সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

অস্ত্রোপচার

ক্যানসারের নতুন টিকায় সাফল্য, রোগ ফিরে আসা ও মৃ ত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ
ক্যানসারের নতুন টিকায় সাফল্য, রোগ ফিরে আসা ও মৃ ত্যুর ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ

ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে পরীক্ষামূলক একটি কাস্টমাইজড টিকা। সাম্প্রতিক এক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, ক্যানসার অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি এই টিকা প্রয়োগ করলে রোগটি ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই যুগান্তকারী সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   সাধারণ টিকার মতো রোগ প্রতিরোধের জন্য নয়, বরং ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই বিশেষ এই টিকাটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি রোগীর টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে এটি প্রস্তুত করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সহায়তা করা, যাতে অস্ত্রোপচারের পর অবশিষ্ট থাকা আণুবীক্ষণিক ক্যানসার কোষগুলো নির্মূল করা সম্ভব হয়।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ১৩৭ জন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেলানোমা ক্যানসার রোগীকে নিয়ে বড় পরিসরে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালানো হয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মেলানোমার চিকিৎসায় এই সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য জটিল ক্যানসারের চিকিৎসায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে টিকাটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে আরও বিস্তর গবেষণার কাজ চলমান রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর জটিলতায় জীবন বদলে গেছে ত্রিশার
জরায়ু অস্ত্রোপচারের পর ভয়াবহ পরিণতি, দুই পা-হাতসহ ঠোঁট ও জিহ্বার অংশ হারালেন ছয় সন্তানের মা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর সংক্রমণে দুই পা, ডান হাত এবং ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়েছেন ছয় সন্তানের মা ত্রিশা স্টিভেনস। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও সংক্রমণ শনাক্ত করতে দেরি করার অভিযোগে তিন চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন ৪৬ বছর বয়সী এই নারী। মামলায় তাঁর শারীরিক ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সক্ষমতা হারানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   ওরেগনের বোরিং এলাকার বাসিন্দা ত্রিশার অস্ত্রোপচার হয়েছিল ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর। তাঁর জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর পরীক্ষার ফলাফলে প্রদাহের লক্ষণ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট সার্জন ডা. অ্যালভিন নাকামুরা তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেননি। ফলে সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত ও চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে দেরি হয় বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। অস্ত্রোপচারের পরের দিনগুলোতে তাঁর পেটের ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকে। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছেলের ফুটবল খেলার সময় গ্যালারির সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পেটের ভেতরে হঠাৎ কিছু ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এরপরও তাঁর শারীরিক সমস্যা চলতে থাকে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর ত্রিশা অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে অতিরিক্ত র ক্তপাত, জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটে মোচড় দেওয়ার মতো ব্যথার কথা জানান। এ সময় তাঁর শরীর থেকে বেসবলের আকারের একটি র ক্তের জমাট অংশ বের হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনে একজন নার্স তাঁকে বিশ্রাম নিতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে বলেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। চিকিৎসক নাকামুরাও নার্সকে র ক্তপাত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে বলেন এবং আরেকটি বড় জমাট র ক্ত বের হলে হাসপাতালে আসতে নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর, রাত ১১টা ১০ মিনিটে, ত্রিশার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য লিগ্যাসি মাউন্ট হুড হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাঁর হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দ্রুত ছিল, র ক্তচাপ কমে গিয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন প্রতি ঘণ্টায় তিনটি করে স্যানিটারি প্যাড র ক্তে ভিজে যাচ্ছিল। পরীক্ষায় তাঁর পেরিটোনাইটিস বা পেটের ভেতরের আবরণে প্রদাহ, র ক্তে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াজনিত ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস এবং কিডনির আকস্মিক ক্ষতি শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর র ক্তপ্রবাহে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পান। তাঁর শরীরে সেপটিক শকের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, যা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট একটি প্রাণঘাতী জটিলতা। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জরুরি দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. গ্রেগরি আইলার্স অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরীক্ষা করে সেটির কিনারা আলাদা হয়ে যাওয়া এবং কাঁচা ও সংক্রমিত দেখানোর বিষয়টি শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু তখনই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া বা পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেক চিকিৎসক ডা. রবার্ট আজার তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেন। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু এর মধ্যেই সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। ত্রিশার অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচার করে সংক্রমণের উৎস পরিষ্কার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। সংক্রমণের ভয়াবহ পরিণতিতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তাঁর দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়। পরে ডান হাত, বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল এবং বাঁ হাতের কয়েকটি আঙুলের অংশও বাদ দিতে হয়। সংক্রমণের কারণে টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁর ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়ে যায়। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ক্ষতির কারণে কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচারের আগ পর্যন্ত ত্রিশা ছিলেন ছয় সন্তানের সক্রিয় মা। তাঁর সন্তানদের বয়স তখন সাত থেকে ২১ বছরের মধ্যে। পরিবারের দৈনন্দিন কাজ সামলানো, সন্তানদের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়ে যাওয়া, গাড়ি চালানো, রান্না ও ঘর পরিষ্কার করার মতো কাজ তিনি নিজেই করতেন। এখন দৈনন্দিন অনেক কাজের জন্য তাঁকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। ত্রিশার আইনজীবী রেট ফ্রেজার জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল এখন নিজে নিজে খেতেও পারেন না এবং কিছু শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে সমস্যায় পড়েন। ক্ষতস্থানের নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সহায়তা নিতে হচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ত্রিশা বলেন, প্রায় মৃ ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা আর জেগে উঠে জীবনের হারিয়ে যাওয়া সবকিছু উপলব্ধি করা—কোনটি বেশি কঠিন, তা অনেক দিন বুঝতে পারেন না তিনি। তাঁর স্বামী ব্রায়ান একজন দমকলকর্মী। কঠিন এই পরিস্থিতিতে পরিবারকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মামলায় ডা. নাকামুরা, ডা. আইলার্স ও ডা. আজারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এখন ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে করা মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। ত্রিশার ঘটনাটি অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মূল্যায়ন ও চিকিৎসার গুরুত্বও সামনে এনেছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে উদ্ধার ৪০টি ছুরি
পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, পরীক্ষায় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলীতে মিলল ৪০টি ছুরি

তীব্র পেটব্যথা ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর এক ভারতীয় পুলিশ সদস্যের পাকস্থলী থেকে বের করা হলো ৪০টি ছুরি। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের একটি হাসপাতালে ঘটে এই ঘটনা। ৪২ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্য প্রায় দুই মাস ধরে একের পর এক ছুরি গিলে ফেলেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকেরা প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করেন। পরে আরও পরীক্ষা করে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত ১২টি ছুরির সন্ধান পান তাঁরা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪০টি ছুরি।   হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকদের প্রথমে ধারণা হয়েছিল, তাঁর পাকস্থলীতে হয়তো টিউমার বা ক্যানসারজাতীয় কোনো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। এ কারণে তাঁর এন্ডোস্কপি ও সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, পাকস্থলীর ভেতরে রয়েছে অসংখ্য ধাতব বস্তু। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো আসলে বিভিন্ন আকারের ছুরি।   চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশনের সময় প্রথমে ২৮টি ছুরি বের করা হয়। কিন্তু পাকস্থলীর ভেতরে আরও কিছু রয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকায় পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তখন আরও ১২টি ছুরির সন্ধান মেলে। সেগুলোও বের করে আনা হয়।   ছুরিগুলোর সব কটিই একই অবস্থায় ছিল না। কিছু ভাঁজ করা অবস্থায় ছিল, কিছু খোলা ছিল, আবার কয়েকটি মরিচা ধরে ভেঙেও গিয়েছিল। খোলা ছুরিগুলোর কোনো কোনোটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। এগুলোর ধারালো অংশ পাকস্থলীর দেয়ালে ক্ষত তৈরি করেছিল। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীরের ভেতরে উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণও হয়।   চিকিৎসকদের কাছে ওই ব্যক্তি জানান, প্রথমবার ছুরি গেলার পর তাঁর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়েছিল। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে দিনে একটি করে ছুরি গিলতেন বলে জানান। কেন এমন করতেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।   অস্ত্রোপচারে যুক্ত চিকিৎসক জতিন্দর মালহোত্রা জানান, তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। রোগীর আচরণের পেছনে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। তবে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কোনো মানসিক রোগ নিশ্চিত করা হয়নি।   অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না। এই ঘটনা চিকিৎসকদের কাছেও ছিল অত্যন্ত বিরল ও জটিল। শরীরের ভেতরে ধারালো বস্তু প্রবেশ করানো প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ ক্ষত ও রক্তক্ষরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন কোনো প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

অলিনা রহমান অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভুল পা কাটার অভিযোগে ওহাইওর নারীর হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন
ডান পা কাটার কথা ছিল, কেটে ফেলা হলো বাঁ পা; হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত এক নারীর অস্ত্রোপচারে ভুল পা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন ওই নারী ও তার স্বামী।   শ্যারন জ্যাকস নামের ৭৪ বছর বয়সী ওই নারী ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মারিয়েটার সেলবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় তিনি দেখতে পান, তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়েছে বলে মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে।   মা ম লার নথি অনুযায়ী, জ্যাকসের ডান পায়ে ক্যানসারজনিত সমস্যার কারণে ওই পা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা ভুল করে বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত ডান পাটিও অন্য একটি হাসপাতালে কেটে ফেলতে হয়। ফলে জ্যাকস এখন দুই পা হারিয়েছেন।   জ্যাকসের আইনজীবী ব্র্যাড লেইনের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক সঠিক পা চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি ভুল পা কেটে ফেলার পরও সঠিক পায়ে অস্ত্রোপচারের চিহ্নটি ছিল বলে চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে।   মা ম লায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসা দল দুবার ‘টাইম-আউট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর পরিচয়, কোন অস্ত্রোপচার হবে এবং শরীরের কোন অংশে অস্ত্রোপচার করা হবে—এসব নিশ্চিত করার কথা। এরপরও কীভাবে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচার হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যাকসের আইনজীবী।   আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারে থাকা চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব ছিল অস্ত্রোপচারের স্থান সঠিকভাবে নিশ্চিত করা। কিন্তু মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে, একাধিকবার যাচাইয়ের সুযোগ থাকার পরও ভুলটি শনাক্ত করা হয়নি।   এ ধরনের ভুল অস্ত্রোপচার চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর ও প্রতিরোধযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মা ম লায় ঘটনাটিকে এমন একটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এড়ানো সম্ভব ছিল।   মা ম লায় জ্যাকসের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট, স্থায়ী অক্ষমতা, আগের ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে সেলবি জেনারেল হাসপাতালও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানে একটি গুরুতর অস্ত্রোপচারজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। নিজেদের পর্যালোচনায় তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং নির্ধারিত অপারেশন থিয়েটার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।   হাসপাতাল জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে এবং তারা আর ওই পদে কর্মরত নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অস্ত্রোপচার দলের কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   হাসপাতাল আরও জানিয়েছে, তারা ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের পর্যালোচনায় পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে রোগী ও তার পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।   মা ম লাটি এখন আদালতে চলমান। অভিযোগগুলো মা ম লায় উত্থাপিত দাবি হিসেবে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
নারীর পাকস্থলী থেকে বের হলো ১৪ কলম, ৫ কাঠের চামচ ও মোমবাতি
নারীর পাকস্থলী থেকে বের হলো ১৪ কলম, ৫ কাঠের চামচ ও মোমবাতি

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়।   চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে।   উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে।   তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।   অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য
কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপন, বাংলাদেশে চিকিৎসায় নতুন সাফল্য

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কনুইয়ের জয়েন্টসহ সম্পূর্ণ বাহু প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার আলোক হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হাসপাতালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসক দল প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করে।   অস্ত্রোপচারটির বিশেষত্ব হলো, ক্যানসারে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করেও রোগীর পুরো বাহু ও কনুইয়ের কার্যকারিতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অঙ্গ সংরক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাকে লিম্ব স্যালভেজ বলা হয়। এতে ক্যানসারের কারণে অঙ্গচ্ছেদ না করে আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম ইমপ্লান্ট বা প্রস্থেসিস ব্যবহার করা হয়।   চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ক্যানসার আক্রান্ত অংশ সম্পূর্ণভাবে অপসারণের পাশাপাশি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু নিরাপদ রাখা। অস্ত্রোপচারে ভাস্কুলার সার্জন ডা. এস এম পারভেজ আহমেদ সোহেল সংবেদনশীল রক্তনালি ও স্নায়ুগুলো সংরক্ষণে কাজ করেন। আক্রান্ত অংশ অপসারণের পর রোগীর শারীরিক গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি বিশেষ প্রস্থেসিস সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।   এই চিকিৎসা পদ্ধতির লক্ষ্য শুধু ক্যানসার আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ নয়, সম্ভব হলে রোগীর আক্রান্ত অঙ্গের কার্যক্ষমতাও ধরে রাখা। হাড় ও নরম টিস্যুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে লিম্ব স্যালভেজ সার্জারি বর্তমানে অঙ্গচ্ছেদ এড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীনের পেশাগত প্রোফাইলেও অর্থো অনকোলজি এবং লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির বিশেষায়িত কাজের উল্লেখ রয়েছে।    সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দলের দাবি অনুযায়ী, এর আগে ২০১৯ সালে একই বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ উরুর হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও করেছিল। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের রয়্যাল অর্থোপেডিক হসপিটাল থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা জটিল অর্থোপেডিক অনকোলজি চিকিৎসায় দেশে সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।   চিকিৎসকদের এই সাফল্য দেশে জটিল হাড়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় অঙ্গচ্ছেদ এড়িয়ে আধুনিক লিম্ব স্যালভেজ সার্জারির সুযোগ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া রোগীদের জন্য দেশে তুলনামূলক কম খরচে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা দেওয়ার পথও আরও শক্তিশালী হতে পারে। সূত্র: সাইন্স বী

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জেন্ডার পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারের পর মারা যাওয়া তরুণী রোজি আক্তার লিজা। ছবি: সংগৃহীত
পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর তরুণীর মৃত্যু

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করানোর কয়েক ঘণ্টা পর রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অস্ত্রোপচারের পর রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।   লিজার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলায়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। রোববার বিকেলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান এবং সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁকে দাফন করা হয়।   পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই লিজার আচরণ ও পোশাক-পরিচ্ছদে ছেলেদের মতো বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি ছেলেদের মতো চুল কাটতেন এবং কোনো পুরুষকে পছন্দ করতেন না বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনিফা আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে লিজার পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। জেনিফা নিয়মিত লিজাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাঁরা একসঙ্গে চলাফেরা ও সময় কাটাতেন। এর পাশাপাশি লিজা ঢাকায় হরমোন-সংক্রান্ত চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   জেনিফা আক্তারের ভাষ্য, লিজার অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর মা-বাবা দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। ওই অর্থ দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার ওই হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে জেনিফা স্বাক্ষর করেন বলে তিনি জানিয়েছেন।   তবে লিজার বাবা জানান, জেনিফা হাসপাতালের সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন কিংবা তাঁর স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হবে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি হাসপাতালে তাঁর মেয়ের নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি মৃত্যুর দিন জানতে পারেন।   লিজার বাবা বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমন কথা আমি ওর মায়ের কাছে শুনেছি।’   লিজার মা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসারেই তিনি থাকেননি।   তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেনিফা তাঁদের বাড়িতে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে যাতায়াত করতেন। এ কারণে মেয়ের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি তাঁরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।   এদিকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে লিজার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদে তাঁকে ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়েছে।   মৃত্যু সনদে থাকা হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।   পরে হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে যে চিকিৎসকের অধীনে লিজা ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।   অস্ত্রোপচার ও মৃত্যুর বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি।   তবে অস্ত্রোপচারের পর ঠিক কী কারণে লিজার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, অস্ত্রোপচারের বিবরণ এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ত্রোপচারের সময় অন্ত্রের গ্যাস লেজারের সংস্পর্শে আগুন ধরে টোকিওর হাসপাতালে গুরুতর দগ্ধ হন এক নারী
অস্ত্রোপচারের সময় এক নারী রোগীর বায়ুত্যাগের জন্য লেজারে ধরে যায় আগুন, দগ্ধ হয় রোগী নিজেই!

জাপানের টোকিও মেডিকেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল জরায়ুমুখে লেজার অস্ত্রোপচারের সময় ঘটে বিরল এক দুর্ঘটনা। ৩০-এর কোঠার এক নারী রোগীর অন্ত্র থেকে বের হওয়া গ্যাস লেজারের সংস্পর্শে এসে আগুনের সূত্রপাত করে বলে তদন্তে উঠে আসে। আগুন পরে সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর কোমর ও দুই পাসহ শরীরের নিচের অংশে গুরুতর দগ্ধের ঘটনা ঘটে।  ঘটনার সময় চিকিৎসকেরা রোগীর জরায়ুমুখে লেজার দিয়ে অস্ত্রোপচার করছিলেন। অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে রোগীর অন্ত্রের গ্যাস বের হয়ে লেজারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাসটি লেজারের তাপে জ্বলে ওঠে এবং আগুন দ্রুত সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়ে।  দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বাইরে থেকে আনা বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি ঘটনাটি তদন্ত করে। তদন্তে অপারেশন থিয়েটারে অন্য কোনো দাহ্য পদার্থ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতেও কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা একটি ডামি ব্যবহার করে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণ করেও সম্ভাব্য কারণ পরীক্ষা করেন।  বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর অন্ত্রের গ্যাস অপারেশন কক্ষের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পর লেজারের সংস্পর্শে আগুন ধরে যায়। এরপর আগুন সার্জিক্যাল ড্রেপে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে অপারেশন থিয়েটারের কর্মীদের অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে অন্ত্রের গ্যাস যেন লেজারের সংস্পর্শে না আসে, সে বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।  মানবদেহ থেকে বের হওয়া অন্ত্রের গ্যাসে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস থাকে, যার মধ্যে হাইড্রোজেন ও মিথেন দাহ্য হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি সাধারণত কোনো বিপদের কারণ নয়। কিন্তু লেজারের মতো শক্তিশালী তাপের উৎসের একেবারে কাছে এমন গ্যাসের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল পরিস্থিতিতে আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।  ঘটনাটি ১৫ এপ্রিল ঘটলেও হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০১৬ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এরপর অস্বাভাবিক এই দুর্ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ
লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচারের সময় লাইভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় একজন রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। যুক্তরাজ্যের ৪৮ বছর বয়সী রাইস হিবার্টের পিটুইটারি গ্রন্থির ১১ মিলিমিটার আকারের টিউমার অপসারণ করা হয় লন্ডনের ন্যাশনাল হসপিটাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারিতে। অস্ত্রোপচারের আগে টিউমারটি তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।    অস্ত্রোপচারের সময় এআই সিস্টেমটি সরাসরি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করতে চিকিৎসকদের সহায়তা করে। এসব কাঠামো টিউমারের খুব কাছাকাছি থাকায় অস্ত্রোপচারের সময় সামান্য ভুলও গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে।    ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালসের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এআই কোনোভাবেই নিজে অস্ত্রোপচার করেনি। পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল সার্জনদের হাতে। এআই মূলত লাইভ ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করার জন্য সার্জনদের একটি অতিরিক্ত সহায়ক নজর হিসেবে কাজ করেছে।    হিবার্ট বেডফোর্ডশায়ারের দুই সন্তানের বাবা। প্রায় ১৮ মাস আগেও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং প্রতিদিন দুপুরের বিরতিতে প্রায় দুই মাইল হাঁটতেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এমনই এক হাঁটার সময় হঠাৎ রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে খিঁচুনি শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার ধরা পড়ে।    পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচের অংশে থাকা মার্বেলের মতো ছোট একটি অঙ্গ, যা শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক, রক্তচাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করে। গ্রন্থিটির কাছেই থাকে ক্যারোটিড ধমনি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক নার্ভ। ফলে টিউমার বড় হয়ে এসব কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।    হিবার্টের ক্ষেত্রে টিউমারটি তার অপটিক নার্ভে চাপ দিতে শুরু করলে ধীরে ধীরে পার্শ্বীয় দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। তিনি বারবার হোঁচট খেতে শুরু করেন এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাঁটার সময় নিচের দিকের দৃষ্টিক্ষেত্র ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় তাকে ওয়াকিং স্টিক ব্যবহার করতে হয়।   এ অবস্থায় তাকে এআই সহায়তায় পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচারে প্রথম রোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি সম্মতি দেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অস্ত্রোপচারটি করা হয়। নাক দিয়ে এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে মাথার খুলির নিচের অংশে পৌঁছে টিউমার অপসারণ করা হয়।    অস্ত্রোপচারের পর হিবার্ট জানান, চোখ খোলার পর তার মনে হয়েছিল যেন একসঙ্গে চারপাশের পুরো দৃষ্টিক্ষেত্র দেখতে পাচ্ছেন। পরবর্তী আট সপ্তাহে তার দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক শক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং আগের সমস্যাগুলোও চলে গেছে। তিনি আবার কাজেও ফিরেছেন।    অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তিটি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা তৈরি করেছেন। শত শত মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের ভিডিও বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কাঠামো শনাক্ত করতে পারে। গবেষণাটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ এবং গুগলের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।    গবেষকদের লক্ষ্য এখন আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা। ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিতে পারে এমন একটি এআই সহকারী তৈরির সম্ভাবনাও দেখছেন তারা। তবে চিকিৎসকেরাই স্পষ্ট করেছেন, এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক এবং রোগীর নিরাপত্তার জন্য সার্জনের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
মই থেকে পড়ে গাছের ডাল মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছালেও সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচেছেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। ছবি: সংগৃহীত
মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় গাছের ডাল, অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৫ বছর বয়সী ট্রয় হ্যাথাওয়ে। মই থেকে পড়ে যাওয়ার সময় গাছের একটি মোটা ভাঙা ডাল তার মুখ ভেদ করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর আঘাতের পরও তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেননি। পরে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ডালটি সফলভাবে অপসারণ করেন।   সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির গ্লাসবোরো এলাকায় নিজের বাড়ির পেছনের উঠানে গাছের ডাল কাটছিলেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। এ সময় হঠাৎ মই ভেঙে গেলে তিনি প্রায় আট ফুট নিচে পড়ে যান। মাটিতে উঠে দাঁড়ানোর পর তার ধারণা ছিল, হয়তো চোয়াল ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, গাছের একটি বড় ভাঙা ডাল তার চোয়াল ভেদ করে মুখের ভেতর দিয়ে নাক অতিক্রম করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।   হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি, বমি বমি ভাবও ছিল না। সামান্য ব্যথা ছাড়া নিজেকে মোটামুটি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ডালটি গাল, নাক এবং চোখের পাশ দিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি করেনি। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের সহায়তা নেওয়া হয়।   অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া নিউরোসার্জন ডা. ক্রিস ফ্যারেল বলেন, ডালটি ছিল বেশ বড় এবং এটি রোগীর মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি কেটে অস্ত্রোপচার না করে নাকের ভেতর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ডালটি অপসারণের পরিকল্পনা করেন। মস্তিষ্কের কিছু টিউমার অপসারণেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।   প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডালটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকটি সেলাই, সামান্য ক্ষতচিহ্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন হ্যাথাওয়ে। বর্তমানে তার গালে একটি দাগ রয়েছে। তবে দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বা সংক্রমণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।   তিন সন্তানের বাবা হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন।   চিকিৎসকদের মতে, ডালটি যদি কয়েক মিলিমিটার ভিন্ন পথে প্রবেশ করত, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০