দেখতে সাধারণ স্টিলের কলমের মতো হলেও এর ভেতর রয়েছে প্রাণঘাতী .২২ ক্যালিবারের বুলেট। সাধারণ মানুষের চোখে এটি কেবলই একটি লেখার কলম, কিন্তু অপরাধীদের হাতে এটি এখন ভয়ংকর এক মরণাস্ত্র। সম্প্রতি পুরান ঢাকায় এক যুবদল নেতাকে হত্যাচেষ্টায় এমন 'পেন গান' বা 'কলম পিস্তল' ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, আকারে অত্যন্ত ছোট এবং সহজে লুকিয়ে রাখা যায় বলে এটি ঢাকার অপরাধ জগতে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজারে দিনের বেলা এক গুলির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই 'পেন গান' উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ থেকে সোহেল ওরফে কাল্লু এবং সাইমন নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকেই এই বিশেষ অস্ত্রটি জব্দ করা হয়। গোয়েন্দারা এখন এই অস্ত্রের উৎস এবং চোরাচালান রুট খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম জানান, ঢাকাতে এর আগে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো রেকর্ড নেই। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ছিল। এটি কোনো সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্র নয়; এটি কীভাবে দেশে এলো এবং অন্য কোথাও এর ব্যবহার হয়েছে কি না, তা বের করতে একাধিক টিম কাজ করছে। পুলিশ সন্দেহ করছে, এটি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাচার হয়ে আসতে পারে। পেন গান মূলত এমন একটি ছোট আগ্নেয়াস্ত্র যা দেখতে সাধারণ কলমের মতো এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একবারে একটি গুলি ছুড়তে সক্ষম। গ্রেপ্তারকৃত এক আসামি জানিয়েছে, অস্ত্রটি ৮০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল। নয়াবাজারের ঘটনায় আহত যুবদল নেতা রাসেলকে পরিচিতরা ডেকে নিয়ে গুলি করেছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থেকে এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ডিবি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, জব্দ করা অস্ত্রটিতে কোনো কোম্পানির লোগো বা মার্কিং নেই, যা এর উৎস শনাক্ত করা কঠিন করে তুলেছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে খুলনায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হাতেও এমন অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এই মরণাস্ত্রের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
খেলার মাঠে জয়-পরাজয় ও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেই সামান্য বিবাদ যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, তার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত দেখল ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম। একটি স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচে ‘রান-আউট’ কল নিয়ে শুরু হওয়া তর্কের জেরে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন ২১ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার ডি অজিত। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ম্যাচের আম্পায়ারসহ আরও অন্তত ৪ জন। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশাখাপত্তনমের আরিভলোয়া থানা এলাকার পেদাগাদিলিতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিনায়ক নগর, চাকালি পেটা এবং পেদাগাদিলি—এই তিনটি দলের মধ্যে একটি ২০ ওভারের সিরিজ চলছিল। বিনায়ক নগর ও চাকালি পেটার মধ্যকার ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় নন-স্ট্রাইকার এন্ডে একটি রান-আউট কল নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে অজিতের প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। সে সময় আম্পায়ার বি চিরঞ্জীবী পরিস্থিতি শান্ত করে খেলা পুনরায় শুরু করেন। ম্যাচ শেষে উভয় পক্ষ শান্তভাবে মাঠ ছাড়লেও গ্যালারিতে থাকা বিনায়ক নগরের বাসিন্দা কান্ত কিশোর ওরফে ‘বক্সার’-এর ক্ষোভ কমেনি। পেশায় ইভেন্ট ফটোগ্রাফার কিশোর মদ্যপ অবস্থায় আলোচনার দোহাই দিয়ে রাতে অজিত ও আম্পায়ার চিরঞ্জীবীকে পেদাগাদিলি জংশনে ডেকে পাঠান। তারা সেখানে পৌঁছানো মাত্রই কিশোর গালিগালাজ শুরু করেন এবং হঠাৎ পকেট থেকে ছুরি বের করে অজিতের বুকে আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আম্পায়ার চিরঞ্জীবী ও কয়েকজন পথচারীও গুরুতর আহত হন। অজিতকে দ্রুত অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। নিহতের বাবা ডি আপ্পালা রাজুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ঘাতক কিশোরকে গ্রেফতার করতে বর্তমানে ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। একটি সাধারণ ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো বিশাখাপত্তনমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হত্যাচেষ্টা মামলার এক আসামি থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) তাকে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। তিনি জানান, আসামি পলায়নের ঘটনায় জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গত ৩০ মার্চ উপজেলার দুবাই প্লাজার সামনে থেকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। এসআই জহিরুল ইসলামের রুমে বসানো হলে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় ওই আসামি। বিষয়টি পরদিন সকালে জানাজানি হলে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। তবে ৩১ মার্চ রাতে উপজেলার চর উচিৎপুরা বাজার এলাকা থেকে পলাতক ইসমাইলকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। জেলা পুলিশ বর্তমানে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। থানার ভেতর থেকে একজন আসামির এভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জহিরুল ইসলামকে ক্লোজড করার মাধ্যমে প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। জনপ্রিয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার সানা জাভেদকে তার স্বামী মোহাম্মদ সাদিক প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) ইসলামাবাদের ডিএইচএ ফেজ-২ এলাকার একটি মার্কেটের পার্কিংয়ে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সানা জাভেদ টিকটকে ‘আউট লোফারা’ নামে অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। ঘাতক স্বামী মোহাম্মদ সাদিক পাকিস্তান পুলিশের একজন সাবেক কনস্টেবল, যাকে আগেই শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তা রক্ষী জানান, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে তিনি মার্কেটের পার্কিংয়ে গিয়ে লাল পোশাক পরিহিত সানাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাদিক নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে দেন। হুমাক পুলিশ স্টেশন ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল এবং তিনটি বুলেটের খোসা উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখ্য, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় কোনো হাই-প্রোফাইল নারী টিকটকার খুনের ঘটনা। এর আগে গত বছরের জুনে সানা ইউসুফ নামে অপর এক টিকটকারকে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হত্যা করা হয়েছিল।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. মোয়াজ্জেম মোল্লা ওরফে আকাশ (২৯) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের দরজার পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোয়াজ্জেম মোল্লা সদর উপজেলার আকাল মেঘ গ্রামের আলাল মোল্লার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে একদল দুষ্কৃতকারী মোয়াজ্জেমের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত ও হামলাকারীরা উভয়েই সদর উপজেলার বাসিন্দা। তবে তারা টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দরজার পাড় এলাকায় এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে কাঁচের টুকরার আঘাতে ১৬ বছর বয়সী এক পথশিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও এলাকার একটি স্থানে মাদকসেবন নিয়ে দুই পথশিশুর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন কাঁচের টুকরো দিয়ে অন্য শিশুটির ঘাড়ের বাম পাশে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং তেজগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামালপুর শহরের দড়িপাড়া মন্ডলপাড়া এলাকায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত প্রায় ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নারী তাহমিনা আক্তার তানিয়া (৩৬) প্রায় ১৭ বছর আগে দড়িপাড়া এলাকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয়ধারী হোসাইন মো: তাইফুর (৪০)-এর সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক কলহের কারণে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। নিহতের আত্মীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাহমিনা আক্তার তানিয়া বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন। পরে রাত দেড়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। স্থানীয়রা জানালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর তানিয়ার পোড়া মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্বামী হোসাইন মো: তাইফুরকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মামা মনোয়ার ইসলাম কর্নেল এই ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews