ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য সামরিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সতর্ক করেছে European Council। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট António Costa সোমবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনা নিরসনের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো কূটনৈতিক সংলাপ। বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে রোববার ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দেন এবং তা না হলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর Luis Moreno Ocampo এক সাক্ষাৎকারে বলেন, উসকানি ছাড়া এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের শতাধিক বিশেষজ্ঞ এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—তিন পক্ষের পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক স্টেইনমায়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং সামরিক অভিযানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। মঙ্গলবার জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বক্তৃতায় স্টেইনমায়ার বলেন, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে এবং এটি একটি গুরুতর রাজনৈতিক ভুল। খবরটি প্রকাশ করেছে মিডিল ইস্ট মনিটর, যেখানে বলা হয়েছে জার্মান প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন যে কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। স্টেইনমায়ার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যায়, তখন থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। তার মতে, সেই চুক্তি কার্যকর থাকলে বর্তমান সংঘাত এড়ানো সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিনহুয়া নিউজ এজেন্সি যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো শুরু থেকেই যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ছিল। জার্মান প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করলে বিশ্বব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এতে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কেও চাপ তৈরি হতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে দ্য গার্ডিয়ান, যেখানে বলা হয়েছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ পশ্চিমা জোটের মধ্যেও মতভেদ বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
আমেরিকাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দেশ বলা হলেও, এখনো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। অনেকেই মনে করেন, আমেরিকায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো আইনি বাধা নেই, কিন্তু বাস্তবে কিছু অঙ্গরাজ্যের পুরনো আইনে এখনো এ ধরনের সম্পর্কের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, জর্জিয়া, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, মিশিগান এবং ওকলাহোমা সহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এখনো আইনে পরকীয়াকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা আছে। বিশেষ করে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনে বলা হয়েছে, কোনো বিবাহিত ব্যক্তি তার স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানা বা স্বল্প মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের মামলা খুব কম দেখা যায়। আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি শাস্তির ঘটনা বিরল হলেও পারিবারিক মামলায় এর প্রভাব অনেক বেশি। বিবাহ বিচ্ছেদের সময় আদালত পরকীয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, সন্তানের হেফাজত নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে, এমনকি সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আইন আলাদা হওয়ায় সব জায়গায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোথাও আইন থাকলেও তা খুব কম প্রয়োগ করা হয়, আবার কোথাও পারিবারিক মামলায় এই বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলে। তাই আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আমেরিকায় বসবাসকারী দম্পতিদের উচিত নিজেদের অঙ্গরাজ্যের আইন সম্পর্কে আগে থেকেই জানা, কারণ ব্যক্তিগত জীবনের একটি সিদ্ধান্তও কখনো কখনো আইনি জটিলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা ‘অত্যন্ত গুরুতর ও নজিরবিহীন ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করবে এবং ইরানকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আরাকচি জানান, দেশটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং আজ একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই তিন সদস্যের দল নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এরপর বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে, যা সম্ভবত এক বা দুই দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, সব কার্যক্রম আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে এমন মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ দৈনিক The Guardian। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি নিয়েছেন ইরানে হামলার মাধ্যমে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘শাসন পরিবর্তনের’ লক্ষ্য নিয়ে একতরফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। মার্কিন কংগ্রেস বা জনগণের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই নেওয়া এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকা অবস্থায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। প্রথম দফা হামলার পর দেওয়া ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আত্মসমর্পণ না করলে তাদের ‘সমূলে বিনাশ’ করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নৌবাহিনী ধ্বংসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভাষণে তিনি ইরানের বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানে সমর্থন জানিয়ে একে ‘অস্তিত্বের হুমকি দূর করার যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন। দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরান বর্তমানে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক বড় হুমকি না থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও কমতে থাকা জনপ্রিয়তা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনি বাধা এবং জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত বিতর্কও রাজনৈতিক চাপে রেখেছে তাঁকে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ ইস্যু থেকে জনদৃষ্টি সরাতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক চাপে পড়লে ট্রাম্প ভারসাম্য হারান ইরান হামলা তারই প্রতিফলন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে দেখা গেছে কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো সুসংগঠিত শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো কঠিন। ফলে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews