সংযুক্ত আরব আমিরাত

হরমুজে ট্যাংকারে হামলা
হরমুজে ট্যাংকারে হামলা: ভারতীয় নাবিক নিহত, ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব দিল্লির

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পর ইরানের কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভাদ হোসেইনিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পথ দিয়ে চলাচলের সময় ‘মমবাসা’ ও ‘আল বাহিয়া’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে এমন হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মমবাসা’ জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া অন্তত আটজন নাবিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।   সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায় এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আমিরাত এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি বড় ধরনের হুমকি। একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলেও সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত আমিরাতের ওই ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে একাধিক দেশের নাবিক হতাহত হয়েছেন। কেবল ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যেই এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ জনে। এর আগে গত মাসে একটি জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   (সূত্র: এনডিটিভি)

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে আমিরাতের দুই তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ, নিহত ভারতীয় নাবিক

হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ অংশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছে আবুধাবি। এ ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। হামলার পর দুই জাহাজেই আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।    আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, আল বাহিয়া এবং মোমবাসা নামের দুটি জাতীয় তেলবাহী ট্যাংকার ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায়, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ নৌপথ দিয়ে চলাচলের সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় মোমবাসা জাহাজে থাকা এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই জাহাজেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে উদ্ধার ও জরুরি সেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। হামলায় জাহাজ দুটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।    আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পৃথক এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে দেশটি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং হরমুজ প্রণালীকে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এ নৌপথে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এই হামলার অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আরব সাগরের আকাশে নিখোঁজ কার্গো বিমান
আরব সাগরের আকাশে নিখোঁজ কার্গো বিমান

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি কার্গো বিমান আরব সাগরের ওপর নিখোঁজ হয়েছে। বিমানে থাকা পাঁচজন ক্রু সদস্যের সন্ধানে সমুদ্রে ব্যাপক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি জানিয়েছে, কে-২ এয়ারওয়েজের একটি বোয়িং ৭৩৭-৪০০ কার্গো বিমান শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে স্থানীয় সময় অনুযায়ী করাচি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় বিমানটি রাডারের নজর থেকে হারিয়ে যায়।   অথরিটির বিবৃতিতে বলা হয়, রাত ৯টা ২১ মিনিটের দিকে রাডারে বিমানটিকে দ্রুত উচ্চতা হারাতে এবং আকস্মিকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে বিমানটির সঙ্গে রাডার ও যোগাযোগ—দুই-ই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।   ঘটনার পরপরই পাকিস্তানের নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে আরব সাগরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। নিখোঁজ বিমানটির অবস্থান শনাক্ত এবং ক্রুদের সন্ধানে আকাশ ও সমুদ্রপথে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।   পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি জানিয়েছে, বিমানে মোট পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। তবে এখনো তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে বিমানটি কেন বা কীভাবে নিখোঁজ হলো, সে বিষয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা আকস্মিক কোনো জটিলতার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   উল্লেখ্য, আরব সাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও কার্গো বিমান চলাচল নিয়মিত হলেও, এমন আকস্মিক নিখোঁজের ঘটনা খুবই বিরল। ফলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নতুন বাড়ি কেনা এবং মেয়ের ডিজনিল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছে পরিবারটি। ছবি: সংগৃহীত
৪ বছরের অপেক্ষার পর ২ কোটি ৫০ লাখ দিরহাম জিতলেন, পূরণ হচ্ছে বাড়ি ও মেয়ের স্বপ্ন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় লটারি বিগ টিকেট-এর ড্রয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ দিরহাম (প্রায় ৮৩ কোটি টাকা) জিতে জীবন বদলে গেছে ভারতের এক গৃহিণীর। দীর্ঘ চার বছর ধরে নিয়মিত টিকিট কেনার পর অবশেষে বড় পুরস্কার জিতেছে তার পরিবার। এখন সেই অর্থ দিয়ে নতুন বাড়ি কেনা, মেয়ের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছেন তারা।    গালফ নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজয়ী ভারতীয় গৃহিণী অরোরা জানান, তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে স্বামী, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে এবং শাশুড়িকে নিয়ে বসবাস করেন। তার স্বামী গত চার বছর ধরে নিয়মিত বিগ টিকেটের ড্রয়ে অংশ নিয়ে আসছিলেন। শুরুতে নিজের নামে টিকিট কিনলেও সম্প্রতি স্ত্রীর নামে টিকিট কেনার সিদ্ধান্ত নেন। সেই টিকিটেই আসে ভাগ্য বদলে দেওয়া জয়।   অরোরা বলেন, ইউটিউব ভিডিও এবং ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে তারা প্রথম বিগ টিকেট সম্পর্কে জানতে পারেন। শুরুতে বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হলেও এর সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে বলে ভাবতেন। তবুও তারা আশা ছাড়েননি। প্রতিবার টিকিট কেনার সময় মনে হতো, হয়তো এবারই ভাগ্য খুলবে। তিনি জানান, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সবার আগে একটি নতুন বাড়ি কিনতে চান। বহুদিন ধরেই নিজের পরিবারের জন্য একটি বাড়ির স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি ও তার স্বামী। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে।   পরিবারের দ্বিতীয় বড় পরিকল্পনা তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে ডিজনিল্যান্ড ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। অরোরা বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের ডিজনিল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছা। পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার পর সেই স্বপ্নও পূরণ করতে চান তারা। বাকি অর্থ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে মেয়ের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   অরোরা অন্যদেরও ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার ভাষায়, এমন পুরস্কার সম্পূর্ণ ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই ধৈর্য রাখতে হবে, নিজের ওপর এবং সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। একদিন না একদিন ভালো ফল আসবেই।   এদিকে সর্বশেষ ড্রয়ের পর বিগ টিকেট নতুন প্রচারণা শুরু করেছে। এবার সর্বোচ্চ ২ কোটি দিরহাম জেতার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি বিলাসবহুল গাড়িও পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। আগামী ৩ আগস্ট মাসেরাতি গ্রেকালে এবং ৩ সেপ্টেম্বর ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত
ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল আমিরাত, সুবিধা বাড়ল প্রবাসী ও পর্যটকদের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল করতে ২০২৬ সালে ভিসা নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসা, পর্যটন ভিসা, আবাসন সুবিধা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই নতুন এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়েছে। ফলে প্রবাসী, পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বড় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খালিজ টাইমস।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা ব্যবস্থায়। ১৪ দিন ও ৬০ দিনের এন্ট্রি ভিসার সুযোগ এখন আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা প্রধানত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়মে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।   এছাড়া আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এখন সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার বাসিন্দারাও এ সুবিধা পাবেন।     পর্যটকদের জন্যও প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। দুবাই ভ্রমণ করতে ইচ্ছুকরা অনুমোদিত পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একবার প্রবেশের অনুমতিসহ পর্যটন ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন। এই ভিসার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে।   আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও নিয়মে এসেছে বড় পরিবর্তন। দুবাই কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত দুই বছরের রেসিডেন্সি পারমিটের শর্ত শিথিল করেছে। একক মালিকানার ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত ন্যূনতম ৭ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম মূল্যের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একক মালিক হতে হবে। অন্যদিকে যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪ লাখ দিরহাম হতে হবে।   এদিকে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) জরিমানার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ও শেষ হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে যাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য আইসিপি ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভিসা নবায়ন বা বৈধ করতে হবে, নতুবা দেশ ত্যাগ করতে হবে।   স্বাস্থ্যখাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগীদের জন্য চালু করা হচ্ছে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’। জেনারেল ডিরেক্টরেট অব আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স এবং দুবাই হেলথ অথরিটির যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থায় রোগীদের ভিসা প্রক্রিয়া, চিকিৎসা এবং পরবর্তী সেবাকে একক ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে চিকিৎসা পর্যটন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।   সর্বশেষ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইবোলা ভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং আইসিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সব ধরনের হামলা বন্ধের শর্তে আমিরাত থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর, নিজেদের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ধনী এই উপসাগরীয় দেশটি।    সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখার শর্তে ইরানের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান বৃহত্তর দরকষাকষির চূড়ান্ত পর্বে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে যখন আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই আমিরাতের পক্ষ থেকে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।   আঞ্চলিক সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের জন্য মোট ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন (১ হাজার থেকে ২ হাজার কোটি) ডলার ছাড় করতে রাজি হয়েছে আবুধাবি। এরই মধ্যে প্রথম কিস্তির ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস কী—তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতি ব্যাংকিং সিস্টেমে আটকে থাকা ইরানেরই কোনো বৈধ অ্যাকাউন্ট থেকে অবমুক্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।    এদিকে খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পুরো তথ্যটিকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন ও বানোয়াট' বলে দাবি করেছে। তবে এর আগে দেশটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছিলেন, তারা যেকোনো মূল্যে অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন।   দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈরিতা ও প্রকাশ্য শত্রুতার পর দুই দেশের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ের পর্যটন খাত এবং নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আমিরাতের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সুনাম চরমভাবে ধাক্কা খেয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই সমঝোতা মার্কিন-ইরান সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে এমন এক অভিনব উপায় তৈরি করেছে, যেখানে কোনো পক্ষকেই নিজেদের রেডলাইন পার হতে হচ্ছে না। এর মাধ্যমে ইরান যেমন যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবি করতে পারবে, তেমনি ওয়াশিংটনও দায় এড়াতে পারবে।    অন্যদিকে আবুধাবি নিজেদের নিরাপত্তা ও দুবাইয়ের বাণিজ্যিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। এই চুক্তির আওতায় কেবল হামলা বন্ধই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ইরান একই ধরনের সমঝোতার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও অন্তত দুটি আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতার পেছনে দুবাইয়ের আর্থিক ব্যবস্থার একটি বড় ভূমিকা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। দুবাইয়ের ব্যাংকগুলোতে ইরান-সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ আমানত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকলেও, পর্দার আড়ালের এই আলোচনা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। কদিন আগেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আবুধাবিতে এসে আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করার পরই এই আলোচনার গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।    ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তেহরান তাদের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পালন করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো পাবে। ওমান উপসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরে ইরানের সর্বশেষ সরাসরি হামলার পর গত এক মাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকা মূলত এই সুদূরপ্রসারী গোপন সমঝোতারই ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ওয়ার্ক পারমিটে বড় সংস্কার আনল আমিরাত সরকার

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্মসংস্থান অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার চালু করেছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়, কোনো সহায়ক নথিপত্র জমা না দিয়েই শতভাগ কাগজবিহীন পদ্ধতিতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, ফলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।   সরকারি কার্যক্রমে জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে পরিচালিত ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন পদ্ধতি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা গ্রহণকে আরও কার্যকর করবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে সক্ষম হবেন।   সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রচলিত ওয়ার্ক পারমিট সেবাগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণপরামর্শ কার্যক্রম চালু করেছে। এই অনলাইন পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, সেবাগ্রহীতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত ও পরামর্শ জমা দিতে পারবেন। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে সেবাগুলোকে আরও উন্নত ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি বাড়াতে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা এবং কর্মীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগ একদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে শ্রমবাজারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সেবার গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছর মেয়াদি বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া যাবে। একইভাবে দেশটির অভ্যন্তরে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তনের জন্য দুই বছর মেয়াদি ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জরুরি কাজের জন্য মিশন ওয়ার্ক পারমিট এবং স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে।   আধুনিক কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রিল্যান্সার এবং খণ্ডকালীন কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা মূল নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে। এছাড়া শিক্ষকতা খাতে প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ কয়েকটি পারমিট চালু করেছে মন্ত্রণালয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট চালু রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় আমিরাতি স্নাতকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিটও চালু করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক, নমনীয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ | ছবি: সংগৃহীত
ডলার সংকটে চীনা ইউয়ানে তেল বিক্রির হুঁশিয়ারি আরব আমিরাতের

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট ডলার সংকট মোকাবিলায় এবার চীনা মুদ্রায় তেল বিক্রির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই পদক্ষেপটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন যে এশীয় ও উপসাগরীয় মিত্ররা জরুরি ভিত্তিতে 'কারেন্সি সোয়াপ লাইন' বা দ্রুত ডলার বিনিময়ের সুযোগ চেয়েছে।   ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে এই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং ডলারের প্রাপ্যতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমিরাতের কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ডলারের সরবরাহ পুনরুদ্ধার না করা হয়, তবে তেল লেনদেনের জন্য তারা ইউয়ানসহ অন্যান্য বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত এখনই ডলার ত্যাগ না করলেও এই হুঁশিয়ারিটি মূলত বর্তমান সংকটকালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়ার একটি চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।   চীন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইউয়ানের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, তাই আমিরাতের এমন অবস্থান বেইজিংয়ের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি আংশিকভাবেও ইউয়ানে তেল বিক্রি শুরু হয়, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের আধিপত্য কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।   বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ১৯৯০-এর দশকের পর উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় মুদ্রা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ | ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল নয়, ইরানই এখন ‘প্রধান শত্রু’: আমিরাত প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ইসরায়েল নয়, বরং ইরানই ‘প্রধান শত্রু’। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দুবাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। গারগাশ বলেন, আরব বিশ্বের অনেক দেশ ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও, হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে।   ড. গারগাশ উল্লেখ করেন, জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের কারণে তেহরানের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে আমিরাতের গভীর ও যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, ইরান যদি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করে, তবে আমিরাতেরও অধিকার রয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার গ্যারান্টি এবং ক্ষতিপূরণ চাওয়ার।   আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই আমিরাত এখন ইরানকে তাদের প্রধান হুমকি হিসেবে গণ্য করছে বলে তিনি জানান। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আমিরাতে ড্রোন দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত
আমিরাতে ড্রোন দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুলি করে নামানো একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মানববিহীন উড়োজাহন (ড্রোন) সনাক্ত করে তা ভূপাতিত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ এল-রিফা’আ এলাকার একটি খামারে পড়ে ঘটনাস্থলে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরুরি সেবা দল ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিল্পাঞ্চলে আগুন
আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিল্পাঞ্চলে আগুন

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে একটি শিল্পাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। খবর এএফপি থেকে পাওয়া গেছে।   আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রতিহত করতে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরান হামলা জোরদার করছে।   আবুধাবি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর জানায়, খলিফা ইকোনমিক জোনস এলাকায় দুটি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। এছাড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে তার ধ্বংসাবশেষ ভূপাতিত হয়ে আগুনের সূত্রপাত করেছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান আবারো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইসরায়েলের দিকে

ইরান থেকে ইসরায়েল-এর দিকে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা এই হুমকি প্রতিহত করার জন্য কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়েছে।   এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রবিবার ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। সামাজিক মাধ্যমে তারা আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৩৪৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৭৭৩টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক তেলবাজারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০