সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Trump

উয়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক শিশুর জীবন বাঁচানো ১৬ বছর বয়সী এক লাইফগার্ড
১৬ বছরের কিশোরের সাহসিকতায় বাঁচল শিশুর প্রাণ, এবার হোয়াইট হাউসে সম্মান জানাবেন ট্রাম্প

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্রুজ সমুদ্রসৈকতে ভয়ংকর ঢেউয়ের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক শিশুর জীবন বাঁচানো ১৬ বছর বয়সী এক লাইফগার্ড এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মান জানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ঘটনাটি ঘটে সান্তা ক্রুজের সিব্রাইট স্টেট বিচে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শক্তিশালী ঢেউয়ের আঘাতে একটি শিশু সাগরে ভেসে গেলে ওই কিশোর লাইফগার্ড ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যেও তিনি শিশুটিকে শক্ত করে ধরে রাখেন এবং পরে আরেকজন লাইফগার্ডের সহায়তায় তাকে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়।      উদ্ধার করা শিশুটির বয়স আনুমানিক ১০ বছর বলে জানা গেছে। তাকে চিকিৎসকদের পরীক্ষা করানোর পর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।  ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই কিশোরের সাহসিকতার প্রশংসা শুরু হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ওই লাইফগার্ড ও তার পরিবারকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাতে চান এবং তাকে একটি বিশেষ বেসামরিক সম্মান দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট পার্কস জানিয়েছে, বিপজ্জনক সমুদ্র পরিস্থিতির মধ্যেও লাইফগার্ডরা নিয়মিত মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে থাকেন। ওই সপ্তাহান্তে সান্তা ক্রুজ এলাকায় বড় ঢেউয়ের কারণে একাধিক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশিক্ষণ ছাড়া সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পানিতে নামলে নিজেরাও বিপদে পড়তে পারেন। পেশাদার লাইফগার্ডদের প্রশিক্ষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই অনেক সময় জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   এই ঘটনা আবারও সমুদ্র নিরাপত্তা ও লাইফগার্ডদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

Unknown জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর নতুন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

কানাডার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক বাণিজ্য নীতির অভিযোগ তুলে দেশটির নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১৯ আগস্ট থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হবে।  হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারার ক্ষমতা ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে কানাডা এমন নীতি অনুসরণ করছে, যা মার্কিন রপ্তানিকারকদের জন্য বৈষম্যমূলক। নতুন শুল্কের মাধ্যমে সেই বৈষম্যের প্রভাব সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন পণ্যের ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। তার অভিযোগ, কিছু প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুগ্ধজাত পণ্যকে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় গাড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।  হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্ক কানাডা থেকে আমদানি হওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মাছ এবং কিছু অন্যান্য পণ্য এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে।        অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, কানাডা উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নিজেদের অধিকার অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বাণিজ্য বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে তাদের সরকার প্রস্তুত রয়েছে।        নতুন এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার আরও একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সুযোগ রাখতে শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে ৩০ দিনের সময় রাখা হয়েছে।

Unknown জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
US President Donald Trump speaks
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, দুই দিনে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত

বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের স্মরণেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে।   রোববার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ রাতে আবারও তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালিয়েছি। সম্ভবত তিনজন মহান দেশপ্রেমিকের সম্মানেই এই হামলা।”   এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরানের একটি হামলায় একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের একটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার পর সেটির অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হলে ওই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হন।   এর মাত্র একদিন আগে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ হন। পরে সেন্টকম জানায়, হামলার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ের মানবদেহের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।   পরপর দুই দিনে তিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তারা লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।”   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।   অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সিরিয়ায় শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।   বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনো না থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
President Donald Trump speaks to the press
ইরান থেকে মুক্তি পেলেন আটক মার্কিন নাগরিক, ট্রাম্প বললেন এটি ভালো ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান একজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, ওই মার্কিন নাগরিক এখন ইরানের বাইরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে আছেন।   ট্রাম্প বলেন, ইরান একজন আমেরিকান নাগরিককে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে, যিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আটক ছিলেন। তিনি এটিকে ইরানের পক্ষ থেকে একটি “সদিচ্ছার পদক্ষেপ” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।   মুক্তি পাওয়া ওই মার্কিন নাগরিকের পরিচয় পরে প্রকাশ করেন তাঁর আইনজীবী জ্যারেড জেনসার। তিনি জানান, তাঁর মক্কেল ডেনা কারারি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে আটকে ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ছিল। আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণেই তাঁর মুক্তি সম্ভব হয়েছে।   জেনসার জানান, ডেনা কারারি বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে রয়েছেন।   এই মুক্তির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরানের জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেবে।   ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে ইরানের জাহাজ ও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রধান রক্ষক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।   এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরান সরকারের সমালোচনা করেন এবং বলেন, বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব একটি চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।   তবে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের বিষয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলা বন্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, একজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাময়িক ইতিবাচক সংকেত দিলেও, হরমুজ প্রণালি, সামরিক কার্যক্রম ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মূল বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
Donald Trump ছবি: Reuters
‘বোর্ড অব পিস’-এর ট্রেডমার্ক আবেদন প্রত্যাহার করল মার্কিন পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিস

  ট্রাম্পের উদ্যোগের নামে আবেদন ঘিরে আইনি প্রশ্ন ও রাজনৈতিক সমালোচনার পর সরে দাঁড়াল ইউএসপিটিও   মার্কিন পেটেন্ট অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অফিস (USPTO) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের নাম ও লোগোর জন্য করা দুটি ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের আবেদন প্রত্যাহার করেছে। গত বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির ঠিক আগে সংস্থাটির পরিচালক জন স্কোয়ার্স আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন দুটি পরিত্যাগের ঘোষণা দেন।   গত বছরের ডিসেম্বরে ইউএসপিটিও নিজেই ‘বোর্ড অব পিস’-এর নাম ও লোগোর ট্রেডমার্ক আবেদন করেছিল। তবে একটি সরকারি সংস্থা কেন ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পক্ষে আবেদন করবে—তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন তীব্র সমালোচনা করেন।   রাসকিনের অভিযোগ ছিল, ট্রেডমার্কের আবেদন করার দায়িত্ব ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতিনিধিদের হলেও তা করেছে ইউএসপিটিও। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, সংস্থাটির পরিচালক জন স্কোয়ার্সের এমন আবেদন করার আইনি ক্ষমতা ছিল কি না।   সোমবার এক বিবৃতিতে রাসকিন বলেন, আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে ইউএসপিটিওর এভাবে ট্রেডমার্কের আবেদন করার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। এর আগে মার্চ মাসে স্কোয়ার্সকে লেখা এক চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘বোর্ড অব পিস’ কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন একটি তহবিলে পরিণত হতে পারে এবং এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য অর্থ প্রবাহের কাঠামো আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   তবে ইউএসপিটিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মার্চে কংগ্রেসে শুনানির সময় জন স্কোয়ার্স বলেন, ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ ঘোষণা করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক সাইবারস্কোয়াটার সংশ্লিষ্ট একটি ডোমেইন নাম নিবন্ধন করে ফেলে। তাই উদ্যোগটির নাম ও ব্র্যান্ড সুরক্ষিত রাখতেই সংস্থাটি ট্রেডমার্ক আবেদন করেছিল।   তবুও আইনি বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত আবেদন দুটি প্রত্যাহার করল ইউএসপিটিও। সংস্থাটি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান ‘ধারণার চেয়েও কাছাকাছি’: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান “মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও অনেক কাছাকাছি” পৌঁছে গেছে। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধই অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।   হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তিনি সম্ভাব্য কোনো চুক্তি বা আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।   ট্রাম্প আরও জানান, ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। একই সময়ে পশ্চিমা দেশগুলো কিয়েভকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখলেও যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নতুন করে গতি পাওয়ার আভাস মিলছে। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়া বা ইউক্রেন—কোনো পক্ষই সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চুক্তি, না হলে ‘কাজ শেষ’—নতুন সামরিক হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, না হলে “কাজ শেষ করবে”। এর মাধ্যমে তিনি আবারও তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন।     সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হয় একটি চুক্তি করব, নয়তো কাজ শেষ করব। তবে আমি চুক্তিই করতে চাই, কারণ ৯১ মিলিয়ন মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়ুক, সেটা আমি চাই না।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।     ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা গত সপ্তাহে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর আগে সংঘাতের পর কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি করতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল।     অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নতুন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০