রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত, একসঙ্গে নামাজে অংশ নিলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ জামাতে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানানো হয়।   শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।   সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঈদগাহে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি সেখানে উপস্থিত হন।   প্রধান এই জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।   নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবা ও মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সহিংসতা ও সংঘাত নিরসনের জন্য দোয়া করা হয়।   এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের বার্তা নতুন করে আশা ও সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও ঈদের সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও নামাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জাতীয় ঈদগাহে। প্রবেশের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়; আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয় এবং পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়।   জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাসহ প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।   এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায়
সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আজ (রোববার) সকাল ১১টা থেকে আবার শুরু হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন রোববার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন।   রোববারের কার্যসূচি অনুযায়ী, সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে।   একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন ও এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় সংসদের বৈঠক বসবে।   শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন। সেখানে প্রথম অধিবেশনের সময়সূচি, কার্যক্রম এবং আলোচনার সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে। এছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে।   এর আগে প্রথম অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। পরে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামও অনুমোদন দেওয়া হয়।   নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে মন্তব্য করতে চান না স্পিকার

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে ক্রিকেটের মতোই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।   শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা জানান।   মেজর হাফিজ বলেন, “রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তারা গতকাল তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। আশা করি জাতীয় সংসদে তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন।”   তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অনেক ত্যাগ এবং ধৈর্যের বিনিময়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছি। আশা করি আগামী দিনগুলোতে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সক্ষম হব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”   সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, “সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিলেন, তবে সংসদে স্লোগান দেওয়া ঠিক নয়, এটি সংসদের রেওয়াজের বাইরে।”   নিরপেক্ষ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “সংসদে আমরা—স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—নিরপেক্ষ থাকব। ক্রিকেট খেলায় যেমন আম্পায়ার থাকে, আমরা তেমনি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করব।”   গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান প্রস্তাব দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এবং বিরোধী দলীয়রাও সমর্থন দেন।   এরপর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব আসে। বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম হাফিজ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন পেয়ে কণ্ঠভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। এর ফলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার নির্বাচিত হন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন । ছবি: পিআইডি
সময় বদলালে রাষ্ট্রপতির ভাষণও বদলায়

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তিন বছরের মধ্যে তিনটি ভিন্ন সরকারের সময় তিনি রাষ্ট্রপতি থাকলেও সরকারের স্বরূপ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।   রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়া হয়। এর আগে তিনি জেলা ও দায়রা জজ, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এ কারণে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা হয়।   সংসদে তার ভাষণে উল্লেখিত হয়েছে, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এবং বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি একে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন এবং হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা উল্লেখ করেছেন।   রাজনৈতিক দৃশ্যপটের প্রতিফলন দেখা যায় যখন রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপি সংসদে ভাষণ চলাকালীন সময়ে ওয়াকআউট করেছেন।   ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছিলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনের সাফল্য নিশ্চিত করেছে এবং সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ যথার্থ ছিল। তৎকালীন বক্তব্যে তিনি ‘জয় বাংলা’ বলে বক্তৃতা শেষ করেছিলেন, এবার শেষ করেছেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত সরকার বা মন্ত্রিসভার প্রস্তুতকৃত হয়। তবে এবারের সংসদে ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তার বক্তব্যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদধারীর নিজস্ব অবস্থানও প্রতিফলিত হয়েছে। বহু প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন আশা, এ ভাষণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   বিরোধী দল এনসিপি নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে রাষ্ট্রপতির সমর্থকরা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরছেন, অন্যদিকে সমালোচকরা তাকে বিভিন্ন পদে থাকা অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচনা করেছেন।   সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও এটি এখনও সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার অংশ। প্রশ্ন উঠে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ কি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে থাকবে নাকি সেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারীর নিজস্ব অবস্থান প্রতিফলিত হবে?

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিরোধী দলের ওয়াক আউট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া জবাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সদস্যদের সংসদ কক্ষ ত্যাগের (ওয়াকআউট) ঘটনায় মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিরোধী দলের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তাদের রাজনৈতিক ‘স্ববিরোধিতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তিহীন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গেই ৫ ও ৬ আগস্ট বিরোধী দলগুলো দফায় দফায় আলোচনা করেছে এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, "যে রাষ্ট্রপতির অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলো এবং যাদের দলের সদস্যরা এই সংসদেই শপথ নিলেন, আজ হঠাৎ তাকে কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? এই স্ববিরোধিতার জবাব তাদেরই দিতে হবে।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সংসদ হবে জাতীয় সমস্যার সমাধানের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে সরকার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সদস্যরা ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের দাবি, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ
হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট বিরোধী দলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে হট্টগোলের মধ্যেই ভাষণ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভাষণ শুরুর আগে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে পরে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।   বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর’ সহ বিভিন্ন স্লোগান।   পরিস্থিতি শান্ত রাখতে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে স্পিকারের পাশে নির্ধারিত আসনে বসেন এবং হট্টগোলের মধ্যেই তার বক্তব্য শুরু করেন।   রাষ্ট্রপতির বক্তব্য চলাকালে সরকারদলীয় সদস্য ও বিএনপির সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়াতে দেখা যায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা কিছুক্ষণ পর সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং সেই আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।   রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিষয়েও তথ্য তুলে ধরেন। কৃষি ও অর্থনীতির উন্নয়নে সরকার জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।   নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ১২ মার্চের জন্য অপেক্ষা করছি। ওই দিন জাতীয় সংসদে কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য যাচ্ছি না। আমরা যাচ্ছি সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায় কার্যকর করার জন্য।”   ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে ও বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।”   অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে বিভাগের ৮ জেলার এনসিপি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতির শপথ অবৈধ ঘোষণার রিট

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে ‘নীরব ভূমিকা’ পালনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চাওয়া হয়েছে।   সোমবার (২ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে এ রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   এর আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার ওই নোটিশটি প্রেরণ করেন।   আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানকে অসম্মান করে সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে তাকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধনের আহ্বান জানানো হয়। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবিতে আইনি নোটিশ, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন–কে অপসারণ করে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে জুলাই মাসকে অসম্মান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে নোটিশে বলা হয়, এটি সাংবিধানিক দায়িত্ব ও রাষ্ট্রপতির শপথের পরিপন্থী।   বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি Supreme Court of Bangladesh–এর আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার এ নোটিশ পাঠান। নোটিশটি সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জুলাই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শপথ ভঙ্গের শামিল। তাই তাঁকে অপসারণ করে সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন নতুন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে উদ্বোধনের ব্যবস্থাও গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।   এছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এই নোটিশ ঘিরে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
সংসদের প্রথম অধিবেশনে হাসিনার গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামী ১২ মার্চ। সংবিধান অনুযায়ী প্রথম দিনের অধিবেশনেই সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।   এবারের ভাষণে গত সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।   সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। ওই ভাষণের ওপর সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব আনা হয় এবং সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনা করেন। ভাষণটি রাষ্ট্রপতির দপ্তর নয়; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রস্তুত করে। পরে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পাঠ করেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ভাষণের খসড়া ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের জন্য এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সূত্র জানায়, এবারের ভাষণে গত সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, গুম-খুন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিবরণ স্থান পাচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও যুক্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন অঙ্গীকারও ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে থাকবে।   খসড়া প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাষণের বিষয়বস্তুতে হালনাগাদ তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। ভাষণটি প্রায় দেড়শ পৃষ্ঠার হতে পারে। তবে সংসদে রাষ্ট্রপতি এর সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করবেন; বাকি অংশ স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে পঠিত বলে গণ্য হবে।   ১২ মার্চের অধিবেশন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্ধারিত তারিখে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এটুকুই তিনি জানেন। এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।   আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামানও রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।   উল্লেখ্য, এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেন। তখনও ভাষণটি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বুধবার বিকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান।   নাহিদ ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ কারণে তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিশংসনের দাবি জানানোর পাশাপাশি গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেফতার করার আহ্বান জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব সরওয়ার আলম।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব পদে ফিরলেন সরওয়ার আলম

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে আবারও নিয়োগ পেয়েছেন মো. সরওয়ার আলম। তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকেই তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী তিনি অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ পেয়েছেন।   এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রেস সচিব হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব সরওয়ার আলম। তাকে সচিব পদমর্যাদায় এ নিয়োগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়। সর্বশেষ নতুন করে আবার তিনি রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব পদে নিয়োগ পেলেন।   সরওয়ার আলম বিসিএস ৮৫ ব্যাচের তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সচিব (জনসংযোগ), বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিআরটিএতে পরিচালক পদে থাকাকালে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি
নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ বেলা ১১টায় বসবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনের কক্ষে অধিবেশন আহ্বান করেছেন।   জাতীয় সংসদ সচিবালয় সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন ডাকার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসানো বাধ্যতামূলক। প্রথম অধিবেশনে সাধারণত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।   তবে চলতি পরিস্থিতিতে বিগত সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দু’জনই অনুপস্থিত থাকায় প্রথম অধিবেশন কীভাবে শুরু হবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোন সংসদ সদস্য অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন।   গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নির্বাচনের পরদিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী, প্রথম অধিবেশন নির্বাচনের বেধে দেওয়া সময়ের দুই দিন আগে অনুষ্ঠিত হবে।   সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মধ্যে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে। যদি এই পদ শূন্য থাকে, রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন সংসদ সদস্য প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করবেন।   গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ করান। এরপর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে।   সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয় সদস্যদের মধ্যে প্রস্তাবনা ও সমর্থনের মাধ্যমে। প্রস্তাবিত প্রার্থীকে দায়িত্ব গ্রহণের সম্মতি জানাতে হবে। তারপর ভোটাভুটির মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর অধিবেশন মুলতবী ঘোষণা করা হয় এবং শপথগ্রহণের মাধ্যমে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কার্যক্রম শুরু করেন।   সংবিধান অনুযায়ী, পূর্ববর্তী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের পদে বহাল থাকার নিয়ম রয়েছে। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী সংসদ গঠন হলে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কার্যকালের সমাপ্তি হয়।   এছাড়া সংবিধানে সরকারি দলের সদস্যকে স্পিকার এবং বিরোধী দলের সদস্যকে ডেপুটি স্পিকারের পদে রাখা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারের বিষয় দেখার পর মন্তব্য করবেন তথ্যমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারের বিষয় দেখার পর মন্তব্য করবেন তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পর্কে দেওয়া মন্তব্যগুলো পর্যালোচনা করে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।   সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা না করে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা সমীচীন নয়। বিষয়টি যথাযথভাবে দেখার পর সরকারের অবস্থান জানানো হবে।   সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কঠিন সময়ে বিএনপি তাঁর পাশে ছিল।   পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু পদক্ষেপকে তিনি ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন—এমন তথ্য সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।   মন্ত্রী বলেন, সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন প্রসঙ্গ এসেছে, যার মধ্যে বিএনপি এবং সহযোগিতার বিষয়ও রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে এ নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে না। সবদিক বিবেচনা করে পরবর্তীতে সরকারিভাবে জানানো হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে ইউনূস সরকার

বিদেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এলেও তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকরা সেই সফরগুলোতে বাধা হয়ে দাঁড়ান। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।   রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট দুটি দেশের আমন্ত্রণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত ডিসেম্বরে কসোভোর একটি অ্যাসেম্বলিতে ‘কি-নোট পেপার’ উপস্থাপনের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাঁকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।   এরপর কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে আসা একটি আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত অবাক করা এক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কাতারে একটি আন্তর্জাতিক সামিটে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল, যেখানে কেবল রাষ্ট্রপতিরই অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সফরটি বাতিল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নজিরবিহীন কৌশলের আশ্রয় নেয়। মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির নামে একটি চিঠির খসড়া তৈরি করে পাঠানো হয়, যেখানে লেখা ছিল— ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি ওই সামিটে অংশ নিতে পারছেন না।’   রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, এই চিঠি তৈরির আগে তাঁর সাথে কোনো পরামর্শই করা হয়নি। এমনকি তাঁকে সেই খসড়া চিঠিতে সই করার জন্য রীতিমতো চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি কি এতটাই রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন যে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যেতে পারবেন না?" পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রাষ্ট্রপতি সেই চিঠিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে পাল্টা প্রতিবাদ জানান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আচরণকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন। তবে সেই প্রতিবাদের কোনো জবাব তিনি পাননি।   সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপ করে বলেন, তাঁকে বিদেশ সফরে যেতে না দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর নাম ও পরিচয়কে আড়াল করে রাখা। তৎকালীন সরকার চায়নি কোথাও রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি থাকুক বা জনগণ তাঁর সম্পর্কে জানুক। এই সংকীর্ণ মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।   শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনই নয়, দেশের ভেতরেও তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তনে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় রেওয়াজ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে এভাবে জনবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।   শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ভাষাশহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।   এরপর রাত ১২টা ৬ মিনিটে তারেক রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।   পরবর্তীতে রাত ১২টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।   রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
কখন ও কোন প্রক্রিয়ায় বাছাই হবে নতুন রাষ্ট্রপতি
কখন ও কোন প্রক্রিয়ায় বাছাই হবে নতুন রাষ্ট্রপতি

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা—রাষ্ট্রপতি পদে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না এবং এলে তা কবে।   মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা সরকারের সময়। গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সেই সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠেছিল ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকায় সে দাবি কার্যকর হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনিই নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।   বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ চলমান থাকলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই। ফলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে বা সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কেউ এ পদে আসীন হতে পারবেন না—এমনটাই মত সংবিধান বিশ্লেষকদের।   সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে—মেয়াদ শেষ হওয়া, পদত্যাগ কিংবা অভিশংসন। এর যেকোনো একটি না ঘটলে নতুন নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে অতীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি আগ্রহী। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।   রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হয় বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারিত। কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। প্রার্থী হতে হলে কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়।   রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পড়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে তফশিল ঘোষণা করেন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হয়। একমাত্র প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।   সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে পদ শূন্য হলে ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। প্রয়োজনে অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন অধিবেশন আহ্বান করা হয়।   রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও ভারসাম্যের প্রশ্ন বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নিজস্ব এখতিয়ার হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অনেকটাই আনুষ্ঠানিক হলেও রাজনৈতিক সংকটের মুহূর্তে তার গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিশেষ করে সংসদ ভেঙে গেলে রাষ্ট্রপতি একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বহাল থাকেন।   রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ‘জুলাই সনদ’-এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কিছু সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।   সামনে কী হতে পারে নতুন সংসদ ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছে এবং স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সামনে রয়েছে। রাষ্ট্রপতি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ খুলবে। তবে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকলে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। তবে সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

দেশের পরবর্তী প্রশাসনিক রূপরেখা নির্ধারণে শুরু হয়েছে ক্ষণগণনা। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই নতুন মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। সচিবালয়ে আজ সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি নিশ্চিত করেন যে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।   মূল যে বিষয়গুলো আপনার জানা প্রয়োজন: শপথ কে পড়াবেন: আওয়ামী লীগ আমলে নিযুক্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।   অতিথি তালিকা: রাজকীয় এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন প্রায় এক হাজার দেশি-বিদেশি অতিথি।   প্রস্তুতি: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইতোমধ্যে অনুষ্ঠান আয়োজনের যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।   সংবিধানের ধারা বজায় রেখে এই নতুন পথচলা দেশের রাজনীতিতে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
পাবনা-৫ আসনে পোস্টাল ব্যালটে রাষ্ট্রপতির ভোট প্রদান
পাবনা-৫ আসনে পোস্টাল ব্যালটে রাষ্ট্রপতির ভোট প্রদান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।   সোমবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ সাগর হোসেন বাসসকে জানান, রোববার গভীর রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান করেন। তিনি পাবনা-৫ আসনের ভোটার হিসেবে নিজের ভোট দেন। ডাক বিভাগের একজন কর্মকর্তা ব্যালটটি রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন।   এবার দেশের অভ্যন্তরে তিনটি শ্রেণির নাগরিক—সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দিরা—পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।   পাশাপাশি বিশ্বের ১২২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন।   সব মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
১০ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটি নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা জারি
১০ ফেব্রুয়ারির সাধারণ ছুটি নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা জারি

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এতে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব এ বি এম আবু বাকার ছিদ্দিক।   সংশোধনী প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য চলতি মাসের ১০ ফেব্রুয়ারি যে বিশেষ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও বহাল থাকবে।   তবে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের এই বিশেষ ছুটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছুটা নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারির পর চলতি মাসে সুবিধাজনক যেকোনো একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে ‘কর্মদিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা থাকবে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের।   এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলে যে ছুটি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নকারী কারখানাগুলো প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো দিনে শ্রমিকদের দিয়ে এক দিন কাজ করিয়ে ওই ছুটির সমন্বয় করতে পারবে।   ওই ঘোষণায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা প্রদান করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।   রোববার (২৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়।   অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।   এতে আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আত্মরক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে পড়ে।   অধ্যাদেশে বলা হয়, ওই সময় জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুনর্বহালের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা প্রদান করা প্রয়োজন।   বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়ার কারণে আইন প্রণয়নের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কার্যকর না থাকায় এবং আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্রপতির কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন।   উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি প্রদানের অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, অধ্যাদেশটি পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ পেয়ে আইনে পরিণত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ২৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0