সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হরমুজপ্রণালী

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প
যুদ্ধ থামাতে আলোচনার প্রস্তাব ইরানের, হরমুজ চুক্তি নাকচ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানই একমাত্র পথ। তাঁর এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর।   ইরান সম্প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিল, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং সংঘাত বন্ধে আলোচনা আবার শুরু করা যাবে। প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়।   তবে শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলেই দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তি করতে চাইছে।   এর জবাবে আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে তেহরান অবগত হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো পায়নি। তাই আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার শর্তগুলো আগের মতোই রয়েছে। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, সেগুলোকেই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখছে তেহরান।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস দূর না হলে সফল আলোচনা কঠিন হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জুনের সমঝোতা স্মারক ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত।   তবে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন—তেহরান চায় ওয়াশিংটন নিশ্চিত করুক যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করায় জুনের সমঝোতার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে।   হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি বড় অংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে যায়। সংঘাতের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।   সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে ওমান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সব পক্ষকে আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং কৌশলগত এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা করার কথা বলেছেন।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অর্ধেক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্পের তা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দাবি করেছেন, ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির ওপর চাপ তৈরি করছে।   তবে অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে। কারণ ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা এবং আগের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের চিহ্নিত করল ইরান

হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ওই পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়।   ১৮ আগস্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ছবিতে প্রণালিটির ওপর ‘NEW U.S. Territory’ লেখা ছিল। পরে হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করা হয়।   এর জবাবে ‘Iran in Hyderabad’ নামে ইরানের সরকারি অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে আলাদা করে দেখানো হয়। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’। পোস্টটির ভাষা ও সময় বিবেচনায় এটি ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত মানচিত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল; ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দাবি হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি।   এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ১৮ আগস্ট তিনি ওই বক্তব্যের পরই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন।   ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মানচিত্র প্রকাশের ঘটনা ঘটে।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় ছয় দেশের নেতারা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ৬ উপসাগরীয় দেশের বৈঠক, টেবিলে যেসব বড় দাবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে।   বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে।   হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত।   তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক।   অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে লাগামছাড়া গ্যাসের দাম, সামনে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম লাগামছাড়া, সামনে আরও বাড়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়তে শুরু করেছে গ্যাসের দাম। দেশটির কয়েকটি এলাকায় এক রাতেই প্রতি গ্যালনে দাম প্রায় ২৫ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.৪৬৮৭ ডলার। ১৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে দাম ছিল ৪.৪৩ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ১৬ সেন্ট বেশি। ২০২২ সালের জুনে রেকর্ড ৫.০১ ডলারের পর এটিই অন্যতম উচ্চ পর্যায়ের দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন। সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইন দিয়ে পরিবহন করা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। ফলে দীর্ঘ সময় সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তেলবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্যাসের দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বাড়তি জ্বালানি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই কম মূল্য’ দেওয়ার মতো। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গ্যাসের দাম আবার দ্রুত কমে আসবে। গ্যাসের দাম নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ফক্স নিউজের এক জরিপে ৬১ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, গ্যাসের দাম তাদের জন্য বড় সমস্যা। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতিকেও ভোটারদের প্রধান উদ্বেগগুলোর মধ্যে পাওয়া গেছে। তবে গ্যাসের দাম আগামী দিনে ঠিক কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প
হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু, স্বস্তিতে বিশ্ববাজার

দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সুযোগে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পুনরায় জ্বালানি তেলবাহী বিশালাকার ট্যাংকার চলাচল শুরু হয়েছে। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম এই ‘চোক পয়েন্ট’ বা সংকীর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন স্থবির হয়ে পড়া কয়েকশ ট্যাংকারের মধ্যে অন্তত তিনটি সুপারট্যাংকার ইতোমধ্যে এই এলাকা অতিক্রম করেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (LSEG) তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও চীনের পতাকাবাহী তিনটি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ (VLCC) শনিবার হরমুজ প্রণালীর ট্রায়াল অ্যাঙ্করেজ এলাকা পার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘সেরিফস’ এবং চীনের ‘কসপিয়ার্ল লেক’ ও ‘হে রং হাই’। এর প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে ইরাকি তেল নিয়ে ‘ওশান থান্ডার’ নামক আরেকটি ট্যাংকার সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করার পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমানে অন্তত তিনটি খালি জাহাজ তেল লোড করার জন্য পারস্য উপসাগরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কোনো রফাসূত্র ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের প্রস্তাব দিলেও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা (IMO) এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ওমানের সাথে নতুন নীতিমালা তৈরি করছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল পর্যবেক্ষণে ওমানের সাথে একটি বিশেষ প্রটোকল বা নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানান, শান্তি চলাকালেও উপকূলীয় দেশগুলোর ‘তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের’ অধীনে জাহাজ চলাচল করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার লক্ষ্য জাহাজ চলাচলে কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করা নয়, বরং কৌশলগত এই জলপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। গরিবাবাদি আরও উল্লেখ করেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে আরও উন্নত পরিষেবা প্রদান এবং যাত্রাপথকে আরও ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।  বর্তমানে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বাণিজ্যিকভাবে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ওমান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Unknown এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল সম্মেলন শুরু

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে "কাণ্ডজ্ঞানহীনতা" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল এই বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, তেহরানের বাধার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এই নৌপথটি পুনরায় চালুর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় খুঁজতেই এই জরুরি আয়োজন। মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে ইরান বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র উপস্থিত নেই।পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইরানের এই অবিবেচকের মতো আচরণ এমন সব দেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে যারা এই সংঘাতের সঙ্গে মোটেও জড়িত নয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বর্তমানে চরম হুমকির মুখে। আলোচনার পাশাপাশি কুপার জানান, একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা পর্যালোচনার জন্য শিগগিরই সামরিক পরিকল্পনাবিদদেরও এক টেবিলে বসানো হবে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের ইলাস্ট্রেশন। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সচল রাখতে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান ফরাসি নৌপ্রধানের

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য চীনের আরও সরাসরি এবং সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল নিকোলা ভোজুর। বুধবার প্যারিসে আয়োজিত ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে চীনের নৌযান সংখ্যা দেশটির চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।   অ্যাডমিরাল ভোজুর বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত চীনের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। চীন ও ইরানের মধ্যে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সংলাপ চলছে, কিন্তু তা পুরো নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে যথেষ্ট নয়।   তিনি আরও যোগ করেন, এই অবস্থায় চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য এবং প্রণালিটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

Unknown এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর জ্বালানি-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ১১ মার্চ, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্বজ্বালানির সংকট: নানা দেশের জরুরি পদক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের ফলে বিশ্বজ্বালানির বাজারে অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির কার্যত বন্ধ থাকার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয় ও অর্থনৈতিক সচলতা রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।   বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই অঞ্চলে চলাচলকারী কিছু জাহাজে হামলা চালায়, যার ফলে ভয়াবহ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।   অসুবিধা মোকাবিলায় এশিয়া ও আফ্রিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা: স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি অফিস বন্ধ; ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ কিউআর কোডে সীমিত পেট্রল বিতরণ। ভুটান: জেরি ক্যানের মাধ্যমে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ ও জরুরি সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রেশনিং। পাকিস্তান: সরকারি দপ্তরে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো এবং চার দিনের কর্মসপ্তাহ। ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম: সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সীমিত কর্মসপ্তাহ, গণপরিবহন ব্যবহার আহ্বান। মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া: পেট্রলপাম্প সীমিত কার্যক্রম ও ‘জোড়-বিজোড়’ ভিত্তিতে রেশনিং। মিসর: সরকারি ভবন, বিপণিবিতান ও রেস্তোরাঁ বন্ধের সময় নির্ধারণ; বিলবোর্ডের আলো বন্ধ। কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা: রপ্তানি নিষিদ্ধ ও শিল্প খাতে নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি বরাদ্দ। নিউজিল্যান্ড: সপ্তাহে একদিন ‘গাড়িমুক্ত দিবস’; উচ্চ মূল্যের কারণে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল। স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া: ডিজেল মজুতদারি ও ব্যক্তিগত গাড়ি-ট্রাকের জন্য ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ।   বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপত্তা রক্ষায় এসব পদক্ষেপে দেশগুলো কতদূর যেতে পারে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ শুরু হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, কোনো আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই।

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০