সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#স্বাস্থ্যতথ্য

ঘুমের মধ্যে কথাবার্তা নিয়ে গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

ঘুমের মধ্যে মানুষ কী বলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের কৌতূহল রয়েছে। কেউ ঘুমের ঘোরে অস্পষ্টভাবে কথা বলেন, কেউ বিড়বিড় করেন, আবার কেউ এমনভাবে কথা বলেন, যেন জেগে থাকা অবস্থায় কারও সঙ্গে কথোপকথন করছেন। তবে ঘুমের মধ্যে বলা এসব কথার মধ্যে কতটা নেতিবাচক বক্তব্য থাকে, কতবার অশা লীন শব্দ ব্যবহার করা হয় এবং নারী-পুরুষের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ২০১৭ সালে স্লিপ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ঘুমের মধ্যে মানুষের কথাবার্তার ধরন, ব্যবহৃত শব্দ এবং বাক্যের অর্থ বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, ঘুমের মধ্যে বলা প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বাক্যাংশে অশা লীন শব্দ ছিল। অর্থাৎ, বিশ্লেষণ করা প্রতি ১০০টি বাক্যাংশের প্রায় ১০টিতে গা লাগালি বা অশা লীন ভাষার ব্যবহার পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, পুরুষেরা ঘুমের মধ্যে নারীদের তুলনায় বেশি কথা বলেছেন। তাঁদের কথাবার্তায় অশা লীন শব্দ ব্যবহারের প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে এই ফলাফলকে সব মানুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ, গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকেরই ঘুম-সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা ছিল। গবেষকেরা মোট ২৩২ জন প্রাপ্তবয়স্কের ঘুমের সময়ের কথাবার্তা বিশ্লেষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪১ শতাংশ ছিলেন নারী। তাঁদের ঘুমের সময় ভিডিও ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে কথাবার্তা রেকর্ড করা হয়। পরে এসব রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মোট ৮৮৩টি কথা বলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে ৩ হাজার ৩৪৯টি শব্দ স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয়েছিল। তবে ঘুমের মধ্যে বলা সব কথাই পরিষ্কার ছিল না। গবেষণায় শনাক্ত করা প্রায় ৫৯ শতাংশ ঘটনায় অস্পষ্ট শব্দ, চিৎ কার, ফিসফিসানি, বিড়বিড় করা কিংবা হাসির মতো শব্দ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ঘুমের মধ্যে মানুষের মুখ থেকে বের হওয়া সব শব্দকে পূর্ণাঙ্গ বাক্য হিসেবে বোঝা সম্ভব হয় না। গবেষণার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ঘুমের মধ্যে বলা কথায় নেতিবাচক বক্তব্যের উপস্থিতি। বিশ্লেষণ করা বাক্যাংশের প্রায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশে নেতিবাচক অর্থ প্রকাশ পেয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত শব্দ ছিল ‘না’। এ ছাড়া প্রায় ২৬ শতাংশ কথা বলার ঘটনায় প্রশ্নবোধক বাক্য পাওয়া যায়। গবেষকেরা লক্ষ করেন, ঘুমের মধ্যে বলা কথার কিছু অংশ বাস্তব কথোপকথনের মতো শোনায়। অনেক ক্ষেত্রে বাক্যের গঠন, কথার ছন্দ এবং প্রশ্ন করার ধরন থেকে মনে হয়, বক্তা যেন কারও সঙ্গে কথা বলছেন। কিছু বক্তব্যে অন্য কাউকে দোষারোপ করা বা আ ক্র ম ণাত্মক ভাষা ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা গেছে। বিশেষ করে ইংরেজিতে বহুল ব্যবহৃত একটি অশা লীন শব্দ, যা সাধারণভাবে ‘এফ-ওয়ার্ড’ নামে পরিচিত, ঘুমের মধ্যে জাগ্রত অবস্থার তুলনায় প্রায় ৮০০ গুণ বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। তবে এই তুলনাটি গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এটি সব মানুষের ঘুমের কথাবার্তার ক্ষেত্রে একইভাবে সত্য, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ঘুমের মধ্যে কথা বলার কারণ কী ঘুমের মধ্যে কথা বলার চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাম ‘সোমনিলোকি’। এটি ঘুমের মধ্যে দেখা দিতে পারে এমন একটি আচরণ। কারও ক্ষেত্রে এটি মাঝে মধ্যে ঘটে, আবার কারও ক্ষেত্রে ঘুম-সম্পর্কিত অন্য সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১২৯ জনের ছিল আরইএম স্লিপ বিহেভিয়ার ডিসঅর্ডার। এ ধরনের সমস্যায় ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবে শরীরের পেশি নিষ্ক্রিয় থাকার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ফলে কেউ কেউ স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নড়াচড়া বা শব্দ করতে পারেন। এ ছাড়া ৮৭ জনের ঘুমের মধ্যে হাঁটা বা আ তঙ্কিত হয়ে ওঠার মতো সমস্যা ছিল। ১৫ জনের ক্ষেত্রে ঘুম-সম্পর্কিত কোনো সমস্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ঘুমের মধ্যে কথা বললেই যে কারও ঘুমের রোগ রয়েছে, এমন নয়। আবার ঘুমের ঘোরে বলা কোনো কথাকে ব্যক্তির গোপন ইচ্ছা, প্রকৃত মনোভাব কিংবা বাস্তব জীবনের আচরণের সরাসরি প্রতিফলন হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না। গবেষণাটির ফলাফল থেকে বোঝা যায়, ঘুমের মধ্যে মানুষের মস্তিষ্ক ভাষার বিভিন্ন ধরন ব্যবহার করতে পারে। সেখানে প্রশ্ন, অস্বীকৃতি, নেতিবাচক বক্তব্য এমনকি অশা লীন শব্দও থাকতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণাটি ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং মানুষের ভাষা ব্যবহারের সম্পর্ক নিয়ে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে, ঘুমের মধ্যে বলা কথাকে নিছক অর্থহীন শব্দ মনে হলেও তার মধ্যে কথোপকথনের নানা বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। তবে গবেষণার ফলাফল ব্যাখ্যা করার সময় অংশগ্রহণকারীদের ঘুম-সম্পর্কিত সমস্যার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। এই গবেষণা নির্দিষ্ট একটি দলের ঘুমের কথাবার্তা বিশ্লেষণ করেছে; তাই এর ফলাফল দিয়ে সব মানুষের আচরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘায়ুর সঙ্গে আলোচনায় তিন ধরনের পানীয়
শতায়ু মানুষের পানীয়ের অভ্যাসে মিল, দীর্ঘায়ুর সঙ্গে যুক্ত তিন পানীয়ের কথা জানালেন গবেষক

১০০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত সুস্থভাবে বেঁচে থাকা মানুষের জীবনযাপন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন ‘ব্লু জোন’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় তুলনামূলক বেশি সংখ্যক দীর্ঘায়ু মানুষের বসবাস। ইতালির সার্দিনিয়া, জাপানের ওকিনাওয়ার মতো এসব অঞ্চলের মানুষের খাবার, পানীয় ও দৈনন্দিন অভ্যাস নিয়ে গবেষকরা দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখছেন।   দীর্ঘায়ু গবেষক ড্যান বুয়েটনার সম্প্রতি এমন তিনটি পানীয়ের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলো ব্লু জোনের মানুষের মধ্যে নিয়মিত পান করার অভ্যাস দেখা যায়। এগুলো হলো পানি, চিনি ছাড়া কালো কফি এবং অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন। তবে এসব পানীয়ের সঙ্গে দীর্ঘায়ুর সম্পর্ক থাকলেও কোনো একটি পানীয় খেলেই ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিশ্চিত হয়—এমন দাবি করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।   বুয়েটনারের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পানি। তার মতে, দীর্ঘ জীবন ও সুস্থ থাকার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানীয় হলো পানি। ব্লু জোনের বাসিন্দারা সাধারণত দিনে কয়েক গ্লাস পানি পান করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।   পর্যাপ্ত পানি পান শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের একটি গবেষণাতেও ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ১১ হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্কের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকা মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ও অকাল মৃ ত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। তবে গবেষণাটি কারণ ও ফলাফলের সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করেনি।   ব্লু জোনের খাবার ও পানীয় নিয়ে প্রকাশিত নির্দেশনাতেও পানিকে প্রধান পানীয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে কফি, চা, পানি ও ওয়াইনের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে।   তালিকার দ্বিতীয় পানীয় কালো কফি। বুয়েটনারের মতে, চিনি বা অতিরিক্ত ক্রিম ছাড়া দিনে এক থেকে দুই কাপ কফি পান করা দীর্ঘায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি দিনের প্রথম ভাগেই কফি পান শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে ক্যাফেইনের কারণে রাতে ঘুমের সমস্যা কম হয়।   কফিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত কফি পান এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও কিছু স্নায়বিক রোগের তুলনামূলক কম ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে কফি সবার জন্য একইভাবে উপকারী—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতিরিক্ত ক্যাফেইন উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।   তৃতীয় পানীয় হিসেবে বুয়েটনার উল্লেখ করেছেন রেড ওয়াইনের কথা। সার্দিনিয়ার মতো কিছু ব্লু জোন এলাকায় মানুষ খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ রেড ওয়াইন পান করেন বলে তিনি জানান। রেড ওয়াইনে রেসভেরাট্রল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যেগুলো হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে।   তবে এই অংশটিই সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। বুয়েটনার নিজেও স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘায়ুর সঙ্গে রেড ওয়াইনের সম্পর্ক নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে। কারণ অ্যালকোহল পান করার সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও জড়িত।   যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালকোহল পান অন্তত সাত ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর মধ্যে স্তন, কোলোরেক্টাল, খাদ্যনালি, স্বরযন্ত্র, যকৃৎ, মুখ ও গলার ক্যানসার রয়েছে।   এ কারণে রেড ওয়াইনের কথাকে দীর্ঘায়ুর পরামর্শ হিসেবে সরাসরি নেওয়া ঠিক হবে না। যারা অ্যালকোহল পান করেন না, শুধু দীর্ঘায়ুর আশায় তাদের শুরু করারও কারণ নেই। বিশেষ করে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   ব্লু জোনের মানুষের দীর্ঘায়ু শুধু তিনটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করে না। তাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগ এবং জীবনযাপনের ধরনও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পানি ও পরিমিত কফির মতো অভ্যাস স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে, কিন্তু এগুলোকে দীর্ঘ জীবনের একক সূত্র হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   সব মিলিয়ে, দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণায় পানীয়ের ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামগ্রিক জীবনযাপন। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ভালো ঘুম—দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য এসব অভ্যাসের গুরুত্বই বেশি।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণা
ক্যান্সারের ১২ শতাংশের পেছনে এই সংক্রমণ, নতুন গবেষণায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের একটি বড় অংশের পেছনে রয়েছে এমন কিছু সংক্রমণ, যেগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ২৩ লাখ নতুন ক্যান্সারের ঘটনা বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে হয়েছে। এই সংখ্যা ওই বছরে শনাক্ত হওয়া মোট নতুন ক্যান্সারের প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্বে প্রায় প্রতি আটটি নতুন ক্যান্সারের একটি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত।   আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা বা আইএআরসির এই গবেষণাটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্য ল্যানসেট অনকোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক ক্যান্সার পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে—এমন ১২টি সংক্রমণকারী এজেন্টের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি আইএআরসির গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   গবেষণায় বিবেচনায় নেওয়া ১২টি সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি বা এইচ পাইলোরি, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এপস্টেইন-বার ভাইরাস বা ইবিভি, কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস, শিস্টোসোমা হেমাটোবিয়াম, হিউম্যান টি-সেল লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস টাইপ-১, অপিসথোরকিস ভিভেরিনি, ক্লোনোরকিস সিনেনসিস, মার্কেল সেল পলিওমাভাইরাস এবং এইচআইভি।   তবে সব সংক্রমণের ভূমিকা সমান নয়। গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে এইচ পাইলোরির। ২০২৪ সালে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে আনুমানিক ৭ লাখ ৬০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে বলে হিসাব করা হয়েছে। এরপর রয়েছে এইচপিভি, যার সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা সম্পর্কিত ছিল। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার, এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ক্যান্সারের ঘটনা যুক্ত ছিল।   অর্থাৎ এই পাঁচটি সংক্রমণ—এইচ পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি, এপস্টেইন-বার ভাইরাস এবং হেপাটাইটিস সি—মিলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় পুরো বোঝার জন্য দায়ী। গবেষণার এই ফলাফল দেখাচ্ছে, ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাপন ও পরিবেশগত ঝুঁকির দিকে নজর দিলেই হবে না; কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় অঞ্চলভেদেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় বোঝা ছিল পূর্ব এশিয়ায়। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার এমন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় ৪২ শতাংশ। পূর্ব এশিয়ায় এইচ পাইলোরি ও হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝায় বড় ভূমিকা রেখেছে।   সাব-সাহারান আফ্রিকাতেও সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। সেখানে এইচপিভি ও কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এইচআইভিও ওই অঞ্চলের সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব দেশেই সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের তিন-চতুর্থাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে। টিকা, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ সব জায়গায় সমান না হওয়ায় এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে গবেষণার ফলাফলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   এপস্টেইন-বার ভাইরাসের বিষয়টিও গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী এটি চতুর্থ বৃহত্তম সংক্রমণকারী কারণ। গবেষণায় সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের একটি অংশের সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগে যেসব হিসাব করা হয়েছিল, নতুন গবেষণায় তার তুলনায় সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্কের আরও বিস্তৃত চিত্র পাওয়া গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের একটি বড় অংশ প্রতিরোধের সুযোগ রয়েছে। এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকা রয়েছে। এইচ পাইলোরি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং এইচআইভি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এইচপিভি-সম্পর্কিত কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিংও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে এসব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে সমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অর্থের অভাব, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য কাঠামোগত বাধার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় টিকা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।   গবেষকরা বিশেষ করে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের মতো সংক্রমণের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর টিকা নেই। তাই ভবিষ্যতে নতুন টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো হলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক বোঝা আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে গবেষণার এই ফলাফলকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে ক্যান্সারের বেশিরভাগ ঘটনাই সংক্রমণের কারণে হয়। গবেষণাটি নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংক্রমণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছে। সামগ্রিকভাবে ক্যান্সারের আরও অনেক কারণ ও ঝুঁকির উপাদান রয়েছে। গবেষণার মূল বার্তা হলো, ক্যান্সার প্রতিরোধের বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে পরিচিত ক্যান্সারসৃষ্টিকারী সংক্রমণগুলোকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
চোখের যত্নে প্রতিদিনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো।   লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন।   এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।   চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।   পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত।   ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে।   লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়।   তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।   চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত যোগসূত্র খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

চুলে পাক ধরা সাধারণত বয়স বাড়ার স্বাভাবিক একটি লক্ষণ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, চুলের রং হারানোর পেছনে শরীরের এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।   গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে। এতে বিজ্ঞানীরা চুলের ফলিকলের ভেতরে থাকা বিশেষ ধরনের স্টেম সেল বা মূল কোষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই কোষগুলোকে বলা হয় মেলানোসাইট স্টেম সেল। এগুলো থেকেই চুল ও ত্বকের রং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রঞ্জক কোষ তৈরি হয়।   স্বাভাবিক অবস্থায় মেলানোসাইট স্টেম সেল বারবার পুনরুৎপাদিত হয়ে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরি করে। এর ফলে চুলে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক রং বজায় থাকে। কিন্তু শরীরের কোষগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। অতিবেগুনি রশ্মি, কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং কোষের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াও ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে।   গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএতে বিশেষ ধরনের গুরুতর ক্ষতি হলে কোষগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক পথে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেলগুলো দ্রুত পরিণত রঞ্জক কোষে রূপান্তরিত হয় এবং পরে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে হারিয়ে যায়। ফলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির ক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে চুলে পাকা রং দেখা দিতে পারে।   বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো—ডিএনএতে ক্ষতি হওয়া কোষগুলোকে স্টেম সেল হিসেবে টিকে থেকে বারবার বিভাজিত হওয়ার সুযোগ না দেওয়া। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে বিভাজিত হতে থাকলে সেখানে জিনগত পরিবর্তন জমা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।   অর্থাৎ, চুলের রং হারানোর এই প্রক্রিয়াকে শরীরের এক ধরনের ‘ত্যাগ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। একটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে শরীর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোষের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করে।   তবে গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সব ধরনের ডিএনএ ক্ষতির ক্ষেত্রে মেলানোসাইট স্টেম সেল একইভাবে আচরণ করে না।   গবেষকরা ইঁদুরের কোষকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী কিছু রাসায়নিক এবং অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনেন। তখন দেখা যায়, কিছু পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে থাকে। অর্থাৎ, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও তারা টিকে থাকে এবং বিভাজিত হতে থাকে।   এ ধরনের পরিস্থিতি মেলানোমা বা ত্বকের এক ধরনের ক্যানসার তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আশপাশের কোষ ও টিস্যু থেকে পাওয়া রাসায়নিক সংকেতও এই আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।   গবেষকদের ভাষায়, একই স্টেম সেল পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যেতে পারে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দ্রুত পরিণত হয়ে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরে গেলে চুল পেকে যেতে পারে। অন্যদিকে, কিছু পরিবেশে সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোষ টিকে গিয়ে বিভাজিত হতে থাকলে ক্যানসার তৈরির সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে।   এখানেই পাকা চুল ও ক্যানসারের মধ্যে গবেষণায় পাওয়া অপ্রত্যাশিত সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পাকা চুল নিজেই ক্যানসার প্রতিরোধ করে। বরং একই কোষীয় প্রতিক্রিয়ার দুটি ভিন্ন ফলাফল হিসেবে চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।   গবেষণাটি বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বাড়ে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষে ডিএনএ ক্ষতি ও অন্যান্য পরিবর্তন জমতে থাকে। একই সময়ে কোষের পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও বদলে যেতে পারে।   তবে এই গবেষণার ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের শরীর, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাপনের সঙ্গে ইঁদুরের পার্থক্য রয়েছে। তাই মানুষের চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে একই ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মেলানোসাইট স্টেম সেল কীভাবে ক্ষতির প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কোন সংকেত তাদের নিরাপদ পথে বা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিচালিত করে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার ও বয়সজনিত কোষীয় পরিবর্তন নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   অর্থাৎ, মাথার পাকা চুলকে শুধু বয়সের দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে দেখার বাইরে গিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা এর পেছনে থাকা কোষীয় প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তবে এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের চেয়ে সঠিক নিয়ম জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
আয়রন, ভিটামিন ডি ও বি১২ কখন খাবেন! জানুন সঠিক সময় ও নিয়ম

আয়রন, ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২—শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পুষ্টি উপাদান। তবে এসবের সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু কোনটি খাবেন তা নয়, কীভাবে ও কখন খাবেন সেটিও কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার ‘সেরা সময়’ সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময় নয়; বরং খাবার, পানীয় ও অন্য ওষুধের সঙ্গে এর সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার বিশেষ উপকারের প্রমাণ খুব কম। ৮৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এসব সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণ করলে হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার বা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।   বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ দীর্ঘদিন গ্রহণের সঙ্গে স্নায়ুর ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার ভিটামিন এ-এর মতো চর্বিতে দ্রবণীয় কিছু ভিটামিন শরীরে জমে গিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।   তবে রক্ত পরীক্ষায় কোনো পুষ্টির ঘাটতি ধরা পড়লে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া গর্ভাবস্থার আগে ও শুরুর সময়ে ফলিক অ্যাসিড, খাবার থেকে পর্যাপ্ত বি১২ পাওয়া সম্ভব না হলে ভিটামিন বি১২ এবং শরতে ও শীতে ভিটামিন ডি গ্রহণের পরামর্শ রয়েছে।   আয়রন: খাওয়ার নিয়ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ   আয়রনের সাপ্লিমেন্ট সাধারণত আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু ক্লান্ত লাগছে বলেই নিজের ইচ্ছায় আয়রন খাওয়া ঠিক নয়। কারণ আয়রনের ঘাটতির পেছনে রক্তক্ষরণ বা শরীরে আয়রন শোষণে সমস্যা থাকতে পারে। তাই ঘাটতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর কারণও খুঁজে দেখা জরুরি।   আয়রন খাওয়ার ক্ষেত্রে খাবার ও পানীয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, পানির বদলে কফির সঙ্গে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিলে আয়রন শোষণ ৫৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। সকালের নাশতার সঙ্গে নিলে শোষণ আরও কমেছিল।   অন্যদিকে, ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি আয়রন শোষণ প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়াতে পারে বলে ওই গবেষণায় দেখা যায়। তবে ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি নিলে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা পাওয়া যায়নি। গবেষণাটিতে সকালে আয়রন গ্রহণ করলে বিকেলের তুলনায় শোষণ কিছুটা বেশি হওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তবে পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। তাই শুধু এই ফলাফলের ভিত্তিতে সকালে আয়রন খাওয়াকে বাধ্যতামূলক নিয়ম বলা যায় না।   সাধারণভাবে খালি পেটে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হতে পারে। কিন্তু এতে বমিভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই খালি পেটে খেলে সমস্যা হলে খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পর গ্রহণ করা যেতে পারে। আয়রনের ধরন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   ক্যালসিয়ামও একসঙ্গে গ্রহণ করলে আয়রন শোষণ কিছুটা কমাতে পারে, বিশেষ করে বেশি পরিমাণে নিলে। তাই আয়রন ও ক্যালসিয়াম দুটোই খাওয়ার পরামর্শ থাকলে কতক্ষণ ব্যবধানে খাবেন, তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।   ভিটামিন ডি: খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা ভালো   ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয় একটি ভিটামিন। গবেষণায় দেখা গেছে, চর্বিযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন ডি৩ গ্রহণ করলে চর্বিহীন খাবারের তুলনায় শরীরে এটি ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।   তাই ভিটামিন ডি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল সাধারণত দিনের প্রধান খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করা সুবিধাজনক। তবে গবেষণায় সকালের নাশতা দুপুর বা রাতের খাবারের চেয়ে ভালো—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো ঘড়ির সময়ের চেয়ে খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   কিছু ওষুধ ভিটামিন ডি শরীরে শোষণ বা ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ওজন কমানোর ওষুধ অরলিস্ট্যাট এবং প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত কিছু কর্টিকোস্টেরয়েড। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে শুধু সাপ্লিমেন্টের সময় পরিবর্তন না করে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।   ভিটামিন বি১২: সময়ের চেয়ে কারণ গুরুত্বপূর্ণ   ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি মূলত প্রাণিজ খাবার ও বি১২ সমৃদ্ধ খাবার থেকে পাওয়া যায়।   গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রাণিজ খাবার খান না এবং বি১২ সাপ্লিমেন্টও নেন না, তাদের শরীরে বি১২-এর মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে তাদের রক্তে বি১২-এর মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোর উন্নতি দেখা গেছে।   বি১২ সাপ্লিমেন্টের ক্ষেত্রে দিনের কোন সময়ে খাওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে কেন সাপ্লিমেন্টটি প্রয়োজন হচ্ছে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মেটফরমিন এবং ওমিপ্রাজলের মতো পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহারে বি১২ শোষণ বা শরীরে এর মাত্রা কমাতে পারে। শুধু ওষুধ ও বি১২ আলাদা সময়ে খেলেই এ প্রভাব ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে।   চিকিৎসকের পরামর্শে সায়ানোকোবালামিন ট্যাবলেট গ্রহণ করলে কিছু ক্ষেত্রে খালি পেটে খাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে প্রেসক্রিপশন বা প্যাকেটের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।   সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে যা মনে রাখবেন   কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে প্রথমেই ভাবতে হবে, সেটি আপনার সত্যিই প্রয়োজন কি না। একই উপাদান একাধিক পণ্যে আছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি। মাল্টিভিটামিন, এনার্জি ড্রিংক বা বিভিন্ন ‘ওয়েলনেস’ পাউডারে একই ভিটামিন বা মিনারেল থাকতে পারে।   আপনি যদি নিয়মিত কোনো প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খান, তাহলে সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে ওষুধের পারস্পরিক প্রভাব বা কতটা ব্যবধান রাখা দরকার, তা ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।   সবশেষে, সব সাপ্লিমেন্টের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যেখানে খাবার বা পানীয় শোষণে প্রভাব ফেলে, সেখানে সেটি বিবেচনা করা দরকার। আর যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের বাড়তি সুবিধার প্রমাণ নেই, সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এমন সময় বেছে নেওয়াই ভালো, যখন নিয়মিত খাওয়ার কথা মনে থাকে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
গবেষণাগারে ক্যানসার কোষ, ডিএনএ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ইমেজ বিশ্লেষণ করছেন গবেষকরা
টিউমার হওয়ার আগেই স্তনের ক্যানসার ঠেকানোর সম্ভাব্য উপায় খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

স্তনের টিস্যু অতিরিক্ত ঘন হলে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। এবার এই ঘন টিস্যু কীভাবে রোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর (ইউসিএসএফ) গবেষকেরা। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া বোঝা গেলে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে।   মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ঘন স্তন টিস্যু ম্যামোগ্রামে সাদা অংশ হিসেবে দেখা যায়। ফলে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ঘন টিস্যুর সঙ্গে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্কও রয়েছে।   নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন স্তন টিস্যু স্বাভাবিক টিস্যুর তুলনায় বেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়। এই শক্ত পরিবেশ স্তনে থাকা ম্যাক্রোফেজ নামের এক ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ বদলে দিতে পারে। এরপর এসব কোষ এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   গবেষণাটির প্রধান গবেষক মেরি-কেট হেওয়ার্ড বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল যে ঘন স্তন টিস্যুর সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর পেছনের কারণ এতদিন পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণায় টিস্যুর শক্তভাব কীভাবে রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ পরিবর্তন করে, তার একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া সামনে এসেছে।   গবেষকেরা স্তনের বিভিন্ন টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। পাশাপাশি টিউমারের শক্তভাব এবং টিস্যু শক্ত করতে ভূমিকা রাখা কোলাজেন নামের প্রোটিনের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশি শক্ত অংশগুলোতে কোলাজেন, দাগের মতো টিস্যু, ম্যাক্রোফেজ এবং ডিএনএ পরিবর্তনের মাত্রা বেশি ছিল।   গবেষণায় আরও দেখা যায়, শক্ত টিস্যুতে এসটিএটি৩ নামের একটি সংকেত-প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে। এই প্রক্রিয়া স্তনের কোষকে এমন সংকেত দিতে পারে, যার মাধ্যমে আরও বেশি ম্যাক্রোফেজ ওই এলাকায় চলে আসে। পরে এসব ম্যাক্রোফেজ এমন রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।   গবেষকেরা ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন ধরনের জেল ব্যবহার করে শক্ত টিস্যুর মতো পরিবেশ তৈরি করেন এবং পরে ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, শক্ত পরিবেশ স্তনের কোষে এসটিএটি৩ সক্রিয় করতে পারে এবং এর মাধ্যমে ম্যাক্রোফেজ আকৃষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।   গবেষকেরা আরও একটি বিষয় শনাক্ত করেছেন। ম্যাক্রোফেজ থেকে তৈরি রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস বা আরওএস ম্যাক্রোফেজের ভেতরের চর্বিজাতীয় উপাদানে ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে অ্যালডিহাইড নামের কিছু রাসায়নিক তৈরি হয়, যা আশপাশের কোষে পৌঁছে ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।   পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও ঘন ও শক্ত স্তন টিস্যুর সঙ্গে বেশি ম্যাক্রোফেজ, বেশি অ্যালডিহাইড, বেশি ডিএনএ পরিবর্তন এবং রোগের আরও অগ্রসর অবস্থার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।   গবেষকেরা এখন এমন ওষুধ নিয়ে গবেষণা করতে চান, যা ম্যাক্রোফেজের ভেতরে ক্ষতিকর অ্যালডিহাইড তৈরি হওয়া ঠেকাতে পারে। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে উচ্চঝুঁকির স্তন টিস্যুতে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই রোগের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন এই প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করতেও আরও পরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।আ

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ

নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৪:০