- প্রচ্ছদ
- Topic
স্কুল
নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বে শোর আবাসিক এলাকায় একটি মুসলিম ছেলেদের আবাসিক স্কুল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১২০ জন কিশোর শিক্ষার্থী নিয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই আবাসিক স্কুলটি তাদের শান্ত উপশহরের পরিবেশ নষ্ট করবে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুন মাসে ৫ মিলিয়ন ডলারে ১৩ একরের একটি ওয়াটারফ্রন্ট সম্পত্তি কিনে নেয় ‘ইউনাইটেড আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’। এর আগে সম্পত্তিটি রোমান ক্যাথলিক মন্টফোর্ট মিশনারিদের অধীনে ছিল এবং একসময় সেখানে একটি ক্যাথলিক সেমিনারি ও পরবর্তীতে প্রিস্টদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে নতুন মালিকরা সেখানে ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র ও আবাসিক স্কুল চালুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় ‘স্যাক্সন সেজ নো’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। গত মঙ্গলবার আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের এক সভায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শত শত ক্ষুব্ধ বাসিন্দা উপস্থিত হয়ে এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় একটি বড় মাপের আবাসিক স্কুল চালু হলে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, যানজট এবং এলাকার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। এছাড়া ছোট শিশুদের জন্য একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালুর বিষয়েও বাসিন্দাদের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে স্কুলটির আইনজীবী স্যামুয়েল এল. বিফুলকো এবং আয়োজকরা জানিয়েছেন, টাউনের জোন কোড মেনেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে বোর্ডিং স্কুলটি পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নিয়মকানুন থাকায় এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও দাবি তাদের। বর্তমানে বিষয়টি আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের পর্যালোচনায় রয়েছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি পাঠ্যবিষয় চালু হচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে, উচ্চবিদ্যালয় শেষ করা, পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করা এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে দারিদ্র্যে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সম্প্রতি সিনেট বিল ২৭৬–এ স্বাক্ষর করায় এটি আইনে পরিণত হয়েছে। সিনেট বিল ২৭৬ মূলত স্কুল মনোবিজ্ঞানীদের আন্তঃরাজ্য লাইসেন্সিং সহজ করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। তবে আইনসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এতে শিক্ষা-সংক্রান্ত একাধিক নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ বা সাফল্যের ধারাবাহিকতা নামে পরিচিত এই পাঠ্যসূচি। বিলটি দুই কক্ষেই পাস হওয়ার পর গভর্নরের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি কার্যকর হবে। নতুন পাঠ্যসূচিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে, যারা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন, পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানে যুক্ত হন এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করেন, তাদের দারিদ্র্যের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত মতামত নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি ধারণা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। সমর্থকদের মতে, স্কুলে যেহেতু আর্থিক সচেতনতা, পেশা পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিয়ে পাঠদান করা হয়, তাই পরিবার গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক নিয়েও তথ্যভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া যৌক্তিক। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো জীবনধারা চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, এই পাঠ্যসূচি সফল জীবনের একটি নির্দিষ্ট মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা সব পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাদের মতে, একক অভিভাবক, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কাছে বড় হওয়া শিশু, দত্তক পরিবার কিংবা অন্যান্য পারিবারিক কাঠামো থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারে। এছাড়া দারিদ্র্যের পেছনে বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, মজুরি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বহু জটিল কারণ কাজ করে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এই আইন শুধু ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ চালুই করেনি, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো স্কুলে নির্দিষ্ট খেলাধুলা বা সহশিক্ষা কার্যক্রম না থাকলে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাশের স্কুল জেলার সেই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আবেদন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট দুই জেলার সুপারিনটেনডেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সুযোগ দেওয়া হবে। ওহাইওর এই আইন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষা, পরিবার, দারিদ্র্য এবং স্কুলের পাঠ্যক্রম নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি বাস্তবমুখী জীবনশিক্ষা হলেও, বিরোধীদের মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত জীবনধারা নিয়ে রাষ্ট্রের এমন নির্দেশনামূলক অবস্থান বিতর্কিত হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির এক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন, শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীর হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সহায়তা না করে উল্টো ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করেছে। পরে প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী লরেন ভিটালে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। সে সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পিএস ৮৪ বিদ্যালয়ে কিন্ডারগার্টেনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পড়াতেন তিনি। মামলায় ভিটালে অভিযোগ করেছেন, সহিংস আচরণের নথিভুক্ত ইতিহাস থাকা এক শিক্ষার্থীকে আগাম কোনো সতর্কতা ছাড়াই তার শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী তার মুখে থুতু নিক্ষেপ করে এবং অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পেটে লাথি মারে। আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার পর ভিটালের রক্তক্ষরণ, পেটে ব্যথা, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দেয়। পরে তিনি নিজেই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে যান এবং চিকিৎসা নেন। তবে হামলার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ঘটনার জন্য তাকেই দায়ী করে বলে অভিযোগ করেছেন ভিটালে। মামলায় তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার আঘাতের প্রতিবেদন নিয়ে সমালোচনা করেন, তার বিরুদ্ধে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, বেতন কেটে নেন এবং কর্মক্ষেত্রে আহত হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ভিটালের ভাষ্য, "তারা বলেছিল আমি নাকি পেটে লাথি খাওয়া এড়াতে পারতাম। আমি তো সিনেমার নায়ক নই যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু এড়িয়ে যেতে পারব।" তিনি আরও বলেন, "এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি ছিল। আমি ভয় পাচ্ছিলাম, হয়তো আমার সন্তানকে হারাব।" মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময়ই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। ভিটালের দাবি, প্রশ্নটি তাকে অস্বস্তিতে ফেললেও চাকরির প্রয়োজন থাকায় তিনি তখন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের শুরুতে আরেক সহিংস শিক্ষার্থীকে তার শ্রেণিকক্ষে রাখার বিরুদ্ধে শিক্ষক ইউনিয়নে অভিযোগ করার পর থেকেই তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু হয়। ওই শিক্ষার্থীও এক পর্যায়ে তাকে কামড় দেয় এবং পর্দার রড দিয়ে আঘাত করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, পরে গর্ভধারণের খবর বিদ্যালয়ের এক কাউন্সেলরের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ভাগ করে নিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি প্রধান শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর থেকেই তার কাজের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি শুরু হয় এবং তাকে একটি টিচার ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান-এর আওতায় আনা হয়। ভিটালের অভিযোগ, গর্ভধারণের পর থেকেই তাকে আরও বেশি পর্যবেক্ষণ করা হতো এবং কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে। এ বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষক ইউনিয়নের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার এক সপ্তাহ পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্থায়ী নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য হওয়ার ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে দুই মাস বয়সী কন্যাসন্তানের মা ভিটালে আদালতের মাধ্যমে চাকরি ফিরে পেতে চান। তিনি বলেন, "আমি আবারও শিশুদের পড়াতে চাই। শিক্ষকতাই আমার পেশা, আমি শুধু আমার কর্মস্থলে ফিরে যেতে চাই। যা ঘটেছে, তাতে আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, মামলার বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের হারফোর্ড কাউন্টিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এলিমেন্টারি স্কুল) এক শিক্ষার্থীর হামলায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্কুল ছুটি হওয়ার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোরের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হারফোর্ড কাউন্টির হাভরে ডি গ্রেস এলাকার 'রয়-উইলিয়ামস এলিমেন্টারি স্কুল'-এ এক শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষকের মধ্যে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত কাউন্টি শেরিফ অফিসের ডেপুটিরা (পুলিশ সদস্য) ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই হামলায় আহত দুই শিক্ষকের আঘাত অবশ্য গুরুতর বা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। শেরিফ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সহায়তায় ওই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে বা হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় অন্য কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। মারামারির ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মনে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব বা ট্রমা তৈরি না হয়, সেজন্য বুধবার (১৭ জুন) স্কুলে অতিরিক্ত কাউন্সেলিং বা মানসিক পরামর্শ সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রাক্কালে স্কুল-পরবর্তী বিশেষ ক্লাসের জন্য ১৩ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১৩২.৫ মিলিয়ন) একটি বিশাল তহবিল প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটানোর বিকল্প তৈরি করে দিতে এবং পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সঙ্গীত দল, বিতর্ক ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ক্লাসের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করতে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, যার ঠিক আগেই এই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তহবিল ঘোষণা করলেন মন্ত্রীরা। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর থেকে ডিজিটাল আসক্তির চাপ কমাতে এই সুসংগঠিত স্কুল-পরবর্তী ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৪ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যুক্ত থাকলেও তাদের মধ্যে একাকীত্বের হার অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলের মানদণ্ড নির্ধারণের সময় দেশটির শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘অফস্টেড’ এখন থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশের অংশ হিসেবে এই ধরনের অতিরিক্ত ক্লাসের সুযোগ-সুবিধাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করবে। শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন এই তহবিলের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো শিশুর পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা আর্থিক অসচ্ছলতা যেন তার মেধা বিকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি শিশুরই খেলাধুলা এবং সৃজনশীল শিল্পকলা উপভোগ করার সমান অধিকার রয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নিজের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দীও এই কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি ভালোবাসে এমন কোনো শিশুকে তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে পড়তে দেওয়া হবে না। তবে অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুল অ্যান্ড কলেজ লিডার্সের সাধারণ সম্পাদক পেপে ডি’আইসিও সতর্ক করে বলেছেন, স্কুলগুলো ইতিমধ্যেই তীব্র আর্থিক এবং কর্মী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারের এই ভালো আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্কুলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত চাপের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির বিশ্বলড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য আরও পাকাপোক্ত করতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। দেশটির জিয়াংসি প্রদেশে হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো অবয়ব বিশিষ্ট রোবটদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম উন্নত এক ‘সুপার ট্রেনিং স্কুল’। শুক্রবার (৩ এপ্রিল, ২০২৬) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ময়কর তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন। মানুষের শিশু যেভাবে অনুকরণ বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কাজ শেখে, জিয়াংসির এই বিশেষ স্কুলে রোবটদের ঠিক সেভাবেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারখানার জটিল যান্ত্রিক কাজ থেকে শুরু করে গৃহস্থালির রান্নাবান্না, ঘর গোছানো কিংবা বয়স্কদের সেবা করার মতো সংবেদনশীল কাজগুলো রপ্ত করছে এই যন্ত্র-মানবগুলো। উন্নত ভিআর প্রযুক্তি এবং মোশন-ক্যাপচার সিস্টেমের মাধ্যমে প্রশিক্ষকরা রোবটগুলোর প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি নিখুঁত করার কাজে সহায়তা করছেন। এই স্কুলে প্রতিটি রোবটের ব্যক্তিগত দক্ষতা তদারকির জন্য দুই জন করে দক্ষ প্রশিক্ষক নিয়োজিত আছেন। রোবটগুলো যাতে বাস্তব জীবনের প্রতিকূলতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, সেজন্য সেখানে কৃত্রিম ঘরবাড়ি এবং কারখানার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘এমবডিড এআই’, যা রোবটকে কেবল তথ্য আদান-প্রদান নয়, বরং মানুষের মতো সরাসরি শারীরিক সিদ্ধান্ত নিতে ও কাজ করতে সক্ষম করে তোলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ঝু কাই সংবাদমাধ্যমকে জানান, “মানুষের মতো চলাফেরা বা কাজ শিখতে রোবটদেরও নিবিড় অনুশীলনের প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য হলো এদের এমনভাবে তৈরি করা যাতে তারা মানুষের কোনো সাহায্য ছাড়াই যেকোনো পরিবেশে জটিল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।” বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০৪৫ সালের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে প্রায় ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড রোবট নামানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। জিয়াংসির এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সেই বিশাল প্রকল্পেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তির এই বৈপ্লবিক অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজার এবং মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হওয়ায়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নতুন পরিকল্পনা করছে। সরকারের উদ্যোগে শিগগিরই স্কুলগুলোতে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান চালানোর বিষয়ে ভাবনা চলছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানান, এই বিষয়টি আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষভাবে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। যদিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করে, শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রায়শই পাবলিক পরীক্ষা পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে আয়োজন করে, যা জাতীয় পর্যায়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।