সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৭:৩১
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প

ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
 

গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি।


সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে।


ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে।


এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।


পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।


ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।


ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়।


এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব।


গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি।


এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি অনুরাধা ও বিকাশ সিনহার ২ কোটি ডলারের অনুদানে চালু হলো কলেজটি
২ কোটি ডলারের অনুদানে এআই নিয়ে নতুন কলেজ চালু করল ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস

টেক্সাসের ডেন্টনে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস (UNT) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স নিয়ে নতুন একটি কলেজ চালু করেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতি অনুরাধা ও বিকাশ সিনহার ২ কোটি ডলারের অনুদানের পর নতুন এই কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের বিষয়টি জানায়।  নতুন কলেজটির নাম রাখা হয়েছে ‘অনুরাধা অ্যান্ড বিকাশ সিনহা কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিক্স’। এআই, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম, ডাটা অ্যানালিটিক্স, সাইবারসিকিউরিটি, হেলথ ইনফরমেটিক্স ও লার্নিং টেকনোলজির মতো ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে এটি কাজ করবে।  বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ২ কোটি ডলারের এই অনুদানে ছয়টি স্থায়ী এন্ডাওমেন্ট গড়ে তোলা হবে। এর আওতায় শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, অধ্যাপকদের জন্য এন্ডাওড পদ, কলেজের নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও ইনকিউবেশন, অ্যাডভান্সড রিসার্চ এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজের জন্য অর্থায়ন করা হবে।  নতুন কলেজে দুটি একাডেমিক বিভাগ থাকবে। একটি হবে অ্যাপ্লাইড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স এবং অন্যটি ইনফরমেশন অ্যান্ড লার্নিং অ্যাপ্লিকেশনস। পাশাপাশি থাকবে অ্যাপ্লাইড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স ইনস্টিটিউট, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে এআই ও ডাটা অ্যানালিটিক্স নিয়ে যৌথ গবেষণা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়াতে কাজ করবে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হ্যারিসন কেলার বলেন, এআই কর্মক্ষেত্র, গবেষণা ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। নতুন কলেজটি পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লুক নর্থ: ইউএনটি ২০৩০’ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।  বিকাশ সিনহা বর্তমানে ব্রডকমের মেইনফ্রেম সফটওয়্যার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৩ সালে UNT থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ও তার স্ত্রী অনুরাধা ভারতে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তারা UNT-তে ডাটা সায়েন্স বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন এবং ২০২৫ সালে সাইনা ইনোভেশন ল্যাব ফর ডাটা সায়েন্স প্রতিষ্ঠায়ও অর্থ দেন।  UNT জানিয়েছে, নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এআই ও ডাটা-নির্ভর প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে উত্তর টেক্সাসের পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৮:২৭
চ্যাটজিপটির উত্থানে বদলে গেছে নাইরোবির একাডেমিক লেখার বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের হোমওয়ার্ক করতেন আফ্রিকানরা, এখন এআইয়ে হারালেন কাজ

হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প

হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনে ধস, বিপুল ক্ষতির মুখে বিনিয়োগকারীরা

মিনিটেই কোটিপতি এক ট্রেডার, হান্টার বাইডেনের মিম কয়েনে সর্বনাশ বাকিদের

প্রতারণার অর্থ পাচারের অভিযোগে ‘জিনবি গ্যারান্টি’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অভিযান
আমেরিকানদের প্রতারণার অর্থ পাচার, চীনা স্ক্যাম নেটওয়ার্কের ৫২ মিলিয়ন ডলার জব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ পাচারে ব্যবহৃত চীনা ভাষার অনলাইন মার্কেটপ্লেস ‘জিনবি গ্যারান্টি’-র বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একদিনের অভিযানে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট থেকে ৫২ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জব্দের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের স্ক্যাম সেন্টার স্ট্রাইক ফোর্স, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস ও ট্রেজারি বিভাগের সমন্বিত অভিযানে জিনবি গ্যারান্টির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে জিনবির ব্যবহৃত দুটি ক্রিপ্টো ওয়ালেট জব্দ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার ছিল। আরও ৪৭টি সংশ্লিষ্ট ওয়ালেটের অর্থ আটকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫২ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। জিনবি গ্যারান্টি টেলিগ্রামভিত্তিক একটি চীনা ভাষার অবৈধ অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করত বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। সেখানে স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনাকারীদের কাছে প্রতারণার ওয়েবসাইট তৈরি, প্রতারণার অর্থ ‘ধোয়া’ বা পাচার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে কাজের জন্য মানুষ সংগ্রহসহ বিভিন্ন অবৈধ সেবা বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এলিপটিক জানিয়েছে, ২০২২ সালে কার্যক্রম শুরুর পর জিনবি গ্যারান্টি ও এর ব্যবসায়ীরা অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন প্রক্রিয়া করেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিনবি পে আরও প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একই দিনে জিনবি গ্যারান্টিকে গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠন হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। জিনবির কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা মার্কিন নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সংশ্লিষ্ট সম্পদ ব্লক হয়ে যাবে। ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ তারা ম্যাকলিস বলেন, মার্কিন নাগরিকদের প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ বিদেশে পরিচালিত অপরাধী চক্রগুলো জিনবি গ্যারান্টি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার করত। তদন্তকারীরা ক্রিপ্টো লেনদেন অনুসরণ করে নেটওয়ার্কটির বিস্তৃতি শনাক্ত করেছেন। তদন্তে সহায়তা করেছে এলিপটিকের ব্লকচেইন গোয়েন্দা দল। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারির ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) এবং ট্রেজারি এক্সিকিউটিভ অফিস ফর অ্যাসেট ফরফেইচার-ও অভিযানে সহযোগিতা করেছে। তবে অর্থ আটকে দেওয়া মানেই তা ইতিমধ্যে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে - এমন নয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৫:৭
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেল ও গ্যাসের দাম অনেক কমে আসবে - ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেল ও গ্যাসের দাম অনেক কমে আসবে - ট্রাম্প

ভোর ৪টায় ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আঁতকে উঠলেন মা

ভোর ৪টায় ডোরবেল ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আঁতকে উঠলেন মা, বাইরে ৩ বছরের শিশু

আমেরিকায় আসবেন না,বিদেশে যাওয়ার আগে ভাবুন! হতাশ ভারতীয় দম্পতির পরামর্শ

আমেরিকায় আসবেন না,বিদেশে যাওয়ার আগে ভাবুন! হতাশ ভারতীয় দম্পতির পরামর্শ

বাংলাদেশি এআই গবেষক ইরফানের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের আপত্তি
বাংলাদেশি এআই গবেষক ইরফানের মৃত্যু নিয়ে পরিবারের আপত্তি, এটি আত্মহত্যা নয়, দাহ করতে আপত্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে নেভিডিয়ার ৩২ বছর বয়সী সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে তার পরিবার। মৃত্যুর কারণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার কার্যালয়ে জরুরি আবেদন করেছেন এবং নির্ধারিত দাহকাজ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন।   এনবিসি বে এরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরফানকে জুলাইয়ে পালো আল্টোর নিজ বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আট দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও পরিবার ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরফান স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিলেন। মৃত্যুর দিন সকালে তিনি একটি পেশাগত প্রেজেন্টেশনও দেন। এরপর কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়লেন, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান।   ইরফানের পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি স্যাক্রামেন্টোতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও জরুরি আবেদন জমা দেন। তাদের আশঙ্কা, দাহ করা হলে মৃত্যুর ঘটনাটি পুনরায় পরীক্ষা বা ফরেনসিক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।   ইরফানের বোন সারাহ আল-হুসাইনি এনবিসি বে এরিয়াকে বলেন, শরীর দাহ হয়ে গেলে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ আর পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই তারা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দেহটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।   ইরফান আল-হুসাইনি নেভিডিয়ায় সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার ব্যক্তিগত পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং বিশেষ করে হেলথকেয়ারে ব্যাখ্যাযোগ্য এআই নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি জর্জিয়া টেক থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটের শিক্ষার্থী ছিলেন।   জর্জিয়া টেকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরফান ও তার স্ত্রী ফাবিয়া ফারলিন আথেনা একই সময়ে বুয়েটে পড়লেও তাদের পরিচয় হয় পরে জর্জিয়া টেকে। দুজনই সেখানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেন এবং ২০২২ সালে বিয়ে করেন।   ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে ইতোমধ্যে একটি পৃথক তদন্তের দাবিও উঠেছে। আগস্টে প্রকাশিত এক আপডেটে জানানো হয়, বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের পক্ষ থেকে বিষয়টি সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের নজরে আনা হয়েছিল। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, পালো আল্টো পুলিশ তদন্ত করছে এবং সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের ফরেনসিক প্যাথলজিস্টও মৃত্যুর কারণ ও ধরন নিয়ে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করছেন।   তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ মামলাটি পরবর্তী আইনি পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে পারে বলেও ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   এদিকে পরিবারের অভিযোগ ও প্রশ্নের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরফানের মৃত্যুকে ঘিরে নানা দাবি ছড়ালেও সেগুলোর সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   নির্ধারিত দাহকাজ বন্ধ করে দেহটি আরও পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়াই এখন পরিবারের প্রধান দাবি। তারা বলছেন, ইরফানের মৃত্যুর পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ২:৫৬
টেক্সাসে নতুন ইবি-৩ কর্মসংস্থানভিত্তিক সুযোগ

টেক্সাসে নতুন ইবি-৩ কর্মসংস্থানভিত্তিক সুযোগ! আয় খাতে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ১৬.৩৫ ডলার

ট্রাম্পের আমলে ২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী রিপোর্ট করেছে আইসিই

ট্রাম্পের আমলে ২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী রিপোর্ট করেছে আইসিই

বিশ্বজুড়ে নিয়োগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর

বিশ্বজুড়ে নিয়োগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৯ হাজার ডলার

0 Comments