রোনালদো

রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়
রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়, শেষে বেরিয়ে এলেন অন্য নবদম্পতি

পর্তুগালের মাদেইরায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের কথিত বিয়েকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ৮ আগস্ট ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাথেড্রালের সামনে জড়ো হন ভক্ত ও গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে দেখা গেল অন্য এক নবদম্পতিকে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ৮ আগস্ট মাদেইরার ফুঞ্চালে সম্পন্ন হওয়ার কথা। বিয়ের পর অতিথিদের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল পাঁচ তারকা সাভয় প্যালেস হোটেলে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে হোটেলটির দুটি তলা আগে থেকেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।   তবে রোনালদো ও জর্জিনার পক্ষ থেকে ৮ আগস্টের বিয়ের তারিখ বা ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের স্থান হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর আগে বিভিন্ন পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমও ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে মাদেইরায় তাদের বিয়ের সম্ভাব্য আয়োজনের কথা জানিয়েছিল।   এই গুঞ্জনের মধ্যেই ক্যাথেড্রালের সামনে ভক্ত ও সংবাদকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন রোনালদো ও জর্জিনাকে বিয়ের পোশাকে দেখার জন্য।   কিন্তু ক্যাথেড্রাল থেকে বেরিয়ে আসা নবদম্পতি ছিলেন ফাবিও সান্তোস রামোস ও ফাতিমা নিকোল কুনহা তেইক্সেইরা। মাদেইরা অঞ্চলের এই দম্পতি বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করেন।   ফলে রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের আশায় জড়ো হওয়া মানুষজনের সামনে তৈরি হয় বেশ মজার এক পরিস্থিতি। ক্যামেরার সামনে দিয়ে যখন অন্য দম্পতি নববিবাহিত সাজে বেরিয়ে আসেন, তখন তাদের ঘিরেও মুহূর্তেই আগ্রহ তৈরি হয়।   ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য ওই নবদম্পতির বিরক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ক্যাথেড্রালের বাইরে নিজেদের ঘিরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত আগ্রহের বিষয়টি তারা উপভোগ করেছেন বলেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ে নিয়ে আগ্রহের শুরু অবশ্য অনেক আগেই। ২০২৫ সালের আগস্টে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো। এরপর থেকেই তাদের বিয়ের সম্ভাব্য সময় ও স্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।   রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরায় বিয়ের আয়োজনের খবর প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। তবে তারকা এই জুটির ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান ও আয়োজনের বিস্তারিত তথ্যকে নিশ্চিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   ৮ আগস্টের ঘটনাটি তাই রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে নয়, বরং তাদের বিয়ের গুঞ্জনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক মজার ভুল প্রত্যাশার ঘটনাই হয়ে থাকল।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বখ্যাত পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং তাঁর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেস।ছবি:সংগৃহীত
অবশেষে বিয়ে করছেন রোনালদো! চূড়ান্ত বিয়ের দিনক্ষণ

দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে তাদের বহু প্রতীক্ষিত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম *দ্য সান* জানিয়েছে, সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলা ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩২ বছর বয়সী জর্জিনার বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে রোনালদোর জন্মশহর ফুঞ্চালের ঐতিহাসিক ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় সময় বিকেলে এই আয়োজন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনা ও ভোজের আয়োজন করা হবে মাদেইরার পাঁচ তারকা ‘সাভয় প্যালেস’ হোটেলে। হোটেল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিয়ের আয়োজনের কারণে আগামী শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা সাধারণ অতিথিদের জন্য বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি বারসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা শুধুমাত্র বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।   এর আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের ঐতিহাসিক রেনেসাঁ যুগের এস্টেট ‘কুইনতা দা রেগালেইরা’য় বসবে এই তারকা জুটির বিয়ের আসর। তবে চলতি সপ্তাহে ওই স্থাপনাটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকায় সেই জল্পনার অবসান ঘটে।   রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। এরপর থেকে তারা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বসবাস করছেন এবং তাদের পরিবারে কয়েকটি সন্তানও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পারিবারিক মুহূর্ত নিয়মিত ভাগ করে নিলেও আনুষ্ঠানিক বিয়ে নিয়ে এতদিন কোনো ঘোষণা দেননি এই তারকা জুটি।   ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়া রোনালদো এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। বহু বছর ধরে আলোচিত এই সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক পরিণতি দেখতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে তার কোটি কোটি ভক্ত।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
রোনালদোর লেগো সেট কিনতে রাস্তায় লেমোনেড বিক্রি ৫ বছরের শিশুর

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এক খুদে ভক্ত নিজের প্রিয় ফুটবল তারকার একটি লেগো (LEGO) সেট কেনার জন্য নিউইয়র্কের রাস্তায় লেমোনেড স্ট্যান্ড বসিয়ে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। ম্যাসন হুইটেকার নামের ৫ বছর বয়সী এই শিশুর লক্ষ্য ছিল ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশনের একটি বিশেষ রোনালদো লেগো সেট কেনা, যার দাম ছিল ৮০ ডলার। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই খুদে উদ্যোক্তা তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চেয়েও প্রায় ছয় গুণ বেশি অর্থ সংগ্রহ করে ফেলেছে।   ম্যাসনের মা হিদার ডল সংবাদমাধ্যমকে জানান, পর্তুগাল 🇵🇹 যখন ম্যাচ হারে, তখন ম্যাসন অঝোরে কেঁদেছিল, কারণ রোনালদো তার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়। তাই সে যখন রোনালদোর ওই বিশেষ লেগো সেটটি কেনার বায়না ধরে, তখন তার মা তাকে বুঝিয়ে বলেন যে এটি তাকে নিজের চেষ্টায় অর্জন করতে হবে। এরপরই মা ও ছেলে মিলে একটি লেমোনেড স্ট্যান্ড বসানোর দারুণ এই পরিকল্পনা করেন।   গত বুধবার ইস্ট ভিলেজে নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বন্ধুদের সাথে নিয়ে লেমোনেড বিক্রি শুরু করে ছোট্ট ম্যাসন। সকার স্টিকার ও ব্যানার দিয়ে সাজানো ওই ছোট্ট স্ট্যান্ডে প্রতি কাপ লেমোনেডের দাম রাখা হয়েছিল মাত্র ২ ডলার। তৃষ্ণার্ত প্রতিবেশী ও পথচারীদের ব্যাপক ভিড় সামলাতে গিয়ে ম্যাসন রীতিমতো সবাইকে লাইনে দাঁড়ানোর নির্দেশও দিচ্ছিল। মাত্র দুই ঘণ্টার এই ব্যবসায় বিক্রি ও মানুষের দেওয়া বকশিশ মিলিয়ে মোট ১৮৬ ডলার আয় করে সে!   অতিরিক্ত এই আয়ের পর ম্যাসন ও তার মা ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের লেগো স্টোর থেকে ৩০ ডলার মূল্যের অপেক্ষাকৃত একটি ছোট রোনালদো সেট কিনেছেন। বাকি টাকা দিয়ে ম্যাসনকে সাহায্য করা বন্ধুদের জন্য উপহার কেনা হবে বলে জানিয়েছেন তার মা। দারুণ এই সাফল্যের পর ছোট্ট ম্যাসন এখন তার পরবর্তী ব্যবসার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত!

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেসিকে নিয়ে বারবার প্রশ্ন, বিরক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলন ছাড়তে চাইলেন রোনালদো

বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে আলোচনা যেন কখনোই থামে না। প্রায় দুই দশক ধরে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, বিতর্ক ও তুলনার কেন্দ্রে রয়েছেন এই দুই কিংবদন্তি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে এবার মেসিকে নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেল পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে।   উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে জয়ের পথে নেতৃত্ব দেন রোনালদো। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ। আর তাতেই স্পষ্ট অস্বস্তি দেখা যায় পাঁচবারের বিশ্বসেরা এই ফুটবলারের মধ্যে। বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছেন মেসিও। ইতোমধ্যে দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ঠিক তার পরদিনই মাঠে নেমে জোড়া গোল করেন রোনালদো। ফলে সংবাদ সম্মেলনে দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে তুলনা এবং সম্ভাব্য মুখোমুখি হওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসা ছিল অনেকটাই প্রত্যাশিত।   এক পর্যায়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, নকআউট পর্বে যদি মেসির আর্জেন্টিনার সঙ্গে পর্তুগালের দেখা হয়, তাহলে সেটি কি দুই কিংবদন্তির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ দ্বৈরথ হিসেবে বিশেষ কিছু হবে? প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, “এটা এমন একটি প্রশ্ন, যার উত্তর দেওয়া কঠিন। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলের জয়, পরবর্তী পর্বে ওঠা এবং সামনে থাকা ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত হওয়া।”   তিনি আরও বলেন, “আমি গোল করেছি, দলকে সাহায্য করেছি। পুরো দল ভালো খেলেছে। এখন আমাদের সামনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমাদের মনোযোগ সেদিকেই।” তবে সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, “গতকাল লিওনেল মেসি দুটি গোল করেছেন, এমবাপেও...”   সাংবাদিক বাক্য শেষ করার আগেই রোনালদো পাশের আরেক সাংবাদিকের দিকে তাকিয়ে ইশারা করে বলেন, “চলুন, চলুন, চলুন।” এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কি আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে চান? উত্তরে রোনালদো বলেন, “প্রশ্নের ওপর নির্ভর করছে। না হলে আমি উত্তর দেব না।” পরে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে রোনালদো অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে উত্তর দেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় আমার লক্ষ্যে পৌঁছাই, আগে বা পরে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের কাজ করে যাওয়া এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখা।”   তিনি আরও বলেন, “আমার পুরো ক্যারিয়ারই এমন ছিল। আমি খুব খুশি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল, সতীর্থদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং যেসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে সেগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া। বাইরের অনেক কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।” বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পর্তুগালের পারফরম্যান্সও আশাব্যঞ্জক। উজবেকিস্তানকে হারিয়ে গ্রুপ ‘কে’-তে চার পয়েন্ট নিয়ে সাময়িকভাবে শীর্ষে উঠে এসেছে দলটি। তবে কলম্বিয়া তাদের ম্যাচ জিতলে আবারও অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।   গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শনিবার মিয়ামিতে মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও কলম্বিয়া। একই সময়ে ডিআর কঙ্গো খেলবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। বিশ্লেষকদের মতে, মেসি-রোনালদো তুলনা ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় আলোচনার বিষয় হলেও, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলোয়াড়রা সাধারণত দলীয় লক্ষ্য ও ফলাফলকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান। রোনালদোর প্রতিক্রিয়াও সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।   দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলকে শাসন করা এই দুই তারকাকে ঘিরে আগ্রহ কমেনি একটুও। তবে সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দিল, অন্তত এই মুহূর্তে তিনি ব্যক্তিগত তুলনার চেয়ে পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানের দিকেই মনোযোগ রাখতে চান।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বিশ্বমঞ্চে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় অভিজ্ঞ ও একঝাঁক তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি।   এবারের আসরেও রোনালদোর কাঁধেই থাকছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, যা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে।   ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের পরীক্ষিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের মতো ফরোয়ার্ডরা। দল ঘোষণার সময় কোচ মার্তিনেস এক আবেগঘন বার্তা দেন।   গত বছর অকালে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটাকে সম্মান জানিয়ে প্রতীকীভাবে তাকে এই স্কোয়াডের ‘২৭তম সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন কোচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের বেশ আবেগাপ্লুত করেছে।   এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর দল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন মিয়ামিতে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।   ঘোষিত স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আছেন দিওগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা ও রিকার্দো ভেলহো। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস ও দিওগো দালোতের মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো ও গনসালো রামোস।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০