সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সংকট

খলিলুর রহমান
রোহিঙ্গা সংকট গুরুতর মানবিক বিপর্যয়, বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান খলিলুর রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটকে ‘গুরুতর মানবিক সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করে এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সহিংসতার পরিবর্তে আলোচনা, সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।   জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ চলাকালে রোহিঙ্গা সংকট আবারও আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।জাতিসংঘের সংবাদমাধ্যম ইউএন নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।   তাঁর ভাষায়, একটি জনগোষ্ঠী আক্রমণের শিকার হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস হয়েছে এবং নিজেদের দেশ থেকেই তাদের বিতাড়িত হতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের টিকে থাকার সক্ষমতা এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কথাও উল্লেখ করেন।   রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, সহিংসতা কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারে না; বরং সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক জায়গায় এনে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই এ ধরনের সংকটের কার্যকর সমাধান খুঁজতে হবে।   রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের গত বছরের কক্সবাজার সফরের কথা স্মরণ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রমজানের এক সন্ধ্যায় এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মহাসচিবের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের হাতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা প্ল্যাকার্ড ছিল।   বর্তমানে বাংলাদেশ কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে বলে বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ওপর মানবিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপও অব্যাহত রয়েছে।   জাতিসংঘের ২০২৫-২৬ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী মিলিয়ে প্রায় ১৬ লাখ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। পরিকল্পনাটিতে জীবনরক্ষাকারী সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কাজ করা এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান। বৈঠকে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, মানবিক সংকট, আঞ্চলিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।   জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত মনোযোগ ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখা এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে পারেন।   আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজন হওয়ার কথাও জাতিসংঘের বিবৃতিতে রয়েছে। ফলে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই সংকটটির দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের কেন্দ্রীয় বিষয়। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জোরদার এবং সংকটের মূল কারণ মোকাবিলার বিষয়টি সামনে আসছে।   রোহিঙ্গা সংকটের অভিজ্ঞতাকে নিজের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের বৃহত্তর লক্ষ্যটির সঙ্গেও যুক্ত করেছেন খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর এক বছরের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার, প্রয়োজনীয় সংস্কারে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি, সংস্থাটির আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো তাঁর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
রুমিন ফারহানা
সরকারের সংকটের কারণ জানালেন রুমিন ফারহানা, বললেন ‘দোষ দিতে চাই না’

সরকারের ওপর ঋণ পরিশোধ ও জ্বালানি আমদানির ব্যয়ের বড় চাপ রয়েছে উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারকে দোষ দিতে চান না। তাঁর ভাষ্য, নানা ধরনের ব্যয় সামলাতে গিয়ে সরকার বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং চাইলেও একসঙ্গে সব উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল ইউনিয়নের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।   সরকারের আর্থিক চাপের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারকে একদিকে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বেশি দামে তেল, ডিজেল ও গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। এসব ব্যয়ের কারণে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য তাঁর দেওয়া চাহিদাপত্রের মোট মূল্য ৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে অরুয়াইল থেকে রাজাপুর বাজার হয়ে রানিদিয়ার সড়কের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আরও কয়েকটি সড়কের জন্যও তিনি চাহিদাপত্র দিয়েছেন বলে জানান।   এসব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি। নতুন বাজেটের অর্থ ছাড় করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে—এমন কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।   চিত্র নদীর ওপর সেতু নির্মাণের বিষয়েও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি রুমিন ফারহানার দেওয়া তথ্য; সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   নিজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জনগণ ও সরকারের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এলাকার মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলেও জানান।   দীর্ঘ সময় এলাকায় তাঁকে দেখা না গেলে নেতা-কর্মীদের মুঠোফোনে তাঁর কর্মকাণ্ড অনুসরণ করার আহ্বান জানান রুমিন ফারহানা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সংসদে কিংবা এলাকায়—কোথাও না কোথাও জনগণের জন্য কাজ করছেন।   রুমিন ফারহানার বক্তব্যে মূলত সরকারের আর্থিক চাপের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে। তবে ঋণ, জ্বালানি আমদানি ও সামগ্রিক সরকারি ব্যয়ের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য সরকারি বাজেট ও অর্থনৈতিক উপাত্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা
বিশ্বের মানুষ চায় একে-অপরের সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা

বিশ্বের ৩৪টি দেশের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি মানুষের সমর্থন এখনো শক্তিশালী। একই সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও বেড়েছে। তবে বিশ্ব নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের ভূমিকা নিয়ে আগের তুলনায় কম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।   রকফেলার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফোকালডেটা পরিচালিত জরিপটি ২১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়। এতে ৩৫ হাজার ৩৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, গত এক বছরে বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।   তারপরও ৫৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে জাতীয় স্বার্থের কিছুটা ছাড় দিতে হলেও দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ২০২৫ সালের জরিপে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। যুদ্ধ ও সংঘাত প্রতিরোধকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ৩৪ দেশের মধ্যে ২১টি দেশের মানুষ শীর্ষে রেখেছেন।   বিশ্ব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তারা স্বস্তিবোধ করেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ শতাংশ। বিপরীতে কানাডা ৬০ শতাংশ, জাপান ৫৮ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া ৫৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেকে। নিজেদের দেশকে বাদ দিয়ে ৪২ শতাংশ রাশিয়াকে, ৩৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৩০ শতাংশ চীনকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেছেন। তবে দেশভেদে এই ধারণায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মানুষ এমন একটি আন্তর্জাতিক জোটকে সমর্থন করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন কোনোটি অংশ না নিলেও অন্য দেশগুলো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে। অর্থাৎ দুই পরাশক্তির বাইরে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ ভূমিকার প্রতিও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে।   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর আস্থা ৬৯ শতাংশে, জাতিসংঘের ওপর ৬২ শতাংশে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ওপর ৫৭ শতাংশে, বিশ্বব্যাংকের ওপর ৫৫ শতাংশে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর ৫১ শতাংশে উঠেছে।   তবে অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগও স্পষ্ট। মাত্র ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে তাদের দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আশাবাদ ২৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫০ শতাংশে এবং চীনে ১৬ পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশে নেমেছে।   জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গবেষকদের মতে, ফলাফলগুলো দেখাচ্ছে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের হতাশা বাড়লেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের আগ্রহ কমেনি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বজুড়ে সংকটের মধ্যেও অজেয় চীনের ‘জ্বালানি দুর্গ’?

বর্তমান উত্তাল বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের বাজার যখন টালমাটাল, তখন চীন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে, তখন বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল ভোগ করছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি গড়ে তুলেছে এক অজেয় ‘জ্বালানি দুর্গ’। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এই চরম সংকটের সময়েও চীন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের তিনটি প্রধান কৌশল: ১. নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: চীন বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ এখন আমদানিকৃত তেলের বদলে নিজস্ব ক্লিন এনার্জির ওপর নির্ভরশীল। ২. বিশাল মজুত ব্যবস্থা: জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চীন বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রেখেছে। এই মজুত দিয়ে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় মোকাবিলা করতে সক্ষম। ৩. বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার: চীনের রাস্তায় এখন পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জয়জয়কার। ফলে সাধারণ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, "চীন এই সংকটের সময় পেছন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে যে, তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।" যখন এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীনের এই স্বনির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বেইজিং প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখানের হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ: সংকটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1) প্রত্যাখানের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 'শোরলাইট' (Shorelight) নামক একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে যেখানে ভিসা প্রত্যাখানের হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এই চিত্র আরও ভয়াবহ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসা নীতি বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতার বিপরীতে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর মেধা বা আর্থিক স্বচ্ছলতার চেয়ে তার দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই ভিসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ হারিয়ে অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই 'ভিসা জটিলতা' কেবল শিক্ষার্থীদের স্বপ্নই নষ্ট করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধুমাত্র গত গ্রীষ্মেই ভিসা ইস্যু ৩৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের টিউশন ফি থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে আবেদনকারীদের 'অ-অভিবাসী অভিপ্রায়' (Non-immigrant intent) প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের প্রতি কড়াকড়িকে দায়ী করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং 'ডুয়াল ইনটেন্ট' (Dual Intent) পলিসি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে কমছে জ্বালানি তেলের দাম, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিয়মিত গ্রেডের প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের (পেট্রোল) দাম প্রায় ১ সেন্ট কমে ৪.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই তেলের দাম সর্বোচ্চ ৪.১৭ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই হিসেবে গত কয়েক দিনে গ্যালন প্রতি দাম কমেছে মোট ৫ সেন্ট। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালী' এখনও ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। মঙ্গলবার ভোরে তেলের ফিউচার মার্কেটে দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় কোনো সুখবর এখনই নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমতে থাকলেও আগামী এক বা দুই সপ্তাহের আগে গ্যালন প্রতি গড় মূল্য ৪ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ছিল গ্যালন প্রতি ৩ ডলারের নিচে। সেই আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, তিন মাসের ‘বাফার স্টক’ গড়ছে সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের বিশেষ মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে একটি অসাধু চক্র মজুতদারি ও কালোবাজারির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার বসে নেই; এসব অপতৎপরতা রুখতে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর ওপর সাধারণ মানুষের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। এদিকে, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ দিনের মজুত রাখা হতো, সেখানে বর্তমান মজুতকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, মানুষের মনে আস্থা ফিরে এলে ‘প্যানিক বায়িং’ দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া, এদিনের মন্ত্রিসভায় রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইন হিসেবে উপস্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০