- প্রচ্ছদ
- Topic
অস্ত্রোপচার
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে। অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী
নারী থেকে পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর কয়েক ঘণ্টা পর রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অস্ত্রোপচারের পর রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। লিজার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রোববার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁকে দাফন করা হয়। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লিজার আচরণ ও পোশাক-পরিচ্ছদে ছেলেদের মতো বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি ছেলেদের মতো চুল কাটতেন এবং কোনো পুরুষকে পছন্দ করতেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনিফা আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে লিজার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। জেনিফা নিয়মিত লিজাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাঁরা একসঙ্গে চলাফেরা ও সময় কাটাতেন। এর পাশাপাশি লিজা ঢাকায় হরমোন-সংক্রান্ত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। জেনিফা আক্তারের ভাষ্য, লিজার অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর মা-বাবা দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ওই অর্থ দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ওই হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে জেনিফা স্বাক্ষর করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে লিজার বাবা জানান, জেনিফা হাসপাতালের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন কিংবা তাঁর স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হবে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি হাসপাতালে তাঁর মেয়ের নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি মৃত্যুর দিন জানতে পারেন। লিজার বাবা বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমন কথা আমি ওর মায়ের কাছে শুনেছি।’ লিজার মা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসারেই তিনি থাকেননি। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেনিফা তাঁদের বাড়িতে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে যাতায়াত করতেন। এ কারণে মেয়ের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি তাঁরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। এদিকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে লিজার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদে তাঁকে ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়েছে। মৃত্যু সনদে থাকা হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে যে চিকিৎসকের অধীনে লিজা ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অস্ত্রোপচার ও মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি। তবে অস্ত্রোপচারের পর ঠিক কী কারণে লিজার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, অস্ত্রোপচারের বিবরণ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
জাপানের টোকিও মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল জরায়ুমুখে লেজার অস্ত্রোপচারের সময় ঘটে বিরল এক দুর্ঘটনা। ৩০-এর কোঠার এক নারী রোগীর অন্ত্র থেকে বের হওয়া গ্যাস লেজারের সংস্পর্শে এসে আগুনের সূত্রপাত করে বলে তদন্তে উঠে আসে। আগুন পরে সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর কোমর ও দুই পাসহ শরীরের নিচের অংশে গুরুতর দগ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় চিকিৎসকেরা রোগীর জরায়ুমুখে লেজার দিয়ে অস্ত্রোপচার করছিলেন। অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে রোগীর অন্ত্রের গ্যাস বের হয়ে লেজারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাসটি লেজারের তাপে জ্বলে ওঠে এবং আগুন দ্রুত সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বাইরে থেকে আনা বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করে। তদন্তে অপারেশন থিয়েটারে অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতেও কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা একটি ডামি ব্যবহার করে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণ করেও সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করেন। বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর অন্ত্রের গ্যাস অপারেশন কক্ষের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পর লেজারের সংস্পর্শে আগুন ধরে যায়। এরপর আগুন সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে অপারেশন থিয়েটারের কর্মীদের অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে অন্ত্রের গ্যাস যেন লেজারের সংস্পর্শে না আসে, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। মানবদেহ থেকে বের হওয়া অন্ত্রের গ্যাসে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস থাকে, যার মধ্যে হাইড্রোজেন ও মিথেন দাহ্য হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি সাধারণত কোনো বিপদের কারণ নয়। কিন্তু লেজারের মতো শক্তিশালী তাপের উৎসের একেবারে কাছে এমন গ্যাসের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল পরিস্থিতিতে আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঘটনাটি ১৫ এপ্রিল ঘটলেও হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০১৬ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এরপর অস্বাভাবিক এই দুর্ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচারের সময় লাইভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় একজন রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। যুক্তরাজ্যের ৪৮ বছর বয়সী রাইস হিবার্টের পিটুইটারি গ্রন্থির ১১ মিলিমিটার আকারের টিউমার অপসারণ করা হয় লন্ডনের ন্যাশনাল হসপিটাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারিতে। অস্ত্রোপচারের আগে টিউমারটি তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। অস্ত্রোপচারের সময় এআই সিস্টেমটি সরাসরি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করতে চিকিৎসকদের সহায়তা করে। এসব কাঠামো টিউমারের খুব কাছাকাছি থাকায় অস্ত্রোপচারের সময় সামান্য ভুলও গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালসের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এআই কোনোভাবেই নিজে অস্ত্রোপচার করেনি। পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল সার্জনদের হাতে। এআই মূলত লাইভ ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করার জন্য সার্জনদের একটি অতিরিক্ত সহায়ক নজর হিসেবে কাজ করেছে। হিবার্ট বেডফোর্ডশায়ারের দুই সন্তানের বাবা। প্রায় ১৮ মাস আগেও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং প্রতিদিন দুপুরের বিরতিতে প্রায় দুই মাইল হাঁটতেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এমনই এক হাঁটার সময় হঠাৎ রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে খিঁচুনি শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার ধরা পড়ে। পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচের অংশে থাকা মার্বেলের মতো ছোট একটি অঙ্গ, যা শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক, রক্তচাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করে। গ্রন্থিটির কাছেই থাকে ক্যারোটিড ধমনি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক নার্ভ। ফলে টিউমার বড় হয়ে এসব কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হিবার্টের ক্ষেত্রে টিউমারটি তার অপটিক নার্ভে চাপ দিতে শুরু করলে ধীরে ধীরে পার্শ্বীয় দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। তিনি বারবার হোঁচট খেতে শুরু করেন এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাঁটার সময় নিচের দিকের দৃষ্টিক্ষেত্র ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় তাকে ওয়াকিং স্টিক ব্যবহার করতে হয়। এ অবস্থায় তাকে এআই সহায়তায় পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচারে প্রথম রোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি সম্মতি দেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অস্ত্রোপচারটি করা হয়। নাক দিয়ে এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে মাথার খুলির নিচের অংশে পৌঁছে টিউমার অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর হিবার্ট জানান, চোখ খোলার পর তার মনে হয়েছিল যেন একসঙ্গে চারপাশের পুরো দৃষ্টিক্ষেত্র দেখতে পাচ্ছেন। পরবর্তী আট সপ্তাহে তার দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক শক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং আগের সমস্যাগুলোও চলে গেছে। তিনি আবার কাজেও ফিরেছেন। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তিটি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা তৈরি করেছেন। শত শত মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের ভিডিও বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কাঠামো শনাক্ত করতে পারে। গবেষণাটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ এবং গুগলের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য এখন আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা। ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিতে পারে এমন একটি এআই সহকারী তৈরির সম্ভাবনাও দেখছেন তারা। তবে চিকিৎসকেরাই স্পষ্ট করেছেন, এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক এবং রোগীর নিরাপত্তার জন্য সার্জনের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৫ বছর বয়সী ট্রয় হ্যাথাওয়ে। মই থেকে পড়ে যাওয়ার সময় গাছের একটি মোটা ভাঙা ডাল তার মুখ ভেদ করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর আঘাতের পরও তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেননি। পরে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ডালটি সফলভাবে অপসারণ করেন। সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির গ্লাসবোরো এলাকায় নিজের বাড়ির পেছনের উঠানে গাছের ডাল কাটছিলেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। এ সময় হঠাৎ মই ভেঙে গেলে তিনি প্রায় আট ফুট নিচে পড়ে যান। মাটিতে উঠে দাঁড়ানোর পর তার ধারণা ছিল, হয়তো চোয়াল ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, গাছের একটি বড় ভাঙা ডাল তার চোয়াল ভেদ করে মুখের ভেতর দিয়ে নাক অতিক্রম করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি, বমি বমি ভাবও ছিল না। সামান্য ব্যথা ছাড়া নিজেকে মোটামুটি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ডালটি গাল, নাক এবং চোখের পাশ দিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি করেনি। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের সহায়তা নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া নিউরোসার্জন ডা. ক্রিস ফ্যারেল বলেন, ডালটি ছিল বেশ বড় এবং এটি রোগীর মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি কেটে অস্ত্রোপচার না করে নাকের ভেতর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ডালটি অপসারণের পরিকল্পনা করেন। মস্তিষ্কের কিছু টিউমার অপসারণেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডালটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকটি সেলাই, সামান্য ক্ষতচিহ্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন হ্যাথাওয়ে। বর্তমানে তার গালে একটি দাগ রয়েছে। তবে দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বা সংক্রমণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তিন সন্তানের বাবা হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন। চিকিৎসকদের মতে, ডালটি যদি কয়েক মিলিমিটার ভিন্ন পথে প্রবেশ করত, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।