আমেরিকা

অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ২৩:৩৭
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

দুই সপ্তাহ আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তির মতোই আবারও অবস্থান বদল করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই আগে যেমন স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তেমনি এবারও একই ধারা অনুসরণ করে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনা চলমান থাকায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হচ্ছে।

 

যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলেও হরমুজ প্রণালিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পাশাপাশি দুটি জাহাজ জব্দ করার কথা জানিয়েছে।

 

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে তেহরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজন হলে তবেই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রস্তুত থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা না আসায় শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণেই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। যদিও এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি। তার মতে, নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়াই এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

ইজাদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সেনা মোতায়েন রাখতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ইরান প্রসঙ্গে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকায় রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন।

 

এদিকে হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ছাড়াও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলে ইরানের ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং আলোচনার পথ খোলা থাকবে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান আলোচনায় ফেরার আগ্রহ দেখালে নতুন করে বৈঠকের আয়োজন করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা দুই দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে, তাই দ্রুত সমাধানের প্রত্যাশা রয়েছে।

 

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নমনীয়তার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী জানিয়েছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার বাস্তব কোনো গুরুত্ব নেই। তার ভাষায়, ‘পরাজিত পক্ষ কখনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না’, এবং অবরোধ ও সামরিক হামলার মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই।

 

ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, হুমকি বা চাপের মধ্যে তারা আলোচনায় বসবে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলাপে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে না।

 

অন্যদিকে, পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকিই প্রকৃত সংলাপের পথে প্রধান বাধা। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করছে।

 

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দের ঘটনা। মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি জাহাজ আটক করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইআরজিসি দুটি বিদেশি জাহাজ জব্দ করে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, আলোচনার নামে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি নেই, এবং অতীতে এমন প্রতিশ্রুতির ফাঁদে ইরান পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
প্রায় ৮৮ হাজার একর আয়তনের এই সুবিশাল খামারটিতে ঐতিহাসিকভাবে হাজার হাজার গবাদিপশু পালন করা হতো। ছবি: সংগৃহীত
ঘোষণার মাত্র ২ দিনেই বিক্রি ১২৮ মিলিয়ন ডলারের খামার! কী ছিল এত বিশেষ?

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও ওকলাহোমা, দুই অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিস্তৃত প্রায় ৮৮ হাজার একর আয়তনের একটি বিশাল গবাদিপশুর খামার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ক্রেতাদের আগ্রহে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় র্যাঞ্চ বিক্রির অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।    ‘ফ্রিম্যান ফ্যামিলি র্যাঞ্চেস’ নামে পরিচিত এই সম্পত্তির আয়তন ৮৭ হাজার ৯৫৩ একর। এটি টেক্সাস ও ওকলাহোমার প্যানহ্যান্ডল অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। তুলনা করলে এর আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় ছয় গুণ। প্রায় এক শতাব্দী ধরে ফ্রিম্যান পরিবারের মালিকানায় থাকা এই র্যাঞ্চে তিনটি পৃথক খামার,অ্যাঙ্কর ডি, কোল্ডওয়াটার ও ফ্রিসকো, একটি সমন্বিত বাণিজ্যিক ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হতো।    বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হল অ্যান্ড হলের ব্রোকার চ্যাড ডাগার জানান, ফ্রিম্যান পরিবারের অংশীদারিত্বভিত্তিক পরিচালনা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সম্পত্তিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরিবারের ইচ্ছা ছিল, র্যাঞ্চটি যেন ভেঙে খণ্ড খণ্ড না হয়ে কৃষি ও পশুপালনের কাজেই ব্যবহৃত হয়।    ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০ ভূমিমালিকের একজন এবং দীর্ঘদিনের র্যাঞ্চিং ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন ব্রোকার। তার পরিকল্পনাও র্যাঞ্চটিকে আগের মতোই গবাদিপশুর খামার হিসেবে পরিচালনা করার। চুক্তির আওতায় জমি ও অবকাঠামো বিক্রি হলেও গবাদিপশু অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে ঐতিহাসিকভাবে এই র্যাঞ্চে এক সময়ে প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি তরুণ গরু পালন করা হতো, যা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় আকারের বাণিজ্যিক পশুপালন কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি দিয়েছিল।    চ্যাড ডাগারের ভাষ্য, এত বড় এবং একীভূত র্যাঞ্চ এখন খুবই বিরল। কারণ এ ধরনের বিশাল জমি অনেক সময় আলাদা আলাদা অংশে ভাগ হয়ে বিক্রি হয়ে যায়। একবার বিভক্ত হয়ে গেলে সেগুলোকে আবার একত্রিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই এই বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমি ও রিয়েল এস্টেট খাতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২৩:৫৬
এফটিসির সঙ্গে সমঝোতার আওতায় যোগ্য অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত রিফান্ড পেতে পারেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহকদের জন্য বড় খবর: ২.৫ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় মিলতে পারে রিফান্ড

নতুন গাড়ির দাম কমানোর লক্ষ্যে ‘ফ্রিডম মিনস অ্যাফোর্ডেবল কারস’ উদ্যোগ ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

আমেরিকান নাগরিকদের জন্য কম দামে গাড়ির আনতে চান ট্রাম্পের মন্ত্রী,শুরু নতুন বিতর্ক

আমদানি পুনঃপরিদর্শন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করায় ৪,৩০০ পাউন্ড চিকেন নুডলস স্যুপ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

স্যুপে স্বাদ না থাকায় কানাডা থেকে আসা ৪,৩০০ পাউন্ড চিকেন নুডলস স্যুপ ফিরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসন ও ভোটাধিকার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে লক্ষ্য করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঘৃণার রাজনীতি' ছড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার বিস্ফোরক অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দুর্বল করতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভাজনমূলক নীতি অনুসরণ করছে এমন অভিযোগ তুলেছেন ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন। নিউজউইকে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে অবিশ্বাস, বৈষম্য এবং সহিংসতার পরিবেশকে আরও উসকে দিচ্ছে।   তবে লেখাটি কোনো নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদন নয়। নিউজউইক এটিকে স্পষ্টভাবে মতামত হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং এতে উত্থাপিত বক্তব্য লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নিবন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়াও যুক্ত করা হয়নি। নিক্সনের বক্তব্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অভিবাসন নীতি। তার অভিযোগ, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের আওতায় থাকা পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।   টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা ব্যক্তিরা এর আওতায় নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন নিক্সন।   সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিবাসন অভিযান ও মৃত্যুর ঘটনাও মতামত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন এই আইনপ্রণেতা। তার মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের প্রশ্ন নয়; বরং অভিবাসী পরিবারের নিরাপত্তা, জীবিকা এবং সমাজে তাদের অবস্থানের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি পৃথক তদন্তের বিষয়।   অভিবাসনের পাশাপাশি ভোটাধিকার ও নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিক্সন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে এমনভাবে নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কৃষ্ণাঙ্গসহ কিছু জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রভাব কমে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভোটাররা প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতাসীনরাই কার্যত নিজেদের সুবিধামতো ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।   ট্রাম্পের পাশাপাশি কংগ্রেসের সদস্যদেরও সমালোচনা করেছেন নিক্সন। তার মতে, সম্ভাব্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য, চিঠি কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকরভাবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। নিক্সনের অভিযোগ, কিছু আইনপ্রণেতা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ আপত্তি জানালেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন না। তার দৃষ্টিতে, এই নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক করে তুলছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সমর্থকেরা অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ভোট ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিক্সনের মতামত নিবন্ধে এই পাল্টা অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।   নিবন্ধের শেষাংশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আরও বেশি জবাবদিহি দাবি করার আহ্বান জানান নিক্সন। তার বক্তব্য, নেতারা যদি সত্যিই মনে করেন নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তাহলে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয় সেই ক্ষতি ঠেকাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপও নিতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২৩:২৮
দুই সপ্তাহে চালকদের ওপর দ্বিতীয় বন্দুক হামলার পর নিউইয়র্কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আবারও গুলির শিকার বাংলাদেশি রাইডশেয়ার চালক, দুই সপ্তাহে চালকদের ওপর দ্বিতীয় বন্দুক হামলা

লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আবারও বাড়ার তথ্য প্রকাশ করেছে এলএএইচএসএ। ছবি: সংগৃহীত

আয় কম, খরচ বেশি, অর্থনৈতিক চাপে লস অ্যাঞ্জেলেসে আবার বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা, চাপে মেয়র

সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে নতুন শর্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক ঠিক করার সময় হয়েছে: ট্রাম্প

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চাওয়ার সমন প্রত্যাহার করেছে ইইওসি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি কর্মীদের তথ্য চেয়ে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, শেষ পর্যন্ত দাবি প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (পেন)-এর ইহুদি কর্মীদের নাম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য চাওয়ার বিতর্কিত দাবি প্রত্যাহার করেছে। আদালতে দাখিল করা নতুন নথিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে চলমান ফেডারেল তদন্ত বন্ধ হচ্ছে না; কেবল বিতর্কিত সমনটি আর কার্যকর করা হবে না।    মামলাটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন (ইইওসি)। সংস্থাটি আগে পেন বিশ্ববিদ্যালয়কে ইহুদি কর্মীদের নাম, যোগাযোগের তথ্য এবং কিছু ইহুদি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের তথ্য দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তুলে সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে।    নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, ইইওসি ওই সমন আর কার্যকর করবে না। এর বিনিময়ে পেন বিশ্ববিদ্যালয়ও আদালতে করা আপিল প্রত্যাহার করবে। বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং তারা কর্মীদের অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ইহুদিবিদ্বেষসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।    এই বিরোধের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তদন্তকে কেন্দ্র করে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এসব তথ্য প্রয়োজন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন যুক্তি দেয়, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কর্মীদের তালিকা চাওয়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে।    এর আগে এক ফেডারেল বিচারক বিশ্ববিদ্যালয়কে তথ্য দিতে নির্দেশ দিলেও আপিলের সুযোগ দিতে সেই আদেশ সাময়িক স্থগিত করেছিলেন। সর্বশেষ সমঝোতার ফলে সেই আইনি বিরোধের অবসান ঘটলেও, পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ নিয়ে ইইওসির মূল তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সংস্থাটি অন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ২২:২০
পেপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগে এক হেয়ারস্টাইলিস্টকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চুলের স্টাইল পছন্দ না হওয়ায় ক্ষোভে গ্রাহকের পরিবারকে পেপার স্প্রে! গ্রেপ্তার হেয়ারস্টাইলিস্ট

লুমুম্বা সেয়ার্স সিনিয়রকে ৫১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে কলোরাডোর আদালত। ছবি: সংগৃহীত

ছেলের হত্যার প্রতিশোধ নিতে, প্রকাশ্যে খুনিকে গুলি করে হত্যা করায় বাবার ৫১ বছরের কারাদণ্ড

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্পের অনুদান বাতিল নিয়ে নতুন বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পকে ভোট না দেয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর জ্বালানি অনুদান বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

0 Comments