আমেরিকায় ফ্রিতে চোখের চিকিৎসা , কিন্তু কোথায় যাবেন জানেন কি?
যুক্তরাষ্ট্রে চোখের পরীক্ষা, চশমা কিংবা অপারেশনের খরচ বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই অথবা ইন্স্যুরেন্সে প্রয়োজনীয় আই কেয়ার কভার হয় না, তাদের চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট বলছে, কম আয়ের ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে বা কম খরচে চোখ পরীক্ষা, চশমা এবং কিছু ক্ষেত্রে চোখের অপারেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে ‘৫ হাজার ডলারের যেকোনো চোখের অপারেশন সবার জন্য ফ্রি’ এমন কোনো একক জাতীয় কর্মসূচি নেই। কে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন, কোন চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, রোগীর আর্থিক অবস্থা, ইন্স্যুরেন্স এবং স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।
লায়ন্স ক্লাবের মাধ্যমে চোখের চিকিৎসায় সহায়তা
লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় লায়ন্স ক্লাব আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে চোখের চিকিৎসার খরচে সহায়তা করে এবং কোনো কোনো এলাকায় চশমার ব্যবস্থাও করে। তবে প্রতিটি লায়ন্স ক্লাব একই ধরনের সুবিধা দেয় না। তাই নিজের এলাকার ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কী সহায়তা পাওয়া যায়, তা জানতে হয়।
আইকেয়ার আমেরিকা
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথালমোলজির আইকেয়ার আমেরিকা কর্মসূচি যোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসাবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার সুযোগ দেয়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরা এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। বয়স, চোখের রোগের ঝুঁকি এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সেবা নির্ধারিত হয়।
ভিএসপি আইজ অব হোপ
কম আয়ের এবং চোখের পরীক্ষা বা প্রেসক্রিপশন চশমার জন্য ইন্স্যুরেন্স কভারেজ না থাকা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভিএসপি আইজ অব হোপ গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে প্রেসক্রিপশন চশমা বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে ২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক চাহিদার কারণে আইজ অব হোপের গিফট সার্টিফিকেট নতুন করে বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এই সুবিধা নিতে আগ্রহীদের কর্মসূচিটির সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে হবে।
বিনামূল্যে ছানি অপারেশনও সম্ভব
চোখের অপারেশনের খরচ বহন করতে না পারলে কিছু বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্যাটারাক্ট বা ছানি অপারেশনের সুযোগ রয়েছে। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট এ ধরনের সহায়তার জন্য মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এবং অপারেশন সাইটের কথা উল্লেখ করেছে।
মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এমন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করে, যাদের ছানির কারণে দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যাদের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা অন্য ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে অপারেশনের খরচ দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রোগীর নিজের পক্ষে অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার সামর্থ্যও না থাকতে হবে।
অপারেশন সাইটও আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত করে। বর্তমান যোগ্যতা অনুযায়ী, রোগীর আয় সাধারণত ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশ বা তার নিচে হতে হয়, ক্যাটারাক্ট সার্জারি চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় হতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইন্স্যুরেন্সবিহীন বা অপারেশন কভার করে না এমন ইন্স্যুরেন্সধারী হতে হয়। এই কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিকত্ব বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির শর্তও রয়েছে।
কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও বিশ্ববিদ্যালয়েও কম খরচে সেবা
ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ী, কাছাকাছি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চোখের ক্লিনিক আছে কি না খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। কিছু কেন্দ্র বিনামূল্যে বা রোগীর আয়ের ভিত্তিতে কম খরচে সেবা দিয়ে থাকে।
একইভাবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে অপটোমেট্রি অথবা অপথালমোলজি প্রোগ্রাম রয়েছে, সেখানে কম খরচে চোখের চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে। সাধারণত প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থী বা চিকিৎসকেরা অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এসব সেবা দিয়ে থাকেন।
শিশুদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে
শিশুদের চোখের চিকিৎসায় মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা চিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যোগ্য পরিবারের শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ভিশন কেয়ারের খরচ এসব কর্মসূচিতে কভার হতে পারে। রাজ্যভেদে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তিত হয়।
৬ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ইনফ্যান্টসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগও রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট রাজ্যে ‘অল চিলড্রেন সি’ কর্মসূচির মাধ্যমে চোখের সমস্যার লক্ষণ থাকা শিশুদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
মেডিকেয়ার থাকলেও সব চোখের চিকিৎসা ফ্রি নয়
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়স হলেই মেডিকেয়ার নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও চশমার সব খরচ দেয়, এমন ধারণাও সঠিক নয়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট বলছে, অরিজিনাল মেডিকেয়ার সাধারণ রুটিন আই এক্সাম বা অধিকাংশ চশমার খরচ কভার করে না। তবে ডায়াবেটিস, বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমার উচ্চ ঝুঁকি এবং ক্যাটারাক্টের মতো নির্দিষ্ট অবস্থায় কিছু আই কেয়ার কভার হতে পারে।
সহায়তা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি খোঁজা। চোখ পরীক্ষা বা চশমা প্রয়োজন হলে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, লায়ন্স ক্লাব এবং স্বল্প খরচের আই ক্লিনিক সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। ছানি অপারেশনের প্রয়োজন অথচ খরচ বহন করা সম্ভব নয় এমন রোগীরা মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ বা অপারেশন সাইটের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব কর্মসূচিতে সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। আয়, ইন্স্যুরেন্স, বয়স, রোগের ধরন, ইমিগ্রেশন বা রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস এবং স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার আগে নিজের এলাকায় কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়, তা যাচাই করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চোখের পরীক্ষা, চশমা কিংবা অপারেশনের খরচ বহন করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই অথবা ইন্স্যুরেন্সে প্রয়োজনীয় আই কেয়ার কভার হয় না, তাদের চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট বলছে, কম আয়ের ও যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে বা কম খরচে চোখ পরীক্ষা, চশমা এবং কিছু ক্ষেত্রে চোখের অপারেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ‘৫ হাজার ডলারের যেকোনো চোখের অপারেশন সবার জন্য ফ্রি’ এমন কোনো একক জাতীয় কর্মসূচি নেই। কে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন, কোন চিকিৎসা দেওয়া হবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, রোগীর আর্থিক অবস্থা, ইন্স্যুরেন্স এবং স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে। লায়ন্স ক্লাবের মাধ্যমে চোখের চিকিৎসায় সহায়তা লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় লায়ন্স ক্লাব আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে চোখের চিকিৎসার খরচে সহায়তা করে এবং কোনো কোনো এলাকায় চশমার ব্যবস্থাও করে। তবে প্রতিটি লায়ন্স ক্লাব একই ধরনের সুবিধা দেয় না। তাই নিজের এলাকার ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে কী সহায়তা পাওয়া যায়, তা জানতে হয়। আইকেয়ার আমেরিকা আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথালমোলজির আইকেয়ার আমেরিকা কর্মসূচি যোগ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসাবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসার সুযোগ দেয়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যক্তিরা এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন। বয়স, চোখের রোগের ঝুঁকি এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে সেবা নির্ধারিত হয়। ভিএসপি আইজ অব হোপ কম আয়ের এবং চোখের পরীক্ষা বা প্রেসক্রিপশন চশমার জন্য ইন্স্যুরেন্স কভারেজ না থাকা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভিএসপি আইজ অব হোপ গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে প্রেসক্রিপশন চশমা বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক চাহিদার কারণে আইজ অব হোপের গিফট সার্টিফিকেট নতুন করে বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এই সুবিধা নিতে আগ্রহীদের কর্মসূচিটির সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে হবে। বিনামূল্যে ছানি অপারেশনও সম্ভব চোখের অপারেশনের খরচ বহন করতে না পারলে কিছু বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্যাটারাক্ট বা ছানি অপারেশনের সুযোগ রয়েছে। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট এ ধরনের সহায়তার জন্য মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এবং অপারেশন সাইটের কথা উল্লেখ করেছে। মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ এমন ব্যক্তিদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করে, যাদের ছানির কারণে দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যাদের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড বা অন্য ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে অপারেশনের খরচ দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে রোগীর নিজের পক্ষে অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করার সামর্থ্যও না থাকতে হবে। অপারেশন সাইটও আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত করে। বর্তমান যোগ্যতা অনুযায়ী, রোগীর আয় সাধারণত ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশ বা তার নিচে হতে হয়, ক্যাটারাক্ট সার্জারি চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় হতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইন্স্যুরেন্সবিহীন বা অপারেশন কভার করে না এমন ইন্স্যুরেন্সধারী হতে হয়। এই কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিকত্ব বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির শর্তও রয়েছে। কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও বিশ্ববিদ্যালয়েও কম খরচে সেবা ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ী, কাছাকাছি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চোখের ক্লিনিক আছে কি না খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। কিছু কেন্দ্র বিনামূল্যে বা রোগীর আয়ের ভিত্তিতে কম খরচে সেবা দিয়ে থাকে। একইভাবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে অপটোমেট্রি অথবা অপথালমোলজি প্রোগ্রাম রয়েছে, সেখানে কম খরচে চোখের চিকিৎসা পাওয়া যেতে পারে। সাধারণত প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থী বা চিকিৎসকেরা অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে এসব সেবা দিয়ে থাকেন। শিশুদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে শিশুদের চোখের চিকিৎসায় মেডিকেইড এবং চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রাম বা চিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যোগ্য পরিবারের শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ভিশন কেয়ারের খরচ এসব কর্মসূচিতে কভার হতে পারে। রাজ্যভেদে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তিত হয়। ৬ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ইনফ্যান্টসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের প্রাথমিক মূল্যায়নের সুযোগও রয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট রাজ্যে ‘অল চিলড্রেন সি’ কর্মসূচির মাধ্যমে চোখের সমস্যার লক্ষণ থাকা শিশুদের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাওয়া যায়। মেডিকেয়ার থাকলেও সব চোখের চিকিৎসা ফ্রি নয় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়স হলেই মেডিকেয়ার নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও চশমার সব খরচ দেয়, এমন ধারণাও সঠিক নয়। ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউট বলছে, অরিজিনাল মেডিকেয়ার সাধারণ রুটিন আই এক্সাম বা অধিকাংশ চশমার খরচ কভার করে না। তবে ডায়াবেটিস, বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, গ্লুকোমার উচ্চ ঝুঁকি এবং ক্যাটারাক্টের মতো নির্দিষ্ট অবস্থায় কিছু আই কেয়ার কভার হতে পারে। সহায়তা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসূচি খোঁজা। চোখ পরীক্ষা বা চশমা প্রয়োজন হলে স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, লায়ন্স ক্লাব এবং স্বল্প খরচের আই ক্লিনিক সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। ছানি অপারেশনের প্রয়োজন অথচ খরচ বহন করা সম্ভব নয় এমন রোগীরা মিশন ক্যাটারাক্ট ইউএসএ বা অপারেশন সাইটের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব কর্মসূচিতে সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা সবার জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হয় না। আয়, ইন্স্যুরেন্স, বয়স, রোগের ধরন, ইমিগ্রেশন বা রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস এবং স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়ার আগে নিজের এলাকায় কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়, তা যাচাই করাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
আইসিইর হাতে আটক হবু স্ত্রী, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত টেক্সাসের ব্যবসায়ী
স্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রাখতে, স্ত্রীকেই হত্যার অভিযোগ ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধের
তীব্র পানি সংকটে হাজারো আমেরিকান, এখনো নীরব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
আমেরিকায় কম আয়ের পরিবার বা হঠাৎ আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের জন্য খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি কর্মসূচি রয়েছে। ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রি থেকে সরাসরি খাবার নেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য পরিবারগুলো স্ন্যাপ, উইক এবং টিইএফএপের মতো কর্মসূচির মাধ্যমেও সহায়তা পেতে পারে। তবে সব কর্মসূচি থেকে প্রত্যেক সপ্তাহে বিনামূল্যে বাজার পাওয়া যায়, এমন ধারণা সঠিক নয়। কোন কর্মসূচিতে কতটুকু সহায়তা পাওয়া যাবে, কতবার পাওয়া যাবে এবং কারা যোগ্য হবেন, তা রাজ্য, পরিবার, আয় এবং স্থানীয় সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রি দ্রুত খাবারের প্রয়োজন হলে স্থানীয় ফুড ব্যাংক ও ফুড প্যান্ট্রি অন্যতম সহজ উপায়। ফিডিং আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, তাদের জাতীয় নেটওয়ার্কে ২০০টির বেশি ফুড ব্যাংক এবং ৬০ হাজারের বেশি ফুড প্যান্ট্রি ও মিল প্রোগ্রাম রয়েছে। স্থানভেদে এসব কেন্দ্র থেকে চাল, পাস্তা, সিরিয়াল, ক্যানজাত খাবার, ফল ও সবজি, দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের প্রোটিনজাত খাবার পাওয়া যেতে পারে। তবে কী খাবার পাওয়া যাবে এবং কতবার নেওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্যান্ট্রির সরবরাহ ও নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে। ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছের ফুড প্যান্ট্রি খোঁজা যায়। ২১১ নম্বরে কল করেও এলাকায় জরুরি খাবার সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্যান্ট্রিতে যোগাযোগ করে সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। স্ন্যাপ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ কম আয়ের মানুষের খাবার কেনার জন্য ফেডারেল সহায়তা দেয়। আগে এটি সাধারণভাবে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত ছিল। যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি মাসে ইলেকট্রনিক বেনিফিট ট্রান্সফার বা ইবিটি কার্ডে নির্ধারিত অর্থ দেওয়া হয়। সেই অর্থ অনুমোদিত গ্রোসারি স্টোর, সুপারমার্কেট এবং অন্যান্য বিক্রেতার কাছ থেকে যোগ্য খাবার কেনার জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে স্ন্যাপ সবার জন্য নয়। পরিবারে সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং রাজ্যের নির্দিষ্ট নিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে। ২০২৬ সালে স্ন্যাপের কিছু নিয়মে পরিবর্তনও কার্যকর হচ্ছে এবং পরিবর্তনের সময় রাজ্যভেদে আলাদা হতে পারে। আবেদন করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্ন্যাপ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। উইক গর্ভবতী নারী, সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া মা, বুকের দুধ খাওয়ানো মা, শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য রয়েছে উইক কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারকে নির্দিষ্ট পুষ্টিকর খাবার কেনার সুবিধার পাশাপাশি পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ, বুকের দুধ খাওয়ানো সংক্রান্ত সহায়তা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সঙ্গে সংযোগ করে দেওয়া হয়। শুধু মা বা শিশুর বয়সের শর্ত পূরণ করলেই উইক পাওয়া নিশ্চিত নয়। আয়, বসবাসের স্থান এবং পুষ্টিগত ঝুঁকিসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীকে নিজের রাজ্য বা স্থানীয় উইক সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। টিইএফএপি দ্য ইমার্জেন্সি ফুড অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা টিইএফএপি একটি ফেডারেল কর্মসূচি। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ধরনের খাবার রাজ্যগুলোর মাধ্যমে ফুড ব্যাংক, ফুড প্যান্ট্রি ও অন্যান্য অনুমোদিত সংস্থার কাছে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে যোগ্য নিম্ন আয়ের মানুষ বিনামূল্যে খাবার পেতে পারেন। টিইএফএপের আওতায় ফল ও সবজি, মাংস, মাছ, ডিম, বাদাম, বিনস, চাল, সিরিয়াল, পাস্তা, দুধ, দই ও চিজসহ বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হতে পারে। তবে সব কেন্দ্রে একই খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে টিইএফএপের জন্য এককভাবে ‘ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৮৫ শতাংশের নিচে আয়’ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার খাবারের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্য নিজস্ব আয়ভিত্তিক যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। ফলে নিজের রাজ্যের বর্তমান নিয়ম যাচাই করতে হবে। কমিউনিটি ও ধর্মীয় সংগঠন সরকারি কর্মসূচির বাইরে স্থানীয় চার্চ, মসজিদ, সিনাগগ, গুরুদ্বারা এবং বিভিন্ন অলাভজনক ও কমিউনিটি সংগঠনও বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করে থাকে। ইউএসএগভও জরুরি খাবারের প্রয়োজনে স্থানীয় কমিউনিটি ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়। কিছু এলাকায় সরাসরি খাবারের প্যাকেজ দেওয়া হয়, আবার কোথাও কমিউনিটি মার্কেটের মতো ব্যবস্থা থাকে। তবে সব প্রতিষ্ঠান কাগজপত্র ছাড়াই খাবার দেয় বা প্রত্যেক সপ্তাহে একই সুবিধা দেয়, এমন কোনো জাতীয় নিয়ম নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়ম আগে জেনে নেওয়া উচিত। কোথা থেকে শুরু করবেন জরুরি খাবারের প্রয়োজন হলে প্রথমে ২১১ নম্বরে কল করে নিজের এলাকার সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারেন। ফিডিং আমেরিকার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জিপ কোড ব্যবহার করে কাছের ফুড ব্যাংক খোঁজা যায়। ইউএসএগভের সরকারি খাদ্য সহায়তা নির্দেশিকা থেকেও স্ন্যাপ, উইক ও জরুরি খাদ্য সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় হাঙ্গার হটলাইনে ১-৮৬৬-৩-হাংরি নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। হটলাইনটি সোমবার থেকে শুক্রবার ইস্টার্ন টাইম সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাহায্য চাইতে গিয়ে কোনো একটি কর্মসূচির নিয়মকে সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য ধরে না নেওয়া। স্ন্যাপ, উইক ও টিইএফএপের যোগ্যতা এবং ফুড প্যান্ট্রির বিতরণ পদ্ধতি রাজ্য ও এলাকাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন বা খাবার সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা স্থানীয় সংস্থার সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা উচিত।
এইচ ওয়ান বি ও জে ওয়ান ভিসার জন্য বড় ধাক্কা! অনুদান বন্ধের পরিকল্পনা এনআইএইচের
ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েও প্রাইমারিতে হারলেন মুসলিমবিরোধী মন্তব্য করা অ্যান্ডি ওগলস
লাস ভেগাসে ট্রাম্পের চুল নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা, সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছে মিম
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর থেকে একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন রোড আইল্যান্ডের প্রধান ফেডারেল বিচারক জন জে. ম্যাককনেল জুনিয়র। ২০২৫ সালে প্রশাসনের ফেডারেল তহবিল স্থগিতের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর তার আদালতে ৪০০টির বেশি ক্ষুব্ধ ও হুমকিমূলক ফোনকল আসে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ম্যাককনেল জানান, হুমকির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ইউএস মার্শালস সার্ভিস তার নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একটি হুমকিতে তার বাড়ির ঠিকানা খুঁজে সেখানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের শুরুর দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি ব্যয় স্থগিত করার ব্যাপক উদ্যোগ নিলে ম্যাককনেল সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রশাসনের অর্থ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে আটকে দেন। ওই রায়ের পর ট্রাম্পপন্থী সমর্থকদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। শুধু বিচারক ম্যাককনেলই নন, তার পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করা হয়। এক পর্যায়ে তার মেয়ের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে সাধারণত ডক্সিং বলা হয়। পাশাপাশি তাকে অভিশংসনের দাবিও ওঠে এবং কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল একটি পিৎজা ডেলিভারি। ম্যাককনেলের পরিবার কোনো পিৎজা অর্ডার না করলেও তার বাড়িতে একটি পিৎজা পৌঁছে যায়। অর্ডারে ব্যবহার করা হয়েছিল ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্লের নাম। ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্ল ছিলেন নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক এসথার সালাসের ২০ বছর বয়সী ছেলে। ২০২০ সালে বিচারক সালাসকে লক্ষ্য করে তার নিউ জার্সির বাড়িতে হামলা চালানো হলে দরজা খুলতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন অ্যান্ডার্ল। হামলাকারী ডেলিভারি কর্মীর ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে গিয়েছিল। ম্যাককনেলের বাড়িতে অ্যান্ডার্লের নামে পিৎজা পৌঁছানোর বিষয়টি ইউএস মার্শালস সার্ভিস তাকে জানায়। পরে তিনি বিচারক সালাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই নামে অন্য ফেডারেল বিচারকদের বাড়িতেও পিৎজা পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ম্যাককনেল বলেছেন, অ্যান্ডার্লের নাম ব্যবহার করে তার বাড়িতে পিৎজা পাঠানোর ঘটনাটি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু তাকে নয়, তার পরিবারকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রায় ১৫ বছর ধরে ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাককনেল। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারক। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার কারণে আরও কয়েকজন ফেডারেল বিচারক রাজনৈতিক সমালোচনা, অনলাইন হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন। ২০২৬ সালের জুনেও ম্যাককনেল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত কয়েকটি নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। ওই রায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অ্যাসাইলাম, গ্রিন কার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটসহ বৈধ অভিবাসন সুবিধা স্থগিত করার প্রশাসনিক পদক্ষেপকে আইনের পরিপন্থী বলে বাতিল করেন। ফেডারেল বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিচারকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির মাত্রা নিয়ে কয়েকজন বিচারক প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য, আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে বিচারক ও তাদের পরিবারকে ভয় দেখানো হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় থাকে না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ম্যাককনেলের ভাষায়, বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আদালতে যে সিদ্ধান্তই দেওয়া হোক, সেটি আইন ও আদালতের রেকর্ডের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিচারকদের ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকির মধ্যে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
চীনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণ করছেন ইলন মাস্ক
মর্টগেজে বছরে গড়ে ৩,৩০০ ডলার বেশি দিচ্ছেন লাখো মার্কিন বাড়ির মালিক