সুইজারল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা শেষ হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গত বছর মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের যেসব প্রধান পরমাণু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) কোনো পরিদর্শককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম বিশৃঙ্খলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলা এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে সফর করছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যেও সরাসরি আলোচনার জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে এই জোরালো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা একটি দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, গত বছরের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু সাইটগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে ইরান। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আইএইএ-এর মহাপরিচালকের সাথে পরিদর্শনের বিষয়ে তাদের কোনো বৈঠকই হয়নি। একই সাথে মার্কিন ও ইহুদিবাদী সামরিক আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আপাতত কোনো অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।
ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'চুক্তির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। আমিই সব সিদ্ধান্ত নেই। তিনি (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) কোনো সিদ্ধান্ত নেন না।' ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ট্রাম্প তা উড়িয়ে দিয়েছেন। ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। সোমবার দিনের শুরুর লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দাবি করেছে, তারা নাজারেথের কাছে অবস্থিত রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করে প্রতিরোধ করা হয়েছে। ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর নতুন চাপ তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদী অবস্থানে রয়েছে। সূত্র: জিও নিউজ
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি দুই পক্ষকেই ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার এবং কূটনৈতিক এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস বিশ্বাস করেন একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো সম্ভব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংঘাত এড়িয়ে পুনরায় যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ। জাতিসংঘের মহাসচিবের মতে, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সম্পন্ন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। এদিকে, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা প্রদানের জন্য মহাসচিবের এক ব্যক্তিগত দূত বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন জেডি ভ্যান্স। মূল বৈঠকের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কূটনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আসন্ন শান্তি আলোচনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে একই দিনে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলও শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি দুই পক্ষকে সহযোগিতা দিতে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধিদল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তরিকভাবে চুক্তির পথে এগোয়, তাহলে তেহরানও একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত—এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। কালিবাফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় বহু যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে তিনি বলেন, তেহরানের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ঘাটতি এখনো কাটেনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে কেবল শক্তি প্রদর্শন বা কৌশলগত প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে ইরান নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে জনগণের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে। কালিবাফ আরও বলেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ ও প্রত্যাশা। তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ‘চরম অবিশ্বাস’ নিয়ে অংশ নিচ্ছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, অতীতে ওয়াশিংটনের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং কূটনৈতিক আচরণে অসঙ্গতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন আরাগচি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ কারণে চলমান আলোচনায় ইরান অত্যন্ত সতর্ক ও সন্দিহান অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনার আগেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা আসায় কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আরাগচির এই বক্তব্য একদিকে যেমন বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন, তেমনি আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলও হতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসই শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা কতটা এগোতে পারে।
লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল, তবে এই প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেটার শুক্রবার এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলাই ইসরায়েল–লেবানন সম্পর্কের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যে এক দফা টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহকে আলোচনার বাইরে রাখা হলে শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, লেবাননের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
লেবাননের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে উদ্যোগ নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার ঘোষিত লক্ষ্য দুটি—হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্ত্রিসভাকে দ্রুত সরাসরি সংলাপ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর–এ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে লেবাননে কার্যকর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার পথ তৈরি করতে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এটিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মতো একটি ‘প্রাথমিক ধাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরে যেতে পারেন, যেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলী ফাইয়াদ সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সংলাপ তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, বর্তমান সংকটের সমাধানের জন্য প্রথমে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা জরুরি, এরপরই আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০ জন নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবিত আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানের ওপর।
শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। এ জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে অভিনন্দন জানান শেহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, উভয় দেশ তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক কার্যকর একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পদক্ষেপকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, বাকি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির জন্য উভয় দেশের ভূয়সী প্রশংসাও করেন শেহবাজ শরিফ। তার ভাষায়, দুই পক্ষই পরিপক্বতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগোতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তান আশা করছে, প্রস্তাবিত ‘ইসলামাবাদ সংলাপ’ সফল হলে তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক অগ্রগতির পথ খুলে দেবে।
সীমান্তে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর উত্তেজনা কমাতে চীনের উরুমকিতে আলোচনায় বসেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বেইজিংয়ের বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগে এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে উভয় দেশ নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদাব্রাবি জানান, সীমান্তে চলমান অস্থিরতা নিরসন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ‘টিটিপি’কে (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আফগানিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে—ইসলামাবাদের এমন অভিযোগের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে আফগান সরকার বরাবরই তাদের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এই আস্থার সংকট কাটাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে। এর আগে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের অনুরোধে গত ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চীনের এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, উরুমকির এই আলোচনা দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও আস্থার সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান এবং চীন যৌথভাবে একটি পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়। উভয় পক্ষই এই অঞ্চলে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এই শান্তি প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার লড়াই থামিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এটি একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাঁচ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু করা এবং সাধারণ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাকিস্তান ও চীন দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছে যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম রাখার কঠোর আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশ। তারা মনে করে, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি অনুসরণ করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং ও ইসলামাবাদ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাণহানি ঘটার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আমেরিকান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বলে মনে করছে পাকিস্তান ও চীন। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই পাঁচ দফা প্রস্তাব বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংঘাতরত পক্ষগুলো এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই মধ্যস্থতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনেও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয় বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বেইজিংয়ের এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে গ্রহণ করে তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। শান্তি প্রস্তাবের এই খসড়াটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই প্রস্তাবটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে যা এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের ইতি টানবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আরব দেশগুলো। যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এই পাঁচ দফা প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।