সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

শিশু অধিকার

খরা ও দারিদ্র্যে বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবারগুলো ঋণ শোধ এবং খাবারের খরচ জোগাতে শিশু কন্যাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আফগানিস্তানে খরায় নিঃস্ব পরিবার, ঋণ ও খাবারের জন্য বিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিশু কন্যাদের

আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাদগিস প্রদেশে দীর্ঘ খরা, ফসলহানি ও চরম দারিদ্র্যের কারণে অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক পরিবার। খাবার কেনা, পুরোনো ঋণ শোধ কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের চিকিৎসার খরচ জোগাতে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নিচ্ছেন অভিভাবকেরা। এমনকি আট থেকে দশ বছর বয়সী অনেক শিশুর বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ও তীব্র খরা, জীবিকার সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   বাদগিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাওয়ে বসবাসকারী ১১ বছর বয়সী খাতিরার জীবন সেই সংকটের একটি উদাহরণ। পরিবারের ঋণ শোধ করতে তাকে বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের কথা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে খাতিরা আগের মতো বাইরে যায় না। তার মা নূর বিবি জানান, মেয়েটি এখন প্রায়ই দুশ্চিন্তায় থাকে ও কাঁদে। হবু স্বামী বাড়িতে এলে খাতিরা তার সামনে পড়তে চায় না। মায়ের ভাষ্য, আগে মেয়েটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্তের পর তার আচরণে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়েছে।   বাদগিসের মানুষের জীবিকার প্রধান ভিত্তি কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন। প্রদেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষি এবং পশুপালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বছরের পর বছর খরায় জমিতে ফসল হচ্ছে না, পশুর জন্য ঘাস ও খাবার মিলছে না। অনেক পরিবার ঋণ করে চাষাবাদ চালানোর পর ফসল না পেয়ে আরও বিপাকে পড়েছে। জীবিকা হারিয়ে হাজারো মানুষ নিজেদের গ্রাম ছেড়ে কালা-ই-নাওয়ের মতো শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে কাজের আশায় এলেও অনেকে নিয়মিত আয় বা পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছেন না।   এমনই এক পরিবারে দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই মেয়ের বিয়ের কথাও ঠিক করা হয়েছে। তাদের মা গুল বোবো বলেন, মেয়েরা বিয়ের জন্য অনেক ছোট, তা তিনি জানেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাঁর স্বামী আগে অন্যের জমিতে চাষ করতেন। বীজ কেনা এবং ট্রাক্টর বা গাধা ভাড়া করে জমি চাষের খরচ জোগাতে তাঁকে ধার করতে হতো। খরায় ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গুল বোবো আশঙ্কা করেন, মেয়েরা বড় হয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারে। কিন্তু দরিদ্রতার চাপে তাঁদের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।   পরিবারের ঋণ পরিশোধে মেয়েদের বিয়ের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার ঘটনা বাদগিসের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে। ১১ বছর বয়সী গুলালাইয়ের বাবা-মা এক দোকানির কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। ঋণ শোধ করতে মেয়েটির বিয়ে ঠিক করা হয় চল্লিশের কোঠায় থাকা ওই দোকানির সঙ্গে। গুলালাইয়ের বাবা নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মেয়েদের অন্তত ২০ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দিতেন না। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখতে তাঁদের একজনকে এভাবে ত্যাগ করতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁদের পরিবার এখন ঘরে তৈরি রুটি, চা এবং মাঠ থেকে সংগ্রহ করা বুনো শাকপাতা খেয়েই দিন কাটায়।   খরার কারণে শুধু ফসল নয়, গবাদিপশুও হারিয়েছেন বহু পরিবার। বাদগিসের পশুর বাজারে এমন অনেক মানুষকে দেখা যায়, যাঁরা পশুখাদ্য কেনার সামর্থ্য না থাকায় নিজেদের মূল্যবান গরু বিক্রি করছেন। কোনো কোনো গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০১৮ সালে প্রদেশটিতে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে আবারও ধারাবাহিক খরায় ফসল নষ্ট ও গবাদিপশুর খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার হেরাত শহরের শারাক-ই-সাবজ বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস হলেও মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট কাটছে না।   হেরাতের ওই শিবিরে বসবাসকারী ১৫ বছর বয়সী দারেল্লাহ এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর স্বামী মোল্লার বয়স ৩০ বছর। ২০১৮ সালে খরার কারণে তাঁদের পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে আসে। দারেল্লাহ বলেন, এত অল্প বয়সে বিয়ে করা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তিনি নিজেকে এখনো শিশু মনে করেন এবং এই বয়সে বিয়ের সিদ্ধান্তকে ভালো বলে মনে করেন না। তাঁর ১১ ও নয় বছর বয়সী দুই বোনকেও বিয়ের জন্য ঠিক করা হয়েছে। পরিবারগুলোর দুর্দশার মধ্যে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেশী বাবা খাবার ও সংসার চালানোর অর্থ জোগাড় করতে না পেরে নিজের ১০ বছর বয়সী ছেলের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   শিশুবধূদের জীবনে বিয়ের পরও সংকট শেষ হয় না। অনেককে অল্প বয়সেই স্বামীর বাড়িতে গিয়ে রান্না, ঘরের কাজ এবং পরিবারের অন্য দায়িত্ব সামলাতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এসব কাজ করতে না পারলে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বয়ঃসন্ধির পরপরই সন্তান নেওয়ার চাপও তৈরি হয়, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আফগানিস্তানে মাতৃমৃত্যুর হার বিশ্বের উচ্চতমগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অল্পবয়সী মায়েদের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।   বাদগিসের খোশকিয়ানে এক কৃষকের টানা আট বছরের মধ্যে সাতবার গমের ফলন নষ্ট হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে তিনি পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মেয়ে মাজরির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ১২ বা ১৩ বছর বয়সে। এখন তাঁর বয়স ১৬ বা ১৭ বছর; স্বামীর বয়স চল্লিশের কোঠায়। তাঁর দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি আরেকটি সন্তান জন্মেছে। মাজরি বলেন, স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে রান্নাও করতে পারতেন না। তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা তাঁর সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। তাঁর ছোট বোনেরা এখনো বাড়িতে থাকলেও তাঁদের বিয়ের জন্য অর্থের ব্যবস্থা হওয়ার অপেক্ষা চলছে।   চরম দারিদ্র্যের কারণে অনেক পরিবারের কাছে মেয়ের বিয়ের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ সাময়িকভাবে বেঁচে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও বিয়ের অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। পুরো অর্থ দেওয়া হলে মেয়েকে স্বামীর পরিবারের কাছে পাঠানোর দাবি জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধির শুরুতেই। ১৪ বছর বয়সী ববি সামিয়ার বিয়ের দিনও সেই বাস্তবতা দেখা যায়। বাড়ি ছাড়ার আগে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামিয়া বলেন, তিনি খুশি নন, কারণ তিনি এখনো অনেক ছোট। পরিবারের অসহায়ত্বের কারণে মেয়েটিকে বিয়েতে যেতে হচ্ছে।   এই সংকটের মধ্যে শিশু ও নারীদের সহায়তার জন্য কাজ করা কর্মসূচিগুলোও আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনালের আফগানিস্তানবিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক মার্ক ক্যালডার বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে মেয়েদের জন্য প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, অথচ তাদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্লিনিকগুলোও সহায়তা কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১২ বছর বয়সী আয়েশার মতো কিছু মেয়ে এখনো স্কুলে যাচ্ছে, কিন্তু পরিবারের ঋণ শোধের জন্য ঠিক করা বিয়ের অর্থ পরিশোধ হয়ে গেলে তাদের স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হবে। তার মা চেষ্টা করছেন, যত দিন সম্ভব মেয়েকে স্কুলে রাখতে এবং বিয়ের বাকি অর্থ চেয়ে তাগাদা না দিতে, যাতে মেয়েকে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে না হয়।   দীর্ঘ খরা ও ফসলহানির সঙ্গে দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি মিলিয়ে আফগানিস্তানের বহু পরিবারকে এমন সিদ্ধান্তের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য মেয়েদের বিয়েতে রাজি হওয়াকে অনেকে বাধ্যতামূলক ত্যাগ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত শিশুদের শিক্ষা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। দারিদ্র্য দূর করা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানো এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি এক যুবক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১৫ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে সৌদি আরব

সৌদি আরবে কিশোর বয়সে বিক্ষোভ ও জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছেন ইউসুফ আল-মানাসিফ নামের এক যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আল-মানাসিফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে শিয়া সম্প্রদায়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত থাকা। এসব ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রায় বহাল থাকায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি উদ্বেগ জানিয়েছে।   আল-মানাসিফকে ২০১৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয় এবং পরে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলার বিচার পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে তাঁর বিচার হয়। আদালত ২০২২ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর মামলায় ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং জানাজায় উপস্থিত থাকার মতো কর্মকাণ্ডও অভিযোগের অংশ ছিল। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব জমায়েতকে কখনো কখনো বিক্ষোভ বা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আল-মানাসিফকে নির্যাতন করা হয় এবং জোর করে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এমন একটি স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের পাঁচ বছর পর, ২০২২ সালে, প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং স্বীকারোক্তি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে এসব অভিযোগ গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   আল-মানাসিফের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। তাঁদের হয়ে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন রিপ্রিভ ও ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার পরামর্শক দুয়া ধাইনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা এখন কার্যত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করতে পারছেন না। প্রকাশ্যে কথা বললে তাঁদের হয়রানি বা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে বলেও মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন আশঙ্কার বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   আল-মানাসিফের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাটি সৌদি আরবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। ২০২০ সালে দেশটির রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ঘোষণায় বলা হয়, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পরবর্তী সময়েও এমন কয়েকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনার সময় ১৮ বছরের নিচে ছিলেন। ফলে ঘোষিত নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য আল-মানাসিফের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা মানবাধিকারের ক্ষেত্রে গুরুতর অবনতি হবে। জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও এর আগে তাঁর মামলাসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সৌদি আরবকে ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী, শিশু অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ।   এ ধরনের মামলার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আলি আল-সুবাইতির নাম উল্লেখ করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁকে তাঁর চাচা মুস্তাফা আল-সুবাইতির সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় বলে মানবাধিকার সংগঠন সানাদ জানিয়েছে। আলি আল-সুবাইতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে এমন কর্মকাণ্ডও ছিল, যেগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ঘটনা সৌদি আরবে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও দণ্ডের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য জানা জরুরি।   সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বৃদ্ধিও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা। সংস্থাটির তথ্য বলছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ ছিলেন মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি, যাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সবগুলোই প্রাণঘাতী অপরাধ ছিল না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি অহিংস অপরাধেও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার দেশটির বিচারব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ও মামলার ধরন সম্পর্কে বিভিন্ন সংস্থার হিসাব পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে।   জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আগেও আল-মানাসিফের মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৌদি আরব এই সনদের পক্ষভুক্ত দেশ। ফলে দেশটির ঘোষিত নীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে বাস্তব বিচারপ্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।   রিপ্রিভের দুয়া ধাইনি মনে করেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য একজন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, আল-মানাসিফের বয়স ও অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচও তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রায় স্থগিত, দণ্ড পরিবর্তন বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।   আল-মানাসিফের পরিণতি কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সর্বোচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার খবর তাঁর জন্য আইনি প্রতিকারের সুযোগ আরও সীমিত করে দিয়েছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন। তাঁরা সৌদি কর্তৃপক্ষকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করে মামলাটি পুনর্বিবেচনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার ঘোষিত নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ১৬ অক্টোবর ২০২৬; হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে নেওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ফেরাতে কিয়েভের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেন থেকে নিরাপত্তার কারণে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেওয়া শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কিয়েভ সরকার বলছে, আদালতের সিদ্ধান্ত ও দত্তক প্রক্রিয়ার কারণে এসব শিশুদের দেশে ফেরানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে থাকা শিশু এবং এতিমসহ প্রায় ৪ হাজার ৮০০ শিশুকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে অন্তত কয়েক ডজন শিশুর ইউক্রেনে প্রত্যাবর্তন ইতালির আদালতের রায়ের কারণে আটকে আছে বলে দাবি কিয়েভের।   এর মধ্যে কিছু শিশু ইতালিতে দত্তক প্রক্রিয়ার আওতায় চলে গেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এপ্রিল মাসে, যখন ইউক্রেন জানায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ‘সাশা’কে ইতালির একটি পরিবার আইনগতভাবে দত্তক নিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, ওই কিশোরের মা এখনও তাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে চান।   ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে কিছু এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং শিশুদের দেশে ফেরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, বিদেশে থাকা শিশুদের স্থায়ীভাবে অন্য দেশে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কিয়েভ।   ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দিমিত্রো লুবিনেতস অভিযোগ করেছেন, ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সহযোগিতা করছে না এবং শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইউক্রেনকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এটি শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্থানান্তরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।   অন্যদিকে ইতালি বলছে, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ইতালির আইন অনুযায়ী, অভিভাবকহীন নাবালকদের সুরক্ষায় কঠোর বিধান রয়েছে, যার ফলে আদালতের অনুমতি ছাড়া তাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।   ইতালিতে আশ্রয় পাওয়া শিশুদের অনেককে শুরুতে যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তাদের জন্য নতুন আইনি অভিভাবক নিয়োগ করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় তত্ত্বাবধানের পরিবর্তে ইতালীয় তত্ত্বাবধান কার্যকর হয়।   কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, কিছু শিশু ধীরে ধীরে জন্মভূমির ভাষা ও পরিচয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ ইতালিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে শিশুদের স্থায়ীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের জন্য জনমিতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   অন্যদিকে কিছু ইতালীয় অভিভাবক পরিবার বলছে, তারা শিশুদের নিরাপদ জীবন ও শিক্ষা নিশ্চিত করছে এবং যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। বর্তমানে ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ইউক্রেনীয় শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতভিত্তিক একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে মানবাধিকার ও অভিভাবকত্ব ইস্যুতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

শিশু ও কিশোরদের ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী আজ এই নোটিশ প্রেরণ করেন। নোটিশটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।   নোটিশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক এই প্রযুক্তির আসক্তি তাদের ভবিষ্যৎ বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারণে বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোররা খেলাধুলা ও পড়াশোনায় চরম অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি এসব মাধ্যমে ভুল তথ্য, প্রোপাগান্ডা ও পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা তাদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। ডিজিটাল মাধ্যমের এমন সহজলভ্যতা তাদের বিপথগামী করছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়।   নোটিশে আরও বলা হয়, ডিজিটাল মাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে অনেক শিশু-কিশোর জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এবং ক্রমেই তারা অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম মে ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০