আলাপকালেও তিনি শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইসলামাবাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের পরিকল্পনাকে 'যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের নিশ্চয়তা চায়। অন্যদিকে, ইরান চাইছে আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য গ্যারান্টি। তেহরানের দাবি, কোনো ছাড় দেওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে আগে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য ইরান আবারও ইসলামাবাদকে পছন্দ করছে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং পাকিস্তানের ওপর আস্থার কারণে তারা এখানেই ফিরতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র লজিস্টিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে বিকল্প কোনো দেশের কথা ভাবছে। কূটনীতিকদের মতে, মূল ইস্যুগুলোতে একমত হতে পারলে ভেন্যু নিয়ে এই মতবিরোধ বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চীন, ব্রিটেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই সংলাপকে 'ভঙ্গুর' হিসেবে বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তি প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীরা ২২ এপ্রিলের সময়সীমার আগে একটি 'টেকনিক্যাল উইন্ডো' তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে অন্তত ৪৫ দিনের অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় দফার রাজনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির প্রভাব নিয়ে ইরান ও কাতারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ফোনালাপে অংশ নেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আলোচনায় দুই পক্ষই চলমান মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আলোচনায় তারা মত দেন, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ের মাধ্যমে সংকটের মূল কারণগুলো সমাধানের পথ খোলা রাখতে হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। এ সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে আন্তর্জাতিক জলপথগুলো উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির জনগণের মনোভাব নিয়ে নতুন একটি চিত্র সামনে এসেছে জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক জরিপে। এতে দেখা যায়, ইরানের সঙ্গে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে বেশিরভাগ ইসরাইলি সন্তুষ্ট নন। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক এই যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছেন। তবে এই বিরতি মেনে চলা হবে, নাকি আবার সামরিক অভিযান শুরু করা উচিত—এই প্রশ্নে জনমত প্রায় সমানভাবে বিভক্ত। এদিকে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়েও ইসরাইলিদের অবস্থান বেশ কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও, জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া উচিত। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেও তা হিজবুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। ইরানকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে ৩৯ শতাংশ পুনরায় হামলার পক্ষে মত দেন, আর ৪১ শতাংশ আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পক্ষে থাকেন। এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu–এর জনপ্রিয়তায় কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। জরিপ অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর সময় যেখানে ৪০ শতাংশ নাগরিক তাকে সমর্থন করতেন, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। সব মিলিয়ে, ইসরাইলি জনমতে একদিকে কঠোর সামরিক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেলেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর আস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। সূত্র: আল জাজিরা
কঠোর শর্তে অচলাবস্থার কারণে যুদ্ধবিরতিতে একমত হতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে দুই পক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখোমুখি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্যই বেশি নেতিবাচক। তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জন বন্ধের শর্তে রাজি হয়নি ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো এতটাই কঠোর যে, তা মেনে নিলে ইরান চিকিৎসা খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে তেহরানের পক্ষে এসব শর্ত মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে ইরান সরকার জানায়, প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা তাদের ছিল না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এক বৈঠকেই সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত নিয়েও তারা সন্তুষ্ট নয়। তিনি আরও জানান, তেহরান তার মিত্র দেশ ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বৈঠকে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে ছিল বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননসহ মিত্র দেশগুলোতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। তবে লেবাননে হামলা বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল অনড় অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠক চলাকালে অন্তত ডজনখানেকবার ট্রাম্পকে ফোন করা হয় বলে জানা গেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রতিনিধিদল আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল। তবে শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংলাপ শেষ পর্যন্ত ফলহীনই থেকে যায়। সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, বৈঠকের পুরো সময়জুড়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানালেও তিনি ইঙ্গিত দেন, গত ২১ ঘণ্টায় অন্তত অর্ধডজন থেকে এক ডজনবার কথা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আলোচনার সময় মার্কিন প্রতিনিধিদল সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভ্যান্সের ভাষায়, সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে কেন আলোচনা ভেঙে গেল, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি। শুধু ইঙ্গিত দিয়েছেন, মূল বিরোধ ছিল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সেই সক্ষমতাও অর্জন করবে না। এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন এই নিশ্চয়তা চেয়ে আসছে, কিন্তু এখনো তা মেলেনি। যদিও ভবিষ্যতে সমাধানের আশা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আলোচনায় অংশ নিলেও মার্কিন পক্ষের অযৌক্তিক দাবির কারণে কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেঙে যায়। সূত্র– এনডিটিভি
চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে নতুন দফায় সরাসরি আলোচনা চলছে। আলোচনাটি এখন গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এই বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি। সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদল কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখালেও মার্কিন প্রধান দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এদিকে আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তানে ইরানের আরও কয়েকটি উড়োজাহাজ পৌঁছেছে। এক ঘণ্টার ব্যবধানে সেগুলো একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করে। এই উড়োজাহাজগুলোর আগমনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় সহায়তার জন্য অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। একটি সমাধানে পৌঁছাতে দুই পক্ষই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এখন এক অস্বাভাবিক নীরবতায় ঢেকে আছে। তবে এই নীরবতা স্বস্তির নয়, বরং চরম উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সড়কে সশস্ত্র বাহিনীর টহল, যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ- কার্যত অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশের উচ্চনিরাপত্তা এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেল খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ একটাই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা। ঘটনার সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নিহত হন বলে জানানো হয়। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়, তেলের দাম বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। এখন সেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন দেশটির বিশেষ দূত এবং প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দুই পক্ষের প্রস্তাবে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা। পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর দাবিও রয়েছে। অন্যদিকে ইরান চায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা, পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার বজায় রাখা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়। এই আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ- ইসলামাবাদ একটি কার্যকর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে লেবানন ইস্যুতে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বললেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। আলোচনার ধরন সরাসরি নয়। দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে অবস্থান করবে এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতা করে বার্তা আদান-প্রদান করবেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে সামনে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আলোচনা সফল হলে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হয়ে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যর্থ হলে ২২ এপ্রিলের পর আবারও ভয়াবহ সংঘাত শুরু হতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তা বজায় রেখে আলোচনা চলতে পারে। ইসলামাবাদে চলমান এই আলোচনার প্রতিটি সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ। বিশ্বের জ্বালানি বাজার, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকনির্দেশনা—সবই এখন এই বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সরঞ্জাম পাঠানো হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখতে পারে। কারণ, একদিকে চীন যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে এবং এতে বিদেশি সহযোগিতাও পাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র—ম্যানপ্যাডস সরবরাহের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের অস্ত্র স্বল্প উচ্চতায় উড়ন্ত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত আগেও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ইরান দাবি করেছিল, তারা একটি ‘নতুন’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যদিও সেটির বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চীন কখনোই কোনো সংঘাতে কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি এবং এই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’। তিনি আরও বলেন, চীন সবসময় আন্তর্জাতিক দায়িত্ব মেনে চলে এবং উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ইরানে এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে, চীন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বরং তারা একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরপেক্ষ অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি আলোচনা আজ শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বহু মানুষ নিহত হন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। সেই প্রেক্ষাপটেই শুরু হচ্ছে এই আলোচনা। আলোচনার মূল বিষয়গুলো এই বৈঠকে উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা অন্যদিকে, ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে— আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি এছাড়া লেবাননে চলমান সংঘাতও আলোচনার অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান বলছে, সেখানে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে কার্যকর কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। আলোচনার ধরন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার প্রথম ধাপে দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে বসবে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বার্তা আদান-প্রদান করবেন। পরবর্তীতে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ইসলামাবাদে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে একটি পাঁচতারকা হোটেলকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ফলাফল কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। তবে সীমিত পর্যায়ে কিছু অগ্রগতি হতে পারে, যেমন— যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ গ্রহণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবানন ইস্যু এবং ইসরায়েলের ভূমিকা এই আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েল আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়ায় ভবিষ্যতে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক গুরুত্ব এই বৈঠককে একটি ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, চরম উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষের আলোচনায় বসা নিজেই একটি বড় অগ্রগতি। পাকিস্তানও এই উদ্যোগকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। দেশটি আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে অন্তত একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনো তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং কোনো ভিডিও বা ছবিও প্রকাশিত হয়নি। রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই হামলায় তাঁর মুখ ও এক বা উভয় পায়ে আঘাত লাগে। একই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা আজ শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকালেই আলোচনার প্রথম দফা শুরু হবে। এই বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহে সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে ২২ এপ্রিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনাটি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ—দুইভাবেই হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রথমে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে, এরপর সরাসরি বৈঠক হতে পারে। বৈঠকের আগে ট্রাম্প তাঁর প্রধান শর্ত পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হবে দেশটির কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা। তিনি আরও বলেন, কার্যকর চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে। তবে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। অন্যদিকে, ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করছে। এই আলোচনাকে ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি দেশবাসীকে সংলাপের সফলতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই দলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। এর আগে শুক্রবার ইরানের প্রতিনিধিদলও ইসলামাবাদে পৌঁছায়। তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর নেতৃত্বে দলে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। ইসলামাবাদে অবস্থানরত তাসনিমের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধি দল প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল শনিবার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে সেরেনা হোটেল-এ, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে তারা সেখানে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও এই আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews