সংকট

ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বজুড়ে সংকটের মধ্যেও অজেয় চীনের ‘জ্বালানি দুর্গ’?

বর্তমান উত্তাল বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের বাজার যখন টালমাটাল, তখন চীন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে, তখন বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল ভোগ করছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি গড়ে তুলেছে এক অজেয় ‘জ্বালানি দুর্গ’। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এই চরম সংকটের সময়েও চীন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের তিনটি প্রধান কৌশল: ১. নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: চীন বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ এখন আমদানিকৃত তেলের বদলে নিজস্ব ক্লিন এনার্জির ওপর নির্ভরশীল। ২. বিশাল মজুত ব্যবস্থা: জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চীন বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রেখেছে। এই মজুত দিয়ে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় মোকাবিলা করতে সক্ষম। ৩. বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার: চীনের রাস্তায় এখন পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জয়জয়কার। ফলে সাধারণ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, "চীন এই সংকটের সময় পেছন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে যে, তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।" যখন এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীনের এই স্বনির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বেইজিং প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখানের হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ: সংকটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1) প্রত্যাখানের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 'শোরলাইট' (Shorelight) নামক একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে যেখানে ভিসা প্রত্যাখানের হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এই চিত্র আরও ভয়াবহ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসা নীতি বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতার বিপরীতে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর মেধা বা আর্থিক স্বচ্ছলতার চেয়ে তার দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই ভিসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ হারিয়ে অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই 'ভিসা জটিলতা' কেবল শিক্ষার্থীদের স্বপ্নই নষ্ট করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধুমাত্র গত গ্রীষ্মেই ভিসা ইস্যু ৩৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের টিউশন ফি থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে আবেদনকারীদের 'অ-অভিবাসী অভিপ্রায়' (Non-immigrant intent) প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের প্রতি কড়াকড়িকে দায়ী করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং 'ডুয়াল ইনটেন্ট' (Dual Intent) পলিসি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে কমছে জ্বালানি তেলের দাম, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিয়মিত গ্রেডের প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের (পেট্রোল) দাম প্রায় ১ সেন্ট কমে ৪.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই তেলের দাম সর্বোচ্চ ৪.১৭ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই হিসেবে গত কয়েক দিনে গ্যালন প্রতি দাম কমেছে মোট ৫ সেন্ট। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালী' এখনও ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। মঙ্গলবার ভোরে তেলের ফিউচার মার্কেটে দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় কোনো সুখবর এখনই নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমতে থাকলেও আগামী এক বা দুই সপ্তাহের আগে গ্যালন প্রতি গড় মূল্য ৪ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ছিল গ্যালন প্রতি ৩ ডলারের নিচে। সেই আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, তিন মাসের ‘বাফার স্টক’ গড়ছে সরকার

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তিন মাসের বিশেষ মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতাকে পুঁজি করে দেশে একটি অসাধু চক্র মজুতদারি ও কালোবাজারির পাঁয়তারা করছে। তবে সরকার বসে নেই; এসব অপতৎপরতা রুখতে ইতোমধ্যে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই দিনে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। এর ওপর সাধারণ মানুষের মাঝে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি গোষ্ঠী সবসময় এ ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালায়। এদিকে, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। আগে যেখানে ১৫ দিনের মজুত রাখা হতো, সেখানে বর্তমান মজুতকে তিনি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তেলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, মানুষের মনে আস্থা ফিরে এলে ‘প্যানিক বায়িং’ দ্রুতই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া, এদিনের মন্ত্রিসভায় রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত অর্থ আইন এবং ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইন হিসেবে উপস্থাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা
সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি চেয়ে চিঠি দিল বাংলাদেশ

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে যে পরিমাণ জ্বালানি আসে, তার বাইরেও জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি সহায়তা চেয়ে ভারত সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে আপদকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সাথে জ্বালানি মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ সম্বলিত চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত ভারত সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে সরাসরি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন দিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ৮০ হাজার টন সরবরাহের কথা রয়েছে।  আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ভারতের এই অতিরিক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি: অস্তিত্বের সংকটে এক রহস্যময় উত্তরাধিকারী

এক উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন মোজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’।   তবে এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান তার ইতিহাসের কঠিনতম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, বংশপরম্পরা ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাবার ছায়া থেকে ক্ষমতার শীর্ষে মোজতবা খামেনি গত কয়েক দশক ধরে তার বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ইরানের প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে মনোনীত করার পরপরই কট্টরপন্থিরা রাজপথে নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। দেশটির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নতুন কমান্ডারের প্রতি 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে অনুগত থাকার শপথ নিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়েও লেখা ছিল, "আপনার সেবায় নিয়োজিত, সৈয়দ মোজতবা"। ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিশোধের আগুন মোজতবার এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি শুধু বাবাকেই হারাননি, হারিয়েছেন মা, স্ত্রী এবং এক সন্তানকেও। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও রহস্যময় ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই মোজতবাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা। গত রাতেই তেহরানের রাজপথে "মোজতবার মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা গেছে। বিরোধীদের মতে, তার শাসনামলে ইরান আরও কট্টরপন্থি ও দমনমূলক হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নেতৃত্বকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকে ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ মোজতবা খামেনি বরাবরই জনসমক্ষে আসতে অপছন্দ করেন। তার কোনো পাবলিক বক্তৃতার রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে তার গভীর সম্পর্ক তাকে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কেউ তাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ইরানি সংস্করণ’ হিসেবে দেখছেন—যিনি কি না কঠোর হাতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেও কিছুটা সামাজিক পরিবর্তনের আভাস দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে মোজতবা খামেনি ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

নাহিদা বৃষ্টি
আমেরিকা

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0