- প্রচ্ছদ
- Topic
সেমিকন্ডাক্টর
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইনের প্রতিষ্ঠান গড়েছিলেন মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান। ২০০৭ সালে ঢাকায় মাত্র চারজন প্রকৌশলী নিয়ে শুরু করা তাঁর প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী কাজ করছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার চলতি বছরের ১১ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চারটি আন্তর্জাতিক ডিজাইন সেন্টারের মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবা দিচ্ছে। এনায়েতুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এএমডিতে চিপ ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। পরবর্তী সময়ে সিলিকন ভ্যালিতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এএমডিতে তাঁর কর্মজীবন ছিল প্রায় ১১ বছরের। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তা থেকেই উল্কাসেমির যাত্রা শুরু। তবে প্রতিষ্ঠার পরপরই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এনায়েতুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ ও ২০০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় ব্যবসা সংকটে পড়ে। পরে অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। উল্কাসেমির কাজ মূলত চিপের নকশা তৈরি এবং সেই নকশা যাচাইয়ের সেবা দেওয়া। এনটিভিকে এনায়েতুর রহমান জানান, শুরুতে তাঁরা চিপের লেআউট ডিজাইন নিয়ে কাজ করতেন। পরে ডিজিটাল ও অ্যানালগ ডিজাইন, নকশা যাচাই এবং উৎপাদনের আগে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধাপে সেবা সম্প্রসারণ করেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এসব কাজের একটি অংশ ঢাকা থেকেই সম্পন্ন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি শিল্পের উপযোগী জনবল তৈরিতে জোর দিচ্ছেন এনায়েতুর রহমান। বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক শেষ করলেও অনেক তরুণের চাকরিতে প্রবেশের আগে হাতে কলমে বাড়তি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হয়। উল্কাসেমির ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে চিপ ডিজাইনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও বাস্তব কাজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে এই খাত সম্প্রসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ কাজে লাগানো গেলে দেশের সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন খাত আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সূত্র: বিজনেস হ্যাবিট
যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ‘সিলিকন রিভার’ নামের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গবেষণা, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত করা। ২০২৬ সালের ২৫ ও ২৬ জুলাই ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সম্মেলনে এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য উন্নত প্রযুক্তিতে কাজের সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগের প্রধান স্থপতিদের একজন এবং বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে কাজ করছেন। তাঁর পরিকল্পনায় সেমিকন্ডাক্টরের পাশাপাশি জীবপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিকসকে সমন্বিত একটি উদ্ভাবন কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এর উদ্দেশ্য শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো নয়, বরং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব পণ্য, ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার পথ তৈরি করা। বর্তমান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তি আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো এবং শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় চিপ অপরিহার্য। এই খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে উচ্চদক্ষতার কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উন্নত চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনে বিপুল বিনিয়োগ, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের জন্য চিপ নকশা, গবেষণা, পরীক্ষা, উন্নত প্যাকেজিং এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা খাতে সক্ষমতা গড়ে তোলাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি গবেষণার জন্য সেন্টার অব রিসার্চ এক্সেলেন্স ইন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি বা ক্রেস্ট চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির লক্ষ্য সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তিতে গবেষণা বাড়ানো এবং নতুন গবেষক তৈরি করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা, বিশেষায়িত দক্ষতা তৈরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রযুক্তি শিল্পের যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরির জন্য এ ধরনের গবেষণাকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সম্মেলনে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিবন্ধন করেন বলে পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মেলনে ৩৮টি উদ্ভাবনকে আরও উন্নয়নের জন্য নির্বাচন, সেমিকন্ডাক্টর খাতে ৩ হাজার ৫০০ জনের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশাদার চিপ নকশার সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনটি উদ্বোধন করেন এবং অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেন সেখানে ‘সিলিকন রিভার ভিশন অ্যাড্রেস ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর। বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টেক্সাসের অস্টিনে এএমডি, এনএক্সপি এবং টোকিও ইলেকট্রনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষ জনবল, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেনও বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসব যোগাযোগ ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনা হওয়া মানেই বিনিয়োগ বা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া নয়। ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাবনাময় পথ তুলে ধরছে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে ধারাবাহিক গবেষণা অর্থায়ন, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষ জনবল, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার যে সুযোগ বাংলাদেশের সামনে রয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত অধ্যাপক মুস্তাফা হোসেনের উদ্যোগ সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ। এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ধারিত হবে বাংলাদেশে কতটা গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং বাজারযোগ্য প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়, তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে। টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে। টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে। এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে। প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।